গাইবান্ধা সদর উপজেলার বাদিয়াখালী ইউনিয়নে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে একটি পরিবারের ওপর হামলা, বসতবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
গাইবান্ধা সদর উপজেলার বাদিয়াখালী ইউনিয়নের ফুলবাড়ী গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে একটি পরিবারের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, হামলাকারীরা এক গৃহবধূকে মারধর, বসতবাড়ি ভাঙচুর এবং নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার ও গৃহপালিত পশু লুট করে নিয়ে যায়। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় এ ঘটনায় গাইবান্ধা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। এর আগে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে হামলার ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় ১৪ বছর আগে আশরাফুল আলম পন্তু (৮৫) ৬ শতাংশ জমি কিনে সেখানে বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন। তবে স্থানীয় প্রভাবশালী লাভলু ও নয়ন নামে দুই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে জমিটি নিজেদের দাবি করে পরিবারটিকে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তাদের নির্দেশে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত একদল ব্যক্তি বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় আশরাফুল আলমের গলায় অস্ত্র ঠেকিয়ে তাকে জিম্মি করা হয় এবং তার পুত্রবধূ সোমা খাতুনকে লাঠি দিয়ে মারধর করে আহত করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা পরিবারের চারটি ঘর ভাঙচুর করে এবং প্রায় ২ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার ও দুটি ছাগল লুট করে নিয়ে যায়। ঘটনার পর থেকে প্রতিপক্ষের প্রাণনাশের হুমকির কারণে পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং নিজেদের বাড়িতেও প্রবেশ করতে পারছে না বলে স্বজনদের দাবি।
আহত সোমা খাতুন বলেন, ‘ওরা আমার সুখের সংসার শেষ করে দিল। আমি নিষেধ করায় আমাকে মাটিতে ফেলে মারধর করেছে। কষ্ট করে লালন-পালন করা দুটি ছাগলও লুট করে নিয়ে গেছে। আমার স্বামী অসুস্থ, আর শ্বশুরকে জিম্মি করে রাখা হয়েছিল। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’ একই অভিযোগ করে আশরাফুল আলম বলেন, ‘টাকা দিয়ে জমি কিনেও আজ গৃহহীন হতে হলো। থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি, কিন্তু বাড়িতে ঢুকতে গেলে এখনো দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার হুমকি দিচ্ছে। আমরা পরিবারের নিরাপত্তা চাই।’
স্থানীয় বাসিন্দা হামিদ আলী হামলাকারীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়ে বলেন, ‘ঘরগুলো এমনভাবে ভেঙে দেওয়া হয়েছে যে সেখানে বর্তমানে বসবাস করার কোনো পরিবেশ নেই।’ অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত লাভলু ও নয়ন মিয়ার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টির তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযান চালিয়ে একটি ছাগল উদ্ধার করা হয়েছে, শনাক্তকরণ শেষে সেটি ভুক্তভোগী গৃহবধূর হলে তার কাছে হস্তান্তর করা হবে।’



















