কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার হওয়া মো. তুহিনের বিরুদ্ধে আগেও মোটরসাইকেল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছিল। ওই ঘটনায় মামলা না নিয়ে শুধু সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নেওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী আসাদুল্লাহ সোহাগ।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে আগে থেকেই বিভিন্ন অভিযোগ ছিল বলে জানা গেছে। এর মধ্যে অন্যতম অভিযুক্ত মো. তুহিনের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালে মোটরসাইকেল আত্মসাতের অভিযোগে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় মামলা করতে গিয়ে ব্যর্থ হওয়ার দাবি করেছেন ভুক্তভোগী আসাদুল্লাহ সোহাগ।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে ২১ বছর বয়সী সোহাগ অভিযোগ করেন, তুহিন কৌশলে তার মোটরসাইকেল নিয়ে আর ফেরত দেয়নি। তিনি লিখেছেন, অভিযোগ জানাতে থানায় গেলে পুলিশ মামলা না নিয়ে শুধু একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নেয়। তার দাবি, তখন পুলিশ জানিয়েছিল তুহিনের পেছনে একটি রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতার সমর্থন রয়েছে, তাই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়। একই পোস্টে তিনি আরও লেখেন, ছোট অপরাধের বিচার না হওয়ায় অপরাধীরা পরবর্তীতে বড় অপরাধ করার সাহস পায়।
অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশ। সেই ফুটেজে অপ্রতিমের সঙ্গে তুহিনকে দেখা যায় বলে জানা গেছে।
সোহাগ ফেসবুকে তার করা সাধারণ ডায়েরির একটি কপিও প্রকাশ করেছেন। সেখানে উল্লেখ করা হয়, ২৭ মার্চ ২০২৫ সালে ২ লাখ ৫ হাজার টাকা দিয়ে কেনা একটি ‘সুজুকি মনোটন’ মোটরসাইকেল ২৬ এপ্রিল রাতে পূর্বপরিচিত তুহিনের অনুরোধে তার হাতে তুলে দেন তিনি। পরে তুহিন মোটরসাইকেলটি নিজের কাছে নেই বলে জানায় এবং সেটি আর ফেরত দেয়নি। এরপর মোটরসাইকেল উদ্ধারে স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা ব্যর্থ হলে সোহাগের মা মরিয়ম আক্তার বাদী হয়ে মো. তুহিন হোসেন ও অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জনের বিরুদ্ধে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন করেন।
সোহাগের ফেসবুক পোস্ট প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই জানতে চেয়েছেন, তুহিনের পেছনে কোন রাজনৈতিক নেতার প্রভাব ছিল। তবে সোহাগ এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো নাম প্রকাশ করেননি। তিনি এক মন্তব্যের জবাবে লিখেছেন, ঘটনাটি ২০২৫ সালের, দলের নাম মনে থাকলেও নেতার নাম মনে নেই। তাই তিনি সেটি প্রকাশ করতে চান না, কারণ এতে তার ওপর চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, তুহিনের বিরুদ্ধে আগের অভিযোগের সময় যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলে অপ্রতিম হত্যার মতো মর্মান্তিক ঘটনা হয়তো এড়ানো সম্ভব হতে পারত।



















