Tuesday , 28 July 2026 | [bangla_date]
  1. অন্যান্য খেলা
  2. অস্ট্রেলিয়া (ওশেনিয়া) মহাদেশ
  3. অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশ
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. আফ্রিকা মহাদেশ
  7. আবহাওয়া
  8. ইউরোপ মহাদেশ
  9. উত্তর আমেরিকা মহাদেশ
  10. এশিয়া মহাদেশ
  11. কৃষি
  12. ক্যাম্পাস
  13. ক্রিকেট
  14. খেলাধুলা
  15. গণমাধ্যম

খুলনায় নির্মাণ হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন ‘জিয়া হল কমপ্লেক্স’

প্রতিবেদক
বাসস
July 28, 2026 6:25 am

এবার নগরীর প্রাণকেন্দ্র শিববাড়ি মোড়ে নির্মাণ হচ্ছে আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত ‘জিয়া হল কমপ্লেক্স’। ‘জিয়া হল কমপ্লেক্স নির্মাণ’ প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য ইতোমধ্যেই খুলনা সিটি করপোরেশন প্রায় ৪১৮ কোটি টাকার একটি প্রস্তাবনা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করেছে। সর্বশেষ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী শিববাড়ি মোড়ে ‘জিয়া হল কমপ্লেক্স’ নির্মাণের সম্ভাবতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে গতকাল সোমবার খুলনা সিটি করপোরেশন ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্কিটেক্ট ডিসিপ্লিনের রিসার্চ এন্ড ডিজাইন কনসালটেন্সী ইউনিটের (আরডিসিইউ) মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। ফিজিবিলিটি স্টাডি রিপোর্টের পরই চূড়ান্ত অনুমোদন মিলবে বলে আশা করছেন কেসিসি কর্তৃপক্ষ।

এরআগে একইস্থানে ‘জিয়া হল’ নামে একটি ভবন ছিল।

খুলনার সুশীল সমাজের নেতারা বলেছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে চাহিদা মত স্বল্পমূল্যে সভা-সেমিনার করার জন্য স্পেস পাওয়া যাবে। বাণিজ্যিক স্পেস থাকার কারণে শহরের কেন্দ্রবিন্দু জাঁকজমকপূর্ণ থাকবে। নিরাপত্তার কারণে সাধারণ মানুষ এই কমপ্লেক্সে আসবে। আর দৃষ্টিনন্দন স্থাপনার কারণে শহরের সৌন্দর্যও বৃদ্ধি পাবে।

নগরীর শিববাড়ির মোড়ের ‘জিয়া হল’ নামটি শুনে নাই এমন লোক খুবই কম পাওয়া যাবে। সারাদেশে খুলনার পরিচিতির অন্যতম অবদান জিয়া হলের।

কেসিসি’র সূত্র জানায়, নগরীর শিববাড়ির মোড়ে দিয়ে ‘জিয়া হল’ নির্মাণের কাজ শুরু হয় ১৯৭৮ সালের ১২ জানুয়ারি। খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও তৎকালীন পৌরসভার জমির ওপর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। জমির পরিমাণ ছিল প্রায় দুই বিঘা। ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর ১৯৯২ সালে ২৭ সেপ্টেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া হলের উদ্বোধন করেন এবং হলটির নামকরণ করা হয় ‘জিয়া হল’। এরপর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসলে জিয়া হলের নামকরণ নিয়ে নানা মত বিরোধের সৃষ্টি হয়। তৎকালীন সময় দাওয়াত কার্ড বা পোস্টারে ‘জিয়া হল’র পরিবর্তে লেখা হতো ‘পাবলিক হল’।

পরবর্তীতে ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতাসীন হলে ২০০৪ সালে তৃণমূল প্রতিনিধি সমাবেশে খুলনার জিয়া হলে বক্তৃতা করেছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর ২০০৮ সালে নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার আব্দুল খালেক খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর জিয়া হলের নামটি পরিবর্তন করে ‘সিটি সেন্টার’ প্রকল্প বাস্তবায়নের চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রকল্পটি বাস্তবায়ন না হওয়ায় ২০১২ সালে ‘জিয়া হল’ ব্যবহার বন্ধ হয়ে যায়।

সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এই হল নিয়ে নানা ধরনের রাজনীতি করা হয়। এমনকি ভবনটি সংস্কার না করে ২০২১ সালের শেষ দিকে হলটি ভেঙে ফেলা হয়।

এদিকে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। এর পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতাসীন হলে ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৪১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে খুলনা ‘জিয়া হল কমপ্লেক্স’ নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে। প্রকল্পে জিয়া হল কমপ্লেক্সটি নয় তলা বিশিষ্ট নকশা রয়েছে। আধুনিক পার্কিং ও অভ্যন্তরের রাস্তারও ব্যবস্থা থাকবে। কমপ্লেক্সে বাণিজ্যিক স্পেস, সভা, সেমিনার, কনফারেন্স হল, স্পা, রেস্টুরেন্ট, সিনে কমপ্লেক্স, রেস্ট হাউসসহ আধুনিক অনেক কিছুই রাখা হয়েছে।

প্রস্তাবিত প্রকল্পে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ২০৩১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত মেয়াদকাল ধরা হয়েছে। কিন্তু সম্ভাব্যতা যাচাই রিপোর্ট প্রাপ্তি সাপেক্ষে সময় কিছুটা বৃদ্ধি পাবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ-উজ-জামান বাসস’কে বলেন, জিয়া হল কমপ্লেক্স প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে খুলনার মানুষ চাহিদা মত স্বল্পমূল্যে সভা-সেমিনার করার জন্য জায়গা পাবে। বাণিজ্যিক স্পেস থাকার কারণে শহরের কেন্দ্রবিন্দু জাঁকজমকপূর্ণ থাকবে। নিরাপত্তার কারণে সাধারণ মানুষ এই কমপ্লেক্সে ভিড়বে।

তিনি বলেন, ইতিপূর্বে জিয়া হল নিয়ে নানা রাজনীতি হয়েছে। আমরা আর কোনো রাজনীতি চাই না। যেকোনো মূল্যে জিয়া হল কমপ্লেক্স নির্মাণ করতে পারলে খুলনার চেহারা পরিবর্তন হয়ে যাবে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বিষয়টি গুরুত্ব দিবেন বলে আমরা আশাবাদী। দ্রুত জিয়া হল কমপ্লেক্স নির্মাণসহ বেশ কয়েকটি দাবি নিয়ে ইতোমধ্যেই উন্নয়ন কমিটির পক্ষ থেকে মানববন্ধন করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এ বিষয়ে কেসিসি’র প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান বাসসকে বলেন, জিয়া হল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর নগরবাসী অনেক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। বিশেষ করে সভা, সেমিনার বা কনফারেন্স রুমের জন্য নগরীতে ভালো কোনো জায়গা নেই। এখন প্রস্তাবিত ‘জিয়া কমপ্লেক্স’ নির্মিত হলে নগরবাসী স্বল্প মূল্যে নানান ধরনের নাগরিক সুবিধা পাবেন। আমাদের প্রস্তাবনায় প্রায় ৪১৮ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।

তিনি জানান, প্রকল্পটি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে প্রেরণের পর সম্ভাব্যতা যাচাই সংক্রান্ত রিপোর্ট দেয়া হয়েছে। এ কারণে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়কে রিপোর্টের জন্য কার্যাদেশ প্রদান করা হয়েছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে রিপোর্ট প্রাপ্তি সাপেক্ষে পুনরায় প্রকল্পের প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় প্রেরণ করা হবে। সেখান থেকে অনুমোদনের পর চূড়ান্তভাবে একনেকে প্রকল্পটি অনুমোদন হলে কাজ শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বাসস’কে বলেন, জিয়া হল খুলনার মানুষের একটি আবেগের স্থান। শুধুমাত্র নামের কারণে আওয়ামী লীগ সরকার এ হলের সংস্কার বা পুন:নির্মাণ করেনি। যে কারণে খুলনার মানুষ স্বল্পমূল্যে সভা সেমিনারসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান করার ক্ষেত্রে বঞ্চিত হয়েছেন। ফলে এখন আর এ বিষয়ে কোনো বিলম্বের সুযোগ নেই। অতি দ্রুত জিয়া হল কমপ্লেক্স বাস্তবায়নের জন্য আমরা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাচ্ছি।

খুলনা মহানগরীর প্রাণকেন্দ্র শিববাড়ি মোড়ে জিয়া হল কমপ্লেক্স নির্মাণের সম্ভাবতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে খুলনা সিটি করপোরেশন ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্কিটেক্ট ডিসিপ্লিনের রিসার্চ এন্ড ডিজাইন কনসালটেন্সী ইউনিটের (আরডিসিইউ) মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। ২৭ জুলাই বিকেলে নগর ভবনের জিআইজেড মিলনায়তনে উভয় সংস্থার উর্ধতন কর্মকর্তাগণের উপস্থিতিতে এ সমঝোতা স্মারক সই হয়।

সমঝোতা স্মারকে কেসিসি’র পক্ষে সই করেন প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে আরডিসি ইউনিটের পরিচালক প্রফেসর ড. শেখ সিরাজুল হাকিম।

কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, সচিব মো. রেজা রশীদ, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা, প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবির উল জব্বার, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শরীফ শাম্মিউল ইসলাম, আর্কিটেক্ট রেজবিনা খানম এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্কিটেক্ট ডিসিপ্লিনের প্রধান প্রফেসর রুমানা আসাদ, শিক্ষক ড. কে এইচ মাহফুজ-উদ-দারাইন, মো. শেখ মারুফ হুসাইনসহ উভয় সংস্থার অন্যান্য কর্মকর্তাগণ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ - আইন-আদালত