জাপানি বিনিয়োগকারীদের সামনে বাংলাদেশের উদীয়মান অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশকে নতুনভাবে তুলে ধরতে টোকিওস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে ‘এফইসি-বাংলাদেশ বিজনেস সেমিনার’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ইন্টারন্যাশনাল ফ্রেন্ডশিপ এক্সচেঞ্জ কাউন্সিল (এফইসি) এবং বাংলাদেশ দূতাবাসের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ সেমিনারে জাপানের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও বিনিয়োগকারীরা অংশ নেন।
আজ ঢাকায় প্রাপ্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সেমিনারে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী বলেন, জাপান দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের অন্যতম বিশ্বস্ত উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অংশীদার। তিনি উল্লেখ করেন, আড়াইহাজারে জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের একটি অনন্য মাইলফলক। একই সঙ্গে তিনি আইটি, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, ফার্মাসিটিক্যালস ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতকে ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময় হিসেবে তুলে ধরেন।
রাষ্ট্রদূত আরো বলেন, বাংলাদেশের তরুণ ও দক্ষ কর্মশক্তি, কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং গত এক দশকের ধারাবাহিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি জাপানি বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পায়ন ও কানেক্টিভিটি খাতে সরকারের ব্যাপক সংস্কার বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
সেমিনারে এফইসি’র প্রেসিডেন্ট কেন মাতসুজাওয়া বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় জাপানের জন্য বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রশংসা করে তিনি বলেন, এই ধরনের ব্যবসায়িক ফোরাম দুই দেশের সম্পর্ককে আরো গভীর ও দীর্ঘমেয়াদি করবে।
অনুষ্ঠানে দূতাবাসের কাউন্সেলর মুহাম্মদ সফিউল আজম একটি পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সুবিধা ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনার বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের ৩৩তম বৃহত্তম অর্থনীতি এবং ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের ৯ম বৃহত্তম ভোক্তা বাজারে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, জাপানি বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, কর অব্যাহতি, বিনিয়োগ সুরক্ষা এবং শতভাগ বৈদেশিক মালিকানা বজায় রাখার সুযোগসহ বিভিন্ন আকর্ষণীয় প্রণোদনা বিদ্যমান রয়েছে।
সেমিনারের মতবিনিময় পর্বে রাষ্ট্রদূত দাউদ আলী জাপানি কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশের দক্ষ জনশক্তি কাজে লাগানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জাপানের শ্রমবাজারে বিদ্যমান ঘাটতি পূরণে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এসময় দূতাবাসের পক্ষ থেকে জাপানি ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন দূতাবাস কর্মকর্তারা।
সূত্রঃ বাসস



















