মোঃ ইমরান হোসেন হৃদয়, শার্শা (যশোর) প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আম চাষিদের জন্য নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আম সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণ ক্যালেন্ডার প্রকাশ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে অপরিপক্ব আম বাজারে আনা রোধ এবং ভোক্তাদের নিরাপদ ও মানসম্মত আম নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
রোববার বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সভায় জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতার আনুষ্ঠানিকভাবে এ ক্যালেন্ডার ঘোষণা দেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম এবং অতিরিক্ত উপ-পরিচালক কৃষিবিদ ইকবাল আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
প্রকাশিত ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, স্থানীয় জাতের আম যেমন গোপালভোগ, গোলাপখাস, বৈশাখীসহ অন্যান্য আগাম জাতের আম সংগ্রহ শুরু হবে ৫ মে থেকে। এরপর পর্যায়ক্রমে গাবিন্দভোগ ৯ মে, হিমসাগর ১৫ মে, ল্যাংড়া ২৭ মে এবং জনপ্রিয় আম্রপালি সংগ্রহ করা যাবে ৫ জুন থেকে।
এবিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম জানান, চাষিদের দাবি অনুযায়ী ল্যাংড়া ও আম্রপালি আম ভাঙার সময় সামান্য এগিয়ে আনা হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আমের পরিপক্কতা নিশ্চিত হবে। তিনি আরও বলেন, অপরিপক্ব আম ভাঙা ও বাজারজাতকরণের বিষয়ে প্রশাসনিক নজরদারি জোরদার থাকবে এবং কেউ নিয়ম অমান্য করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কৃষি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নির্ধারিত সময়ের আগে আম সংগ্রহ বা বাজারজাত করা হলে ফলের স্বাদ ও গুণগত মান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ভোক্তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হয়। তাই চাষিদের এই ক্যালেন্ডার মেনে চলার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে ক্যালেন্ডার অমান্য করে আগাম আম বাজারজাত করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একইসঙ্গে বাজারে ভেজালমুক্ত ও নিরাপদ আম সরবরাহ নিশ্চিত করতে নিয়মিত মনিটরিং কার্যক্রমও জোরদার করা হবে।
স্থানীয় আম চাষিরা মনে করছেন, এই ক্যালেন্ডার মেনে চললে আমের সঠিক দাম পাওয়া যাবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারেও রপ্তানির সম্ভাবনা বাড়বে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নির্ধারিত সময়সূচি অনুসরণে সাতক্ষীরার সুস্বাদু আম দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশেও সুনাম বয়ে আনবে।



















