ত্রিশালে পিকাআপ সহ গরু চোর চক্র আটক

মোঃ মোস্তাকিম বিল্লাহ রাজু ত্রিশাল, ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ

ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানা পুলিশের শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে একটি শক্তিশালী আন্তঃজেলা গরু চো/র চক্রের ৬ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ এবং তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ত্রিশাল, গাজীপুর ও পুবাইল এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এসময় চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি টাটা পিকআপ এবং চুরি হওয়া গরু উদ্ধার করে পুলিশ।

গত ৩ জানুয়ারি দিবাগত ভোর রাতে ত্রিশাল পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের নামাপাড়া এলাকায় বাদীর গোয়াল ঘরের তালা কেটে ৩টি গরু চু/রি হয়। একই সময়ে ৩নং ওয়ার্ডের পৌর ঈদগাহ সংলগ্ন জনৈক হুমায়ুন কবিরের গোয়াল ঘর থেকেও আরও ৪টি গরু চুরি হয়। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মোট ৭টি গরু চুরি হওয়ায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

মামলা দায়েরের পর ত্রিশাল থানা পুলিশ গোপন সংবাদ ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযানে নামে। বৃহস্পতিবার (০৮ জানুয়ারি) রাত ১:৩০ মিনিটে ত্রিশালের বৈলর ইউনিয়নের কাজির শিমলা এলাকা থেকে প্রথমে মূল হোতা মাসুদ ও মুনসুর আলীকে আটক করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভোর রাতে গাজীপুরের শ্রীপুর থেকে গরু ক্রেতা স্বাধীন খানকে গ্রেপ্তার করা হয়। সর্বশেষ সকাল ৮:১৫ মিনিটে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুবাইল থানার উদুর আমতলা এলাকা থেকে চক্রের বাকি ৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার এবং গরুসহ পিকআপ জব্দ করা হয়।গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া আন্তঃজেলা চোর চক্রের সদস্যরা হলো মোঃ মাসুদ মিয়া (৩০): পিতা- আব্দুল জব্বার, মাতা- আনোয়ার বেগম; সাং- নতুন বাজার পুলপাড়, মাসকান্দা, কোতোয়ালী, ময়মনসিংহ।সজিব মিয়া (৩২): পিতা- মৃত তৈয়ব উদ্দিন, মাতা- রাজিদা খাতুন; সাং- চাউলাদী, ত্রিশাল, ময়মনসিংহ।মোঃ কামাল (৩৫): পিতা- জালাল, মাতা- পারুল; সাং- আখরাইল, ত্রিশাল, ময়মনসিংহ।মোঃ জুয়েল (৩৮): পিতা- মৃত আবু বক্কর সিদ্দিক, মাতা- মৃত পারুল বেগম; সাং- খোদ বোচরা ৮নং ওয়ার্ড (শহিদবাগ ইউপি), কাউনিয়া, রংপুর।মোঃ মুনসুর আলী (৪০): পিতা- মৃত কালা চান, মাতা- মনোয়ারা; সাং- রণ রামপুর, শরিফপুর ইউপি, জামালপুর সদর।

স্বাধীন খান (২৫): পিতা- সোহরাব খান, মাতা- লিপি বেগম; সাং- বারতোপা, মাওনা ইউপি, শ্রীপুর, গাজীপুর।পুলিশি ভাষ্য পদক্ষেপ

তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ময়মনসিংহ, গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পিকআপ যোগে ঘুরে ঘুরে গরু চুরি করে আসছিল। তারা অত্যন্ত সুসংগঠিত এবং তাদের সাথে আরও অনেকে জড়িত রয়েছে।

ত্রিশাল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ফিরোজ হোসেন বলেন, আসামিদের ৭ দিনের রিমান্ড আবেদনসহ যথাযথ পুলিশ প্রহরায় বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রে/প্তা/র এবং অবশিষ্ট মালামাল উদ্ধারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *