আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে।
এ কথা জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
তিনি বলেন, ‘এটি বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক, নির্বাচনী ও জাতীয় অঙ্গীকার। একই সাথে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিএনপির আন্দোলনের ফসল।’
আজ দুপুরে সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে নিজ দপ্তরে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল সংক্রান্ত উচ্চ আদালতের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্রের কবর রচনা করে ফ্যাসিবাদের নীল নকশা তৈরি করা হয়েছিল। আমরা শুরু থেকেই বলেছিলাম এটি ‘আল্ট্রা ভাইরাস’ (সংবিধান পরিপন্থী)। হাইকোর্ট বিভাগ এই সংশোধনীর কিছু বিষয় অবৈধ ঘোষণা করেছেন এবং বাকি বিষয়গুলো জাতীয় সংসদের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। আপিল বিভাগও হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছেন। সুতরাং, হাইকোর্টের রায় এখন চূড়ান্ত।’
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে মন্ত্রী দৃঢ়তার সাথে বলেন, ‘আগামী নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে। এটি বিএনপির দীর্ঘ ১৬ থেকে ১৭ বছরের আন্দোলনের ফসল। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ‘দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও’ সংগ্রামের মূল লক্ষ্য ছিল-যেন মানুষ তার নিজের ভোট নিজে দিতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘রায়ের আলোকে পাবলিক কনসালটেশন (জনমত যাচাই) ও রেফারেন্ডামের (গণভোট) মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক শাসনব্যবস্থার চূড়ান্ত কাঠামো তৈরি করা হবে।’
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে রায়টি পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা করে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হবে। রায়ে যে ৫৪টি বিষয়ের উল্লেখ রয়েছে, তার সবকটি আমরা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অ্যাড্রেস করব। এ ক্ষেত্রে আমাদের মূল বিবেচ্য বিষয় থাকবে ‘জুলাই সনদ’। জুলাই জাতীয় সনদকে সামনে রেখে এ বিষয়টি বাস্তবায়ন করা হবে। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, সুশাসন, মানবাধিকার এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে যা যা সংশোধন, সংযোজন ও পরিমার্জন প্রয়োজন-সব করা হবে।’
সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদসহ অন্যান্য সংস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘উচ্চ আদালতের রায় এবং জনআকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখে যেখানে যেখানে অস্পষ্টতা বা সংস্কার প্রয়োজন, সব জায়গায় পরিবর্তন আনা হবে। কোনো আইন বা সংবিধান সংশোধন আমরা একতরফাভাবে জনগণের ওপর চাপিয়ে দেবো না।’
জনমত সংগ্রহের প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে মানবাধিকার কমিশন আইনসহ বেশ কয়েকটি আইনের খসড়া তৈরির পর সংশ্লিষ্ট অংশীজন, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী, কূটনীতিক, মানবাধিকার সংগঠন এবং ভিক্টিম পরিবারগুলোর সাথে পাবলিক কনসালটেশন করেছি। একইভাবে সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রেও সাধারণ জনগণের মতামত নেওয়া হবে।
আগামী সংসদ অধিবেশনেই পরিমার্জিত মানবাধিকার কমিশন আইন পাসের জন্য উপস্থাপন করা হবে বলেও ব্রিফিংয়ে জানান আইনমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলসহ বেশ কিছু বিষয় পরিবর্তন করে আনা সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল আজ বৃহস্পতিবার খারিজ করে দিয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত।



















