ভারত থেকে প্রচন্ড গতিতে ধেয়ে আসছে তিস্তার পানি; প্লাবিত হচ্ছে নিম্নাঞ্চল

এম এইচ মানিক সরকার, পাটগ্রাম, লালমনিরহাট:

উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতে বাড়তে শুরু করেছে তিস্তার পানি। পানি নিয়ন্ত্রণে ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। রোববার সকালে তিস্তার পানি সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ৫১ দশমিক ৯৪ মিটার (অটো গেজ), যা বিপৎসীমার মাত্র ২১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে (বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার)। তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে নিম্ন অঞ্চলে পানি ঢুকে পড়েছে। এতে ভুট্টা ও বাদামের ব‌্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, রোববার মধ‌্য রাত পর্যন্ত পানির স্তর আরও ১৫ সেন্টিমিটার বাড়তে পারে। এতে করে পানি বিপৎসীমার মাত্র ৬ সেন্টিমিটার নিচে অবস্থান করবে। তবে এরপর ধীরে ধীরে পানি হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিস্তার উজানে ভারতের গজলডোবা পয়েন্টে গত ২৪ ঘণ্টায় পানি বেড়েছে ১২০ সেন্টিমিটার।

ভারতের সিকিম হিমালয়ের চিতামু হ্রদ থেকে সৃষ্টি নদী তিস্তা ভারতের সীমানা পেরিয়ে নীলফামারী জেলার কালীগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। ফলে তিস্তার উজানে বন্যা দেখা দিলে তার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ে।

বাংলাদেশের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলেছে, রংপুর বিভাগে তিস্তার সঙ্গে ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি আগামী তিন দিন বাড়তে পারে এবং তিস্তার পানি বিপৎসীমায় প্রবাহিত হতে পারে।

স্থানীয়রা জানান, টানা বৃষ্টি ও উজানের পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বাড়ায় লালমনিরহাটে তিস্তা পাড়ের হাজার হাজার মানুষ বন্যা নিয়ে শঙ্কায় আছেন। তিস্তা নদীর পানি বাড়লে আগে ক্ষতিগ্রস্ত হয় চরাঞ্চলগুলো। তিস্তা পাড়ে চর রয়েছে ৭৬টি। এসব এলাকায় অধিকাংশ মানুষ বাস করেন নদীর চর জমিতে, যেখানকার ঘরবাড়ি তুলনামূলক নিচু। ফলে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব এলাকায় প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের দাবি, সরাসরি বন্যার আশঙ্কা নেই তবুও স্থানীয়দের মাঝে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

হাতীবান্ধা উপজেলার চর ডাউয়াবাড়ী এলাকার আনোয়ার হোসেন বলেন, বন্যা এলে সবকিছু শেষ হয়ে যায়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মাঠের ফসল, গরু-ছাগল, বাড়ির জিনিস সব ভেসে যায়। এবারও ভয়ে আছি।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি পরিমাপক নূরুল ইসলাম বলেন, গত কয়েকদিন ধরে তিস্তার পানি বাড়ছে। ব্যারেজের ৪৪টি গেট খুলে পানি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ‌্যমে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি ও তিস্তা পাড়ের খবর নিয়মিত নেয়া হচ্ছে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *