জনপদ সংবাদ

সত্য প্রকাশে নির্ভীক

কুয়েটে ভর্তি পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের ঘোষণা, আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা

কুয়েট প্রতিনিধিঃ

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ (শুক্রবার): নিজেদের তিন দফা দাবি আদায় না হওয়ায় খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) শিক্ষার্থীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য নতুন ব্যাচের ভর্তি পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা করেছেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে ‘প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলন কুয়েট’-এর ব্যানারে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন এবং কুয়েটের প্রধান ফটকে ‘অ্যাডমিশন টেস্ট বন্ধ’ লেখা ব্যানার ঝুলিয়ে দেন।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের কাছে প্রকৌশলীদের ন্যায্য মর্যাদা নেই। তাই নতুন করে আর কোনো প্রকৌশলী তৈরির প্রয়োজন নেই। এ কারণে তারা ২৪তম ব্যাচকেই কুয়েটের শেষ ব্যাচ হিসেবে ঘোষণা করেছেন।

প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলন কুয়েট জানায়, গত ছয় মাস ধরে তারা তিন দফা দাবিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। তাদের মূল দাবিগুলো হলো:

১. নবম গ্রেডে যোগ্যতা: ইঞ্জিনিয়ারিং নবম গ্রেডে কোনো ধরনের প্রমোশনাল কোটা থাকবে না। এই পদে নিয়োগ পেতে হলে সবাইকে পরীক্ষা দিতে হবে এবং ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে বিএসসি ডিগ্রি বাধ্যতামূলক হতে হবে।

২. দশম গ্রেডে পরীক্ষা: দশম গ্রেডে ডিপ্লোমা ও বিএসসি উভয় পক্ষকেই পরীক্ষার মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তির সুযোগ দিতে হবে।

৩. প্রকৌশলী পদবি: বিএসসি ডিগ্রি ছাড়া কেউ ‘ইঞ্জিনিয়ার’ পদবি ব্যবহার করতে পারবে না।

আন্দোলনকারীরা জানান, এই দাবিগুলো নিয়ে গত ২৭ আগস্ট শিক্ষার্থীরা রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিলে সরকার উভয় পক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তবে ১৭ সেপ্টেম্বর সরকার ডিপ্লোমাধারীদের চাপের মুখে সেই কমিটি বাতিল করে নতুন কমিটি গঠন করেছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, “আলোচনায় পরাজিত হয়ে ডিপ্লোমা সিন্ডিকেট দেশজুড়ে চাপ তৈরি করেছে এবং সরকার সেই চাপের কাছে মাথা নত করেছে।”

ভর্তি পরীক্ষা বন্ধের ঘোষণা শিক্ষার্থীরা মনে করেন, সরকার যৌক্তিক দাবির প্রতি নজর না দিয়ে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। এতে প্রমাণ হয়, সরকারের কাছে প্রকৌশলীদের কোনো মূল্য নেই। এ কারণেই নতুন করে কোনো ব্যাচের ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার প্রয়োজন নেই বলে তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এই অবস্থান থেকে তারা ঘোষণা দেন, “আমরা সব ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং অ্যালামনাই মিলে ঘোষণা করছি ২৪তম ব্যাচই হবে কুয়েটের শেষ ব্যাচ।”

তবে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *