লক্ষ্মীপুর জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন তিনি। এবারও জেলা শাখার নতুন কমিটিতে শীর্ষ পদের একটি পাবেন—এমনটি প্রত্যাশা ছিল তাঁর। তবে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। তাই নতুন কমিটি গঠনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভে এসে অঝোরে কেঁদেছেন তিনি। তাঁর কান্নার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ফেসবুক লাইভে এসে কান্না করা এই পদপ্রত্যাশীর নাম মো. জাহিদ। তাঁর ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি ৯ মিনিট ২৪ সেকেন্ডের। কমিটিতে পদ না পাওয়ায় ভিডিওতে ক্ষোভ ঝাড়তে দেখা যায় তাঁকে।
এর আগে রাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন লক্ষ্মীপুর জেলা ছাত্রদলের ১৮ সদস্যের নতুন আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেন। এতে আবুল বারাকাতকে আহ্বায়ক, আবদুল্লাহ আল খালেদকে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক এবং হাসিবুর রহমানকে সদস্যসচিব মনোনীত করা হয়। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এই কমিটিকে পূর্ণাঙ্গ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নতুন কমিটিতে শীর্ষ পদের প্রত্যাশা থাকলেও কোনো পদ না পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মো. জাহিদ। লাইভে তিনি বলেন, “জেলা ছাত্রদলের রাজনীতিতে আপনারা যে কালো অধ্যায় রচনা করেছেন, তা কী করে ভুলব? আজ জাহিদকে আপনারা ভুলে গেছেন।”
তিনি দাবি করেন, দীর্ঘ সময় রাজপথে থেকে দলের জন্য শ্রম ও ত্যাগ স্বীকার করার পরও তাঁকে মূল্যায়ন করা হয়নি। ভিডিওতে তাঁকে বারবার চোখের পানি মুছতে এবং আর্তনাদ করতে দেখা যায়।
মুঠোফোনে গণমাধ্যমকে জাহিদ জানান, “আমি দীর্ঘদিন ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে থেকেছি। কিন্তু নতুন কমিটিতে আমাকে কোনো স্থান দেওয়া হয়নি। যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কেন আমাকে বঞ্চিত করা হলো, সেই অপরাধ আমি জানি না। এই অবমূল্যায়ন আমাকে ভীষণ কষ্ট দিয়েছে।”
উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৮ সালে হাসান মাহমুদকে সভাপতি এবং আবদুল্লাহ আল মামুনকে সাধারণ সম্পাদক করে লক্ষ্মীপুর জেলা ছাত্রদলের সর্বশেষ কমিটি গঠিত হয়েছিল। দীর্ঘ ৬ বছর পর নতুন কমিটি আসলেও পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে, যার বহিঃপ্রকাশ ঘটল জাহিদের এই ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে।



















