শনিবার, ০৩ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:৫৫ পূর্বাহ্ন
জাহিদুল ইসলাম, ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি :
নীলফামারীর ডিমলায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের উপস্থিতিতেই একটি আনসার ক্যাম্পে পরিকল্পিত, সংঘবদ্ধ ও রাষ্ট্রবিরোধী হামলার ঘটনা ঘটেছে। বুড়ি তিস্তা নদী পুনঃখনন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে বুধবার বিকেল থেকে শুরু হওয়া এই তাণ্ডবের দ্বিতীয় দিনে বৃহস্পতিবার সকালে দুর্বৃত্তরা আনসার সদস্যদের ক্যাম্প থেকে বের করে দিয়ে সম্পূর্ণ জবরদখল নিয়েছে। পরে ক্যাম্পের স্থাপনা ভেঙে ফেলে ব্যাপক লুটতরাজ চালানো হয়। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারী) বিকেলে ডোমার ও ডিমলা থানার পুলিশ এবং বিপুল সংখ্যক সেনাবাহিনী সদস্যদের উপস্থিতিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে।
হামলায় আনসার বাহিনীর ব্যবহৃত ১০ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছিনতাই, আনসার ক্যাম্পে ভাঙচুর, রেশন, পোশাক ও সরকারি মালামাল লুট করা হয়। একই সঙ্গে নদী খনন প্রকল্পে ব্যবহৃত ৭টি এক্সকাভেটর ভাঙচুর করে অচল করে দেয়া হয়। সরকারি ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ২ দিনে প্রায় দেড় কোটি টাকা বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
গত বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বুড়ি তিস্তা নদীসংলগ্ন আনসার ক্যাম্প ও খনন প্রকল্প এলাকায় চরম সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পরদিন বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে আনসার ক্যাম্পে অবস্থানরত আনসার সদস্যদের বের করে দিয়ে দুর্বৃত্তরা দখল নেয়। এরপর ক্যাম্পের টিনশেড ও পাকা স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়। জানালা-দরজা, জেনারেটর মেশিনসহ সব মালামাল খুলে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে আনসার ক্যাম্পটি কার্যত মাঠে পরিণত হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এটি কোনো তাৎক্ষণিক উত্তেজনা নয়; বরং সুপরিকল্পিত ও সংগঠিত হামলা। সন্ধ্যার মাইকিং করে লোকজন জড়ো করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই হাজারের বেশি মানুষ সংঘবদ্ধ হয়ে আনসার ক্যাম্পে হামলা চালায়।
ক্যাম্পে কর্মরত আনসার সদস্য মো. এনামুল হক বলেন, হামলাকারীরা তাদের থাকার কক্ষ, অফিস, আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। রেশন, পোশাক ও নগদ অর্থসহ ব্যক্তিগত মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। রাষ্ট্রীয় বাহিনীর গুলি ছিনতাই জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি।
ঘটনার ভিডিও ও তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে একাধিক সাংবাদিক হামলার শিকার হন। আহতদের মধ্যে পথচারি, আনসার সদস্য, সাংবাদিক ও স্থানীয় বাসিন্দা রয়েছেন।
নীলফামারী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আতিকুর রহমান বলেন, এই হামলা ও ভাঙচুরে প্রায় ২ দিনে প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এটি গুরুতর অপরাধ। সরকারি জমি উদ্ধার সহ প্রকল্প বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি । তিনি অভিযোগ করেন, সঙ্ঘবদ্ধ দুষ্কৃতিকারীরা আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেনাবাহিনী ও পুলিশের উপস্থিতিতে নারকীয় তাণ্ডব চালালেও কোন প্রতিরোধ করা হয়নি বা কোন প্রকার আইন প্রয়োগ করা হয়নি তাদের উপর।
জেলা আনসার ও ভিডিপি কমান্ড্যান্ট মো. মাজহারুল ইসলাম ভূঁইয়া, পিভিএম বলেন, “১০ রাউন্ড শর্টগানের গুলি, রেশন ও পোশাক ছিনতাই হয়েছে। এটি বাহিনীর নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত। নীলফামারীর পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম, পিপিএম বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
তবে পুলিশ সুপারের বক্তব্যের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার কোনো মিল পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থলে গিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সদস্যকে দেখা যায়নি। দ্বিতীয় দিনেও দুর্বৃত্তরা নির্বিঘ্নে ভাঙচুর ও লুটতরাজ চালিয়ে যায়।
সেনা ও পুলিশের উপস্থিতিতেই আনসার ক্যাম্প দখল, অস্ত্রের গুলি লুট এবং দ্বিতীয় দিনেও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অনুপস্থিত সব মিলিয়ে ঘটনাটি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারী) বিকেলে ডোমার ও ডিমলা থানার পুলিশ এবং বিপুল সংখ্যক সেনাবাহিনী সদস্যদের উপস্থিতিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে।
2025 © জনপদ সংবাদ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রয়োজনে যোগাযোগঃ ০১৭১২-০৬৮৯৫৩