জনপদ সংবাদ

সত্য প্রকাশে নির্ভীক

ভোটের আগেই সেবার নজির: রাস্তাঘাট সংস্কারে জামায়াতে ইসলামী

আব্দুস সামাদ, শৈলকুপা (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধিঃ

ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার দিগনগর ইউনিয়নের ইটালী গ্রামে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র উদ্যোগে কয়েক কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা সংস্কার হয়েছে।

আজ সোমবার (৮ নভেম্বর) সাকালে ইটালী টু দেবতলার কিছু অংশ এবং ইটালী টু হাসনাভিটা পর্যন্ত সম্পূর্ণ রাস্তা স্থানীয় জনগণ ও সংগঠনের কর্মীরা মিলে স্বেচ্ছাশ্রমে এই কাজ সম্পন্ন করেন। রাস্তাটি আঠালো মাটির, সামান্য বৃষ্টি হলেই কাদায় চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যেত আবার রাস্তাটি শুকানো পর সমান্তরাল না থাকার । কৃষকরা ফসল বাজারে নিতে পারতেন না, অসুস্থ রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানো সম্ভব ছিল না, এমনকি শিশু শিক্ষার্থীরাও বিদ্যালয়ে যেতে পারত না,

স্থানীয়রা জানান, সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তায় চলার অযোগ্য এবং রাস্তা শুকানোর পরে একপায়ের মতো সরু হয়ে যেত, সাইকেল বা ভ্যান কোনো যানই চলাচল স্বাভাবিকভাবে সম্ভব ছিল না। এখন রাস্তা ট্রাক্টরের মাধ্যমে সংস্কার করায় মানুষের ভোগান্তি কমে গেছে।

এই রাস্তা সংস্কার কাজের নেতৃত্বছিলেন জামায়াতে ইসলামী দিগন্ত ইউনিয়নর তার্বিয়াত সেক্রেটারি আব্দুস সোবাহান সহ এলাকার কর্মী সমর্থক ও সাধারণ মানুষ একসাথে স্বেচ্ছাশ্রমে কয়েক কিলোমিটার রাস্তা সংস্কার করেন।

এলাকাবাসী জানায়, আগে নির্বাচনের সময় বিভিন্ন প্রার্থী এসে প্রতিশ্রুতি দিতেন—ভোট দিলে রাস্তা করে দেবেন। কিন্তু নির্বাচনের পর কেউ আর খোঁজ রাখেননি। অথচ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ভোট চাইবার আগেই কাজ শুরু করে দেখিয়েছেন।

ইউনিয়ন তার্বিয়াত সেক্রেটারি আব্দুস সোবাহান বলেন,আমরা রাজনীতিকে সেবার মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জনের মাধ্যম হিসেবে দেখি। মানুষের দুঃখে পাশে থাকা আমাদের দায়িত্ব।

“শৈলকুপা গার্লস স্কুলের শিক্ষক, তারিকুল ইসলাম আফিল” বলেন মানুষের দুঃখে পাশে থাকা আমাদের মূল দায়িত্ব। রাস্তা সংস্কারের কাজ শুধু অসমতল দূর করার উদ্যোগ নয়, এটি গ্রামের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের অংশ। আমরা চাই, যেখানে মানুষ ভোগান্তিতে, সেখানে আমরা সকলে হাত বাড়িয়ে পাশে দাঁড়াই। এই উদ্যোগ আমাদের দেখাচ্ছে—সেবা যখন সবার আগে আসে, তখন বিশ্বাস ও আশা জন্মায়।”

প্রবীণ গ্রামবাসী বলেন, “যারা ভোটের আগেই কাজ করে, তারা ভোট পেলে আরও ভালো কাজ করবে—এটাই আমাদের বিশ্বাস। এখন থেকে আমরা ভালো কাজ করা মানুষকেই ভোট দিতে চাই।”

স্থানীয় শিশু শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কৃষকরাও জানান, রাস্তা মেরামতের পর চলাচল সহজ হবে, ফসল বাজারে নিতে সুবিধা হবে এবং স্কুলে যাওয়া-আসা আগের চেয়ে অনেক ভালো হবে।

রাস্তা সংস্কারের পর এখন ইটালী গ্রামজুড়ে আনন্দের আমেজ। স্থানীয়রা বলছেন—এই উদ্যোগ শুধু রাস্তা নয়, মানুষের মনও জয় করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *