রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৬:১৬ অপরাহ্ন
জাহিদুল ইসলাম, ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি:
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার নাউতারা ইউনিয়নের সাতজান এলাকায় বুড়ি তিস্তা নদীর ভয়াবহ ভাঙন থেকে রক্ষা পেতে চলতি শুকনো মৌসুমেই স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। গত বর্ষায় সর্বস্ব হারিয়েছে প্রায় এক হাজার পরিবার কিন্তু বর্ষা মৌসুম ঘনিয়ে এলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় চরম উদ্বেগ, হতাশা ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের হাজারো মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত বর্ষায় জরুরি ভিত্তিতে পাইলিং বসিয়ে সাময়িকভাবে ভাঙন ঠেকানো হলেও স্থায়ী সমাধানের কাজ শুরু হয়নি। ফলে আসন্ন বর্ষায় আবারও ভয়াবহ বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন তারা। প্রতিবছর বর্ষা এলেই বুড়ি তিস্তার তাণ্ডবে বসতভিটা, ফসলি জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, শুধু গত বর্ষা মৌসুমেই নাউতারা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় এক হাজার পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ে। হাজার হাজার একর আবাদি জমি চাষের অনুপযোগী হয়ে যায়।
নদীভাঙন ও জলাবদ্ধতার কারণে একাধিক স্কুল, মসজিদ, মন্দির, কবরস্থান ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রতি বর্ষায় হুমকির মুখে পড়ে । কৃষিনির্ভর পরিবারগুলো জীবিকা হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
নীলফামারী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আতিকুর রহমান বলেন, গত বর্ষায় জরুরি ভিত্তিতে পাইলিং দিয়ে ভাঙন নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে সাড়ে ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। ৭ টি ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় মোট ৩.৩০ কিলোমিটার নদীতীর প্রতিরক্ষা কাজ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করে নোটসীটে চাহিদা দেয়া হয়েছে। তার মধ্যে ১ টি পয়েন্টের জন্য প্রায় ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে যা চহিদার তুলনায় অতি নগণ্য। বরাদ্দ পাওয়া ১টির জন্য চলতি মাসের গত ১১ তারিখে টেন্ডারের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছে ।
তিনি আরও জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গত নভেম্বরে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পুর), ডিজাইন সার্কেল-৬, ঢাকা–কে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের কারিগরি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে রাজনৈতিক টানাপোড়ণের কারণে নির্ধারিত সময়ে কমিটির পরিদর্শন সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরুজ্জামান বলেন, গত বর্ষায় আমি নিজে ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছি। জরুরি ভিত্তিতে পাইলিং দেওয়া হয়েছে। চলতি শুকনো মৌসুমেই জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সমন্বয়ে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণসহ দীর্ঘমেয়াদি সমাধান বাস্তবায়নের কথা রয়েছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসক মহোদয় অবগত আছেন।
এ বিষয়ে নীলফামারী জেলা প্রশাসক মহোদয় মো. নায়েরুজ্জামান জানান, ভাঙন পরিস্থিতি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে জরুরী ভিত্তিতে।
সাতজান মৌজার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দাবি, জরুরি ভিত্তিতে নদী খনন,ভাঙনপ্রবণ এলাকায় স্থায়ী বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও গাইড ওয়াল নির্মাণ, কার্যকর পানি নিষ্কাশন স্ট্রাকচার স্থাপন,ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন, কৃষি ও সেচ অবকাঠামো উন্নয়ন করা হোক ।
নাউতারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশিক ইমতিয়াজ মোর্শেদ মনি বলেন, আমার ইউনিয়নের ভাঙনকবলিত মানুষের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।
সময়মতো কাজ না হলে মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করে এলাকাবাসীর জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু না হলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে বুড়ি তিস্তার ভাঙন আরও ভয়াবহ রূপ নেবে। নতুন করে বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে সৃষ্টি হতে পারে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়।
2025 © জনপদ সংবাদ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রয়োজনে যোগাযোগঃ ০১৭১২-০৬৮৯৫৩