সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:৪০ পূর্বাহ্ন
মো: সিয়াম আবু রাফি, জবি প্রতিনিধি:
মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের (এমডিআইসি) উদ্যোগে এবং মানারাত সায়েন্স ক্লাবের আয়োজনে দুই দিনব্যাপী ‘এমডিআইসি স্টেম ফেস্ট ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (ঝঞঊগ) শিক্ষাকে বাস্তবমুখী ও আকর্ষণীয় করে তুলতে এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত হয় ফেস্টের সমাপনী অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণী পর্ব। দুপুর আড়াইটায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. এনামুল হক।
অনুষ্ঠানের সভাপতি ও কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল স, ম, মাহবুব-উল-আলম, ওএসজি, এসজিপি, এনডিসি, পিএসসি (অব.) তার বক্তব্যে বলেন, বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান কখনোই ইসলামী বিশ্বাসের পরিপন্থী নয়; বরং এটি স্রষ্টার নিদর্শন অনুধাবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তিনি চিকিৎসাবিদ্যা, গণিত ও বীজগণিতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মুসলিম মনীষীদের ঐতিহাসিক অবদান স্মরণ করে শিক্ষার্থীদের সেই গৌরবময় উত্তরাধিকার পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানান।
আলবার্ট আইনস্টাইন এবং পবিত্র কুরআনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি মানুষের জীবনকে সহজ করার পাশাপাশি জীবনের উদ্দেশ্য ও স্রষ্টার নিদর্শন আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করতে সহায়তা করে। বিজ্ঞান যেন মানবতার কল্যাণ এবং নৈতিক উন্নয়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয় এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি। বক্তব্যের শেষাংশে অধ্যক্ষ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, কেবল পার্থিব সাফল্য নয়, পরকালের আধ্যাত্মিক সাফল্যকেও লক্ষ্য রেখে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। একাডেমিক উৎকর্ষ, নৈতিকতা ও ঈমানের সমন্বয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনে বিশ্বনেতৃত্বে ভূমিকা রাখবে এমন দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন কলেজের উপাধ্যক্ষ মোহাম্মাদ আনোয়ারুল করীম। এছাড়াও অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপাধ্যক্ষ তাহমীনা ইয়াসমিন, বালিকা ও বালক শাখার কো অর্ডিনেটর যথাক্রমে তাহমিনা আখতার ও এমএ মহসিন কোরেশী, আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ড. মো. মাকসূদুল আলম ও রোখসানা খানম প্রমুখ।
আয়োজকরা জানান, এমডিআইসি স্টেম ফেস্ট শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় আগ্রহী করে তুলবে এবং ভবিষ্যৎ গবেষক ও উদ্ভাবক তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
অনুষ্ঠান শেষে বিভিন্ন অলিম্পিয়াড, রোবোটিক্স প্রতিযোগিতা, প্রজেক্ট ডিসপ্লে ও অন্যান্য ইভেন্টে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পরে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। ধন্যবাদ জ্ঞাপন ও ফটোসেশনের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।
এর আগে বেশকিছু ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। এরমধ্যে ছিল কম্পিউটার সায়েন্স অলিম্পিয়াড, রোবোটিক্স প্রতিযোগিতা, ফান সেগমেন্ট ও টেক টক সেশন এবং প্রজেক্ট ডিসপ্লে সেটআপ। এছাড়াও শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) উৎসবের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজন করা হয় একাধিক একাডেমিক ও সৃজনশীল প্রতিযোগিতা। এরমধ্যে ছিল গণিত অলিম্পিয়াড, সাধারণ বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড, বায়োলজি-কেমিস্ট্রি অলিম্পিয়াড এবং পদার্থবিজ্ঞান অলিম্পিয়াড। এছাড়াও অনুষ্ঠিত হয় চেস প্রতিযোগিতা, ফান সেগমেন্ট ও টেক টক সেশন। শিক্ষার্থীরা তাদের নিজস্ব উদ্ভাবনী প্রজেক্ট, প্রযুক্তিনির্ভর ধারণা এবং বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ উপস্থাপন করে বিচারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। দুই দিনব্যাপী এসব কার্যক্রমে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়।
2025 © জনপদ সংবাদ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রয়োজনে যোগাযোগঃ ০১৭১২-০৬৮৯৫৩