Month: February 2026

  • নবীনগরে ফুটবল প্রতীকের প্রার্থী তাপসের বিশাল নির্বাচনী সভা

    নবীনগরে ফুটবল প্রতীকের প্রার্থী তাপসের বিশাল নির্বাচনী সভা

    আরিফুল ইসলাম, নবীনগর প্রতিনিধি:

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৫ নবীনগর আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী নাজমুল হোসেন তাপস ফুটবল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠে নেমে ইতোমধ্যে নবীনগরের রাজনীতিতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে তিনি নিজের শক্ত অবস্থান স্পষ্টভাবে জানান দিয়েছেন।

    আজ (৮ ফেব্রুয়ারি) রোববার নবীনগরের ঐতিহাসিক হাই স্কুল মাঠে ফুটবল প্রতীকের প্রার্থী কাজী নাজমুল হোসেন তাপসের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বৃহৎ নির্বাচনী সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা উপলক্ষে দুপুর ২টার পর থেকেই নবীনগরের ২১টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকা থেকে দলে দলে মিছিল এসে নবীনগর সদর বাজার মুখরিত করে তোলে। বিকাল ৪টার দিকে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে নবীনগর হাই স্কুল মাঠ কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন নবীনগর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার শফিকুল ইসলাম, সাবেক পৌর মেয়র মাইনুদ্দিন মাইনু, সাবেক পৌর বিএনপির সভাপতি আবু সায়েদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাজী শাহাবুদ্দিন, উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি এমদাদুল বারী, পৌর যুবদলের সাবেক সভাপতি আলী আজম, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য হযরত আলী, সাবেক পৌর ছাত্রদল সভাপতি আশরাফুল আলম রুবেল, সাবেক উপজেলা ছাত্রদল আহ্বায়ক আপেল মাহমুদ, সাবেক সরকারি কলেজ ছাত্রদল আহ্বায়ক গোলাম সামদানী, সাবেক জেলা বিএনপির সদস্য হাজী ফুরকান উদ্দিন, সাবেক চেয়ারম্যান হাজী নুরুল ইসলাম, সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল আমিনসহ উপজেলা ও জেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

    কাজী নাজমুল হোসেন তাপস ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৫ আসনের সাবেক চারবারের সংসদ সদস্য কাজী মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনের সুযোগ্য উত্তরসূরি। তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফুটবল প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

    বক্তব্যে কাজী নাজমুল হোসেন তাপস বলেন, ৫ আগস্টের পর নবীনগরে যে মামলা বাণিজ্য ও চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেছে, তা বিগত ১৭ বছরেও দেখা যায়নি। নবীনগরের শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থিতিশীল করতে একটি কুচক্রী মহল বিএনপির অফিস ও তাঁর ব্যানারে অগ্নিসংযোগ করেছে। এসব ঘটনার বিষয়ে তিনি প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

    তিনি আরও বলেন, তাঁর সঙ্গে যারা রয়েছেন, তাঁসহ অনেককে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে এতে তাঁরা ভীত নন। এই বহিষ্কার থেকেই নবীনগরে ইনসাফের রাজনীতির সূচনা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    শেষ পর্যায়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কাজী নাজমুল হোসেন তাপস নবীনগরের মা-বোনসহ সর্বস্তরের মানুষের কাছে ফুটবল প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করে তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।

  • কালাইয়ে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত

    কালাইয়ে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত

    জয়পুরহাট প্রতিনিধি:

    জয়পুরহাটের কালাই বাসস্ট্যান্ড চত্বরে ১১ দলীয় জোটের উদ্যোগে এক বিশাল নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত এই জনসভায় সভাপতিত্ব করেন কালাই উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মো. মুনছুর রহমান।

    জনসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন জয়পুরহাট-২ আসনে ১১ দলীয় জোট মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি এস এম রাশেদুল আলম সবুজ।

    তিনি বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একটি দুর্নীতিমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আল্লাহর আইন ও সৎলোকের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

    তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ আজ পরিবর্তন চায়। ইনশাআল্লাহ, জনগণের সমর্থনে বিজয় অর্জনের মাধ্যমে একটি কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।

    জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ, তারবিয়াত সেক্রেটারি মাওলানা মো. মাহমুদুল হাসান, অ্যাডভোকেট আব্দুল মোমেন ফকির। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কালাই উপজেলা নায়েবে আমীর তাইফুল ইসলাম ফিতা, আব্দুর রউফ, শ্রমিক নেতা মোনতাহার হোসেন, জামায়াত নেতা মাওলানা মো. মোজাফ্ফর হোসেন, সাবেক আমীর নুরুজ্জামান সরকার, অফিস সহকারী আনোয়ারুল ইসলাম, যুব বিভাগের সভাপতি মো. খাইরুল ইসলাম, মাওলানা আব্দুস সোবহান, মো. আজিজুল হক, মাওলানা গোলাম আযম, সাবেক শিবির নেতা জাকির হোসেন, মো. তাহরিম আল হাসান ও শিবির নেতা খিজির হায়াতসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

    অনুষ্ঠানটি সার্বিকভাবে পরিচালনা করেন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল আলীম।

  • কুবিতে ছাত্র সংগঠন গুলোর সাথে প্রশাসনের মতবিনিময় সভা

    কুবিতে ছাত্র সংগঠন গুলোর সাথে প্রশাসনের মতবিনিময় সভা

    সানজানা তালুকদার, কুবি প্রতিনিধি:

    কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত ছাত্র সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ৩২টি ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

    রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

    মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. নাহিদা বেগম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান এবং প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হাকিম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোহরাব উদ্দিন, বিজয়-২৪ হলের প্রভোস্ট ড. মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান খান এবং ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ।

    মতবিনিময় সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় ছাত্র সংগঠনগুলোর কার্যক্রম, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ এবং ক্যাম্পাসে ইতিবাচক পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা তাদের পূর্ববর্তী কার্যক্রম, সীমাবদ্ধতা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং প্রশাসনের কাছে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন।

    বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংগঠনই ক্যাম্পাসের প্রাণ। এসব সংগঠন বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রাণবন্ত ও গতিশীল করে তোলে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নের জন্য আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি। স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এবার আমরা সর্বোচ্চ মানের শিক্ষক নিয়োগ দিতে সক্ষম হয়েছি। নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও নতুন ক্যাম্পাস চালুর লক্ষ্যে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। পাশাপাশি সংগঠন কার্যক্রম ও ক্যাম্পাস জীবনকে আরও প্রাণবন্ত করতে ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরকে আরও সক্রিয় করা হয়েছে।’

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী বলেন, ‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করার চেষ্টা করছি। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে কয়েকটি বিভাগে শিক্ষক সংকট, ক্যাফেটেরিয়া সংকট, বাস সংকট এবং সেশন জটসহ নানা সমস্যা বিদ্যমান ছিল। এসব সংকট নিরসনে আমরা ধারাবাহিকভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও উন্নত ও সমৃদ্ধশীল করার লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এ কাজে আপনাদের সবার সহযোগিতা কাম্য।’

    সভায় সভাপতির বক্তব্যে ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. নাহিদা বেগম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগঠনগুলোকে আরও সক্রিয় ও প্রাণবন্ত করা এবং প্রশাসনের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যে আজকের এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে। এই সভার মাধ্যমে বিভিন্ন সংগঠন তাদের দাবি, কার্যক্রম, পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ উদ্যোগ তুলে ধরছে, যা সংগঠনগুলোর কার্যকর ভূমিকা পালনে সহায়ক হবে।’

     

  • যারা মা-বোনদের বোরখা খুলে ফেলতে চায়, ক্ষমতায় গেলে তারা বাংলাদেশকে বিবস্ত্র করবে : হাসনাত আব্দুল্লাহ

    যারা মা-বোনদের বোরখা খুলে ফেলতে চায়, ক্ষমতায় গেলে তারা বাংলাদেশকে বিবস্ত্র করবে : হাসনাত আব্দুল্লাহ

    মোঃ জাহিদ হাসান, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি :

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, ‘প্রিয় মা-বোনেরা, আমরা দেখছি গত একমাস ধরে একটি দল আপনাদের হিজাব, বোরখা, ছায়া টেনে খুলে ফেলতে চায়। আজকে যারা আমার মা-বোনদের বোরখা খুলে ফেলতে চায়, তারা ক্ষমতায় আসলে বাংলাদেশকে বিবস্ত্র করে ফেলবে।’

    রবিবার দুপুরে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর সরকারি কলেজ মাঠে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোটের জনসভায় এ কথা বলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের প্রার্থী এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব এসএম সাইফ মোস্তাফিজের সমর্থনে এ নির্বাচনী জনসভার আয়োজন করা হয়।

    এদিন প্রধান আলোচকের বক্তব্যে হাসনাত আব্দুল্লাহ ভোটকেন্দ্র দখলকারীদের হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘যারা ভোটকেন্দ্র দখলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, এবার যদি তরুণ প্রজন্মের বিরুদ্ধে গিয়ে আপনারা ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা করেন, আপনারা বাড়ি ফিরে যেতে পারবেন না। আপনারা মা-বাবার দোয়া নিয়ে, সন্তান স্ত্রীর থেকে দোয়া নিয়ে আসবেন ; এটা হবে আপনাদের আখেরি দিন। আমাদের শরীরের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও ভোটাধিকার নিশ্চিত করবো।’

    হাসনাত আরও বলেন, ‘একটা পক্ষ তরুণ প্রজন্মকে ব্যর্থ প্রমাণ করতে উঠে পড়ে লেগেছে। ভারত চায় না তরুণ প্রজন্ম জিতুক, ব্যবসায়ী কুলাঙ্গাররা চায় না তরুণরা জিতুক। মিডিয়া মাফিয়ারা চায়না এই তরুণ প্রজন্ম জিতুক। অতীতের বস্তাপচা রাজনীতিবিধরা চায়না এই তরুণরা জিতুক। চান্দাবাজ-টেন্ডারবাজরা চায়না এই তরুণরা জিতুক। আপনারা (অডিয়েন্স) প্রত্যেকে দায়িত্ব নিয়ে এই লড়াইকে জেতাতে হবে।’

    নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্বপালনের আহ্বান জানান হাসনাত আবদুল্লাহ। প্রশাসনের লোকজনকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘বিগত তিনটি নির্বাচনে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করেছেন। দিনের ভোট রাতে করেছেন, মরা মানুষকে কবর থেকে তুলে এনে ভোট দিয়েছেন, আমি-ডামি নির্বাচন পরিচালনা করেছেন। এসপি-ডিসিরা সাক্ষী থেকে, ওসি-কনস্টেবলরা সাক্ষী থেকে এসব জনগণবিরোধী কার্যক্রম আপনারা করেছেন। আপনাদের প্রতি জনগণের যে অনাস্থা তৈরি হয়েছে, সেই অনাস্থা দূর করে আস্থা ফিরিয়ে আনতে আগামী নির্বাচনে জনতার কাতারে নেমে এসে জনতার নির্বাচন করেন। জনগণ আপনাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবে।’

    গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করে এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘অনেক সাংবাদিক এসে আমাদেরকে তাঁদের দুঃখের কথা জানান। যে খবরটা তাঁরা প্রচার করতে চান, তাঁদের দালাল মালিক মিডিয়া তাঁদেরকে প্রচার করতে দেন না। ৫ আগস্টের পরে আমরা যখন সরকার গঠন করেছি, আমরা যখন মন্দির–মসজিদগুলোকে পাহারা দিয়েছি, অমুসলিম ভাইদের পাশে দাঁড়িয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি, ঠিক সেই সময়টিতে একটি দল টেলিভিশনগুলোকে দখল করেছে, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে দখল করেছে, মিডিয়াগুলো দখল করে মিডিয়া মাফিয়াগিরি শুরু করেছে।’

    রবিবার শাহজাদপুর সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত জনসভায় শাহজাদপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মোঃ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল মওলানা রফিকুল ইসলাম খাঁন। এতে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। এছাড়া সিরাজগঞ্জ-৬ আসনে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের প্রার্থী এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব এসএম সাইফ মোস্তাফিজসহ জামায়াতে ইসলামী, খেলাফত মজলিসসহ ১১ দলীয় জোটের নেতারা বক্তব্য দেন।

    এদিন প্রধান অতিথি জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মওলানা রফিকুল ইসলাম খাঁনের হাত ধরে শাহজাদপুর উপজেলার নরিনা ইউনিয়ন বিএনপির অর্ধশতাধিক বিএনপি নেতাকর্মী জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন।#

  • মিয়ানমার থেকে গুলি, ২৭ দিন পর মারা গেল শিশু হুজাইফা

    মিয়ানমার থেকে গুলি, ২৭ দিন পর মারা গেল শিশু হুজাইফা

    শাহারিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী, কক্সবাজার সদর প্রতিনিধি:

    ‎মিয়ানমার সীমান্ত থেকে ছোড়া গুলিতে মাথায় গুরুতর আহত টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ের শিশু হুজাইফা সুলতানা আফনান (৯) আর বেঁচে নেই।

    শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারী) সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে রাজধানীর জাতীয় ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

    এর আগে ১১ জানুয়ারি সকালে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে ছোড়া গুলিতে আহত হয় হুজাইফা। তাকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে সন্ধ্যা ছয়টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। সেখানে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয় শিশুটিকে।

    রাতে চিকিৎসকেরা জানান, গুলিটি তার মস্তিষ্কে প্রবেশ করেছে। ‎‎চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যানেসথেসিয়া ও আইসিইউ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক হারুন অর রশিদ জানিয়েছিলেন, তাকে অস্ত্রোপচার করা হয়। তবে ঝুঁকি থাকায় মস্তিষ্কে ঢুকে যাওয়া গুলিটি বের করা সম্ভব হয়নি। মস্তিষ্কের চাপ কমানোর চেষ্টা করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে ঢাকায় নেওয়া হয়। ‎

    ‎হুজাইফার চাচা মোহাম্মদ এরশাদ জানান, ১০ জানুয়ারি (শনিবার) রাতভর সীমান্তের ওপারে গোলাগুলির শব্দে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছিল। রোববার সকালে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত মনে হওয়ায় শিশুটি খেলতে বাইরে বের হয়। এ সময় আবারও সীমান্তের ওপারে গোলাগুলি শুরু হলে একটি গুলি এসে তার মাথায় লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। ‎

    এদিকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সাম্প্রতিক সময়ে বিমান হামলা, ড্রোন হামলা, মর্টার শেল ও বোমা বিস্ফোরণ বেড়েছে। মংডু টাউনশিপের আশপাশের এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) অবস্থানে সরকারি জান্তা বাহিনী বিমান হামলা জোরদার করেছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘর্ষে সীমান্ত পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে ওপারের গোলাগুলির প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জনপদে। টেকনাফের বিভিন্ন এলাকায় গোলার শব্দে ঘরবাড়ি কেঁপে উঠছে। ছোড়া গুলি এসে পড়ছে লোকজনের বসতঘর, চিংড়িঘের ও নাফ নদীতে।

    হুজাইফার মৃত্যুতে সীমান্তে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ‎ ‎শিশুটির মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা সীমান্তে নিরস্ত্র মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের জরুরি পদক্ষেপ দাবি করেছেন।

  • পূবাইলে ৩৫ গ্রাম হেরোইনসহ এক মাদক কারবারি গ্রেফতার

    পূবাইলে ৩৫ গ্রাম হেরোইনসহ এক মাদক কারবারি গ্রেফতার

    মোঃ আতেফ ভূঁইয়া, গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি:

    গাজীপুরের পূবাইল থানা পুলিশের অভিযানে ৩৫ গ্রাম হেরোইনসহ এক মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাতে পূবাইল থানার এসআই মাহমুদ হাসান জনি সঙ্গীয় ফোর্সসহ থানাধীন এলাকায় নিয়মিত রাত্রীকালীন মোবাইল ডিউটি পালনকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় মাজুখান এলাকার মাজুখান অ্যাকটিভ স্কুলের সামনে ইটের সলিং রাস্তার উপর থেকে মো. মাসুদ রানা ওরফে রুবেল (৩৩) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতারকৃত আসামির পিতার নাম ওহাব উজির ও মাতার নাম পারভিন সুলতানা ফরিদা। তার স্থায়ী ঠিকানা সারমারা (আটিপাড়া), থানা বকশীগঞ্জ, জেলা জামালপুর। বর্তমানে সে মরকুন (টেকপাড়া মুড়ি ফ্যাক্টরি সংলগ্ন), থানা টঙ্গী পূর্ব, গাজীপুর মহানগর এলাকায় বসবাস করছিল।

    পুলিশ জানায়, গ্রেফতারের সময় আসামির হেফাজত থেকে ৩৫ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়, যা জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা রুজু করে আসামিকে বিধি মোতাবেক বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

  • ক্ষমতা বা পদ নয়, মানুষের সেবা করাই আমার মূল লক্ষ্য : মমতাজ আলী শান্ত

    ক্ষমতা বা পদ নয়, মানুষের সেবা করাই আমার মূল লক্ষ্য : মমতাজ আলী শান্ত

    মো: রুহুল আমিন রাসেল, লালমনিরহাট প্রতিনিধি:

    সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন লালমনিরহাট-২ আসন আদিতমারী ও কালিগন্জ উপজেলার মোটরসাইকেল প্রতীকে স্বতন্ত্র পদপ্রার্থী মো: মমতাজ আলী শান্ত।

    বক্তব্যে তিনি বলেন, আমি নির্বাচনে দাঁড়িয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে যদি মোটরসাইকেল প্রতীকে জয় লাভ করি, তাহলে মানবতার কল্যাণে কাজ করে যাব।

    শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার যে ভঙ্গুর দশা, তা দূরীকরণে বদ্ধ পরিকর আমি। আমাদের লালমনিরহাট-২ আসনের জনগণের প্রাণের দাবী তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে আমার নিজস্ব কিছু পরিকল্পনা রয়েছে- তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে তিস্তা নদীর পাড় কেন্দ্রীক বানিজ্যিক চিন্তাভাবনা।

    তিস্তার পাড়গুলো ড্রেজিং করে উঁচু করে নিয়ে বিভিন্ন হোটেল, রেস্তোরাঁ, পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করবো ইনশাআল্লাহ।

    বেকার যুবসমাজের কর্মসংস্থান নিয়ে জোড়ালো চিন্তাভাবনা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ক্ষমতা বা পদ নয়—মানুষের সেবা করাই আমার মূল লক্ষ্য।

    তিনি আরো বলেন এখানে আমি নিজের স্বার্থ হাসিল করার জন্য আসেনি আমি এসেছি সাধারণ আপামর জনতার পক্ষে কাজ করার জন্য আমি এখানে কাউকে আমার প্রতিপক্ষ বা প্রতিযোগী মনে করছি না সবাইকে আমার সহযোগী মনে করছি।

    সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও মানবিক মূল্যবোধ রক্ষায় আমি কাজ করতে চাই।
    সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ জনগণ উপস্থিতি ছিলেন।

    সর্বশেষ তিনি সকলের দোয়া চেয়ে সকলের মহা-মূল্যবান ভোট মোটরসাইকেল মার্কার পক্ষে দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়ে তার সমাপনী বক্তব্য শেষ করেন।

  • জাবিতে হিম উৎসব ঘিরে বিতর্ক: সংস্কৃতি চর্চার নামে ধর্মীয় উস্কানির চেষ্টার অভিযোগ

    জাবিতে হিম উৎসব ঘিরে বিতর্ক: সংস্কৃতি চর্চার নামে ধর্মীয় উস্কানির চেষ্টার অভিযোগ

    জাবি প্রতিনিধি:

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) শীত মৌসুম এলেই নিয়মিত আয়োজন করা হয় ‘হিম উৎসব’। একে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে সাংস্কৃতিক আবহ তৈরি হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই উৎসব ইতিবাচক আলোচনার চেয়ে বিতর্ক, সমালোচনা ও উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে বেশি। সংস্কৃতি চর্চার নামে আয়োজিত এই উৎসব ঘিরে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, অশোভন পরিবেশনা, মাদক সেবন, মব সৃষ্টি এবং প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা—এমন নানা অভিযোগ বারবার সামনে এসেছে।

    চলতি বছরের হিম উৎসবকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয় পবিত্র কুরআনের সূরা নাস পাঠ ও তার বিকৃত ব্যাখ্যা নিয়ে। গত ৬ ফেব্রুয়ারি রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছবি চত্বরে আয়োজিত পালাগানের এক পর্যায়ে এক বাউল শিল্পী সূরা নাসের কিছু অংশ অসম্পূর্ণভাবে পাঠ করে মন্তব্য করেন—“পুরা সূরা জুড়েই নাচতে বলা হয়েছে, যত নাচবি তত বাঁচবি।” এরপর তিনি নৃত্যসংক্রান্ত একটি গান শুরু করেন। এ বক্তব্যে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের একাংশ তীব্র আপত্তি জানান এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ করেন।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুইজন শিক্ষার্থী মঞ্চে উঠে শিল্পীর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানালে আয়োজক কমিটির সদস্যরা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার বদলে উল্টো প্রতিবাদকারীদের নামিয়ে দেন। শিল্পী তাৎক্ষণিকভাবে ভুল স্বীকার করলেও অনুষ্ঠান বন্ধ না করে পুনরায় বিতর্কিত পরিবেশনা চালু রাখা হয়। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ জন শিক্ষার্থী প্রতিবাদী দুই শিক্ষার্থীকে ঘিরে ধরে, যা এক পর্যায়ে মব পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। অভিযোগ রয়েছে, তাদের ‘মৌলবাদী’, ‘তৌহিদি জনতা’ ও ‘শিবির ট্যাগ’ দিয়ে ভিলিফাই করা হয় এবং জোরপূর্বক তাফসির জিজ্ঞেস করে হেনস্তা করা হয়।

    এই ঘটনার পর ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের একটি অংশ শহীদ মিনার ও উপাচার্যের বাসভবনের সামনে জড়ো হয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তির দাবিতে অবস্থান নেয়। উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে জানান, প্রক্টরিয়াল টিমের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং ক্যাম্পাসে পরিকল্পিতভাবে সংঘাত তৈরির ধারাবাহিকতা।

    এবারের উৎসবের প্রথম দিনেও বিতর্ক সৃষ্টি হয় ‘পঞ্চরস যাত্রাপালা’ নামের একটি নৃত্য পরিবেশনাকে ঘিরে। তৃতীয় লিঙ্গ সম্প্রদায়ের একজন শিল্পীর পরিবেশিত নৃত্যকে অনেক শিক্ষার্থী ‘অশোভন’ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শালীনতার পরিপন্থী বলে অভিহিত করেন। সামাজিক মাধ্যমে নৃত্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনা আরও তীব্র হয়। শিক্ষার্থীদের মতে, এ ধরনের পরিবেশনা বারবার আয়োজনের মাধ্যমে সাধারণ ও ধর্মপ্রাণ শিক্ষার্থীদের উসকে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

    বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের ফেসবুক মন্তব্যকে ঘিরে। তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের শিক্ষক হাসান নাঈম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সূরা নাস ও সূরা ফালাক আল কুরআনের অন্তর্ভুক্ত নয়—এমন বক্তব্য দেন। পরবর্তীতে তিনি এটিকে নিজের মত নয় বলে দাবি করলেও তার মন্তব্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়। একাধিক শিক্ষার্থী তার বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ জানান এবং একে ধর্মীয় উস্কানিকে তাত্ত্বিক বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন।

    হিম উৎসবকে ঘিরে বিতর্ক নতুন নয়। এর আগেও বিভিন্ন বছরে উৎসব চলাকালে মাদক সেবনের অভিযোগে বহিরাগতসহ শিক্ষার্থীদের আটক করেছে প্রক্টরিয়াল টিম। ২০১৯ সালে মুক্তমঞ্চ এলাকায় মাদক সেবনের সময় ঢাকা ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ অন্তত ১০ জনকে আটক করা হয়। তখন প্রশাসন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা বললেও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বাস্তবে হিম উৎসব ঘিরে মাদক সেবনের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে দেখা যায় না।

    এছাড়া গত বছর হিম উৎসব চলাকালে নারী হল থেকে বহিরাগত যুবক আটক হওয়ার ঘটনাও ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে নওয়াব ফয়জুন্নেসা হল থেকে এক যুবক আটক হন, যিনি হিম উৎসব দেখতে এসে এক নারী শিক্ষার্থীর সহায়তায় হলে প্রবেশ করেছিলেন। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের শাস্তি হলেও উৎসবের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে পড়ে।

    ক্যাম্পাসের একাংশ শিক্ষার্থীর মতে, ছাত্র সংসদ নির্বাচনে বামপন্থী সংগঠনগুলোর বিপর্যয়ের পর হিম উৎসবকে ঘিরে তারা আরও ‘ডেসপারেট’ হয়ে উঠেছে এবং সংস্কৃতির নামে ফ্যাসাদ তৈরির চেষ্টা করছে। অন্যদিকে বামপন্থী নেতারা দাবি করছেন, ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে কিছু শিক্ষার্থী পরিকল্পিতভাবে অনুষ্ঠান বানচাল করতে চেয়েছে।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের ৪৮ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী হাসান সজীব তার সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, এবারের আয়োজনটাই ছিল কন্ট্রোভার্সি ক্রিয়েট করার পায়তারা। তৃতীয় লিঙ্গের প্রতিনিধিদের দিয়ে নোংরা নাচ নাচিয়ে যখন খুব বেশি সমালোচনা ক্রিয়েট করা গেল না, তখন পরেরদিন ফের সেই সূরা নাসের ঘটনটা ঘটানো হইলো। যেই সিমিলার ঘটনা নিয়ে এর আগেও একটা ঝামেলা দেশব্যাপী হয়েছিল। তিনি আরও লেখেন, একই বিষয়ের পুনরাবৃত্তি, গানের একই টপিক নির্ধারণ–এগুলা দেখে মনে হয়েছে সবকিছু ডেলিবারেটলি করা হয়েছে, প্ল্যানড ওয়েতে । সাধারণ/ধর্মপ্রাণ পোলাপানকে ট্রিগার করে সমালোচনা ইনভাইট করার চেষ্টা আছে এখানে। ইসলামপন্থী/সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে একটা ঝামেলা লাগুক, এই ইন্টেনশন রাইখাই আয়োজনের বিষয়বস্তু নির্ধারন করা।

    জলসিঁড়ির সাবেক সভাপতি মো. ফেরদৌস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেন, একজন সাংস্কৃতিক কর্মী হিসেবে “হিম উৎসব” এর এমন অসুস্থ রুচির আয়োজনকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করলাম।মুক্তমঞ্চ আমার কাছে বিশাল কিছু, পবিত্রতা, এখানে মুক্তভাবে নিজেকে প্রকাশ করা স্বপ্ন,সাধনা। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীকে প্রমোদবস্তু বানিয়ে তৈরী হওয়া যাত্রাপালা(সেমিন্যুড) মুক্তমঞ্চে প্রদর্শন করা কোনো সুস্থ সংস্কৃতি হতে পারে না।হয় বিকৃত রুচি নয়তো রুচির দুর্ভিক্ষ বা অজ্ঞতা। আয়োজক নাকি”পরম্পরায় আমরা” এরা জাহাঙ্গীরনগরের কোন পরম্পরা,কার পরম্পরা, কত দিনের পরম্পরা প্রকাশ করে তা এখনো বোধগম্য নয় নয়।

    এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ৩দফা দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বরাবর আবেদন প্রদান করেন একদল শিক্ষার্থী। দাবিগুলো- অবমাননাকারী আয়োজকদের এবং মব সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে অনতিবিলম্বে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, বারবার মাদক সেবনসহ অন্যান্য অপরাধমূলক কার্যক্রমের দায়ে ‘হিম উৎসব এর আয়োজন বন্ধ করতে হবে অথবা প্রশাসনের সম্পূর্ণ তত্ত্বাবধানে এ আয়োজন সম্পন্ন করতে হবে, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতকে সমর্থনের দায়ে তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রভাষক জনাব হাদ্যম নাঈমের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

    এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, আমরা এ বিষয়ে কাজ করছি। কিছুক্ষন বাদে প্রজ্ঞাপন জারি হবে। তখন সব জানতে পারবেন।

  • শার্শায় বিএনপির নির্বাচনী জনসভা

    শার্শায় বিএনপির নির্বাচনী জনসভা

    মোঃ ইমরান হোসেন হৃদয়, শার্শা (যশোর) প্রতিনিধি:

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া ইউনিয়নে বিএনপির উদ্যোগে এক নির্বাচনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে জনসমর্থন জোরদার করতেই এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

    বাগআঁচড়া ইউনাইটেড মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এ জনসভায় সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এএইচএম আসাদুজ্জামান মিঠু। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন যশোর–৮৫/১ (শার্শা) আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী নুরুজ্জামান লিটন।

    তার বক্তব্যে নুরুজ্জামান লিটন বলেন, দেশের জনগণ সুশাসন ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা দেখতে চায়। তিনি দাবি করেন, ধানের শীষ প্রতীক জনগণের অধিকার ও গণতান্ত্রিক চেতনার প্রতিনিধিত্ব করে। তিনি নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
    সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তি।

    তিনি তার বক্তব্যে বলেন, জনগণের আস্থা অর্জন করতে হলে তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। তিনি নেতাকর্মীদের ঘরে ঘরে গিয়ে ভোটারদের সাথে যোগাযোগ বাড়ানো এবং নির্বাচনী প্রচারণা জোরদার করার উপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি তিনি শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের কথাও উল্লেখ করেন।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা আবুল হাসান জহির। এছাড়া আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল মিন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল আলম বাবু ও সালাউদ্দিন আহমেদ, শার্শার প্রধান উপদেষ্টা খায়রুজ্জামান মধু,শার্শা উপজেলা বিএনপির জননেতা জনাব আবুল হাসান জহির,যুগ্ম সম্পাদক তাজউদ্দীন আহমেদ, যুগ্ম সম্পাদক আলহাজ্ব কুদ্দুস আলী বিশ্বাস,সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম,সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান মুন্না, আইন বিষয়ক সম্পাদক মশিউর রহমান।

    এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কৃষক দলের সভাপতি আমিরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন,উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর জোয়াহ সেলিম ও সদস্য সচিব ইমদাদুল হক স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রাকিবুল ইসলাম রিপন ও সদস্য সচিব সেলিম হোসেন আশা বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

  • দীর্ঘ ২২ বছর পর নীলফামারীর বড় মাঠে তারেক রহমান

    দীর্ঘ ২২ বছর পর নীলফামারীর বড় মাঠে তারেক রহমান

    মো:জুয়েল রানা, ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি ;

    দীর্ঘ ২২ বছর পর নীলফামারীর ঐতিহাসিক বড় মাঠে উপস্থিত হলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান। এ উপলক্ষে মাঠে লক্ষাধিক নেতাকর্মী ও সমর্থকের ঢল নামে। জনসভাকে ঘিরে নীলফামারী শহর ও আশপাশের এলাকায় দেখা যায় ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা।

    সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির নির্বাচনী প্রতীক ধানের শীষের পাশাপাশি নীলফামারী-১ আসনে খেজুর গাছ প্রতীক সহ ধানের শীর্ষের প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বিপুল ভোটে বিজয়ের মাধ্যমেই দেশে গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা সম্ভব।

    তার বক্তব্যে তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশের সার্বিক উন্নয়নে বাস্তবভিত্তিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন। পাশাপাশি তিনি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

    সমাবেশে বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, এই জনসমাবেশ প্রমাণ করে যে নীলফামারীর জনগণ পরিবর্তনের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ এবং আগামী নির্বাচনে জনগণ তাদের ভোটের মাধ্যমে সেই পরিবর্তনের বার্তা দেবে।

    সমাবেশটি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়। সার্বিক নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়োজিত ছিল।

  • জৈন্তাপুরকে মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই : আরিফুল হক চৌধুরী

    জৈন্তাপুরকে মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই : আরিফুল হক চৌধুরী

    জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, জৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধিঃ

    আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সিলেট-৪ (জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ) আসনে বিএনপি ও জমিয়ত ঐক্যজোট মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শনিবার (৭ জানুয়ারি) দুপুর ২টায় ঐতিহাসিক জৈন্তাপুর ইরাদেবী মিলনায়তন মাঠে এ জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। জৈন্তাপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর রশিদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাফিজের সঞ্চালনায় সভাটি পরিচালিত হয়।

    জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, “আমি আপনাদের সঙ্গে নিয়ে জৈন্তাপুরকে একটি মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এলাকার সার্বিক উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।”

    তিনি আরও বলেন, “উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে আমাকে বিজয়ী করুন। আপনাদের সমর্থন পেলে জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করবো, ইনশাআল্লাহ।”

    জনসভায় স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। সভায় বক্তারা ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। সভা শেষে নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করে।

    এ সময় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দল, কৃষক দল, জাসাসসহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের অসংখ্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • ত্রিশালে সাংবাদিকদের দিনব্যাপী নির্বাচনী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

    ত্রিশালে সাংবাদিকদের দিনব্যাপী নির্বাচনী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

    মোঃ মোস্তাকিম, ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনকালীন সময়ে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা নিশ্চিত করতে ময়মনসিংহের ত্রিশালে অনুষ্ঠিত হয়েছে “নির্বাচনী রিপোর্টিং ও ফ্যাক্ট চেকিং অ্যান্ড ডিজিটাল ভেরিফিকেশন” বিষয়ক দিনব্যাপী কর্মশালা।

    আজ শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ত্রিশাল অফিসার্স ক্লাবে দিনব্যাপী এই কর্মশালার আয়োজন করে ত্রিশাল প্রেসক্লাব। কর্মশালায় ত্রিশাল উপজেলায় কর্মরত প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন।

    কর্মশালার শুরুতে অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকদের নিবন্ধন ও সকালের নাস্তার মাধ্যমে দিনের কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও পরিচয় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

    উদ্বোধনী বক্তব্য,উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জনাব আরাফাত সিদ্দিকী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ত্রিশাল।

    তিনি বলেন, “নির্বাচনের মতো সংবেদনশীল সময়ে সাংবাদিকদের দায়িত্ব আরও বেড়ে যায়। নিরপেক্ষতা, তথ্য যাচাই এবং আইন মেনে সংবাদ পরিবেশনই পারে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে।”

    বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা ও নির্বাচনকালীন রিপোর্টিং কর্মশালার প্রথম সেশনে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা ও প্রসঙ্গ নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করেন জনাবা সাবরিনা মেহরীন রাহা, সহকারী অধ্যাপক, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়। তিনি বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের গুরুত্ব ও সাংবাদিকদের নৈতিক দায়িত্ব তুলে ধরেন।

    পরবর্তী সেশনে হোসাইন শাহীদ, ব্যুরো প্রধান, যমুনা টেলিভিশন নির্বাচনকালীন রিপোর্টিংয়ে সাংবাদিকদের করণীয়, সীমাবদ্ধতা ও পেশাগত সতর্কতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

    যৌথবাহিনী, আইনশৃঙ্খলা ও সাংবাদিকদের করণীয় নির্বাচনকালীন সময়ে যৌথবাহিনীর দায়িত্ব ও সাংবাদিকদের করণীয় বিষয়ে আলোকপাত করেন মেজর মহেববুল্লাহ সাদী, এসপিজি পদাতিক প্রশিক্ষক শ্রেণি বি (পদাতিক)। তিনি নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা এবং সাংবাদিকদের নিরাপদে কাজ করার নির্দেশনা তুলে ধরেন।

    ফ্যাক্ট চেকিং সেশনে মিনহাজ আমান, ফ্যাক্ট চেক বিশেষজ্ঞ তথ্য, ছবি ও ভিডিও যাচাইয়ের আধুনিক কৌশল নিয়ে হাতে-কলমে ধারণা দেন। তিনি বলেন,ভুয়া তথ্য, গুজব ও অপতথ্য রোধে সাংবাদিকদেরই হতে হবে প্রথম প্রতিরোধক।”

    এছাড়া জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, ময়মনসিংহ নির্বাচনকালীন প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও সাংবাদিকদের সহযোগিতার বিষয়গুলো তুলে ধরেন।

    মধ্যাহ্ন বিরতি এরপর দুপুরের খাবার ও নামাজের বিরতি অনুষ্ঠিত হয়।নির্বাচনী ব্রিফিং ও আইনগত নির্দেশনা বিকেলের সেশনে নির্বাচনকালীন দায়িত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্দেশনা ও সাংবাদিকদের করণীয়, নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি ও গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

    এ সময় মফস্বল সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ, ভুয়া সংবাদ, গুজব ও প্রোপাগান্ডা মোকাবিলা, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (RPO) এবং নির্বাচন ব্যবস্থায় গণমাধ্যমের দায়িত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: সশস্ত্র বাহিনী ও মিডিয়ার ভূমিকা কর্মশালায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনী ও মিডিয়ার ভূমিকা নিয়ে বিশেষ আলোচনা করা হয়। আলোচনায় বলা হয়—জাতীয় সংসদ নির্বাচন গণতন্ত্রের প্রধান ভিত্তি সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব ভোটারদের নিরাপত্তা, সহিংসতা প্রতিরোধ ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র চিহ্নিতকরণে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা অপরিহার্য,মিডিয়ার মাধ্যমে ভোটার সচেতনতা ও নিরপেক্ষ সংবাদ প্রচার গণতান্ত্রিক চর্চাকে শক্তিশালী করে,এছাড়া নির্বাচনকালীন আচরণবিধি, সশস্ত্র বাহিনী ও মিডিয়ার নিরপেক্ষতা, মানবাধিকার রক্ষা এবং গুজব প্রতিরোধের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

    সমাপনী অধিবেশন কর্মশালার সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ সাইফুর রহমান, জেলা প্রশাসক, ময়মনসিংহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মোঃ মিজানুর রহমান, জেলা পুলিশ সুপার, ময়মনসিংহ। ত্রিশাল থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি ফিরোজ হোসেন, সহকারী কমিশনার ভূমি মাহবুবুর রহমান।

    এছাড়াও আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজীব আহমেদ, সিনিয়র রিপোর্টার, দৈনিক সমকাল এবং মিনহাজ আমান, ফ্যাক্ট চেক বিশেষজ্ঞ।

    বক্তারা বলেন, সাংবাদিক, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সাধারণ জনগণের সম্মিলিত দায়িত্বেই একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব।

    কর্মশালায় ত্রিশাল উপজেলার কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও বাড়ানোর দাবি জানান।

  • ঈদগাঁওয়ে কাল দাঁড়িপাল্লার গণমিছিলে আসছেন ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদ

    ঈদগাঁওয়ে কাল দাঁড়িপাল্লার গণমিছিলে আসছেন ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদ

    মোহাম্মদ সেলিম, ঈদগাঁও (কক্সবাজার) প্রতিনিধিঃ

    কক্সবাজারের ঈদগাঁওয়ে কাল রবিবার আসছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের নব নির্বাচিত জিএস আলোচিত শিবির নেতা এস এম ফরহাদ ।

    কক্সবাজার সদর ,রামু ও ঈদগাঁও উপজেলা নিয়ে গঠিত কক্সবাজার তিন আসনে এগারো দলীয় জোট মনোনীত বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামীর সংসদ সদস্য প্রার্থী শহিদুল আলম বাহাদুর এর দাঁড়ি পাল্লা প্রতীকের সমর্থনে আগামীকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় ঈদগাঁও আলমাছিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা থেকে শুরু হতে যাওয়া সর্বশেষ গণমিছিল ও পথসভায় ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদের যোগদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের পরিচালক সাবেক ছাত্রনেতা লায়েক ইবনে ফাজেল।

    ইতিমধ্যে ডাকসু জিএসের ঈদগাঁওয়ে আগমনের সংবাদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়।

    এদিকে উপজেলার তরুণ ভোটার ও শিক্ষার্থীদের মাঝে তার আগমনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা বিরাজ করছে। আলোচিত এ ছাত্র নেতাকে এক নজর দেখতে উন্মুখ হয়ে আছেন তরুণ প্রজন্ম ও ছাত্র জনতা।

  • জয়পুরহাট-১ আসনে সাবেকুন নাহার শিখার নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত

    জয়পুরহাট-১ আসনে সাবেকুন নাহার শিখার নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত

    মোঃ মোস্তাকিম রহমান, জয়পুরহাট সদর প্রতিনিধি:

    জয়পুরহাট-১ (জয়পুরহাট সদর–পাঁচবিবি) সংসদীয় আসনে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী, সাবেকুন নাহার শিখার নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেলে জয়পুরহাট সদর উপজেলার আবুল কাশেম ময়দানে এ জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। জনসভায় বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

    সভায় বক্তব্যে সাবেকুন নাহার শিখা বলেন, “আমি ক্ষমতার রাজনীতি নয়, মানুষের অধিকার ও ন্যায়বিচারের রাজনীতি করতে চাই। জয়পুরহাট-১ আসনের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। নির্বাচিত হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও অবকাঠামো উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেব।”

    তিনি আরও বলেন, “জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতে পারলে জয়পুরহাটের ইতিহাসে আমি হব সর্বকনিষ্ঠ নারী সংসদ সদস্য। এই সম্মান আমি নারীর ক্ষমতায়ন ও তরুণ সমাজের ভবিষ্যৎ গড়তে কাজে লাগাতে চাই।”

    এ সময় তিনি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, “নির্বাচিত হলে জয়পুরহাটে একটি আধুনিক গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন করবো, যাতে হাজারো মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত জয়পুরহাট সিমেন্ট ফ্যাক্টরি পুনরায় চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ গ্রহণ করবো।”

    জনসভায় উপস্থিত নেতাকর্মীরা বলেন, সাবেকুন নাহার শিখা একজন সৎ, সাহসী ও উন্নয়নমুখী প্রার্থী। তাঁর নেতৃত্বে জয়পুরহাট-১ আসনে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    সভা শেষে প্রার্থীর সমর্থনে স্লোগান ও মিছিলের মাধ্যমে জনসভা শেষ হয়।

  • জাবিতে কুরআন নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের প্রতিবাদে সুরা আন-নাস এর তাফসীর ও সমাবেশ

    জাবিতে কুরআন নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের প্রতিবাদে সুরা আন-নাস এর তাফসীর ও সমাবেশ

    জাবি প্রতিনিধি:

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) হিম উৎসবে কুরআন নিয়ে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আপত্তিকর মন্তব্যের প্রতিবাদে সুরা আন-নাস এর তাফসীর ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারী) বিকাল ৫ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাদদেশে কুরআন ও কালচারাল স্টাডি ক্লাবের আয়োজনে এ তাফসীর অনুষ্ঠিত হয়। ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি উল্লাহ আল মাহাদীর সঞ্চালনায় বক্তারা সুরা নাস এর তাফসীর ও নাজিলের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেন।

    শুরুতে সুরা নাস থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা রাখেন দাওয়াতুল হক একাডেমির পরিচালক মওলানা আকরাম। তিনি বলেন, সুরা নাস এমন একটি সুরা যে সুরা দোয়া হিসেবে কাজ করে। সকল প্রকার অনিষ্টকারীদের থেকে মুক্তি চাওয়া হয় এ সুরার মাধ্যমে। কিন্তু গতকাল হিম উৎসবে একজন বাউল এই সুরাকে নিয়ে কটাক্ষ করেন এবং ভুল তেলাওয়াত করেন। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।

    এরপর অনুষ্ঠানের মূল আলোচক সাভার বাস স্ট্যান্ড জামে মসজিদের খতিব শায়েখ ইয়াহিয়া ত্বকী আলোচনা করেন। তিনি বলেন, সুরা ফালাক এবং সুরা নাস কুরআনের অংশ। শয়তানের ফেতনা থেকে বাঁচতে মহান আল্লাহর নিকট এ দুটি সুরার মাধ্যমে দোয়া চাওয়া হয়। কিন্তু, গতকাল বাউল সুরা নাসের যে অর্থ বলেছেন, তা সম্পূর্ণ কুরআন অবমাননার শামিল। এর প্রতিবাদ করা প্রতিটি মুসলিমের দায়িত্ব।

    তিনি আরও বলেন, কুরআন অবমাননার প্রতিবাদে জাবির শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানিয়েছে। কিন্তু একদল শিক্ষার্থীরা মব সৃষ্টি করে বাউলের কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করেছে।

    এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতে কুরআন তেলাওয়াত ও ইসলামিক গান পরিবেশন করা হয়।

    উল্লেখ্য, গতকাল রাতে ছবি চত্বরে চলমান পালাগানের একটি অংশে নারী ও পুরুষের গুণাবলি নিয়ে গানে গানে আলোচনা হচ্ছিল। এর ধারাবাহিকতায় পুরুষ বাউল শিল্পী কুরআনের সর্বশেষ সূরা সূরা নাসের কথা উল্লেখ করেন। তিনি সূরাটির কিছু অংশ অসম্পূর্ণভাবে পাঠ করে মন্তব্য করেন—“পুরা সূরা জুড়েই নাচতে বলা হয়েছে, যত নাচবি, তত বাঁচবি।” এরপর তিনি নৃত্যসংক্রান্ত একটি গান শুরু করে দর্শকদের নাচের আহ্বান জানান। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক দুজন সাধারণ শিক্ষার্থী প্রতিবাদ জানালে হিম উৎসবের আয়োজকেরা তাদের সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন।

  • ঈদগাঁওয়ে দাঁড়িপাল্লা মার্কার সমর্থনে বিশাল উঠান বৈঠক

    ঈদগাঁওয়ে দাঁড়িপাল্লা মার্কার সমর্থনে বিশাল উঠান বৈঠক

    মোহাম্মদ সেলিম, ঈদগাঁও (কক্সবাজার) প্রতিনিধিঃ

    কক্সবাজার-৩ সদর, রামু ও ঈদগাঁও আসনের ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য তথা জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শহিদুল আলম ভিপি বাহাদুরের সমর্থনে ঈদগাঁওয়ে বিশাল উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    ৬ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) রাতে উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নে এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এডভোকেট ছলিম উল্লাহ বাহাদুর।

    ঈদগাঁও আলমাছিয়া ফাজিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক কারী আহমদ ছৈয়দের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি আলা উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় জেলা জামায়াতের এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ও ইসলামপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাওলানা দেলোয়ার হোছাইন, বিশিষ্ট ব্যাংকার মিজানুর রহমান মিজান, ইসলামপুর ইউনিযন সভাপতি সাহাব উদ্দিন বক্তব্য রাখেন।

    এসময় ঈদগাঁও উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সহ-সভাপতি বশির আহমদ, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ইসলামপুর ইউনিয়ন সভাপতি হেলাল উদ্দিন, ওয়ার্ড মেম্বার নাসির উদ্দিন কায়সার, মেম্বার সৈয়দ আলম, সাবেক মেম্বার কবির আহমদ, কেন্দ্র পরিচালক আলী আকবর, মাওলানা মিজানুর রহমান সিরাজী সহ বিপুল সংখ্যক জামায়াত নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • মোংলার জয়মনিতে নারীদের ধানের শীষের উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত

    মোংলার জয়মনিতে নারীদের ধানের শীষের উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত

    মোঃ মহিম ইসলাম, মোংলা প্রতিনিধিঃ

    মোংলা উপজেলার চিলা ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে ধানের শীষের সমর্থনে এক বিশাল নির্বাচনী উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    ৭ ফেব্রুয়ারি (শনিবার ) বিকালে মোংলা উপজেলার চিলা ইউনিয়নের জয়মনি গ্রামের চিলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ ফারুক হোসেন হাওলাদারের বাড়িতে আয়োজিত এই বৈঠকে কয়েক শ’ নারী ভোটার অংশগ্রহণ করেন।

    আগামী নির্বাচনে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে এবং তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে এই প্রচারণার আয়োজন করা হয়।

    উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রামপাল মোংলা বাগেরহাট-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলামের সহধর্মিনী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোংলা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু হোসেন পনি, চিলা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ কাজল খাঁন, ৭নং ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি মোঃ সুলতান শেখ, মোংলা উপজেলা যুবদল নেতা মোঃ সাইফুল শিকদার, নাজমুল হাওলাদার, চিলা ইউনিয়ন যুবদল নেতা সুমন হাওলাদার সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দরা।

    বৈঠকে বক্তারা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সাধারণ মানুষের অধিকার পুনরুদ্ধারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিল নারীদের বিপুল উপস্থিতি, যা এলাকায় এক উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে।

    বৈঠকে প্রধান অতিথি হালিমা নুসরাত বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ধানের শীষের কোনো বিকল্প নেই। বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে নারীরা নিরাপদ থাকে এবং তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়। এলাকার উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে এবং শান্তি বজায় রাখতে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

    উক্ত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন চিলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফারুক হোসেন হাওলাদার। এসময়ে তিনি বলেন, “৭.৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের মা-বোনেরা আজ জেগে উঠেছেন। তারা ধানের শীষকে জয়ী করার জন্য ঐক্যবদ্ধ। ভোটাররা এখন শুধু ভোট দেওয়ার দিনের অপেক্ষায় আছেন।”

    উঠান বৈঠক চলাকালে উপস্থিত নারী ভোটারের সাথে জানানে চাইলে তারা বলেন, আমাদের এলাকার একটি নিম্ন আয়ের একটি এলাকা।

    তাই আমাদের নারীদের ও এটা চাকরির সুযোগ করে দিতে হবে। যাতে আমরা পরিবারকে আর্থিক ভাবে সহযোগিতা করতে পারি। আমাদের সুপেয় পানির ব্যবস্থা করে দিতে হবে। নদী এবং সুন্দরবনে সব সময় মাছ ধরার ব্যবস্থা করে দিতে হবে।

  • দাঁড়িপাল্লা ও ধানের শীষ ইসলামিক নয় : চরমোনাই পীর

    দাঁড়িপাল্লা ও ধানের শীষ ইসলামিক নয় : চরমোনাই পীর

    অলি উল্লাহ রিপন, বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধিঃ

    পটুয়াখালীর বাউফলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মালেক আনোয়ারীর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শনিবার (৭ জানুয়ারি-২০২৬) বেলা ১২টায় বাউফল পাবলিক মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ রেজাউল করিম।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, দাঁড়িপাল্লা ও ধানের শীষ কোনো ইসলামিক দল নয়। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশই একমাত্র দল, যারা ইসলাম ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামের বিজয় নিশ্চিত হবে ইনশাআল্লাহ।

    পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী মুফতি আব্দুল মালেক আনোয়ারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা নাসির আহমেদ কাউসার, হাবিবুর রহমান মিসবাহ, বাউফল উপজেলা ইসলামী আন্দোলনের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব আলহাজ্ব আবুল হোসেন হাওলাদার এবং মাওলানা নুরুল আমিন।

    এ সময় ইসলামি আন্দলোন এর মুজাহিদরাসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে জামায়াত প্রার্থীর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা

    লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে জামায়াত প্রার্থীর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা

    মোঃ হাসান হাওলাদার, কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি:

    আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি–কমলনগর) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী এ আর হাফিজ উল্লাহ তাঁর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। ইশতেহারে সমাজ সংস্কার, স্বাস্থ্যসেবা, নারী উন্নয়ন, কৃষি সম্প্রসারণ, নদী রক্ষা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    ইশতেহারে বলা হয়, সমাজ থেকে সকল প্রকার দুর্নীতি, মাদক, সন্ত্রাস ও সামাজিক অবক্ষয় দূর করতে কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম স্থাপন এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে নিয়মিত চিকিৎসা ক্যাম্প পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ক্লিনিকগুলো আধুনিকায়নের কথাও উল্লেখ করা হয়।

    নারী শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নারী নির্যাতন ও সহিংসতা প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ প্রদান এবং নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে প্রয়োজনীয় সহায়তার অঙ্গীকার করা হয়।

    কৃষি খাতে ছোট ও মাঝারি কৃষকদের প্রশিক্ষণ, আধুনিক কৃষিযন্ত্র সহজলভ্য করা, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং কৃষকদের জন্য বিনা সুদে ঋণ সুবিধা চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নদী ভাঙন রোধে জিও-ব্লক ও গ্রিন বেল্ট পদ্ধতিতে টেকসই বাঁধ নির্মাণ, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং ভোলা নদীসহ অন্যান্য নদী সংস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়।

    যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নে সড়ক প্রশস্তকরণ, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ, টেকসই ড্রেনেজ ব্যবস্থা, সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন, বাজার সংস্কার, পরিবেশ সংরক্ষণ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন ও ক্রীড়া অবকাঠামো গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

    শনিবার ( ৭ ফ্রেরুয়ারী) সকালে হাজির হাট হোটেল আল রাজ্জাক সেমিনার হলে আয়োজিত এই ইশতেহার ঘোষণাকালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থীর সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন কমলনগর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা হুমায়ুন কবির, কমলনগর উপজেলা জামায়াতে ইসলামী আমির মাওলানা আবুল খায়ের, রামগতি উপজেলা জামায়াতে ইসলামী আমির মাওলানা আবদুর রহিম এবং কমলনগর উপজেলার সাবেক আমির মাওলানা নুর উদ্দিন মাহমুদসহ দলীয় নেতৃবৃন্দ।

    এ সময় প্রার্থী এ আর হাফিজ উল্লাহ বলেন, “ভোটারদের সমর্থন ও দোয়া পেলে একটি ন্যায়ভিত্তিক, উন্নত ও দুর্নীতিমুক্ত লক্ষ্মীপুর-৪ গড়ে তুলতে সর্বাত্মক চেষ্টা করব।

  • সরকারি মৎস্য খামারের সক্ষমতা বাড়াতে কুড়িগ্রামে কর্মশালা

    সরকারি মৎস্য খামারের সক্ষমতা বাড়াতে কুড়িগ্রামে কর্মশালা

    কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:

    বিদ্যমান সরকারি মৎস্য খামারসমূহের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও মৎস্য উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে কুড়িগ্রামে জেলা পর্যায়ে এক আঞ্চলিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলা পরিষদ হলরুমে কুড়িগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের উদ্যোগে ‘বিদ্যমান সরকারি মৎস্য খামারসমূহের সক্ষমতা ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (প্রথম পর্যায়)’ শীর্ষক এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

    কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) এস এম রেজাউল করিম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আয়নাল হক এবং প্রকল্প পরিচালক মো. মশিউর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কুড়িগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুল আকন্দ।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে এস এম রেজাউল করিম বলেন, “দেশীয় মাছ রক্ষায় প্রতিটি স্তরে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। মানুষের আমিষের চাহিদা পূরণে মাছের কোনো বিকল্প নেই। এজন্য সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশীয় মাছ সংরক্ষণে এগিয়ে আসতে হবে।”