নিউজ ডেক্স
- ২৩ আগস্ট, ২০২৫ / ৫৫ বার পঠিত

আমির ফয়সাল, জাবি প্রতিনিধিঃ
অভাব-অনটনের মাঝেই স্বপ্ন বুকে ধারণ করে এগিয়ে এসেছেন মো. আলহাজ্ব বরকনতাজ। গ্রামের মাটিতে জন্ম নেওয়া এই তরুণের শৈশব কেটেছে দারিদ্র্যের কঠিন বাস্তবতায়, তবু থেমে থাকেননি। সংগ্রাম আর সাহসকে সঙ্গী করে গড়ে তুলেছেন নিজেকে, আর আজ তিনি শত শত শিক্ষার্থীর প্রিয় শিক্ষক।
ঢাকার টঙ্গী সরকারি কলেজ থেকে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করা বরকনতাজের ছাত্রজীবন ছিল চ্যালেঞ্জে ভরা। লেখাপড়ার খরচ চালাতে কখনো রাজমিস্ত্রির সহকারী, কখনো রংমিস্ত্রি, আবার কখনো টিউশনি করেছেন। ঢাকায় অবস্থানকালে তিনি ‘লাইফওয়ে বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেড’, ‘ভয়েস অব রাইটস’সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এমনকি রেস্তোরাঁয় ওয়েটারের কাজ করেও নিজের পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন, পরিবারকেও সহায়তা করেছেন।
শিক্ষক ও বন্ধুদের অনুপ্রেরণা বরকনতাজকে নতুন পথে নিয়ে যায়। এক সময় ইংরেজি শেখার প্রবল আগ্রহে ভর্তি হন সাইফুর স্যারের স্পোকেন ইংলিশ কোর্সে। সেই ক্লাসেই জন্ম নেয় শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন। বরকনতাজ জানান, “আমি প্রতিটি ক্লাস উপভোগ করতাম। মনে হতো, ইস! যদি আমিও স্যারের মতো ইংরেজি শেখাতে পারতাম।”
আজ তিনি সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেছেন। বর্তমানে তিনি এইচএসসি, অনার্স ও স্পোকেন ইংলিশের শিক্ষক। ইতোমধ্যেই শত শত শিক্ষার্থীকে ইংরেজি শেখানোর মাধ্যমে তাদের জীবনে পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছেন। তার অনেক শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং ব্র্যাক, নর্থ সাউথ, সাউথ ইস্ট ইউনিভার্সিটির মতো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষা অর্জন করছে।
তিনি বলেন”আলহামদুলিল্লাহ, আজ আমি এইচএসসি, অনার্স এবং স্পোকেন ইংলিশের শিক্ষক হিসেবে কাজ করছি। শত শত শিক্ষার্থীকে ইংলিশ শেখাতে পেরেছি—তাদের জীবনে ছোট হলেও একটি পরিবর্তন আনতে পেরেছি।শিক্ষকতার পাশাপাশি আমি লেখালেখিতেও মনোযোগ দিয়েছি। এখন, আমি ইংরেজি শেখানোকে ভালোবাসি। এটা শুধু আমার পেশা নয়, বরং আমার ভালোবাসার জায়গা। আমি এই কাজকে সম্মান করি এবং মন থেকে উপভোগ করি।সকলের কাছে দোয়া চাই, যেন আমি আরও সহজভাবে ইংরেজি শেখাতে পারি এবং শিক্ষার্থীদের জীবনে পরিবর্তন আনতে পারি।
স্বপ্ন পূরণের পথে একটি বইও লিখে ফেলেছি। ইংরেজি শেখানোর প্রতি আমার ভালোবাসা যেমন গভীর, তেমনি কলমের মাধ্যমে জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়ার আনন্দও আমার কাছে অনন্য। আমার লেখা বইগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য পথপ্রদর্শক হোক—এই দোয়া চাই।”
শিক্ষকতা শুধু পেশা নয়, ভালোবাসা—এমন বিশ্বাস নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছেন বরকনতাজ। পাশাপাশি লেখালেখির সঙ্গেও যুক্ত হয়েছেন তিনি। ইংরেজি শেখানোকে সহজ করার লক্ষ্যে বই লিখেছেন, যা শিক্ষার্থীদের পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
অতীতের অভাবকে জয় করে নিজের সাফল্য গড়েছেন মো. আলহাজ্ব বরকনতাজ। তিনি বলেন, “হয়তো আমি বড় কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পারিনি, কিন্তু আমার শিক্ষার্থীরা যখন স্বপ্ন পূরণ করছে, তখনই মনে করি—এটাই আমার সবচেয়ে বড় সাফল্য।”