
কুয়েতের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। এতে বিমানবন্দরের জ্বালানি ট্যাংকে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সরকারি কুয়েত নিউজ এজেন্সি (কুনা) সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র আব্দুল্লাহ আল-রাজহি’র বরাতে জানায়, ‘ইরান এবং তাদের সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ছোড়া ড্রোনে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সরাসরি হামলার শিকার হয়েছে।’
কুয়েত সিটি থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
তিনি আরও বলেন, ‘জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাংক লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়। এতে ঘটনাস্থলে ভয়াবহ আগুন লেগে যায়।’
তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার মাধ্যমে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে ইসরাইল ও মার্কিন মিত্র দেশগুলোর ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে।
এদিন উপসাগরের অন্য এলাকাতেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘ইরানি আগ্রাসনে দেশটির একটি বাণিজ্যিক স্থাপনায় আগুন লেগেছে।
অন্যদিকে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, কয়েকটি ড্রোন ভূপাতিত ও ধ্বংস করা হয়েছে।
ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা জানায়, কাতার জলসীমায় কাছাকাছি এলাকায় একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারও হামলার শিকার হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানায়, হামলায় দোহা থেকে ১৭ নটিক্যাল মাইল উত্তরে অবস্থানরত জাহাজটির বাম পাশের ডেক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তবে নাবিকরা নিরাপদ রয়েছেন।
সংস্থাটি আরও জানায়, এ ঘটনায় কোনো পরিবেশগত ক্ষতি হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার কুনা জানায়, দুবাই বন্দরে একটি কুয়েতি তেলবাহী জাহাজে ইরানি হামলায় আগুন ধরেছিল। তবে সেখানেও কেউ হতাহত হননি।
তেলসমৃদ্ধ উপসাগরীয় অঞ্চলটি বর্তমানে ইরানের হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার জবাবেই মূলত এসব আক্রমণ চালানো হচ্ছে।
তেহরান আগেই সতর্ক করেছে, উপসাগর জুড়ে জ্বালানি স্থাপনাসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হতে পারে।
সূত্রঃ বাসস