দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজনে চবিসাস এর ২৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত

‘মোতাহের উদ্দিন, চবি প্রতিনিধি:

সত্যের দীপ্ত সাহসে, চবিসাস তিন দশকে’ স্লোগানকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (চবিসাস) ২৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে।

সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় চাকসু ভবন প্রাঙ্গণ থেকে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। শোভাযাত্রাটি শহীদ মিনার ও প্রশাসনিক ভবন প্রদক্ষিণ করে মেরিন সায়েন্স ইনস্টিটিউটে এসে শেষ হয়। এতে অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্যদ্বয়, চাকসুর প্রতিনিধি, বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও ক্লাবের নেতৃবৃন্দ এবং চবিসাস সদস্যরা।

পরে সকাল ১০টায় মেরিন সায়েন্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। চবিসাসের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ শুভ্রের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি জানে আলম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান এবং উপ-উপাচার্য (প্রশাসনিক) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন।

আলোচনা সভায় ‘গণমুখী সাংবাদিকতার প্রত্যাশা রাষ্ট্র, সমাজ ও সাংবাদিকের দায়-দায়িত্ব’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোরশেদুল ইসলাম। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন চবিসাসের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রেফায়েত উল্লাহ রূপক।

চাকসুর ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি বলেন, “সাংবাদিকতা রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি সংগঠন ও ক্লাবকে সমান গুরুত্ব দিয়ে নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে হবে। শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর হিসেবে চবিসাসের ভূমিকা আগামীতেও বহমান থাকবে।”

উপ-উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন বলেন, “রাষ্ট্রকে সঠিক পথে রাখার সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করে সাংবাদিকতা। তবে অতীতের ভুল-ত্রুটি থেকে শিক্ষা নিয়ে সত্য অনুসন্ধানের মাধ্যমে বস্তুনিষ্ঠ প্রতিবেদন তৈরি করতে হবে।”

উপ-উপাচার্য (প্রশাসনিক) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের গভর্ন্যান্সে চবিসাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। সাংবাদিকতার মূল শক্তি স্বাধীনতা, এবং এই স্বাধীনতা ইতিবাচক–নেতিবাচক উভয় দিককে সমন্বিতভাবে সংবাদে প্রতিফলিত করতে হবে।”

উপাচার্য অধ্যাপক ইয়াহ্ইয়া আখতার বলেন, “বর্তমানের অনেক গণমাধ্যম কর্পোরেট স্বার্থে নিয়ন্ত্রিত। এ পরিস্থিতিতে চবিসাস সাংবাদিকতার প্রকৃত চর্চার একটি প্রশিক্ষণ-ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করছে।”

চবিসাস সভাপতি জানে আলম বলেন, “বহু চড়াই-উতরাই পেরিয়ে চবিসাস তিন দশকে পদার্পণ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রদায়ের সার্বিক সহযোগিতায় আমাদের এই পথচলা আরও শক্তিশালী হবে।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এনায়েত উল্যা পাটোয়ারী, চবিসাসের সাবেক সভাপতি ও শিক্ষক শাহাব উদ্দিন নিপু, সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল হক, প্রক্টর অধ্যাপক ড. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, ছাত্র উপদেষ্টা আনোয়ার হোসেন, অতীশ দীপঙ্কর হলের প্রভোস্ট এজিএম নিয়াজ উদ্দিনসহ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা।

এ ছাড়া শাখা ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, চাকসু ও হল সংসদের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ৬ ডিসেম্বর যাত্রা শুরু করে চবিসাস। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যা, সম্ভাবনা ও শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনটি।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *