Author: নিউজ ডেক্স

  • শিবগঞ্জে প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন

    শিবগঞ্জে প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন

    আরিফুল ইসলাম, শিবগঞ্জ বগুড়াঃ 
    বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার দেউলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পিযুস কান্তি সাহার অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
    আজ (৭মে) বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারী, ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী অংশ নেন।
    মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রধান শিক্ষক পিযুস কান্তি সহকারী প্রধান শিক্ষক এ কে এম রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে তাকে হয়রানি করছেন। তার অনিয়ম ও দুর্নীতিকে সহযোগিতা না করায় তিনি সহকর্মীদের বিরুদ্ধেও অপপ্রচার চালাচ্ছেন।
    সহকারী শিক্ষক জাহেদ আলম বলেন, “প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকেই নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির জন্ম দিয়েছেন। ম্যানেজিং কমিটি গঠন থেকে শুরু করে শিক্ষক নিয়োগ পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। নিয়মিত স্কুলে না এসে তিনি রাতে এসে হাজিরা খাতায় অনুপস্থিত দিনের স্বাক্ষর করেন।”
    সহকারী শিক্ষক রাসেল মিয়া অভিযোগ করেন, “আমার নিয়োগের সময় প্রধান শিক্ষক আমার কাছে টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অপারগতা জানালে তিনি আমাকে গালিগালাজ করেন। তিনি নিয়মিত অফিস করেন না, বরং সরকারি ছুটির দিনেই অফিসে থাকেন।”
    সহকারী শিক্ষক দুলালুর রহমান দুলাল বলেন, “সহকারী প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষক যে অভিযোগ এনেছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। উল্টো প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধেই রয়েছে একাধিক অনিয়মের প্রমাণ। এর আগেও আমরা লিখিতভাবে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছি, কিন্তু তেমন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”
    অফিস সহকারী জয় চক্রবর্তীও প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে সংহতি জানান।
    এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক পিযুস কান্তির ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
  • জান্নাতি হত্যা মামলা: মুখোশধারীদের হুমকিতে আইনজীবী আতঙ্কে

    জান্নাতি হত্যা মামলা: মুখোশধারীদের হুমকিতে আইনজীবী আতঙ্কে

    দিপন কুমার সরকার,লালমনিরহাট:
    লালমনিরহাটের বহুল আলোচিত স্কুলছাত্রী জান্নাতি হত্যা মামলার আইনজীবী জাকিউল হাসান সিদ্দিক রাসেলকে হত্যার হুমকি দিয়েছে মুখোশধারীরা।
    বুধবার (৭ মে) দুপুরে লালমনিরহাট জজ কোর্ট মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, মঙ্গলবার (৬ মে) রাত ১১টার দিকে দোকানে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হলে জেলা সদরের বালাটারী এলাকায় একদল অজ্ঞাত হেলমেটধারী মোটরসাইকেলে এসে তাকে থামিয়ে জান্নাতি হত্যা মামলা নিয়ে ‘বেশি বাড়াবাড়ি’ না করার হুমকি দেয়। এ সময় তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন, তবে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে মুখোশধারীরা পালিয়ে যায়।
    আইনজীবী রাসেল নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন জানিয়ে অবিলম্বে হুমকিদাতাদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।
    গত ১৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় জেলার  কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী ইউনিয়নের চরশৌলমারী এলাকার এক ভুট্টাখেত থেকে ষষ্ঠ শ্রণীর ছাত্রী জান্নাতির হাত,পা ভাঙা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। জান্নাতি ওই এলাকার ফজু মিয়ার মেয়ে।
    পুলিশি তদন্তে জানা যায়, পাশ্ববর্তী মদাতী ইউনিয়নের কাগজিটারী এলাকার আবু তালেবের ছেলে বেলাল হোসেন (১৯) জান্নাতিকে বাড়িতে একা পেয়ে ভুট্টাখেতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে। ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে জান্নাতির মুখে মাটি গুঁজে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।
    পরবর্তীতে বিক্ষুব্ধ জনতা আসামির বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। তাছাড়া এই ঘটনার প্রতিবাদে এলাকাবাসী থানা ঘেরাও, সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছে। পুলিশ বেলালকে আটক করলে সে পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
  • কুড়িগ্রাম উলিপুরে মসজিদের জায়গা নিয়ে বিরোধ: বৈঠকে সংঘর্ষ, থানায় মামলা

    কুড়িগ্রাম উলিপুরে মসজিদের জায়গা নিয়ে বিরোধ: বৈঠকে সংঘর্ষ, থানায় মামলা

    মোঃ মশিউর রহমান বিপুল ,কুড়িগ্রাম:

     

    কুড়িগ্রামের উলিপুরে মসজিদের জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

    সম্প্রতি বিরোধ মীমাংসার উদ্দেশ্যে আয়োজিত এক বৈঠকে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ বাঁধে, যার ফলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে আহত হয় একাধিক ব্যক্তি।

    থানায় মামলা হলেও পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। সচেতন মহল মনে করেন, মসজিদের জমি নিয়ে এ বিরোধ শান্তিপুর্ণ সমাধান না হলে ওই এলাকায় আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতীর আরও অবনতি ঘটাতে পারে।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, ১৯৮০ সালে স্থানীয়দের দান ও সহযোগীতায় উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের হোকডাঙ্গা দালালপাড়া জামে মসজিদের নামে ১ একর ২৫ শতক জমি ক্রয় করা হয়।

    দলিলে ওই পরিমাণ জমির উল্লেখ থাকলেও ভুল ক্রমে ৪ টি দাগ নম্বর না লিখে ৩টি দাগ নম্বর লিখা হয়। পরবর্তীতে মসজিদের নামে ৯৪ শতক জমি রেকর্ড হওয়ার কথা এলাকায় প্রকাশ হলে বাকি ৩১ শতক জমি মনছুর ব্যাপারী ও এনামুল হক গং এর দখলে আছে বলে দাবী ওঠে।

    উক্ত জমি মসজিদে ফিরিয়ে দেয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে দাবী জানিয়ে আসছে মসজিদ কমিটি। এ সংক্রান্ত একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও তাতে ফলপ্রসু কোনো সমাধান হয়নি।

    উল্টো ওই বৈঠক গুলোর কারণে উভয় পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ তুঙ্গে ওঠে। সর্বশেষ গত শনিবার মসজিদের জমি সংক্রান্ত বৈঠকে বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়।

    এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন গত শনিবার পূর্ব সিদ্ধান্ত মোতাবেক হোকডাঙ্গা দালালপাড়া জামে মসজিদের সামনে সালিশ বৈঠকে বসে উভয় পক্ষ। ওই বৈঠকে আলোচনা চলাকালে তর্ক বিতর্কের একপর্যায়ে জমি ভোগদখলকারী পক্ষ মসজিদ কমিটির লোকজনের উপর হামলা চালায়।

    ওই হামলায় নুর আলম (৫০) সহ কয়েকজন আহত হয়। পরে তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য নুর আলমকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

    এ ঘটনায় নুর আলমের ছেলে রাশেদুল ইসলাম বাদী হয়ে আতিকুল, আব্দুল্লাহ আল মামুন সহ ৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনাম ১০/১১ জনকে আসামী করে উলিপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করে। যার নং ৪ তারিখ : ০৫/০৫/২০২৫। উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান সত্যতা নিশ্চিত করেন জানান, আসামী গ্রেফতারে অভিযান চালানো হচ্ছে।

  • ইবির উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগে নবীন বরণ ও প্রবীণ বিদায় অনুষ্ঠিত

    ইবির উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগে নবীন বরণ ও প্রবীণ বিদায় অনুষ্ঠিত

    সুবংকর রায়, ইবি প্রতিনিধি:
    কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগে নবীন বরণ ও বিদায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বিভাগের ২০২২-২৩, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেওয়া হয় এবং ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের বিদায়ী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা জানানো হয়।
    বুধবার (৭ মে) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। এসময় নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ এবং বিদায়ী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।
    অনুষ্ঠানে বিদায়ী শিক্ষার্থীরা তাঁদের চার বছরের স্মৃতিময় অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং নবীনদের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক বার্তা দেন। নবীনরাও তাঁদের অনুভূতি প্রকাশ করে এবং শিক্ষাজীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে ছিল সাংস্কৃতিক আয়োজন। এতে বিদায়ী ও নবীন শিক্ষার্থীরা কবিতা আবৃত্তি, গান, নৃত্য ও নাট্য পরিবেশনার মাধ্যমে অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তোলে। সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাঁদের সৃজনশীল প্রতিভার বহিঃপ্রকাশ ঘটায়।
    এসময় উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের সভাপতি আতিকা কাফির সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন প্রো ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড.এম এয়াকুব আলী, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ডিন প্রফেসর ড. এ কে এম মতিনুর রহমান, ছাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মো: ওবায়দুল ইসলাম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সহকারী অধ্যাপক ফিরোজ হোসেনসহ বিভাগের পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী।
    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, “আগামী বিশ্ব তাদেরই হাতের মুঠোয় থাকবে, যারা হবে উন্নয়ন অনুসন্ধানে অনুগামী, যারা যথাযথ উন্নয়ন অভ্যাসকে করতলগত করেছে, দক্ষতা নিয়ে বেড়ে উঠছে, কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করছে। তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন হচ্ছে একটি নি:শেষ প্রক্রিয়া যেখানে অব্যাহত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে একটি লক্ষ্য অর্জিত হয়। উন্নয়ন হচ্ছে একটি লক্ষ্য। এই লক্ষ্যে সফল হতে, সফল কর্মী হতে উন্নয়ন বিজ্ঞান অধ্যয়ন অত্যন্ত জরুরী। দেশ এখন তাদেরকেই খুঁজছে। পরিশেষে তিনি সবাইকে দেশ গঠনে, একটি সুন্দর জীবন গঠনে পড়ালেখা সঠিকভাবে রপ্ত করার আহবান জানান।
    উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত, আবেগঘন ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়, যা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে বন্ধন আরও দৃঢ় করেছে বলে মনে করেন শিক্ষার্থীরা।
  • কৃষ্ণচূড়া ফুলে সাজানো মাভাবিপ্রবি ক্যাম্পাস

    কৃষ্ণচূড়া ফুলে সাজানো মাভাবিপ্রবি ক্যাম্পাস

    মো. জিসান রহমান, মাভাবিপ্রবি:
    টাঙ্গাইলে অবস্থিত মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সবুজে ঘেরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অনন্য নিদর্শন। এ ক্যাম্পাসের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে “কৃষ্ণচূড়া লেন” নামে পরিচিত এক অপূর্ব পথ।
    ২০১৯ সালে ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের একটি ব্যাচের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে একাডেমিক ভবন-২ পর্যন্ত সড়কজুড়ে কৃষ্ণচূড়া গাছ রোপণ করেন। ধীরে ধীরে গাছগুলো বেড়ে ওঠে এবং প্রতিটি গ্রীষ্মে লাল কৃষ্ণচূড়ার রঙে ভরে ওঠে পুরো সড়কপথ। এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য ক্যাম্পাসজুড়ে এনে দেয় এক স্বর্গীয় আবহ।
    শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই নয়, আশপাশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে দূরদূরান্ত থেকে আগত দর্শনার্থীরাও এই লেনে ছুটে আসেন। কেউ ছবি তোলেন, কেউ গল্পে আড্ডায় মেতে ওঠেন, কেউবা নিঃশব্দে উপভোগ করেন প্রকৃতির সৌন্দর্য।
    নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেওয়ার ক্ষেত্রেও কৃষ্ণচূড়া লেন আজ এক সাংস্কৃতিক প্রতীক হয়ে উঠেছে। এ লেন যেন ক্যাম্পাসের গর্ব, শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা এবং বাইরের মানুষের চোখে মাভাবিপ্রবির এক পরিচিত রূপ।
    সাধারণ শিক্ষার্থীরা আরো জানান, কৃষ্ণচূড়ার লেনে নে।
    ফুড টেকনোলজি অ্যান্ড নিউট্রিশনাল সাইন্স ডিপার্টমেন্টের সমাপ্তী খান জানান, কৃষ্ণচূড়ালেন মাভাবিপ্রবি ক্যাম্পাসের সবচেয়ে সুন্দরতম রাস্তা। ক্যাম্পাসের বেশির ভাগ যাতায়াতের রাস্তায় গাছপালা নেই, ছায়াও নেই। গ্রীষ্মের প্রখর রোদের দিনে তাই এই সবুজে ঘেরা রাস্তায় যাতায়াত করতে সবাই অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। ক্যাম্পাসের হাজারও হাসি-মজা আর বন্ধুত্বের সাক্ষী এই কৃষ্ণচূড়ালেন। গ্রীষ্মে ফোটা কৃষ্ণচূড়া আর লাল সোনালু ফুলের সৌন্দর্য সবার নজর কারে এবং ক্যাম্পাসের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে এক নতুন রূপ দেয়।
    হিসাববিজ্ঞান ডিপার্টমেন্টের এস. এম. কারবেল আযীম জানান, মাভাবিপ্রবি সবুজে ঘেরা চিরচেনা ক্যাম্পাসের একটি অনন্য সৌন্দর্যের নাম “কৃষ্ণচূড়া লেন”। গ্রীষ্মকাল এলেই কৃষ্ণচূড়া লেন নতুন রূপ ধারণ করে। কমলা-লাল ফুলে আচ্ছাদিত গাছগুলোর নিচ দিয়ে হেঁটে গেলে মনে হয়, কেউ যেন আকাশ থেকে রঙ ঢেলে দিয়েছে। হালকা বাতাসে যখন কৃষ্ণচূড়ার পাপড়িগুলো ঝরে পড়ে, তখন পথটি রূপ নেয় এক রঙিন চাদরে—যেখানে প্রতিটি পা ফেলার শব্দই যেন এক স্নিগ্ধ ছন্দের সৃষ্টি করে। কৃষ্ণচূড়া লেন শুধু একটি রাস্তা নয়, বরং এটি ছাত্রছাত্রীদের জন্য এক অনুভবের জায়গা—কখনো একাকিত্বের সঙ্গী, কখনো আবার বন্ধুদের হাসি-আড্ডার সাক্ষী। এই পথ ধরে হেঁটে যাওয়ার সময় অনেকেই নিজেদের ভাবনায় হারিয়ে যায়, কেউ কবিতা লেখে, কেউ ছবি তোলে, কেউ হয়তো জীবনের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবনায় মগ্ন থাকে।
    ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স ডিপার্টমেন্টের মুহাম্মাদ তকী তাহমিদ ফরহাদ জানান, কৃষ্ণচূড়া লেন ক্যাম্পাসের এক শান্ত, সুন্দর প্রান্ত। গাছের ছায়া আর ফুলের রঙ রাস্তাটিকে করে তোলে প্রাণবন্ত। এটি এখন শুধু চলার পথ নয়—ভালোবাসার, স্মৃতির আর ছবি তোলার জায়গা।
    আরও গাছ লাগিয়ে এই সৌন্দর্য বাড়ানো সম্ভব। তবে সবচেয়ে জরুরি, আমরা সবাই সচেতন হই যেন এই লেনের সৌন্দর্য নষ্ট না হয়।
    আমার ক্যাম্পাস, আমার গর্ব—আমার দায়িত্ব, একে রক্ষা করা।
    অর্থনীতি ডিপার্টমেন্টের ফারিয়া ইমরোজ জানান, গ্রীষ্মের খরতাপে যখন ক্লান্ত প্রকৃতি, ঠিক তখনই কৃষ্ণচূড়া যেন হাজির হয় তার আঁধারে ঢেকে রাখা মাধুর্য নিয়ে। তার লাল-কমলা পত্র-পল্লব যেন দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেয় ক্যাম্পাসের মনোহরতা। অবসন্ন সারা বেলা পার করেও যখন কৃষ্ণচূড়ার দিকে তাকাই, মনে হয় যেন এক রঙিন উদ্বুদ্ধতার জন্ম হয় মনের কোণে। ছায়াতলে হাঁটতে গিয়ে মনে আসে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দুঃখগুলো বদলে গিয়ে সুখ হয়ে যায়!
    আপাত কার্যকারণ ছাড়াই এই সময়টাতে প্রকৃতি তার রহস্যময় সুন্দর্যে কেড়ে নেয় মানুষের চিত্তকে!
    হিসাববিজ্ঞান ডিপার্টমেন্টের সুবর্ণ স্বর্ণা বললেন, কৃষ্ণচূড়া লেন শুধু একটি পথ নয়—এটি প্রকৃতি, শিক্ষা ও আবেগের এক অসাধারণ সংমিশ্রণ। কৃষ্ণচূড়া গাছের লাল রঙের ফুল যখন ফুটে, লেনটি যেন রক্তিম আলোয় ভরে যায়। সেই দৃশ্য শিক্ষার্থীদের মনে জাগায় প্রশান্তি, ভালোবাসা এবং স্মৃতির ঢেউ।
    এই লেনের পরিবেশ মানসিক চাপ কমিয়ে আনে, এক ধরনের শান্তির পরশ দেয়। কেউ এখানে হাঁটতে হাঁটতে ভাবেন ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে, আবার কেউ এখানে রেখে যান জীবনের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্তগুলোর ছায়া।
    সব মিলিয়ে, কৃষ্ণচূড়া লেন একটি অনুভবের নাম—যেখানে প্রতিটি পা ফেলায় থাকে ভালোবাসা, স্মৃতি আর একটুখানি আবেগ।
    অর্থনীতি ডিপার্টমেন্টের অরূপা সরকার বললেন, “একটি বৃষ্টি ভেজা দিন, মেঘলা আকাশ, ঝিরিঝিরি বৃষ্টি পড়ছে। আমার পরনে লাল শাড়ি, হাতে কৃষ্ণচূড়া, চুলগুলো এলোমেলো আর ভিজে। কৃষ্ণচূড়া লেনে আলতা পায়ে একা একা হেঁটে চলেছি। হঠাৎ চোখ পড়লো ভার্সিটি পড়ুয়া এক কাপলের দিকে। ছেলেটি তার প্রিয়তমাকে লেনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলে দিচ্ছে। কিন্তু ছবি ভালো হচ্ছে না বলে মেয়েটির ভীষণ অভিমান। আমি ছুটে গিয়ে আমার হাতে থাকা ফুলটি দিয়ে মেয়েটিকে বললাম, ‘ঝিম ধরা লেনে যখন পিয়তমা ছবি তুলে, প্রকৃতিও যেন গ্ল্যামার ছড়ায়—কানে বুজে রাখা কৃষ্ণচূড়া ফুলে….’”
    সাধারণ শিক্ষার্থীরা আরো জানান, মাভাবিপ্রবির ক্যাম্পাস—এভাবে বিভিন্ন সংগঠন এবং প্রশাসন যদি ক্যাম্পাসের সৌন্দর্যের দিকে নজর দেন, তাহলে মাভাবিপ্রবি ক্যাম্পাস সৌন্দর্যে অপরূপময় হয়ে উঠবে।
  • লালমনিরহাটে গৃহবধূর আত্মহত্যা: অসুস্থতা ও আর্থিক সংকটই কারণ বলে ধারণা

    লালমনিরহাটে গৃহবধূর আত্মহত্যা: অসুস্থতা ও আর্থিক সংকটই কারণ বলে ধারণা

    দিপন কুমার সরকার ,লালমনিরহাট:
    লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নে সাবিনা ইয়াসমিন (৪৮) নামে এক গৃহবধূ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
    মঙ্গলবার (৬ মে) সকালে উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের কর্নপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সাবিনা ইয়াসমিন ওই এলাকার চায়ের দোকানদার ছগরু রহমানের স্ত্রী।
    স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, সাবিনা দীর্ঘদিন ধরে পেটের জটিল রোগে ভুগছিলেন। পরিবারটি অর্থনৈতিকভাবে অস্বচ্ছল হওয়ায় চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করতে হিমশিম খাচ্ছিল। শারীরিক যন্ত্রণার পাশাপাশি আর্থিক টানাপোড়েনের কারণে মানসিক চাপে ভুগছিলেন সাবিনা।
    মঙ্গলবার সকালে নিজ ঘরে রশি দিয়ে গলায় ফাঁস দেন তিনি। কিছুক্ষণ পর পরিবারের সদস্যরা তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। খবর পেয়ে লালমনিরহাট সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
    এ বিষয়ে লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নুরনবী বলেন, “সাবিনা ইয়াসমিন দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অসুস্থতা ও আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।”
  • ভালুকার পাঁচ তরুণের মানবিক উদ্যোগে গাজায় খাবার পেল ২০০ জন মানুষ

    ভালুকার পাঁচ তরুণের মানবিক উদ্যোগে গাজায় খাবার পেল ২০০ জন মানুষ

    ইমন সরকার, ভালুকা :
    পাঁচজন তরুণ—মোঃ আশিক, মোঃ রাকিব, মোঃ দেলোয়ার, মোঃ জিহাদ আর মোঃ পলাশ। পেশায় কেউ ফ্রিল্যান্সার, কেউ শিক্ষার্থী, কেউবা ব্যবসায়ী। আলাদা পেশা হলেও, একটি জায়গায় তাদের মন এক—গাজার মানুষের পাশে দাঁড়ানো।
    তারা সবাই ময়মনসিংহের ভালুকার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের ছেলে। সেখান থেকেই তাদের মানবিক যাত্রা শুরু।
    গল্পের শুরুটা হয় মোঃ আশিকের হাত ধরে। ইনস্টাগ্রামে এক ফিলিস্তিনি ভাইয়ের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়। কিছু ফান্ড পাঠান তিনি। ভিডিও কলে নিশ্চিত হন, টাকাটা ঠিকঠাক হাতে পৌঁছেছে, আর সঠিক কাজে লাগানোও হয়েছে। সেই ছোট্ট সাফল্যটাই সাহস জোগায় বড় কিছু করার।
    এরপর ধাপে ধাপে তারা অর্থ সংগ্রহ বাড়াতে থাকেন। নিজেদের জমানো টাকা, পরিচিতজনদের সহায়তা আর স্থানীয় মানুষের অনুপ্রেরণায় তারা এখন পর্যন্ত মোট প্রায় ১ লাখ ৪৩ হাজার টাকা পাঠিয়েছেন গাজার মানুষের সহায়তায়।
    এই অর্থ দিয়ে কেনা হয় গম, শাকসবজি, রুটি, পানি, তেল, লবণ, আলু, পেঁয়াজ—প্রয়োজনীয় খাবারের ঝুড়ি। গাজার খান ইউনিস অঞ্চলের এক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রধান আব্দুল্লাহ আর তার টিম প্রায় ৩০টি পরিবার, মানে আনুমানিক ২০০ জন মানুষের হাতে পৌঁছে দেন এই খাদ্যপণ্য।
    শুরুতে অনেকে বিশ্বাস করতে পারছিল না। কিন্তু গাজা থেকে যখন আব্দুল্লাহ আর ইব্রাহিম ভিডিও মেসেজ পাঠালেন, টাকা ও খাবারের প্রমাণ দেখালেন, তখন সবাই বিশ্বাস করতে শুরু করল।
    গাজার মানুষ কৃতজ্ঞতায় ভেসে গেছে। আব্দুল্লাহ, ইব্রাহিম আর তাদের পরিবার ভিডিও বার্তায় ধন্যবাদ জানিয়েছেন। এমনকি আব্দুল্লাহ আশিকের ছবি দিয়ে ব্যানার বানিয়ে খাদ্য বিতরণ করেছেন। একবার ভিডিও কলে আব্দুল্লাহর মায়ের সঙ্গেও কথা বলেন আশিক।
    এই মানবিক কার্যক্রমে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছেন ভালুকার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ। তিনি বলেন,
    “আমি ভালুকার প্রতিটি মানুষকে আহ্বান জানাই—গাজার এই সংকটকালে আমরা যেন যে যার অবস্থান থেকে এগিয়ে আসি। এই সহানুভূতিই আমাদের সত্যিকারের পরিচয়।”
    তিনি তরুণদের এই উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান এবং ভবিষ্যতে যেকোনো মানবিক কর্মকাণ্ডে প্রশাসনিক পর্যায়ে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
    গাজার আব্দুল্লাহ তার ভিডিও বার্তায় ভালুকাবাসী ও উপজেলা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বলেন, “ভালুকা আমাদের জন্য শুধু একটি স্থান নয়, এখন এটি এক আশার নাম।”
    এই সাহসী তরুণরা বর্তমানে পরিকল্পনা করছেন ভালুকার প্রতিটি মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে গিয়ে সচেতনতা বাড়ানো এবং তহবিল সংগ্রহের কার্যক্রম শুরু করার। তারা চান—এই মানবিক প্রয়াস যেন বড় পরিসরে দীর্ঘমেয়াদে কাজ করে যেতে পারে।
    ভালুকা আজ প্রমাণ করেছে—ইচ্ছা আর সাহস থাকলে ক্ষুদ্র হাতগুলোও অনেক বড় পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।
    এ যেন মানবতার জয়গান, এক চিরন্তন ‘ভালুকা থেকে গাজা’ সংযোগ।
  • চৌদ্দ হাত জায়গায় বসত মিলেনি খোদেজার,থাকেন অন্যের বাড়িতে

    চৌদ্দ হাত জায়গায় বসত মিলেনি খোদেজার,থাকেন অন্যের বাড়িতে

    চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি:

    বিয়ের পর ঠাঁই হয়নি স্বামীর বাড়িতে। সন্তান নিয়ে বাবার বাড়িতে ১৪ হাত জায়গায় বসত খোদেজার। সেই জায়গাও ছাড়তে হয়েছে ৫ বোনের একমাত্র ভাইয়ের চক্রান্তে। বিয়ের উপযুক্ত মেয়েকে নিয়ে খোদেজা এখন থাকেন অন্যের বাড়িতে।

    বাড়ি বাড়ি ঝি’এর কাজ করে চলে সংসার। ঘরের জন্য হচ্ছেনা মেয়ের বিয়ে। ছোট ভাই ইসমাইল হোসেন পরামর্শে নতুন ঘর দিতে ভাঙ্গেন মাথা গোঁজার পুরাতন ঘরটি।পাড়া-প্রতিবেশীর সহযোগীতায় কিনেন ইট বালু সিমেন্ট। কিন্তু বেঁকে বসেন ভাই, নির্মাণ করতে দিবেনা পাকা ঘর। নিরুপায় খোদেজা শরণাপন্ন হন সমাজপতিদের, দফায় দফায় বসে সালিশ বৈঠক।

    বিচারকরা রায় দেন পৈত্রিক সম্পত্তিতে খোদেজা ও তার অপর বোনের অংশে ঘর নির্মাণের। দুই বোনের অংশ মিলিয়ে হয় ১৪ হাত। যেখানে গত ২৫ বছর ছিল খোদেজার বসতঘর। বর্তমানে বিচারকদের রায়ের বিপরীতে ইসমাইল বলছে দুই বোনের অংশে নয়, সে ঘর নির্মাণ করতে দিবে শুধুমাত্র খোদেজার অংশে অর্থাৎ ৭ হাত জায়গায়।

    সরেজমিন মঙ্গলবার (৬এপ্রিল) কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা চিওড়া ইউনিয়ন ঘোষতল গ্রামে সাংবাদিকদের সামনে মৃত আব্দুল মালেকের পাঁচ বোনের এক ভাই  ইসমাইল হোসেন বলছেন উল্টাপাল্টা কথা। একবার বলছেন মা বাবা বাড়ির জায়গা তার নামে লিখে দিয়ে গেছেন। আবার বলছেন তিন বোনের কাছ থেকে তাদের অংশ কিনে নিয়েছেন। আবার বলছেন খোদেজা ৭ হাত জায়গায় ঘর দিক। বাকি অংশে আমি রান্নাঘর দিব। তারপর বলছেন আমার দুই ছেলে বড় হচ্ছে, আমি বাড়ির জায়গা বোনদের দিলে সন্তানদের ভবিষ্যৎ কি হবে। আমি তাকে জায়গা দিব না, সে কোর্টে যাক।

    অসহায় খোদেজা এখন সহায়তা চান প্রশাসনের। আর ওই গ্রামের মানুষের একটাই জিজ্ঞাসা ৭ হাত জায়গায় কী ঘর হয়?
    ওই গ্রামের সত্তোরোর্ধ নজির আহমেদ বলেন, খোদেজা তার প্রাপ্য পৈত্রিক হক এর সম্পত্তিতে ঘর নির্মাণ করবে, তাই সমাজের সবাই সাহায্য সহযোগীতা করেছে। এখন তার ভাই বাঁধা দিচ্ছে। সালিশি সিদ্ধান্তও মানছেনা সে। উল্টো বিচারকদের বিভিন্ন হুমকি-ধামকি দিচ্ছে।

    আবদুল মালেক নামের গ্রামের আরেকজন বলেন, এই অসহায় খোদেজার উপর জুলুম করা হচ্ছে। তার বিয়ের উপযুক্ত মেয়েকে বিয়ে দিতে হবে, তাই ঘর করা জরুরী। কিন্তু ইসমাইল তার সাঙ্গপাঙ্গদের সহযোগীতায় বোনকে ঘর করতে দিচ্ছেনা এবং বিচারকদের গালমন্দ করে।

    এ বিষয়ে ভাই ইসমাইল হোসেন বলেন বাড়িতে মোট সম্পত্তি তিন শতক। আমার দুই ছেলে বড় হয়েছে বোনদেরকে বাড়িতে জায়গায় দিলে আমার ঘর করার জায়গা থাকবে না। আমি বাড়িতে জায়গা দিব না তারা কোর্টে যাক।

    এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি জাকিয়া সারোয়ার লিমা বলেন বোনদের সম্পত্তি ভাই দিতে বাধা হয়ে দাঁড়ালে সরকার বন্টক মামলায় এখন অনেক সহজ করে দিয়েছেন। বোনরা যদি বন্টকের মামলা দায়ের করে তাহলে ছয় মাস থেকে দুই বছরের মাথায় মামলা নিষ্পত্তি হয়ে যাবে। কোট তখন অংশ হিসেবে বোনদেরও মালিকানা ঘোষণা করবে।

  • চৌদ্দগ্রামে মহাসড়কে পাশ থেকে লাশ উদ্ধার

    চৌদ্দগ্রামে মহাসড়কে পাশ থেকে লাশ উদ্ধার

    চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি:

    কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির(৪৪) লাশ উদ্ধার করেছে হাইওয়ে পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দৌলবাড়ি এলাকায় পশ্চিম পাশ থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়। তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন মিয়াবাজার হাইওয়ে থানার ইনচার্জ শাহাব উদ্দিন।

    প্রত্যক্ষদশী মু. ফরিদুজ্জামানসহ স্থানীয়রা জানায়, মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় কৃষকরা জমিতে কাজ করতে যাওয়ার সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দৌলবাড়ি এলাকায় একজন পুরুষ ব্যক্তির লাশ দেখতে পায়। পুলিশকে খবর দিলে তাৎক্ষণিক মিয়াবাজার হাইওয়ে পুলিশ ও থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে হাইওয়ে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে মিয়াবাজার হাইওয়ে থানায় নিয়ে যায়। তবে এখনো লাশের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

    মিয়াবাজার হাইওয়ে থানা পুলিশের ইনচার্জ শাহাব উদ্দিন বলেন, ‘লাশ উদ্ধার করে ফাঁড়িতে আনা হয়েছে। পরিচয় শনাক্তে পিবিআইকে খবর দেয়া হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে জানা যাবে ঘটনাটি সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু না হত্যা’।

  • ‘সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশে বাতিল হচ্ছে আগের ৯টি ধারা ও ৯০ শতাংশ মামলা’’

    ‘সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশে বাতিল হচ্ছে আগের ৯টি ধারা ও ৯০ শতাংশ মামলা’’

    আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধন করে নতুন অধ্যাদেশে প্রথমবারের মতো ইন্টারনেটকে মৌলিক অধিকার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    প্রস্তাবিত এ অধ্যাদেশে অনলাইন জুয়াকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রথমবারের মতো সাইবার স্পেসে নারী ও শিশু নির্যাতন এবং যৌন হয়রানিকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত অধ্যাদেশে আগের আইনের ৯টি ধারা বাতিল করা হয়েছে। যা ছিল কুখ্যাত ধারা, এসব ধারাতেই ৯৫ শতাংশ মামলা হয়েছিল। মামলাগুলোও এখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।

    মঙ্গলবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক নিয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

    উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশের খসড়া উপস্থাপন করা হয়। কিছু সংশোধন শেষে এই সপ্তাহে গেজেট আকারে প্রকাশ হতে পারে বলেও জানান আইন উপদেষ্টা।

    আসিফ নজরুল জানান, এছাড়া কিছু কিছু ধারা পরিবর্তন করা হয়েছে। মত প্রকাশের ক্ষেত্রে দুটি অপরাধ রাখা হয়েছে, একটি হচ্ছে নারী ও শিশুর প্রতি যৌন নির্যাতনমূলক কন্টেন্ট প্রকাশ, হুমকি দেওয়া।

    আরেকটি হচ্ছে ধর্মীয় ঘৃণা ছড়ানো, যেই ঘৃণা ছড়ানোর মধ্যে দিয়ে সহিংসতা উসকে দেওয়া হয়। ধর্মীয় ঘৃণাকে কঠোরভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, যাতে ভুল বোঝাবুঝি না হয়, কেউ কাউকে হয়রানি করতে না পারে। এছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এই প্রথমবারের বাংলাদেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে যদি কোনো সাইবার অপরাধ করা হয়, সেটাকে শাস্তিযোগ্য করা হয়েছে।

    মত প্রকাশের ক্ষেত্রে ওই দুটি ক্ষেত্রে কারো বিরুদ্ধে মামলা হলে এটা আমলি আদালতে যাবে, যাওয়ার পর ম্যাজিস্ট্রেট যদি দেখেন— এ মামলার কোনো যৌক্তিকতা নেই, তাহলে প্রি ট্রায়াল স্টেজে তিনি মামলা বাতিল করে দিতে পারবেন।

    অর্থাৎ চার্জশিটের জন্য অপেক্ষা করা লাগবে না। যদি দেখেন সম্পূর্ণ ভুয়া মামলা, এ মামলার কোনো ভিত্তি নেই, তাহলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই মামলা বাতিল করে দিতে পারবেন।

  • ঐতিহাসিক মহাস্থান মাজার সংলগ্ন বসতি এলাকায় যৌথবাহিনির অভিযান

    ঐতিহাসিক মহাস্থান মাজার সংলগ্ন বসতি এলাকায় যৌথবাহিনির অভিযান

    ইসলাম বিরোধী কর্মকাণ্ড রোধে কঠোর অবস্থানে প্রশাসন

    মোঃ ইউসুফ মিয়া, শিবগঞ্জ, বগুড়া :
    বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার ঐতিহাসিক মহাস্থান গড় এলাকায় অবস্থিত শাহ সুলতান বলখী মাহীসওয়ার (রহঃ) এর মাজারে আগামী ৮ মে বৃহস্পতিবার  প্রতিবছরের ন্যায় অনুষ্ঠিতব্য ওরশ শরীফ উপলক্ষে সম্ভাব্য ইসলামবিরোধী কার্যক্রম প্রতিরোধে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও প্রশাসনের যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
    ৫ মে সোমবার দিনব্যাপী পরিচালিত এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন পুলিশ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, সেনাবাহিনীর সদস্যগণ এবং উপজেলা প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগন।
    অভিযান চলাকালে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনসাধারণকে সকল প্রকার ইসলাম বিরোধী অনৈতিক  কার্যক্রম, কুসংস্কার, মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপ পরিহারের আহ্বান জানানো হয়।
    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বলেন,
    ওরশ শরীফ একটি পবিত্র ধর্মীয় আয়োজন। এখানে কোনোভাবেই ইসলামবিরোধী, অশ্লীল বা অসামাজিক কার্যকলাপ বরদাশত করা হবে না। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসন সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।
    তিনি আরও জানান, ওরশকে ঘিরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত টহল ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
    স্থানীয় মুসল্লি ও ধর্মপ্রাণ জনসাধারণ প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ওরশ পালনে সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
  • নাটোরের সিংড়ায় চাঁদা আদায়ের সময় গ্রেফতার ১জন

    নাটোরের সিংড়ায় চাঁদা আদায়ের সময় গ্রেফতার ১জন

    মো: রেজাউল করিম , নাটোর:

    ‎‎নাটোরের সিংড়ায় চলন্ত ট্রাক থেকে অবৈধভাবে চাঁদা আদায়ের সময় হাতে নাতে একজন  চাঁদাবাজকে গ্রেফতার করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

    ‎সোমবার (৫ মে)  বেলা এগারো টার দিকে উপজেলার নাটোর -বগুড়া মহাসড়কের চৌগ্রাম বাজারে বাসট্যান্ড এলাকায় এঘটনা ঘটে।

    ‎উপজেলার চৌগ্রাম বাজারে চাঁদা আদায়ের গোপন সংবাদের ভিক্তিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি অভিযানিক দল অভিযান পরিচালনা করে তাকে  আটক করা হয়।

    ‎আটককৃত ব্যক্তি হলেন,মোঃ আসাদুজ্জামান মামুন (৩৫) পিতা মৃত আনসার আলীর ছেলে, সাং চৌগ্রাম কাজলাহার পাড়া, থানা সিংড়া, জেলা নাটোর। তিনি শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

    ‎জানা যায়, গত ১৫ দিন যাবত চৌগ্রাম বাসট্যান্ড এলাকায় চলন্ত যানবাহন (ট্রাক) হতে অবৈধভাবে চাঁদা আদায় করে আসছিলো আসাদুজ্জামান মামুন ও তার সহযোগীরা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চাঁদা আদায়ের বৈধ অনুমোদনের কোন কাগজপত্র বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে দেখাতে পারেনি।

    ‎পরবর্তীতে আটককৃত ব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সিংড়া থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সেনাবাহিনী।

    ‎বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কে তথ্য দিন-মাদক, অস্ত্রধারী ও জঙ্গিমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে অংশ নিন।

  • ফকিরাপুলে সিটিজি ক্রাইম টিভির, নতুন হেড অফিস উদ্বোধন করেন আজগর আলী মানিক

    ফকিরাপুলে সিটিজি ক্রাইম টিভির, নতুন হেড অফিস উদ্বোধন করেন আজগর আলী মানিক

    রফিক ঢালী, শ্রীপুর গাজীপুর:

    আজ (৫ মে) রোজঃ সোমবার বিকাল ৪ টায় রাজধানীর ফকিরাপুলে ‘সিটিজি ক্রাইম টিভি’ এর নতুন হেড অফিস উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সম্পাদক আজগর আলী মানিকের দূরদর্শী নেতৃত্ব ও অদম্য প্রচেষ্টায় এই ক্রাইমভিত্তিক গণমাধ্যম আজ দেশের সংবাদ জগতে একটি নির্ভরযোগ্য নাম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

    অনুষ্ঠানের সূচনা হয় জাতীয় সংগীত ও সাংবাদিকদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে। এরপর ফিতা কেটে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন আজগর আলী মানিক। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমের অসংখ্য প্রতিনিধি, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সংবাদকর্মীরা। উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রতিদিনের অপরাধ বিষয়ক রিপোর্টার মেহেদী হাসান, বাংলাদেশ সমাচারের এসএম জীবন, এশিয়ান টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার শাহজালাল উজ্জ্বলসহ গণমাধ্যমের অনেক পরিচিত মুখ। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা, রাজশাহী সহ বিভিন্ন জেলা থেকে আগত সাংবাদিকদের উপস্থিতি পুরো আয়োজনকে এক অনন্য মিলন মেলায় রূপ দেয়। সাংবাদিকতায় নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্যে বিশেষ আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল নারী সাংবাদিকদের, যাঁরা সাহসিকতার সঙ্গে এই পেশাকে এগিয়ে নিচ্ছেন।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে আজগর আলী মানিক বলেন, সাংবাদিকতা আমার জীবনের ভালোবাসা, দায়িত্ব এবং লড়াই। গত ১৬ বছর ধরে ‘সিটিজি ক্রাইম টিভি’ ও ‘সাপ্তাহিক সিটিজি নিউজ’ সত্য, নিরপেক্ষতা ও সাহসিকতা নিয়ে সংবাদ পরিবেশন করে আসছে। হাজারো প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে আমরা আজ এখানে পৌঁছেছি, এটা কোনো একক অর্জন নয়, এটা আমাদের সকলের সম্মিলিত সংগ্রামের ফল।

     

    তিনি আরও বলেন, দেশজুড়ে আমাদের প্রায় আট হাজারেরও বেশি সংবাদকর্মী নিরলসভাবে কাজ করছেন। তাঁদের প্রতি আমার অশেষ কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা। আমি চাই, সাংবাদিকতা হোক জনগণের মুখপত্র, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র।

    উদ্বোধনী পর্ব শেষে অনুষ্ঠিত হয় এক মনোজ্ঞ আলোচনা সভা ও চা-চক্র, যেখানে উপস্থিত সবাই আজগর আলী মানিকের সংগ্রাম ও অবদানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

    অনুষ্ঠান জুড়ে ছিল এক উচ্ছ্বসিত, বর্ণিল পরিবেশ, ফুলেল শুভেচ্ছায় ভরে ওঠে অফিস প্রাঙ্গণ। আগত অতিথিদের অনেকেই বলেন, আজগর আলী মানিক শুধু একজন সম্পাদক নন, তিনি এই সময়ের এক অনুপ্রেরণা। সাংবাদিকতা কীভাবে দায়িত্বশীল ভাবে পরিচালিত হয়, তিনি সেটাই করে দেখিয়েছেন। অনুষ্ঠানের শেষ প্রান্তে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন মানিক, যেখানে ছিল ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সম্প্রসারণ, নতুন জেলা প্রতিনিধির নিয়োগ এবং সংবাদকর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্ত বিষয়ে করা করার কথা বলেন। উক্ত অনুষ্ঠানে সিটিজি ক্রাইম টিভির সফলতা কামনা করে সকল সাংবাদিকদের কে একসাথে কাজ করার কথা বলেন আজগর আলী মানিক।

  • মিশরীয় রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ইবি উপাচার্যের সৌজন্য সাক্ষাৎ

    মিশরীয় রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ইবি উপাচার্যের সৌজন্য সাক্ষাৎ

    সুবংকর রায়, ইবি:
    আন্তর্জাতিকভাবে একাডেমিক কোলাবরেশনের লক্ষ্যে মিশরের রাষ্ট্রদূতের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ।
    আজ সোমবার (৫ মে) ঢাকাস্থ মিশরের এম্বাসিতে রাষ্ট্রদূত ওমর ফাহমী-এর সঙ্গে ইবি উপাচার্যের এই সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়।
    বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য, প্রকাশনা ও জনসংযোগ অফিস সূত্রে জানা যায়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিকভাবে একাডেমিক কোলাবরেশনের লক্ষ্যে মিশরের আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক, কালচারাল ও গবেষণা সহযোগিতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে ঢাকাস্থ মিশরের রাষ্ট্রদূত ওমর ফাহমী-এর সঙ্গে ইবির উপাচার্য প্রফেসর ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
    প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়া অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মাস্টার্স ৩৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেশে-বিদেশে বিভিন্ন নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চতর ডিগ্রি গ্রহণে আগ্রহী বিদায়ী শিক্ষার্থীদের সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। এ সময় মিশরীয় রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাৎকারের কথা বক্তব্যে উল্লেখ করেন তিনি।
  • ড.মাহমুদুর রহমানের নামে মিথ্যা মামলা করায় রংপুরে আমার দেশ পাঠক মেলার মানববন্ধন

    ড.মাহমুদুর রহমানের নামে মিথ্যা মামলা করায় রংপুরে আমার দেশ পাঠক মেলার মানববন্ধন

    এম এ শাহীন, রংপুর:

    ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর সাদাকে সাদা কালোকে কালো এবং গণ মানুষের পক্ষে বলা নির্যাতিত নিপীড়িত সাংবাদিক দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমানসহ চার সাংবাদিকের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা প্রতাহার ও ভূমিদস্য স্বৈরাচারের দোসর অর্থ পাচারকারী ভারতের দালাল, মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামালকে গ্রেপ্তারের দাবিতে রংপুরে আমার দেশ পাঠক ফোরামের পক্ষ থেকে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২৯) এপ্রিল দুপুরে রংপুর প্রেসক্লাবের সামনে দৈনিক আমার দেশ পাঠক মেলার আয়োজনে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন রংপুর সম্মিলিত সাংবাদিক সমাজের সদস্য সচিব সিনিয়র সাংবাদিক লিয়াকত আলী বাদল।

    আমার দেশ পত্রিকার রংপুর অফিস প্রধান বাদশাহ ওসমানীর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন রংপুর রিপোর্টার্স ক্লাব ও সাংবাদিক ইউনিয়ন (আরপিইউজে) সাধারণ সম্পাদক সরকার মাজহারুল মান্নান, প্রেসক্লাবে সাবেক সভাপতি দৈনিক আমাদের প্রতিদিন পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মাহবুব রহমান হাবু, মাহিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি বাবলু নাগ, রিপোর্টার্স ক্লাব রংপুরের সদস্য খন্দকার রাকিবুল ইসলাম, সিনিয়র সাংবাদিক চঞ্চল মাহমুদ, টিসিএর সাইফুল ইসলাম মুকুল, অনলাইন মাল্টিমিডিয়া এসোসিয়েশনের আতিক হাসান, হারাগাছ রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম, রংপুর ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন এর সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন, সভাপতি মমিনুল ইসলাম রিপন, আমার দেশ পাঠক মেলার সদস্য মোছাঃ আরিফিন বেগম, সিটি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ন কবির মানিক, সাংবাদিক ইউনিয়নের সাহিত্য সংস্কৃতিক সম্পাদক নুর হাসান চান, সিনিয়র সাংবাদিক চুন্নু,আমার দেশ রংপুর অফিসের স্টাফ রিপোর্টার মেজবাহুল হিমেল, সাংবাদিক এম এ শাহীন, হাফিফুর রহমান, বাবু, রনিসহ প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

    মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন,আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক ড. মাহমুদুর রহমান এক কথার মানুষ। তিনি সব সময় ন্যায়ের পক্ষে। তিনি হাজারো বার হয়রানির শিকার হয়েছেন। তার নামে ডজন ডজন মিথ্যাও হয়রানিমুলক মামলা দিয়ে মাসকে মাস রিমান্ডে নিয়ে আয়না ঘরের ভিতরে বন্দী রেখে অমানসিক নির্যাতন করা হয়েছে। তাকে মেরে ফেলার জন্য আওয়ামী সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছিল।

    তারপরেও তিনি কখনো অন্যায়ের প্রতি মাথা নত করেননি। সব সময় তিনি নির্যাতিত নিপীড়িত সাংবাদিকসহ দেশের জন্য মানুষের জন্য অন্যায়ের বিরুদ্ধে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে দেশ নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে দ্বিধাহীন ভাবে প্রতিবাদ করে বলিষ্ঠভাবে ভূমিকা রেখে চলছেন। এমন এক নির্ভীক নিপীড়িত সাহসী বীরপুরুষ ডঃ মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে স্বৈরাচারের দোসর অর্থ পাচারকারী ভূমিদস্যু, শাপলা চত্বরে হেফাজতের নেতাকর্মীদের হত্যাকারীদের ইন্ধনদাতা, জুলাই আগস্ট এর ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের হয়ে ছাত্র জনতার গণহত্যারকারীদে পক্ষ নিয়ে মেঘনা গ্রুপের মিডিয়া গুলোকে লেলিয়ে দিয়ে খুনিদের উৎসাহিত করা এবং ফ্যাসিবাদকে লালনকারী ভূমিদস্যু বিদেশে অর্থ পাচারকারী মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল মিথ্যা একটি মামলা করে যে দুঃসাহস দেখিয়েছেন আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। সেই সাথে বিতর্কিত মেঘনা গ্রুপের এই চেয়ারম্যানকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে এসে তার পাছারকৃত অর্থগুলো ফেরত এনে দেশের মানুষের কল্যাণ কাজে লাগার আহ্বান জানান।

    বক্তার আরো বলেন, ভূমিদস্য অর্থ প্রচারকারী মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান একজন ভারতীয় দালাল। তিনি সামান্য লবণ ব্যবসায়ী সেজে আওয়ামী লীগের সুবিধা নিয়ে ৭৪ টি কোম্পানির মালিক হয়ে দেশের সনামধন্য সাংবাদিকদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে ঔধত্যপূর্ণ আচরণ করেছেন। এজন্য তাকে দ্রুত আইনের কাঠগড়ায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান বক্তারা।

  • শ্রীপুরে পুত্রবধুর মামলায় কারাগারে দেবর-শ্বশুর

    শ্রীপুরে পুত্রবধুর মামলায় কারাগারে দেবর-শ্বশুর

    শ্রীপুর, গাজীপুর:

    গাজীপুরের শ্রীপুরে নারী নির্যাতনের মামলায় দেবর শ্বশুরকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুত্রবধু শিলা আক্তারের করা মামলায় বৃহস্পতিবার (১মে) দিবাগত রাত ৩ টার দিকে উপজেলা মাওনা ইউনিয়নের নিজ মাওনা গ্রাম থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার দুজন হলো নিজ মাওনা গ্রামের মৃত আমজাত আলীর ছেলে জানে আলম (৫০) ও তার ছোট ছেলে রফিক (২৬)।

    মামলার বিবরণে জানা যায়, সাত মাস আগে জানে আলমের ছেলে শফিক (৩০) এর সঙ্গে টাঙ্গাইলের ভুয়াপুর উপজেলার খাসবরের বয়ড়া গ্রামের মৃত আঃ সামাদের কন্যা শিলা আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় নগদ ২ লাখ টাকা, ঘরের আসবাব পত্র এবং চার লাখ টাকার স্বর্ণালংকার দেওয়া হয়। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যে আবার যৌতুকের টাকার জন্য শুরু হয় শারীরিক মানসিক নির্যাতন।

    গত ২৫ শে ফেব্রুয়ারি শিলা কে মারধর করে শশুর বাড়িতে আটকে রাখা হয়। খবর পেয়ে তার বড় ভাই মুসা শেখ শ্রীপুর থানার পুলিশের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে শিলা আক্তার বাদী হয়ে ১৮ এপ্রিল শ্রীপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করে। মামলায় আসামি করা হয়, শফিক ও তার বাবা জানে আলম, মা সুফিয়া (৪৫) ও তার ভাই রফিককে।

    তবে এখন পর্যন্ত গ্রেফতার হয়েছে জানে আলম ও রফিক। স্থানীয় লোকজনদের বরাত দিয়ে জানা যায়, শফিক ও রফিক এলাকার খারাপ চরিত্রের মানুষ এবং মাদকসেবী। শফিক আগে একাধিকবার বিয়ে করেছে এবং তার স্ত্রীদেরকে নির্যাতন করে তাড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমান স্ত্রী শিলা আক্তারকে বারবার মারধর করে। নিজ মাওনা গ্রামের শাহাবুদ্দিন জানান, আমার সামনেই শফিক একদিন তার স্ত্রীকে মারধর করে।

    শ্বশুর জানে আলম ও ভাই রফিক মিলে চুলের মুঠি ধরে টানা হেঁচড়া করে।

    শ্রীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জয়নাল আবেদীন মন্ডল বলেন, মামলার এজাহারভুক্ত দুজনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে, বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে।

  • নির্বাচন নিয়ে তাড়াহুড়ো নেই, বরং সংস্কারগুলো সম্পন্ন করা প্রয়োজন

    নির্বাচন নিয়ে তাড়াহুড়ো নেই, বরং সংস্কারগুলো সম্পন্ন করা প্রয়োজন

    ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেছেন, জাতীয় নির্বাচন কখন হবে সেটা বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত। তবে নির্বাচনের আগে প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলো সম্পন্ন করার পক্ষে তারা। নির্বাচন নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে কোনো চাপ নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    সোমবার (৫ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ডিকাব আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত। ডিপ্লোম্যাটিক করেসপনডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ-ডিকাব এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

    মাইকেল মিলার বলেন, রাজনৈতিক দল ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংস্কারের লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করবে বলে আমরা আশা করি।

    এক প্রশ্নের জবাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, নির্বাচনে সহায়তাও দিতে আগ্রহী ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তবে নির্বাচন কবে হবে, তা ঠিক করবে বাংলাদেশ সরকার।

    অন্য এক প্রশ্নের জবাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত ও আহতের ঘটনায় দোষীদের বিচারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।

    রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে সংস্কার এখন বড় সুযোগ এনে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন মাইকেল মিলার। এই সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে বলেন তিনি।

    রাখাইনে মানবিক করিডর নিয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত বলেন, উভয় পাশেই ভুক্তভোগীদের জন্য মানবিক সহায়তা প্রয়োজন। সবাই যেন সমানভাবে ত্রাণ সহায়তা পায়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

    ডিকাব সভাপতি এ কে এম মঈনুদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান মামুন।

    এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইইউ-তে পাচার হওয়া অর্থ যদি বর্তমান সরকার ফেরত আনতে চায়; তবে এ নিয়ে রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে যথাযথ তথ্য-উপাত্ত নিয়ে যোগাযোগ করতে হবে।

  • চৌদ্দগ্রামে রোহিঙ্গাদের জন্মসনদ প্রদান; ইউপি চেয়ারম্যান আবু তাহের বরখাস্ত

    চৌদ্দগ্রামে রোহিঙ্গাদের জন্মসনদ প্রদান; ইউপি চেয়ারম্যান আবু তাহের বরখাস্ত

    চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধিঃ

    মায়ানমার রোহিঙ্গা নারীকে জন্ম সনদ প্রদান করার অভিযোগ সত্যতা প্রমানিত হওয়ায় কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ১১ নং চিওড়া ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ আবু তাহের কে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

    শুক্রবার (০২ এপ্রিল) দুপুরে তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন, উপজেলার নির্বাজী কর্মকর্তা মোঃ জামাল হোসেন।

    তিনি জানান, ২৯ এপ্রিল স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের ইউপি-১ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব তৌহিদ এলাহি স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে এই বহিস্কার আদেশ প্রদান করা হয়।

    তৌহিদ এলাহি তার স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করেন, চিওড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (নিবন্ধক) মোঃ আবু তাহেরের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গার অনুকূলে জন্ম নিবন্ধন সনদ ইস্যুকরন ও নিজের ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড অন্য ব্যক্তির নিকট হস্তান্তর, সচেতনতার অভাব, দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে অবহেলার অভিযোগ তদন্তে প্রমানিত হওয়ায় স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯- এর ৩৪ (৪) (খ) (ঘ) ধারা অনুযায়ী রেজিস্টার জেনারেল, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের অনুরোধ করা হয়েছে।

     

    প্রজ্ঞাপনে আরো উল্লেখ করা হয়, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু তাহেরের বিরুদ্ধে উল্লেখিত অভিযোগে তার দ্বারা ইউনিয়ন পরিষদের ক্ষমতা প্রয়োগ প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণে সমিচন নয় মর্মে সরকার মনে করে।

    চেয়ারম্যান আবু তাহের কর্তৃক সংগঠিত অপরাধমূলক কার্যক্রম ইউনিয়ন পরিষদ সহ জনস্বার্থের পরিপন্থী বিবেচনায় স্থানীয় সরকার ইউনিয়ন পরিষদ আইন অনুযায়ী চেয়ারম্যান আবু তাহের কে স্বীয় পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১১ জুন ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে ভিয়েতনাম যাওয়ার সময় ইমিগ্রেশন পুলিশ হুমায়রা ও শারিমন আক্তার নামে দুইজনই রোহিঙ্গা নারীকে আটক করে। পরে তাদের বিরুদ্ধে ১৫ জনু কুমিল্লার ডিএসবি’র উপ পরিদর্শন ইমাম হোসেন বাদি হয়ে চৌদ্দগ্রাম থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পরই ২৭ জনু থানা পুলিশ হুমায়রা ও শারমিন আক্তারকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠান।

    এর পরই জানা যায় এই দুই রোহিঙ্গা নারী উপজেলার ১১ নং চিওড়া ইউনিয়ন পরিষদের ডিমাতলী গ্রামের মরহুম কাজী শামছুল হকের ছেলে কাজী খবির উদ্দিন এই দুই নারীর পিতা সেজে ঐ ইউনিয়ন থেকে দুইটি জন্ম সনদ তৈরি করে। পরে জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট তৈরি করে ভিয়েতনাম পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করে।

    স্থানীয় সূত্রে আরো জানা যায়, রোহিঙ্গা নারী হুমায়রার পিতা শামসুল আলম জন্ম ২০১০ সালের ১ জানুয়ারি। আর শারমিনের পিতার নাম নুর কামাল জন্ম ২০০৬ সালের ১ জানুয়ারি। তাদের কতৃত পিতা খবির উদ্দিন এই দুই নারীকে নিজের সন্তান পরিচয় দিয়ে জন্ম সনদগুলো তৈরি করেছে।

    এ বিষয়ে চেয়ারম্যান আবু তাহের বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুর ঘটনাটি জন্ম নিবন্ধন শাখার রেজিস্টার জেনারেল আমাকে কারন দর্শানোর নোটিশ করলে আমি তার সঠিক জবাব প্রদান করি। এ ছাড়াও জন্ম সনদ গ্রহীতার কতৃত পিতা কাজী খবির উদ্দিনের বিরুদ্ধে ডিএসবি মামলা দায়ের করেছিলো। সেই মামলায় পুলিশ তাকে অভিযুক্ত করেন আদালতে সার্চ শিট প্রদান করেন।

    পুলিশ সার্চ শিটে আমাকে স্বাক্ষী করেন। তারপরও আমাকে স্থানীয় সরকার ইউপি শাখা থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

  • শ্রম বিষয়ক মিডিয়া পুরস্কার পেলেন চৌদ্দগ্রামের সাংবাদিক এমদাদ

    শ্রম বিষয়ক মিডিয়া পুরস্কার পেলেন চৌদ্দগ্রামের সাংবাদিক এমদাদ

    আবু বকর সুজন, চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধিঃ

    শ্রম বিষয়ক লেখালেখি ও স্থিরচিত্র প্রকাশের জন্য শ্রম মিডিয়া পুরস্কার পেয়েছেন কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের তরুণ সাংবাদিক ও কলামিস্ট মোঃ এমদাদ উল্যাহ। পহেলা মে বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মহান মে দিবস এবং জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনুস তাঁর হাতে ক্রেষ্ট, সনদপত্র ও পুরস্কারের টাকা তুলে দেন।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বিগ্রেডিয়াল জেনারেল(অব.) ড. এম শাখাওয়াত হোসেন। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব এএইচ এম সফিকুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আইএলও প্রতিনিধিসহ আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। গত এপ্রিল মাসে ‘সন্তানের মুখ দেখেই শেষ শ্রমজীবি মায়ের কষ্ট’ শিরোনামে একটি স্থিরচিত্র প্রকাশিত হওয়ার পর প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করায় তাকে এ পুরস্কার দেয়া হয়।

    শ্রম বিষয়ক মিডিয়া পুরস্কারপ্রাপ্ত সাংবাদিক মোঃ এমদাদ উল্যাহ এর আগে পরিবার পরিকল্পনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড-২০২১, ব্র্যাক মাইগ্রেশন মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড-২০১৯ ও ২০২০, প্রোল্ট্রি মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড-২০১৯ এবং আবুল মনসুর আহমদ প্রবন্ধ প্রতিযোগিতার পুরস্কার-২০১৯ লাভ করেন।

    সাংবাদিক মোঃ এমদাদ উল্যাহ ২০০৫ সাল থেকে সৎ ও সাহসিকতায় সাংবাদিকতার সাথে জড়িত রয়েছেন। তিনি ১৯৮৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের সাতঘড়িয়া গ্রামের এক মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম আবদুর রহমান ও মাতার নাম মরহুমা জাকিয়া খাতুন। বর্তমানে তিনি আন্তর্জাতিক, জাতীয় ও আঞ্চলিক বিভিন্ন প্রিন্ট এবং অনলাইন পত্রিকার প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে জড়িত থেকে নিয়মিত গরীব ও অসহায় মানুষের কল্যাণে কাজ করছেন।

    এদিকে শ্রম বিষয়ক মিডিয়া পুরস্কার অর্জন করায় সাংবাদিক মোঃ এমদাদ উল্যাহকে অভিনন্দন জানিয়েছেন সাংবাদিক, রাজনৈতিক, সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

  • চৌদ্দগ্রামে গ্রামীণ সড়ক নির্মাণে অনিয়ম তদন্তে দুদকের টিম

    চৌদ্দগ্রামে গ্রামীণ সড়ক নির্মাণে অনিয়ম তদন্তে দুদকের টিম

    চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধিঃ

    কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের যাত্রাপুর-পারুয়ারা দুই দশমিক তিন কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগে গত নভেম্বর মাসে  বিভিন্ন মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি দুদকের নজরে আসলে তারা তদন্ত নামে।

    মঙ্গলবার (২৯এপ্রিল) সকালে দুদক কুমিল্লার সহকারী পরিচালক তারেকুর রহমানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি টিম সড়কটি পরিদর্শন করে।
    এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা গেছে, কাশিনগর ইউনিয়নের যাত্রাপুর থেকে শ্রীপুর ইউনিয়নের পারুয়ারা পর্যন্ত ২৩০০ মিটার সড়ক পুণনির্মাণ করার জন্য ১ কোটি ৬৮ লক্ষ ৭৫ হাজার ৮১৯ টাকা চুক্তিতে টেন্ডার পায় মুন্সিরহাট ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি সুমন পাটোয়ারীর প্রতিষ্ঠান মেসার্স পাটোয়ারী এন্টারপ্রাইজ। সড়কের নির্মাণ কাজ গত বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে ১৮ আগস্ট শেষ হওয়ার নিয়ম ছিল।

    অভিযোগ উঠেছে, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু করলেও দীর্ঘ ৫ মাস কাজ বন্ধ রাখে। গত ৫ আগস্টের আগে এলাকাবাসী ঠিকাদার সুমন পাটোয়ারীকে জানালেও তিনি ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে কোন কিছুর তোয়াক্কা করেনি। সরকার পতনের পর সড়কের পাশের গ্রামগুলোর ছাত্র-জনতা অনিয়মের প্রতিবাদ করায় ঠিকাদার সুমন পাটোয়ারী কাজ বন্ধ রেখে এলাকা ছেড়ে চলে যায়। কিছুদিন পর তিনি চিহ্নিত কয়েকজন নেতাকে ম্যানেজ করে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে ওই সড়ক নির্মাণ কাজ শুরু করলে বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী অনিয়মের প্রতিবাদ করে। ওই সময় সড়কের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স পাটোয়ারী এন্টারপ্রাইজের প্রোপাইটর সুমন পাটোয়ারী কালভার্টের ভাঙা কিছু পুরানো ইট ব্যবহারের কথা স্বীকার করেছিলেন। এনিয়ে সংবাদ প্রকাশ দুদকের নজরে আসে।

    মঙ্গলবার দুপুরে দুদক কুমিল্লার সহকারী পরিচালক তারেকুর রহমান বলেন, আমরা দুই দশমিক তিন কিলোমিটার সড়ক পরিদর্শন করেছি। পর্যালোচনা শেষে শিগগিরই কমিশনের নিকট প্রতিবেদন দাখিল করবো। পরবর্তীতে কমিশন যে সিদ্ধান্ত দিবে, আমরা সে অনুযায়ী কাজ করবো’।
    চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ নুরুজ্জামান বলেন, ‘নিম্নমানের কাজের  অভিযোগে দুদকের একটি টিম যাত্রাপুর-পারুয়ারা সড়ক পরিদর্শন করেছে। বিস্তারিত পরে বলা যাবে’।

    কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবদুল মতিন বলেন, ‘আমি নতুন এসেছি। অফিসের কাজে বাইরে আছি, ফাইল দেখে বিস্তারিত জানাবো’