Author: বাসস

  • ৪৮তম বিসিএস-এর লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ

    ৪৮তম বিসিএস-এর লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ

    ৪৮তম বিশেষ বিসিএস পরীক্ষার লিখিত অংশের (এমসিকিউ টাইপ) ফলাফল প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)।

    এতে মোট ৫ হাজার ২০৬ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। তারা পরবর্তী ধাপে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন।

    রোববার রাত ১২টায় পিএসসি’র পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ক্যাডার) মাসুমা আফরীনের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ১৮ জুলাই ৪৮তম বিশেষ বিসিএস-এর লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

    এতে সহকারী সার্জন পদে ৪ হাজার ৬৯৫ জন ও সহকারী ডেন্টাল সার্জন পদে ৫১১ জন প্রার্থী সাময়িকভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন।

    কমিশনের ওয়েবসাইট (www.bpsc.gov.bd) থেকে ফলাফল দেখা ও ডাউনলোড করা যাচ্ছে। সুত্রঃ বাসস

  • কারফিউ শেষে গোপালগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি

    কারফিউ শেষে গোপালগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি

    কারফিউ শেষে গোপালগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। আজ রোববার (২০ জুলাই) সকাল ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ বলবৎ থাকবে।

    গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসন জানায়, এই সময়ের মধ্যে যেকোনো ধরনের সভা, মিছিল ও জনসমাবেশ নিষিদ্ধ থাকবে। স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী, সরকারি অফিসসহ জরুরি পরিষেবাসমূহ ১৪৪ ধারার আওতামুক্ত থাকবে। এছাড়াও শহরজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বর্তমানে জেলার পরিস্থিতি স্বাভাবিক। গত বুধবারের সহিংসতার পর জেলায় কারফিউ জারি করা হয়। গতকাল কিছু সময়ের জন্য কারফিউ শিথিল করা হয়। আজ কারফিউ তুলে নিয়ে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

    প্রসঙ্গত, গত বুধবার সমাবেশ শেষে ফেরার পথে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)র নেতাদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় গোপালগঞ্জের পৌরপার্ক এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরে জেলায় ১৪৪ ধারা জারি করে জেলা প্রশাসন। এরপর জেলাটিতে প্রথমে ২২ ঘণ্টার কারফিউ জারি করা হয়। এরপর থেকে পর্যায়ক্রমে কারফিউর সময় বাড়ানো হচ্ছিল। সুত্রঃ বাসস

  • ভবিষ্যতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পরিবর্তনে গণভোটের বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে: অধ্যাপক আলী রীয়াজ

    ভবিষ্যতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পরিবর্তনে গণভোটের বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে: অধ্যাপক আলী রীয়াজ

    সংবিধানে বিদ্যমান তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিষয়ে কোনো মতপার্থক্য না থাকায় ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা পরিবর্তনের বিষয়ে গণভোটের ব্যাপারে রাজনৈতিক দলগুলো একমত পোষণ করেছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

    রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৪তম দিনের আলোচনার সার সংক্ষেপ তুলে ধরে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের তিনি এ কথা বলেন।

    এ সময় অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, বিদ্যমান সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অন্তর্ভুক্তির পর ভবিষ্যতে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গণভোটের প্রয়োজন হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার ব্যাপারে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কোনোরকম মত ভিন্নতা নেই বলে এই ব্যবস্থা পরিবর্তনে গণভোটের কথা বলা হয়েছে।

    আগামী সপ্তাহে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান নিয়োগের ব্যাপারে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

    আলোচনায় সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে কিছু সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া গেছে বলে উল্লেখ করে কমিশনের সহ-সভাপতি বলেন, যদি উচ্চকক্ষ গঠিত না হয় বা উচ্চকক্ষ হওয়া পর্যন্ত সংবিধানের সংশোধনের জন্য সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের প্রয়োজন হবে। তবে, সুনির্দিষ্ট কিছু অনুচ্ছেদ যেমন প্রস্তাবনা, রাষ্ট্রের মূলনীতি, অনুচ্ছেদ ৪৮, ৫৬, ১৪২ এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিষয়ক ৫৮খ, ৫৮গ, ৫৮ঘ এবং ৫৮ঙ অনুচ্ছেদের দ্বারা সংবিধানে যুক্ত হলে তা সংশোধনের ক্ষেত্রে গণভোটের প্রয়োজন হবে।

    সংখ্যাগরিষ্ঠ দল ও জোট দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্ট প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে সমর্থন দিয়েছে মন্তব্য করে অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, প্রথম পর্যায়ের আলোচনায়ও সংখ্যাগরিষ্ঠ দল এ মত প্রকাশ করেছে। তবে, দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্ট গঠন প্রক্রিয়া সম্পর্কে আজও ঐকমত্য হয়নি। এ ব্যাপারে কোনো কোনো রাজনৈতিক দল বলছে ভোটের সংখ্যানুপাতে যেন উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠা করা হয়। অন্যদিকে আসনের সংখ্যানুপাতেও উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব আছে।

    তিনি আরও বলেন, যেহেতু রাজনৈতিক দল এবং জোটগুলো এ বিষয়ে একাধিক আলোচনার পরেও ঐকমত্যের জায়গায় পৌঁছাতে পারেনি, সেহেতু দল এবং জোটগুলোর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভার কমিশনের উপর অর্পণ করা হয়েছে।

    ঐকমত্য কমিশন দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্ট বিষয়ে নিজেদের মধ্যে এবং পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে অনানুষ্ঠানিকভাবে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে আগামী সপ্তাহে একটি অবস্থানে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

    আজকের আলোচনায় জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সাথে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টিসহ ৩০টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

    এ সময় কমিশনের সদস্য বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. বদিউল আলম মজুমদার, সফর রাজ হোসেন, ড. মো. আইয়ুব মিয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার উপস্থিত ছিলেন। সুত্রঃ বাসস

  • বন্দর অবকাঠামো উন্নয়নে সিঙ্গাপুরকে বিনিয়োগের আহ্বান নৌপরিবহন উপদেষ্টার

    বন্দর অবকাঠামো উন্নয়নে সিঙ্গাপুরকে বিনিয়োগের আহ্বান নৌপরিবহন উপদেষ্টার

    বাংলাদেশের জাহাজ শিল্পসহ বন্দর অবকাঠামো উন্নয়নে সিঙ্গাপুরকে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন।

    তিনি আজ মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত সিঙ্গাপুরের ভারপ্রাপ্ত পরিবহন মন্ত্রী জেফ্রি সিও’র সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এ আহ্বান জানান বলে ঢাকায় প্রাপ্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

    সাক্ষাৎকালে নৌপরিবহন উপদেষ্টা বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশের জাহাজ শিল্প খাতে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ বিরাজ করছে এবং সকল প্রক্রিয়া এখন স্বচ্ছতার সঙ্গে উন্মুক্ত মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। দেশের সম্ভাবনাময় জাহাজ শিল্প খাতসহ বন্দর অবকাঠামো উন্নয়নে সিঙ্গাপুর বিনিয়োগ করতে পারে।’

    বৈঠকে তিনি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের গৃহীত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বিষয়ে সিঙ্গাপুরের পরিবহন মন্ত্রীকে অবহিত করেন এবং বন্দর অবকাঠামো নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা বিনিময় ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতায় সিঙ্গাপুরের সহায়তা কামনা করেন।

    নৌপরিবহন উপদেষ্টা বলেন, বন্দর অবকাঠামো নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনায় সিঙ্গাপুরের চমৎকার অভিজ্ঞতা রয়েছে। সিঙ্গাপুর বাংলাদেশের বিভিন্ন বন্দর, বে-টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প, মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দরে শিপইয়ার্ড নির্মাণ, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়নসহ গুরুত্বপূর্ণ বন্দরসমূহের অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ করতে পারে।

    তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের মেগা সম্প্রসারণ প্রকল্প বে টার্মিনাল নির্মাণে বাংলাদেশকে ৬৫০ মিলিয়ন অর্থাৎ ৬৫ কোটি ডলারের ঋণ অনুমোদন দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এই টার্মিনালটি নির্মিত হলে বাংলাদেশের বৈশ্বিক বাণিজ্য প্রতিযোগিতা-সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। বন্দরের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে অনেকাংশে কমে আসবে আমদানি ও রপ্তানি ব্যয়। উপদেষ্টা বে-টার্মিনালের কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণে পিএসএ সিঙ্গাপুরের সঙ্গে আসন্ন অক্টোবর মাসের মধ্যে একটি চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    তিনি মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর বা বাংলাদেশের উপর্যুক্ত যে কোনো স্থানে একটি আন্তর্জাতিক মানের শিপইয়ার্ড/ডকইয়ার্ড নির্মাণে সিঙ্গাপুর সরকারকে অনুরোধ জানান। সিঙ্গাপুরের পরিবহন মন্ত্রী এ বিষয়ে উপদেষ্টাকে আশ্বস্ত করেন।

    বাংলাদেশের মেরিন একাডেমিগুলো থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দক্ষ ও মেধাবী মেরিনারদের সিঙ্গাপুরে কর্মসংস্থানের সুযোগ দেয়ার জন্য উপদেষ্টা সিঙ্গাপুর সরকারকে অনুরোধ করেন। এছাড়া বাংলাদেশি নাবিকদের জন্য সিঙ্গাপুর সরকার কর্তৃক ট্রানজিট ভিসা প্রদানের আহ্বান জানান। সিঙ্গাপুরের পরিবহন মন্ত্রী বাংলাদেশি নাবিকদের জন্য দ্রুতই ট্রানজিট বা ওয়ার্কিং ভিসা প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলে জানান।

    বাংলাদেশ ২০২৬-২৭ মেয়াদের জন্য ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (আইএমও) কাউন্সিলের ক্যাটাগরি ‘সি’-এর সদস্য হিসেবে প্রার্থিতা ঘোষণা করেছে। আসন্ন নির্বাচনে বাংলাদেশের পক্ষে সিঙ্গাপুরসহ অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রের সমর্থন কামনা করেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা। সুত্রঃ বাসস

  • মালয়েশিয়ায় বহুমুখী রপ্তানি সম্ভাবনা তুলে ধরেছে বাংলাদেশ

    মালয়েশিয়ায় বহুমুখী রপ্তানি সম্ভাবনা তুলে ধরেছে বাংলাদেশ

    মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে আয়োজিত ৩৬তম মালয়েশিয়া ইন্টারন্যাশনাল মেশিনারি মেলায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশ প্লাস্টিক, হালকা প্রকৌশল ও ইলেকট্রনিকসসহ বিভিন্ন পণ্য প্রদর্শনের মাধ্যমে তৈরি পোশাকের বাইরে বৈচিত্র্যপূর্ণ রপ্তানি সম্ভাবনা তুলে ধরেছে।

    ১০ থেকে ১২ জুলাই মালয়েশিয়া ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড অ্যান্ড এক্সিবিশন সেন্টারে (এমঅঅইটিইসি) আয়োজিত এই মেলায় বিশ্বের ১০টি দেশের ৪৫০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান ৭৫৩টি বুথে তাদের পণ্য প্রদর্শন করে।

    মালয়েশিয়ার প্ল্যান্টেশন ও কমোডিটিজ বিষয়ক মন্ত্রী ওয়াই বি দাতুক সেরি জোহারি বিন আবদুল গনি ১১ জুলাই এই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

    বাংলাদেশ হাইকমিশনার মো. শামীম আহসান আয়োজকদের আমন্ত্রণে সমাপনী দিনে ‘বিজনেস ম্যাচিং সেশন’-এ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। এ সময় তিনি বাংলাদেশ সরকারের রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণ নীতির আলোকে—বিশেষ করে প্রকৌশল, প্লাস্টিক, হালকা প্রকৌশল, চামড়াজাত পণ্য, পাট, হস্তশিল্প ও ইলেকট্রনিকস খাতে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।

    জাতিসংঘ শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের নির্দেশনায় রপ্তানি খাতে বহুমুখীকরণ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণকে স্বীকৃতি জানিয়ে আয়োজক কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করে। হাইকমিশনার শামীম আহসান এই সম্মাননা গ্রহণ করেন।

    পরে হাইকমিশনার বাংলাদেশি দুটি স্টল পরিদর্শন করেন এবং দর্শনার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন সম্ভাবনাময় পণ্য সম্পর্কে অবহিত করেন এবং জানান, এ ধরনের আন্তর্জাতিক মেলায় অংশগ্রহণ বাংলাদেশের পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে সহায়ক হবে।

    মেলার শুরু থেকেই বাংলাদেশি স্টলগুলোতে বিদেশি ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের আগ্রহ ছিল লক্ষ্যণীয়, যা আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির ইঙ্গিত দেয়।

    বর্তমানে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়ার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যেখানে মালয়েশিয়া বাংলাদেশের নবম বৃহত্তম বৈদেশিক বিনিয়োগকারী। সুত্রঃ বাসস

  • প্রধান বিচারপতির নিয়োগসহ ৩টি বিষয়ে আলোচনায় ঐকমত্য কমিশন

    প্রধান বিচারপতির নিয়োগসহ ৩টি বিষয়ে আলোচনায় ঐকমত্য কমিশন

    অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত সংস্কার কমিশনগুলোর সুপারিশ বিষয়ে ঐক্য গড়ে এবং রাষ্ট্র সংস্কারের বিভিন্ন বিষয়ে একমত হয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ‘জুলাই সনদ’ তৈরির লক্ষ্যে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আজ আলোচনায় বসেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।

    রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমির দোয়েল হলে আজ সকাল সাড়ে ১১টায় দ্বিতীয় দফার দ্বাদশ দিনের মত আনুষ্ঠানিকভাবে এ আলোচনা শুরু হয়েছে।

    কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আজকের আলোচনার সূচিতে প্রাধান্য পাচ্ছে- তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা, প্রধান বিচারপতি নিয়োগবিধি ও জরুরি অবস্থা ঘোষণা।

    এর আগে, উল্লেখ্য তিনটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। পূর্বের অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে আজ অধিকতর আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে

    বরাবরের মতো আজকেও আলোচনায় সভাপতিত্ব করছেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ।

    এছাড়া, কমিশনের সদস্য হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন- বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ড. বদিউল আলম মজুমদার, সফর রাজ হোসেন, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. মো. আইয়ুব মিয়া ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।

    সংলাপ শুরু হওয়ার আগে সূচনা বক্তব্যে কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশ্যে বলেন, যেহেতু আপনারা রাজনৈতিক দল করেন, সেহেতু সব বিষয়ে আপনাদের একটি নির্দিষ্ট অবস্থান থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। তবে আপনাদের প্রতি অনুরোধ, একটি মাঝামাঝি স্থানে এসে আমাদের দাঁড়াতে হবে।

    পরবর্তীতে যদি জনগণের কাছ থেকে আপনারা প্রতিনিধিত্ব লাভ করতে পারেন, তাহলে সেটি পরিবর্তন করতে পারেন এবং সেটি জনগণের রায়ের ওপর নির্ভরশীল থাকবে। কিন্তু কমিশন মনে করছে, একটি পর্যায়ে আসা ভালো।

    তিনি আরো বলেন, আমরা আপনাদের বক্তব্যকে গুরুত্বহীন মনে করছি না, বরং আমরা চাচ্ছি সকলে একটি ঐক্যমতে পৌঁছাক। চাইলেই এ আলোচনা বাদ দেওয়া যেতে পারে, কিন্তু তাতে বিদ্যমান পরিস্থিতিই থেকে যাবে। আমাদের একটি জায়গায় আসতে হবে- এই বিবেচনাটা যদি আপনারা করেন, তাহলে আমাদের পক্ষে ঐকমত্য গঠন করা সম্ভব।

    তিনি সকলের প্রতি কিছুটা ছাড় দিয়ে ও কিছুটা অবস্থান পরিবর্তন করে একটি জায়গায় আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনারা অবস্থার পরিবর্তন করে হলেও এগিয়ে আসুন। না হলে আমরা যেখানে আছি, সেখানেই থেকে যাব। গ্রহণযোগ্যতার দিক থেকে এইটুকু বিবেচনা করুন যে, এটা সম্ভব কি-না।

    জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে আলোচনায় অংশগ্রহণ করছে- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ও আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টিসহ ৩০টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা।

    এর আগে, দফায় দফায় বৈঠকে কমিশন প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতি, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি ও সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণকল্পে স্বতন্ত্র কমিটি গঠন করাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেছে। সুত্রঃ বাসস

  • মুসলিম বিশ্বের সহায়তায় ইসলামি এনজিওগুলোকে সামাজিক ব্যবসায় যুক্ত হওয়ার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

    মুসলিম বিশ্বের সহায়তায় ইসলামি এনজিওগুলোকে সামাজিক ব্যবসায় যুক্ত হওয়ার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

    বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস মুসলিম বিশ্বে সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে ইসলামি এনজিওদের আরও বেশি সামাজিক ব্যবসায় উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

    আজ রোববার ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বিভিন্ন মুসলিম দেশের এনজিওদের একটি প্রতিনিধিদল প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের বিশ্বে আমরা নারীদের স্বাস্থ্যসেবাকে গুরুত্ব দেই। যদি আপনি গরিব হন, তাহলে আপনার স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে সমস্যা থাকবে। আমরা স্বাস্থ্যসেবাকে গরিবদের সহায়তার একটি উপায় হিসেবে দেখেছি।’

    তিনি বলেন, সামাজিক ব্যবসা এই সহায়তা প্রদানের একটি ভালো উপায়। সারা বিশ্বের তরুণদের সামাজিক ব্যবসায় যুক্ত হয়ে উদ্যোক্তা হতে উৎসাহ দেয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    বৈঠকে উপস্থিত এনজিও নেতারা বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অধ্যাপক ইউনূস পরিচালিত সামাজিক ব্যবসার প্রচারণা তাদের নিজ নিজ দেশে একই ধরনের উদ্যোগ গ্রহণে অনুপ্রাণিত করেছে।

    সাক্ষাৎকালে বিদেশি প্রতিনিধিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন—তুরস্ক থেকে ইসলামি বিশ্বের এনজিও ইউনিয়নের (ইউএনআইডব্লিউ) মহাসচিব আইয়ুপ আকবাল, টার্কিশ আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশনের (এটিএএ) প্রতিনিধি মুহাম্মদ হুসেইন আক্তা, মালয়েশিয়া থেকে পারসাতুয়ান ওয়াদাহ পেন্সারদাসান উম্মাহ (ডব্লিউএডিএএইচ) এবং ইউএনআইডব্লিউর ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল ফাওয়াজ বিন হাসবুল্লাহ, পাকিস্তান থেকে আলখিদমাত ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও ইউএনআইডব্লিউর ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ আবদুস শাকুর এবং ইন্দোনেশিয়া থেকে ইউএনআইডব্লিউর অডিটিং বোর্ড সদস্য ড. সালামুন বাসরি।

    এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ও বিআইআইটির সভাপতি অধ্যাপক মাহবুব আহমেদ, এসএডব্লিউএবির চেয়ারম্যান ও ইউএনআইডব্লিউর হাই অ্যাডভাইজরি বোর্ডের সদস্য এস এম রাশেদুজ্জামান, ইউএনআইডব্লিউর কাউন্সিল সদস্য ও কৃষিবিদ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. আলী আফজাল এবং বিআইআইটির মহাপরিচালক ও আইআইআইটির কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. এম. আবদুল আজিজ এসময় উপস্থিত ছিলেন। সূত্রঃ বাসস

  • আদালত অবমাননার দায়ে শেখ হাসিনার ৬ মাসের কারাদণ্ড

    আদালত অবমাননার দায়ে শেখ হাসিনার ৬ মাসের কারাদণ্ড

    আদালত অবমাননার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ৬ মাস এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা শাকিল আলম বুলবুলকে ২ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

    বুধবার বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্তদের গ্রেফতার অথবা আত্মসমর্পণের দিন থেকে এই কারাদণ্ড কার্যকর হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

    আদালত অবমাননার অভিযোগে করা মামলার শুনানি শেষে এ রায় দেওয়া হয়। প্রসিকিউশন পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন শেখ হাসিনা ও শাকিল আলম বুলবুলের পক্ষে শুনানি করেন। মামলায় অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে যুক্ত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এ ওয়াই মশিউজ্জামান।

    আদালত সূত্রে জানা যায়, ‘আমার বিরুদ্ধে ২২৭টি মামলা হয়েছে, তাই ২২৭ জনকে হত্যার লাইসেন্স পেয়ে গেছি’ এমন বক্তব্য সংবলিত একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়, যা শেখ হাসিনার কণ্ঠ বলে দাবি করা হয়। পরবর্তীতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে অডিওটির সত্যতা যাচাই করে নিশ্চিত করে যে, সেটি শেখ হাসিনারই কণ্ঠ।

    এই বক্তব্যকে আদালত অবমাননাকর বলে উল্লেখ করে প্রসিকিউশন ট্রাইব্যুনালে একটি আবেদন দাখিল করে।

    বিষয়টি আমলে নিয়ে অভিযুক্তদেরক ১৫ মে’র মধ্যে জবাব দাখিলের নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব না দেওয়ায়, তাদের ২৫ মে ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু সেটিও অমান্য করায় গত ২৬ মে ‘যুগান্তর’ ও ‘নিউএজ’ পত্রিকায় প্রকাশের জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। সেখানে ৩ জুন সকাল ১০টায় সশরীরে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়।

    কিন্তু নির্দেশনা অমান্য করে অভিযুক্তরা ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হননি বা কোনো জবাবও দাখিল করেননি। এর প্রেক্ষিতে বুধবার উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ রায় ঘোষণা করে। সুত্রঃ বাসস

  • ভুয়া মামলার হয়রানি রোধে ফৌজদারি কার্যবিধিতে নতুন বিধি সংযোজন : আইন উপদেষ্টা

    ভুয়া মামলার হয়রানি রোধে ফৌজদারি কার্যবিধিতে নতুন বিধি সংযোজন : আইন উপদেষ্টা

    ভুয়া মামলা দায়ের এবং মামলায় নিরপরাধ ব্যক্তিকে পক্ষভুক্ত করার চেষ্টা রোধে ফৌজদারি কার্যবিধিতে নতুন বিধি সংযোজিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। আজ (২৯ জুন) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি একথা জানান।

    প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

    আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘অ্যাডভাইজার কাউন্সিলের আজকের বৈঠকের খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে- ফৌজদারি কার্যবিধির একটি সংশোধন। আমাদের সরকারের আমলে কিছু জিনিস নিয়ে আমরা নিজেরাই খুব বিব্রত, এবং এ বিষয়েগুলো নিয়ে আমরা কাজ করার চেষ্টা করি। তেমনই একটি বিষয় হচ্ছে ভুয়া মামলা, এবং আরেকটি হচ্ছে মামলায় অকারণে নির্দোষ ব্যক্তিকে পক্ষভুক্ত করে মামলা বাণিজ্য করা। এ বিষয়টি থেকে পরিত্রাণ পেতে এটি নিয়ে আমরা ভেবে দেখেছি। বাংলাদেশের ক্রিমিনাল ল’ এক্সপার্ট ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনা, বৈঠক করে আমরা ফৌজদারি কার্যবিধির একটি বিধানে বড় একটি সংশোধনী এনেছি।’

    তিনি বলেন, ১ফৌজদারি কার্যবিধিতে যখন একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয় তখন ইনভেস্টিগেশন করতে তিন-চার বছর লাগে, এখানে শত শত আসামি থাকেন, কিছু ক্ষেত্রে এখানে মামলা বাণিজ্যও হয়। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩(ক)/১৭৩(অ) এই নতুন বিধানটি যুক্ত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে- পুলিশ কমিশনার, এসপি বা কোনো জেলার এসপি পদমর্যাদার কোনো পুলিশ কর্মকর্তার এখতিয়ারাধীন কোনো মামলার বিষয়ে তিনি যৌক্তিক মনে করলে ইনভেস্টিগেশন অফিসার/তদন্ত কর্মকর্তাকে ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর সেই মামলার তদন্তের ব্যাপারে প্রাথমিক বা প্রিলিমিনারি ইনভেস্টিগেশন রিপোর্ট দাখিল করার নির্দেশ দিতে পারবেন। ম্যাজিস্ট্রেট তার বিবেচনাবলে নিরপরাধ ও যার বিরুদ্ধে উক্ত অপরাধের কোনো সাক্ষ্য প্রমাণ নেই, তাদের প্রি ট্রায়াল বা বিচার পূর্ববর্তী স্টেজেই মামলা থেকে রেহাই দিতে পারবেন।’

    ড আসিফ নজরুল জানান, আমরা আশা করছি এটি কার্যকর হলে পুলিশ ও আদালত প্রশাসন একসাথে কাজ করে এসমস্ত মামলায় গ্রেফতার বাণিজ্য, মামলা বাণিজ্য এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবেন। এর ফলে নিরপরাধ ব্যক্তিরা ভুয়া মামলা থেকে রেহাই পাবেন। এর ফলে তদন্ত কিন্তু থেমে যাবেনা, যাদের বিরুদ্ধে অপরাধের সাথে সংশ্লিষ্টতার যথাযথ প্রমাণ পাওয়া যাবে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা চলমান থাকবে।

    আগামীকাল গেজেট প্রকাশিত হলেই আইনটি কার্যকর হবে বলে জানান তিনি।

    এসময় তিনি আরও জানান, আজ আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আইনগত অগ্রগতি হয়েছে। একটি জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থা ইউএনওএইচসিএইচআর এর প্রধান ফলকার তুর্ক আমাদের দেশে সফর করেছিলেন। সংস্থাটি তাদের কার্যালয়ের একটি মিশন শাখা বাংলাদেশে খুলতে চেয়েছেন, এ লক্ষ্যে আলোচনা হয়েছে। তাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। আজকে এ বিষয়ে একটি খসড়া সমঝোতা স্মারকের ব্যাপারে আজকের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সভায় নীতিগতভাবে অনুমোদিত হয়েছে।

    তিনি বলেন, এটি নিয়ে আরো কিছু আলোচনার পর চূড়ান্ত খসড়াটি ফলকার তুর্ককে পাঠানো হবে, তিনি তার মতামত দিলে দ্রুততম সময়ে এটি স্বাক্ষরিত হবে। এই স্মারক স্বাক্ষরিত হলে প্রাথমিকভাবে তিন বছরের জন্য অফিস স্থাপিত হবে। বাংলাদেশে যদি কোন ধরনের গুরুতর মানবাধিকার ঘটনা ঘটে তাহলে আমাদের মানবাধিকার বিষয়ক রাষ্ট্রীয় এজেন্সিগুলোর পাশাপাশি এই সংস্থাটিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবে।

    সম্প্রতি কুমিল্লার মুরাদনগরে সংঘটিত একটি ধর্ষণের বিষয়ে তিনি বরেন, মুরাদনগরে যে জঘন্য ঘটনা ঘটেছে, তাতে বাংলাদেশের যে কোন সাধারণ নাগরিকের মত আমরা মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ। আমাদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ের সাথে সাথেই ব্যবস্থা নিয়েছে। প্রধান আসামি এর সাথে সাথে যারা এই ছবি বা ভিডিও গুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার মতন অত্যন্ত দায়িত্বহীন ও অপরাধমূলক কাজ করেছে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

    তিনি বলেন, আমরা ধর্ষণ বিষয়ক আইনে সময়োপোযোগী সংশোধন এনেছি সেটার প্রমাণ আপনারা মাগুরার ধর্ষণ মামলার ক্ষেত্রে দেখেছেন। এই ঘটনাটির ক্ষেত্রেও আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচার করব, সে বিষয়ে আমরা বদ্ধপরিকর। সুত্রঃ বাসস

  • আগামী নির্বাচন হবে দেশের ইতিহাসে সবচাইতে ভালো নির্বাচন : প্রেস সচিব শফিকুল আলম

    আগামী নির্বাচন হবে দেশের ইতিহাসে সবচাইতে ভালো নির্বাচন : প্রেস সচিব শফিকুল আলম

    প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে আগামী জাতীয় নির্বাচন হবে দেশের ইতিহাসে সবচাইতে ভালো নির্বাচন।

    তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মুল উদ্দেশ্য হচ্ছে- বাংলাদেশে যাতে গণতন্ত্র ফিরে আসে। এজন্য একটি ফ্রি এন্ড ফেয়ার নির্বাচনের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সবধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে।

    আজ শনিবার বিকেলে খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে খুলনার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে শফিকুল আলম এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, খুলনার দিকে বর্তমান সরকারের যথেষ্ট দৃষ্টি রয়েছে। যদিও তাৎক্ষণিকভাবে এর ফলাফল দেখা যাচ্ছে না। তবে, আগামীতে ভালো ফলাফল দেখা যাবে।

    তিনি বলেন, বিগত আওয়ামী সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি রেখে গেছে। যে কারণে খুলনার জুট ও চিংড়ি সেক্টরে প্রত্যাশিত গ্রোথ হয়নি। বরং জুট মিলগুলো যেভাবে বন্ধ করেছে তা নিয়েও অনেক প্রশ্ন রয়েছে। তবে, খুলনায় একাধিক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে। বর্তমান সরকার খুলনার একটিসহ দেশের তিনটি জুট মিলের স্কুল সরকারি করেছে। দেশের প্রত্যেকটা জুট মিলের স্কুল সরকারি করা হবে বলেও তিনি জানান।

    মোংলা বন্দর কেন্দ্রিক একটি ইকোনমিক জোন গড়ে তোলার জন্য কাজ চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এজন্য প্রাইভেট সেক্টরকে এগিয়ে আসার আহবান জানানো হয়েছে। ইতোমধ্যেই প্রধান উপদেষ্টা চীন সফরকালে এ বিষয়ে তাদের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

    আগামী দশক খুলনার জন্য গ্রোথের দশক হবে উল্লেখ করে প্রেস সচিব বলেন, খুলনা আবার ঘুরে দাঁড়াবে, পুরনো গৌরব ফিরে পাবে।

    খুলনা অঞ্চলের উপকূলের বেড়িবাঁধ রক্ষা এবং ভবদহ নিয়েও সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে শফিকুল আলম বলেন, সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও গাবুরায় স্থাপনকৃত সুপেয় পানির প্রজেক্ট বাড়িয়ে সকল উপকূলীয় এলাকায় চালুর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুত হওয়া ক্ষতিগ্রস্তদের জন্যও একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

    খুলনা অঞ্চলে পাইপ লাইনে গ্যাস সরবরাহ না থাকা সংক্রান্ত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রেস সচিব বলেন, গ্যাস ছাড়াও অনেক কারখানা পরিচালিত হচ্ছে। বিশেষ করে খুলনায় জুতা এবং ব্যাটারি সেক্টর অনেক সম্ভাবনা তৈরি করেছে। সুতরাং গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে দক্ষ শ্রমিক দিয়ে কিভাবে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করা যায় সরকার সেদিকে জোর দিচ্ছে।

    দ্রুততম সময়ের মধ্যে সার্চ কমিটির মাধ্যমে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) ভিসি নিয়োগ দিয়ে সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

    খুলনাসহ দেশের সার্বিক আইনশৃংখলা পরিস্থিতির উন্নতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা ক্রাইম করবে তাদের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স রয়েছে।

    প্রেস সচিব শফিকুল আলম সরকারের মৌলিক সংস্কারের প্রসংগ উল্লেখ করে বলেন, প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে সংস্কারের মাধ্যমে স্বচ্ছতা ফিরে এসেছে। একই সঙ্গে সুশাসনও প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।

    মতবিনিময় সভায় প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ মজুমদার ও প্রধান উপদেষ্টার সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ উপস্থিত ছিলেন। সুত্রঃ বাসস

  • চট্টগ্রামে বিএসটিআই’র নবনির্মিত কার্যালয় উদ্বোধন করেন শহীদ শান্ত’র মা

    চট্টগ্রামে বিএসটিআই’র নবনির্মিত কার্যালয় উদ্বোধন করেন শহীদ শান্ত’র মা

    আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্য সহজীকরণ ও দ্রুততার সঙ্গে সেবা প্রদানের লক্ষ্যে চট্রগ্রামের আগ্রাবাদে অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরিসহ ১০তলা ভবন উদ্বোধন করা হয়েছে।

    আজ শনিবার (২৮জুন) বিএসটিআই’র নবনির্মিত বিভাগীয় কার্যালয় উদ্বোধন করেন ২০২৪ এর ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহিদ ফয়সাল আহমেদ শান্ত’র মা মোছা. কহিনুর আক্তার। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ বক্তা ছিলেন চট্রগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, শিল্প সচিব মোঃ ওবায়দুর রহমান, বিএসটিআই’র মহাপরিচালক (গ্রেড-১) এস এম ফেরদৌস আলম, চট্রগ্রামের জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোঃ শাহজালাল চৌধুরী।

    অনুষ্ঠানে শহিদ ফয়সাল আহমেদ শান্ত’র মা মোছাঃ কহিনুর আক্তার বলেন, শান্ত একটি সুন্দর, শোষণমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতো। সে চেয়েছিল এই দেশের প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হোক। প্রতিটি যুবকের মেধা ও শ্রমের সঠিক মূল্যায়ন হোক। আমার সন্তান যে লক্ষ্য পূরণে শহীদ হয়েছে, সেই লক্ষ্য যেন পূরণ হয়।

    তিনি আরো বলেন, আমি একজন মা, একজন শহীদ জননী। আমার সন্তান আমাকে ছেড়ে চলে গেছে। কিন্তু তার আদর্শ, তার সংগ্রামী চেতনা, আমার হৃদয়ে চিরজাগরুক হয়ে থাকবে।

    অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, বিএসটিআই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিল্প-বাণিজ্যের গতিশীলতা এবং ভোক্তা অধিকার সুরক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। আজকে এ অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরিসহ ১০ তলাবিশিষ্ট ভবন উদ্বোধনের মাধ্যমে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে আমদানি রপ্তানির ক্ষেত্রে গতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে।

    তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে চট্টগ্রামে বিএসটিআই’র ল্যাবরেটরিকে স্বয়ংসম্পূর্ণ ল্যাবরেটরি হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এর ফলে বিএসটিআই’র সেবার জন্য চট্টগ্রামের মানুষকে ঢাকায় যাওয়ার প্রয়োজন হবে না। এটি এ অঞ্চলের শিল্প-বাণিজ্যকে বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতায় এগিয়ে নেবে এবং ভোক্তা সুরক্ষাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    শিল্প সচিব মোঃ ওবায়দুর রহমান বলেন, দেশের ভেতরে মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদন এবং মান সম্পন্ন পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে বিএসটিআই কাজ করে যাচ্ছে। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে পণ্যের মান বিষয়ক চুক্তি এবং ল্যাবরেটরিসমূহের এ্যাক্রেডিটেশন অর্জন বিএসটিআইকে আরো শক্তিশালী করেছে। এর ফলে বিদেশে বাংলাদেশি পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

    স্বাগত বক্তব্যে বিএসটিআই’র মহাপরিচালক (গ্রেড-১) এস এম ফেরদৌস আলম বলেন, চট্টগ্রামে বিএসটিআই’র অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরিসহ ১০ তলা ভবন উদ্বোধন একটি মাইলফলক। আমরা সকল পণ্যের পরীক্ষা এবং সনদ প্রদান এখান থেকে করতে চাই। এর ফলে এ অঞ্চলের ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতারাও উপকৃত হবেন।

    উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী, চট্রগ্রাম চেম্বারের প্রতিনিধি, শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বিএসটিআই’র কর্মকর্তাবৃন্দ। সুত্রঃ বাসস

  • বিএনপির সঙ্গে ইইউ রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

    বিএনপির সঙ্গে ইইউ রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সঙ্গে বৈঠক করছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার।

    আজ বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) সকালে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে জানান দলটির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবীর খান।

    তিনি জানান, বেলা ১১টায় ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার গুলশান কার্যালয়ে আসেন। সেখানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

    এর আগে, মঙ্গলবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার। বৈঠকটি অত্যন্ত আন্তরিকতা ও হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। সূত্রঃ বাসস

  • সকল সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভবনের ছাদে সোলার প্যানেল বসানোর নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

    সকল সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভবনের ছাদে সোলার প্যানেল বসানোর নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

    দেশের সকল সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভবনের ছাদে সোলার প্যানেল বসিয়ে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

    আজ বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ‘জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি’ শীর্ষক বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা এ নির্দেশ দেন।

    বৈঠকে উপস্থিত কর্মকর্তারা জানান, ইন্টারন্যাশনাল রিনিউবেল এনার্জি এজেন্সির ২০২৪ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌরবিদ্যুৎ প্রসার ও ধার্যকৃত লক্ষ্যমাত্রা পূরণে বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় অনেক পিছিয়ে রয়েছে। ভারতে মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২৪ শতাংশ, পাকিস্তানে ১৭.১৬ শতাংশ, শ্রীলঙ্কায় ৩৯.৭ শতাংশ সৌরবিদ্যুৎ থেকে পূরণ হলেও বাংলাদেশে মোট বিদ্যুৎ চাহিদার মাত্র ৫.৬ শতাংশ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন হয়ে থাকে।

    নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা ২০২৫ অনুযায়ী, নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ইতোমধ্যেই ৫ হাজার ২৩৮ মেগাওয়াট ক্ষমতার স্থলভিত্তিক ৫৫টি সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্রের টেন্ডার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে এটি বাস্তবায়নে ২০২৮ সাল পর্যন্ত সময় লাগবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

    বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য ‘জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি’ গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেন। এর অংশ হিসেবে তিনি সকল সরকারি ভবন, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা ও সকল সরকারি হাসপাতালের ছাদে রুফটপ সোলার সিস্টেম স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘সরকারি ভবনে সোলার প্যানেল বসানোর কাজটি বেসরকারি উদ্যোগে করা যায় কি না, সে ব্যাপারে বিবেচনা করুন। যারা বসাবে, তারা নিজেদের ব্যবসায়িক স্বার্থেই এটার রক্ষণাবেক্ষণ করবে ও কার্যকরভাবে এটা পরিচালনা করবে। সরকারের পক্ষ থেকে শুধু ছাদটা দেওয়া হবে, বাকি কাজ তারাই করবে।’

    তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত যে সকল প্রতিষ্ঠান রুফটপ সোলার প্যানেল করেছে, তাদের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে আমাদের জানতে হবে। তারা কী ধরনের সমস্যায় পড়েছে, সেগুলো জানতে হবে। সেই সমস্যাগুলো সমাধানের দিকে যেতে হবে।’

    এ প্রক্রিয়ায় সরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য কোনো বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে হবে না এবং সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন কাজে ব্যবহৃত ছাদের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলো ভাড়া পাবে।

    বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনসহ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ এবং মাধ্যমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সূত্রঃ বাসস

  • পরিবেশ সুরক্ষায় প্লাস্টিক বর্জনের আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

    পরিবেশ সুরক্ষায় প্লাস্টিক বর্জনের আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

    প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস দূষণ রোধ ও পরিবেশ সুরক্ষায় প্লাস্টিক বর্জনের জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

    তিনি বলেন, ‘প্লাস্টিক পরিবেশের বিষ। এটা কেবল মানুষ নয়, পৃথিবীর সকল প্রাণির জন্য ক্ষতিকর। পৃথিবীতে প্রতিদিন মানুষ বাড়ছে বাংলাদেশেও বাড়ছে, এর সঙ্গে বাড়ছে জনপ্রতি প্লাস্টিকের ব্যবহার। আসুন, আমরা আজ থেকে মনে মনে ঠিক করি, প্লাস্টিক বর্জন করব।’

    আজ বুধবার রাজধানীর বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা ২০২৫ এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০২৫ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টা এ কথা বলেন।

    পরিবেশ সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘জীবন বাঁচাতে হলে পরিবেশ বাঁচাতে হবে

    পরিবেশ ধ্বংস করা থেকে বিরত থাকতে হবে। পরিবেশ বিপর্যয় রোধ করতে পারলে আমরা সুন্দর পৃথিবী উপভোগ করতে পারব।”

    একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর উল্লেখ করে তিনি এর ব্যবহার বন্ধের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিক যদি সিদ্ধান্ত নিয়ে সপ্তাহে অন্তত একটা দিন একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বর্জন করে, তাহলে ক্রমান্বয়ে প্লাস্টিককের ব্যবহার বন্ধ করা সম্ভব হবে। এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়া ছাড়া কঠিন এ পথে এগুনো যাবে না।

    দূষণ রোধে কেবল পলিথিন বর্জন নয়, পলিথিন উৎপাদন বন্ধ করার প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

    অধ্যাপক ইউনূস বলেন, দৈনন্দিন জীবনযাপনে পরিবর্তন ছাড়া সামগ্রিক পরিবেশ বিপর্যয় অবধারিত। পরিবেশ সুরক্ষার বর্তমান তরুণ প্রজন্ম অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    পরে প্রধান উপদেষ্টা অনুষ্ঠানস্থলে একটি সোনালু গাছ লাগিয়ে বৃক্ষরোপণ অভিযানের উদ্বোধন করেন।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ বক্তব্য রাখেন। সুত্রঃ বাসস

  • জুলাই যোদ্ধারা আগামী মাস থেকে ভাতা পাবেন : উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম

    জুলাই যোদ্ধারা আগামী মাস থেকে ভাতা পাবেন : উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম

    চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে আহত ‘জুলাই যোদ্ধারা’ আগামী মাস থেকে মাসিক ভাতা পাবেন বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম।

    তিনি বলেছেন, মাসিক ভাতার পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে “আহত যোদ্ধারা” আজীবন সরকারি মেডিক্যাল হাসপাতালগুলোতে বিনা খরচে চিকিৎসা পাবেন।

    আজ সোমবার সচিবালয়ে নিজ অফিস কক্ষে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) কে দেয়া একান্ত সাক্ষাতকারে তিনি এ কথা জানান।

    উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বলেন, মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা করতে ৫৪ বছর লেগেছে। কিন্তু আমরা (বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার) মাত্র সাত-আট মাসের মধ্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী শহীদ যোদ্ধা ও আহতদের চূড়ান্ত তালিকা প্রণয়ন করে ফেলেছি। এটাই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আন্তরিকতা ও দায়িত্ববোধের বহিঃপ্রকাশ। আগামীতেও আহত যোদ্ধারা যাতে নিজ নিজ যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি বা ব্যবসা বাণিজ্য করতে পারেন, সেভাবে তাদেরকে পুনর্বাসনের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে কর্মসূচি নেয়া হচ্ছে।
    উপদেষ্টা জানান, জুলাই যোদ্ধাদের পুনর্বাসনের জন্য ইতোমধ্যে আলাদা অধিদপ্তর স্থাপন করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ১০ম তলায় এ অধিদপ্তরের জন্য বিশ জন অফিসার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে অধিদপ্তর থেকে জুলাই যোদ্ধাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সার্বক্ষণিক কাজ করা হচ্ছে।

    মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, জুলাই যোদ্ধারা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের ইতিহাসের অংশ। বাংলাদেশ আজীবন তাদেরকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে। এ দেশের সরকার ও জনগণ তাদের ত্যাগের মর্যাদাকে সমুন্নত রেখে সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করবে বলে আমার বিশ্বাস।

    ফারুক-ই-আজম আরো বলেন, শহীদদের অনেকেরই হয়তোবা খোঁজ আমরা রাখি নাই বা রাখতে পারিনি। তবে গণঅভ্যুত্থানের এতোদিন পরেও যদি কেউ অধিদপ্তরে এসে অভিযোগ করে যে, তার কোন স্বজন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গিয়ে নিখোঁজ রয়েছেন। তার সন্ধান তিনি চান। সেক্ষেত্রে  যাদেরকে গণকবর দেওয়া হয়েছে, সেখান থেকে ডিএনএ সংগ্রহ করে হলেও তাদের আবেদনের বিষয়ে সরকার আন্তরিকতার সাথে বিবেচনা করবে। তাদের জন্য সরকারের আন্তরিকতার কমতি থাকবে না।

    মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ‘জুলাই যোদ্ধারা’ ক্যাটাগরি অনুযায়ী এককালীন ও মাসিক ভাতা পাবেন। জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের ‘জুলাই শহীদ’ এবং আহতদের ‘ জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে নাম ঘোষণা করা হয়েছে। আহত জুলাই যোদ্ধারা ‘এ’ ‘বি’ এবং ‘সি’ এই তিন ক্যাটাগরিতে মাসিক ভাতা পাবেন। ক্যাটাগরি ‘এ’ মাসে ২০ হাজার টাকা, ‘বি’ ক্যাটাগরি মাসে ১৫ হাজার এবং ‘ক্যাটাগরি’ ক্যাটাগরি মাসে ১০ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন। সে অনুযায়ী সনদ ও পরিচয়পত্র দেয়া হচ্ছে।

    তিনি জানান, গেজেট আকারে ৮৩৪ জন ‘জুলাই শহীদের’ তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। সে অনুযায়ী প্রত্যেক জুলাই শহীদ পরিবার এককালীন ৩০ লাখ টাকা পাবেন। এর মধ্যে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রত্যেক পরিবারকে ১০ লাখ টাকা দেয়া হয়েছে জাতীয় সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে। আর বাকি ২০ লাখ টাকা দেয়া হবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অর্থাৎ আগামী জুলাই মাসে জাতীয় সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে। তাছাড়া শহীদ পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে প্রতি মাসে ভাতা দেয়া হবে। শহীদ পরিবারের সক্ষম সদস্যরা অগ্রাধিকার পাবেন সরকারি ও আধা-সরকারি চাকরিতে।

    তিনি বলেন, আহত জুলাই যোদ্ধাদের মধ্যে যারা চিকিৎসা নেয়ার পরও অন্যের সহায়তা ছাড়া জীবন যাপন করতে পারছেন না, যেমন যার দুটি চোখই অন্ধ হয়ে গেছে। অথবা এমন অঙ্গহানি হয়েছে যার কারণে তার পক্ষে একা একা চলাফেরা করা অসম্ভব, তারা ‘এ’ ক্যাটাগরির জুলাই যোদ্ধা হিসাবে বিবেচিত হবেন। এই ক্যাটাগরিতে রয়েছেন ৪৯৩ জন। তারা এককালীন ৫ লাখ টাকাসহ মাসিক ২০ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন। যার মধ্যে ২ লাখ টাকা তারা ইতোমধ্যে পেয়েছেন। বাকী ৩ লাখ টাকা আগামী জুলাই মাসে পাচ্ছেন।  তারা বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে আজীবন চিকিৎসা সুবিধা ও উপযুক্ত মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশে দেশি-বিদেশি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা, কর্মসহায়ক প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন সুবিধা, পরিচয়পত্র পাবেন। গুরুতর আহত ৭ জনকে ইতোমধ্যে তুরস্কে পাঠানো হয়েছে। অনেককে থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

    ‘ক্যাটাগরি- বি’ তে রয়েছেন ৯০৮ জন। যারা গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন, কিন্তু অন্যের সহায়তা ছাড়া মোটামুটি চলাফেরা করতে পারেন, যেমন যাদের এক চোখ বা এক পা নষ্ট হয়ে গেছে বা এমন অঙ্গহানি হয়েছে যে, তারা একা মোটামুটি চলতে ফিরতে পারেন। অর্থাৎ চিকিৎসার পর অন্যের আংশিক সহায়তায় জীবনযাপনে সক্ষম যোদ্ধারা আছেন ‘বি’ ক্যাটাগরিতে। তাঁরা এককালীন ৩ লাখ টাকা পাবেন। এর মধ্যে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে নগদ (ব্যাংক চেকের মাধ্যমে) ১ লাখ টাকা পেয়েছেন। আর আগামী মাসে বাকি ২ লাখ টাকা পাবেন। তাছাড়া  এই বি” ক্যাটাগরির যোদ্ধারা ১৫ হাজার টাকা করে মাসিক ভাতা পাবেন। সাথে প্রশিক্ষণ ও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরকারি ও আধা-সরকারি কর্মসংস্থানে চাকরি ও পরিচয়পত্র পাবেন। সুত্রঃ বাসস

  • ইসিতে নিবন্ধনের জন্য ১৪৭টি দলের আবেদন

    ইসিতে নিবন্ধনের জন্য ১৪৭টি দলের আবেদন

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এবার অন্তত ১৪৭টি দল নিবন্ধনের জন্য নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আবেদন করেছে।

    রোববার (২১ জুন) পর্যন্ত বিকেলে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন। তবে ডেসপ্যাচ থেকে তথ্য একীভূত করা হলে ইসি সচিবালয়ের জনসংযোগ শাখা আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবে কতটি দল নিবন্ধনের আবেদন করেছে।

    এদিকে রোববার (২১ জুন) নিবন্ধনের আবেদনের শেষ দিনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি), বাংলাদেশ আম জনগণ পার্টি, জনতার পার্টি বাংলাদেশসহ (জেপিপি) বেশ কিছু দল ইসিতে আবেদন জমা দিয়েছে।

    আবেদন জমা দিয়ে সাংবাদিকদের কাছে প্রতীক ও দলের নাম উল্লেখ করে দলগুলোর নেতারা দাবি করছে ইসির সব ধরনের শর্তপূরণ করেই নিবন্ধন আবেদন করা হচ্ছে। তাদের দল নিবন্ধন পাবে বলে তারা আশাবাদী।

    নির্বাচন ভবনে আবেদন জমা দিয়ে এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে বলেছি আমরা সকল শর্তাবলি এবং সকল আইন পর্যালোচনা করেই আবেদনটি করেছি এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছি। প্রত্যাশা করব যে উনারা নিরপেক্ষভাবে আইন অনুযায়ী উনারা উনাদের কার্যক্রম সম্পাদন করবে। সেক্ষেত্রে এনসিপি যেন কোনো ধরনের বৈষম্যের বা কোনো ধরনের অবিচারের শিকার না হয়। এটাই আমাদের প্রত্যাশা। আমরা আশাবাদী দ্রুততম সময়ের মধ্যেই জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নিবন্ধন পাবে। নিবন্ধিত দল হিসেবে জনগণের কাছে যাবে।’

    আবেদন জমা দিয়ে জেপিবি’র মহাসচিব শওকত মাহমুদ বলেন, ‘রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছি। নিবন্ধন বিধিমালার যে শর্ত আছে সেগুলো পালন করা খুব কষ্টকর। নির্বাচন সংস্কার কমিশনের এ বিধিমালার কিছু কিছু বিধিমালা সংস্কারের প্রস্তাব রেখেছে। এ প্রস্তাবগুলো কিন্তু এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। তারপরও পুরোনো বিধিমালা অনুযায়ী আমরা আবেদন জমা দিয়েছি এবং আমরা আশা করি রাজনৈতিক দল হিসেবে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন পাবো।’

    এবারের নির্বাচনকে সামনে রেখে গত ১০ মার্চ আগ্রহী দলগুলোর কাছ থেকে নিবন্ধন আবেদন আহ্বান করা হয়। ২০ এপ্রিলের মধ্যে আবেদন করে ৬৫টি নতুন রাজনৈতিক দল।

    তবে অনেকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নিবন্ধন আবেদনের সময়সীমা দুই মাস বাড়িয়ে ২২ জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। বর্ধিত সেই সময় শেষ হয় রোববার (২১ জুন) ।

  • বিএনপি ক্ষমতায় এলে শিক্ষা ও গবেষণায় অবহেলা করবে না: সালাহউদ্দিন আহমেদ

    বিএনপি ক্ষমতায় এলে শিক্ষা ও গবেষণায় অবহেলা করবে না: সালাহউদ্দিন আহমেদ

    বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে শিক্ষা ও গবেষণায় কোনও অবহেলা করা হবে না।

    তিনি বলেন, দেশে উন্নত শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি হলেই বন্ধ হবে মেধা পাচার। মেধাহীন করে জাতিকে শাসন করার প্রবণতা থেকেই এ দেশে মেধা পাচারের ঘটনা ঘটেছে।

    আজ রোববার রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টটিউটে অর্পণ আলোক সংঘের আয়োজনে ‘শিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গন’ শীর্ষক তারুণ্যের রাষ্ট্র সংলাপে তিনি এ কথা বলেন।

    তিনি বলেন, দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইতিবাচক পরিবর্তন করতে হবে। ইতিহাসকে ভিত্তি করে ভবিষ্যতের পথে এগুতে হবে।

    রাষ্ট্র থেকে শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন বিএনপি’র এই নেতা। তবে সে ক্ষেত্রে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও ছাত্র সংগঠনের সমন্বয়ে শিক্ষাঙ্গনের সহযোগিতা অব্যহত থাকতে হবে বলেও মনে করেন তিনি।

    অর্পণ বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা বিথীকা বিনতে হোসাইনের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে আরও ছিলেন- জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি)’র উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান ও বিএনপি’র মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ড. মওদুদ আলমগীর পাভেল।

    এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন- প্রধান উপদেষ্টার সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির ও বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের আহ্বায়ক আবু বাকের মজুমদার।

  • বিচার বিভাগের জাতীয় সেমিনার আজ

    বিচার বিভাগের জাতীয় সেমিনার আজ

    সুপ্রিম কোর্টের আয়োজনে ‘বিচারিক স্বাধীনতা ও দক্ষতা’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনার আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

    এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আজ রোববার বিকেল পৌনে ৫টায় রাজধানীর অভিজাত হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে।

    ‘আজ ২২ জুন বিচার বিভাগের জন্য টার্নিং পয়েন্ট’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ।  সেমিনারে সভাপতিত্ব করবেন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ।

    সেমিনারে বিচার বিভাগ সংস্কারে প্রধান বিচারপতি ঘোষিত ‘রোডম্যাপ’ এর ওপর তথ্যচিত্র তুলে ধরা হবে।

    সেমিনারে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামন ও বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট জয়নুল আবেদীন ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনকে বিশেষ অতিথি হিসেবে রাখা হয়েছে।

    আরও উপস্থিত থাকবেন আইন ও বিচার বিভাগ কেন্দ্রিক দপ্তরগুলোর দায়িত্বরত ঊর্ধ্বতনরা।

    এছাড়া সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিরাসহ মহানগর দায়রা জজ, জেলা ও দায়রা জজ, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পদমর্যাদার ১৪৩ জন বিচারক সেমিনারে অংশ নেবেন। অনুষ্ঠানের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।

    প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ দায়িত্ব নেওয়ার পর গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে সারা দেশের অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিচার বিভাগের সংস্কারের লক্ষ্যে ‘রোডম্যাপ’ ঘোষণা করেছিলেন। সে লক্ষ্যে উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগ, আইন, বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয়সহ বেশ কিছু লক্ষ্য নিয়ে ইতোমধ্যে নানা পদক্ষেপ ও উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। এর ধারাবাহিকতায় গত কয়েক মাসে বিচার বিভাগের সংস্কার ও স্বাধীনতা নিয়ে দেশের প্রতিটি বিভাগ সফর করে সেমিনার করেছেন প্রধান বিচারপতি। এরই ধারাবাহিকতায় আজ অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় এই সেমিনারটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

    আজকের সেমিনার বিচার বিভাগ ও বিচার বিভাগের পৃথক সচিবালয়ের জন্য একটি টার্নিং পয়েন্ট হবে বলে মনে করেন প্রধান বিচারপতি ড  সৈয়দ রেফাত আহমেদ। গত বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি হাইকোর্ট এবং হাইকোর্টের সকল শাখা পরিদর্শনে যান। প্রধান বিচারপতি এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আপনারা (সাংবাদিক) তো আমন্ত্রিত। আপনারা দেখবেন, পর্যালোচনা করবেন। কোথায় আমরা যাচ্ছি ২২ তারিখের পরে। তবে আমি মনে করি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এটা একটা টার্নিং পয়েন্ট হবে।’

  • জাতীয় নির্বাচনের তারিখ যথাসময়ে ঘোষণা করা হবে: সিইসি

    জাতীয় নির্বাচনের তারিখ যথাসময়ে ঘোষণা করা হবে: সিইসি

    প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ যথাসময়ে ঘোষণা করা হবে। নির্ধারিত সময়েই নির্বাচনের তফসিল জানানো হবে।

    শনিবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ‘নির্বাচনি আইন ও বিধি’ বিষয়ক দু’দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

    অনুষ্ঠানে চার নির্বাচন কমিশনার, ইসির সিনিয়র সচিব ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

    সিইসি বলেন, ‘যদি বলেন, সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে কি না? দেখেন একটি নির্বাচন করতে গেলে, যতই আপনি ইসিকে স্বাধীন বলেন না কেন, সরকার ছাড়া নির্বাচন করা সম্ভব না। কারণ সরকারের সহযোগীতা নিয়েই তো আমাকে নির্বাচনটা করতে হবে। আইনি সহায়তা নিতে হবে। সরকারি অফিসারদের সাহায্য নিতে হবে, প্রশাসনের সহায়তা নিতে হবে। সুতরাং সরকার এখানে মুখ্য ভূমিকা রাখবে। তাছাড়া তো সম্ভব না।’

    তিনি আরো বলেন, সরকারের সঙ্গে আমাদের প্রতিনিয়ত যোগাযোগ হচ্ছে বিষয়টা এমন নয়। আবার এমনও নয় যে একদমই হচ্ছে না। আপনারা নির্বাচনের তারিখ যথাসময়ে জানতে পারবেন। নির্বাচনের তফসিলও নির্ধারিত সময়ে ঘোষণা করা হবে।

    সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, আমরা যেটিকে কর্মপরিকল্পনা বলছি, অনেকেই সেটিকে রোডম্যাপ বলে থাকেন। এটি তৈরির কাজ আসলে আমাদের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই শুরু হয়েছে। এতে নির্ধারণ করা হয়েছে কোন কাজ কখন শুরু হবে এবং কখন শেষ হবে।

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রোডম্যাপ তৈরি করেছেন কি না, নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার বিষয়ে সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন কি না বা নির্বাচন নিয়ে সরকার আপনাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে কিনা-এসব বিষয়ে সাংবাদিকরা সিইসির কাছে জানতে চান। জবাবে তিনি বলেন, বিষয়গুলো সময় এলে আপনারা জানতে পারবেন। আমরা রোডম্যাপ বলব না, কর্মপরিকল্পনা বলব। আমাদের অনেক ধরনের কাজ করতে হবে। সেগুলো কোনটা কোন সময় শেষ করব, কোন সময় শুরু করব সেটির পরিকল্পনাকে অনেকে রোডম্যাপ বলে। কিন্তু আমি তা না বলে কর্মপরিকল্পনা বলছি।

    তিনি আরো বলেন, যে কোনো অফিসের একটি কর্মপরিকল্পনা থাকে। এতো বড় একটি নির্বাচন হবে, আমাদেরও নিজস্ব কর্মপরিকল্পনা আছে। যখন দায়িত্ব নিয়েছি তখন থেকেই কর্মপরিকল্পনা করেছি।

    সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ বিষয়ে তিনি বলেন, ফরমালি হোক বা ইনফরমালি, সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ হতেই পারে। এর জন্য আলাদা করে পরিকল্পনা ঘোষণা বা আনুষ্ঠানিকতার প্রয়োজন নেই।

    সিইসি বলেন, আমরা সরকারের কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত আছি। সংস্কার কমিশনের সুপারিশের মধ্যে ইসি সংস্কারের বিষয়টিও আছে। এগুলো মাথায় রেখেই আমাদের কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছি। সময় হলে সব কিছুই জানানো হবে। সূত্রঃ বাসস

  • ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান অধিদপ্তর’ প্রতিষ্ঠায় গেজেট প্রকাশ

    ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান অধিদপ্তর’ প্রতিষ্ঠায় গেজেট প্রকাশ

    ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন অধ্যাদেশ, ২০২৫’ এর অধীনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তর’ প্রতিষ্ঠিত হবে।

    আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ মঙ্গলবার দিবাগত রাতে এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করেছে।

    জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসনসহ গণ-অভ্যুত্থানের মর্ম ও আদর্শকে রাষ্ট্রীয় ও জাতীয় জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত করা এবং ইতিহাস সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে প্রণীত হয়েছে এ অধ্যাদেশ। অধ্যাদেশটি জনসাধারণের জ্ঞাতার্থে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে প্রকাশ করা হয়।

    এই অধ্যাদেশের দ্বিতীয় অধ্যায়ে অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা ও এর কার্যাবলীসহ নানাবিধ বিষয় অর্ন্তভূক্ত রয়েছে। এখানে বলা হয়েছে, এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ সাধন ও পুনর্বাসনে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান অধিদপ্তর’ প্রতিষ্ঠিত হবে।

    অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় থাকবে ঢাকায়। সরকার প্রয়োজনে ঢাকার বাইরে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অধিদপ্তরের শাখা কার্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে পারবে।

    অধিদপ্তরের কার্যাবলী হচ্ছে- সরকারি গেজেটে প্রকাশিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের তালিকা ও ডাটাবেজ সংরক্ষণ, প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধন এবং হালনাগাদ আকারে সরকারি গেজেটে প্রকাশের জন্য সুপারিশ।

    এছাড়া রয়েছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ সাধন ও পুনর্বাসনের লক্ষ্যে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত এককালীন ও মাসিক আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ।

    আরো রয়েছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহিদ পরিবার ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ সাধন ও পুনর্বাসন করার লক্ষ্যে সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে পরিকল্পনা গ্রহণ, বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন।

    কার্যাবলীতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ সাধন ও পুনর্বাসনের লক্ষ্যে দেশি-বিদেশী সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ ও সমন্বয়সাধনের কথা রয়েছে।

    অধিদপ্তরের একজন মহাপরিচালক থাকবেন এবং তিনি অধিদপ্তরের প্রধান নির্বাহী হবেন।

    অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, এটি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসনসহ গণ-অভ্যুত্থানের মর্ম ও আদর্শকে রাষ্ট্রীয় ও জাতীয় জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত করা এবং ইতিহাস সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে প্রণীত হয়েছে।

    অধ্যাদেশ আরো বলা হয়েছে, তদানীন্তন পাকিস্তান সরকারের বর্ণবাদী, নিপীড়নমূলক ও বৈষম্যমূলক নীতি এবং বাংলাদেশের জনগণকে নির্বিচারে হত্যার কারণে মুক্তিযুদ্ধ অনিবার্য হয়ে ওঠে। ১৯৭১ সালে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশের জনগণ সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছে।

    অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, জনগণের অব্যাহত সংগ্রাম ও ত্যাগ তিতিক্ষা সত্ত্বেও স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পরও সুবিচার, মর্যাদাপূর্ণ গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। জানুয়ারি ২০০৯ সাল থেকে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে দলীয়করণ, দুর্নীতি ও পরিবারতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ফলে রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠান অকার্যকর হয়।  অন্যায়ভাবে শক্তি প্রয়োগ করে বিরোধীমত দমন, গুম ও বিচার বহির্ভূত হত্যা সংঘটিত হয়। দেশের অর্থ পাচার ও লুটপাট নীতির ফলে অর্থনৈতিক বৈষম্য সৃষ্টি, নারী ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী কাঠামোগত সহিংসতার শিকার হয়। জনগণের বাকস্বাধীনতা ও ভোটাধিকার হরণ করে জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করার সৃষ্ট প্রেক্ষাপট জনগণকে শঙ্কিত করে।

    অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, জুলাই ২০২৪ এ বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে দল-মত-ধর্ম-বর্ণ-নারী-পুরুষ নির্বিশেষে আপামর জনতার দীর্ঘ পনেরো বৎসরের ফ্যাসিবাদ ও বিচারহীনতার ফলে পুঞ্জীভূত ক্ষোভে এক গণআন্দোলন হতে ক্রমান্বয়ে গণঅভ্যুত্থানে রূপ লাভ করে ৫ আগস্ট, ২০২৪ এ ফ্যাসিবাদী শাসককে জনগণের কাছে পরাজিত হয়ে দেশ ছেড়ে পলায়নে বাধ্য করে। এ গণঅভ্যুত্থানে ব্যাপক সংখ্যক নারী ও পুরুষ অংশগ্রহণ করেছেন এবং দেশব্যাপী সহস্রাধিক নিরস্ত্র দেশপ্রেমিক ছাত্রজনতা শহীদ হয়েছেন।

    এছাড়া অসংখ্য মানুষ আহত, কেউ কেউ গুরুতর আহত হয়েছেন। অধিকাংশই আঘাত ও নৃশংসতার বিভীষিকায় পর্যুদস্ত এবং তাদের এই আত্মত্যাগকে যথার্থ সম্মান প্রদর্শন অপরিহার্য।

    অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, জুলাই আন্দোলনে ত্যাগের দৃষ্টান্ত জাতির গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও রাষ্ট্র পুনর্গঠনের একটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হিসাবে সমুন্নত রাখা কর্তব্য।

    অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের যথোপযুক্ত স্বীকৃতি, সম্মান, কল্যাণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ সাধন ও পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে বিধান প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়।  এই অধ্যাদেশ ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন অধ্যাদেশ, ২০২৫’ নামে অভিহিত হবে। এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও গেজেটে বলা হয়েছে।

     

    সূত্রঃ বাসস