Author: বাসস

  • রংপুরে তৈরি হবে ৫৬০ শয্যার বিশেষায়িত হাসপাতাল : স্বাস্থ্য উপদেষ্টা

    রংপুরে তৈরি হবে ৫৬০ শয্যার বিশেষায়িত হাসপাতাল : স্বাস্থ্য উপদেষ্টা

    জেলায় কিডনি, ক্যান্সার ও হৃদরোগের জন্য ৫৬০ শয্যার বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ করবে সরকার। এজন্য ইতোমধ্যে বাজেটও অনুমোদন করা হয়েছে।

    স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম আজ শনিবার দুপুরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন।

    উপদেষ্টা বলেন, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় অনেককে মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এ কারণে সরকার এই বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। বর্তমান সরকারের মেয়াদে না হলেও আগামী সরকার এ কাজ বাস্তবায়ন করবে।

    তিনি বলেন, ই-জিপির মাধ্যমে হাসপাতালগুলোর সরঞ্জামাদি ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে স্বাস্থ্যখাতে অনিয়ম ও সিন্ডিকেট অনেকাংশেই নির্মূল করা সম্ভব হবে। স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার সব ধরনের সিন্ডিকেট ভাঙার চেষ্টা করছে।

    নূরজাহান বেগম বলেন, করোনাকালে অনেক ডাক্তার, নার্স ও টেকনোলজিস্টসহ চিকিৎসা সেবার সঙ্গে জড়িত অনেকে মারা গেছেন। তাদের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা রয়েছে, কারণ তাদের অবদান ভোলার মতো নয়। তারপরও যারা সিন্ডিকেটসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

    তিনি আরও বলেন, এই যে আন্দোলন হলো- কেউ হাত হারিয়েছে, কেউ পা, আবার কারও চোখ নষ্ট হয়েছে। যারা সিন্ডিকেট করে তারা এগুলো দেখেনি। তাদের মধ্যে কি কোনো পরিবর্তন হবে না? কাজেই আমার-আপনার সবার মধ্যে যদি পরিবর্তন না আসে তবে দেশের পরিবর্তন হবে কেমন করে? প্রত্যেককে ভাবতে হবে, আমি কী করছি।

    রংপুর শিশু হাসপাতাল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিশু হাসপাতাল আমি দেখে যাব। এটা চালু না করার কোনো কারণ নেই। তবে হাসপাতাল চালু করতে হলে জনবল ও যন্ত্রপাতি লাগে। আগের সরকার এর জন্য কোনো পরিকল্পনা করেনি। বিষয়টি আমাদের মাথায় আছে।

    মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবার অব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনি বলেন, হাসপাতালগুলোর সেবার মান উন্নয়নে বিশেষ নজর দিচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ। একই সঙ্গে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চাহিদা অনুযায়ী চিকিৎসক ও নার্সসহ প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

    এসময় রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সাল, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান, সিভিল সার্জন ডা. শাহিন সুলতানাসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    এর আগে উপদেষ্টা রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ও তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। বিকেলে তিনি নীলফামারী সদর উপজেলার দারোয়ানী টেক্সটাইল মিলে প্রস্তাবিত হাসপাতাল ঘুরে দেখবেন। সুত্রঃ বাসস

  • বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে ইইউ’র ৪ মিলিয়ন ইউরো সহায়তার ঘোষণা

    বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে ইইউ’র ৪ মিলিয়ন ইউরো সহায়তার ঘোষণা

    বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনায় সহায়তা করতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ৪ মিলিয়ন ইউরোরও বেশি একটি সহায়তা প্যাকেজ দেবে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার।

    আজ রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান। বৈঠকে ছয় সদস্যের একটি ইইউ প্রতিনিধি দল অংশ নেয়।

    মাইকেল মিলার বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাজ করছে যাতে গণতান্ত্রিক নির্বাচনের আগে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের সহায়তা নিশ্চিত করা যায়। আমরা ২০২৬ সালের প্রথম দিকে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতির দিকে এগোচ্ছি। এই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করতে ৪ মিলিয়ন ইউরোর বেশি সহায়তা প্যাকেজ দিচ্ছি।’

    তিনি আরও জানান, ইইউ’র এই সহায়তা প্যাকেজের আওতায় নির্বাচন পরিচালনার সক্ষমতা বৃদ্ধি, নাগরিক পর্যবেক্ষণ জোরদারকরণ, অপারেশনাল পরিকল্পনা এবং বিরোধ নিষ্পত্তিসহ নানা ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করা হবে।

    রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমাদের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে ইউরোপীয় পার্টনারশিপ ফর ডেমোক্রেসির প্রতিনিধিরাও ছিলেন। তারা নির্বাচন বিশেষজ্ঞ, যারা নাগরিক পর্যবেক্ষণ এবং দক্ষতা বৃদ্ধিতে কাজ করবেন। আমরা নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীনতা, দক্ষতা এবং জবাবদিহিতার ভিত্তিতে আরও শক্তিশালী করতে বদ্ধপরিকর।’

    তিনি জানান, বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের পূর্ণাঙ্গ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের জন্য একটি ‘অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত দেশ’। এ বিষয়টি নিয়ে ইইউ আগামী মাসগুলোতে অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখবে।

    আগামী মাসে একটি প্রাক-নির্বাচনী প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞ দল বাংলাদেশে আসবে বলে উল্লেখ করে মিলার বলেন, ‘এটি পূর্ণাঙ্গ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন নয়। এ দলের কাজ হবে বাংলাদেশে পর্যবেক্ষণ মিশন পাঠানোর পরিবেশ রয়েছে কি না তা যাচাই করা। আমরা বাস্তবতা ও সক্ষমতা পর্যালোচনা করছি। তবে এটুকু বলতে পারি বাংলাদেশ এই দিক থেকে ইইউ’র রাজনৈতিক অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত দেশ।”

    নির্বাচনের প্রস্তুতি ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। তবে আমরা এখন যেটি নিয়ে কাজ করছি, তা হলো- নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করতে আগামী সপ্তাহ ও মাসগুলোতে কী কী বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে তা আলোচনা করা। আমাদের লক্ষ্য একটি অবাধ, নিরপেক্ষ এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে সংগতিপূর্ণ নির্বাচন।’

    মাইকেল মিলার আরও বলেন, ‘আমরা ভোটার শিক্ষা, দেশীয় পর্যবেক্ষক সংগঠনগুলোকে সক্ষমতা প্রদান, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় এবং ভুয়া তথ্য মোকাবেলায় বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে নানা উদ্যোগ নিচ্ছি।’

    সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নির্বাচন পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে, তবে সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলো আচরণ ও ফলাফলের দিক থেকে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। তাই তরুণ ভোটারসহ সকলের মধ্যে গণতান্ত্রিক অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি।

    সূত্রঃ বাসস

  • প্রধান উপদেষ্টা ঘোষিত ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ : আইন উপদেষ্টা

    প্রধান উপদেষ্টা ঘোষিত ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ : আইন উপদেষ্টা

    প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণা অনুযায়ী আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।

    আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এ কথা জানান।

    নির্বাচনের সময় নিয়ে দলগুলোর বক্তব্য রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ বলে মন্তব্য করে ড. আসিফ নজরুল বলেন, নির্বাচন অনুষ্ঠান কোনো দলের দায়িত্ব না এটা সরকারের দায়িত্ব। আমরা সরকারের পক্ষ থেকে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলছি আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন সম্পন্ন হবে।

    তিনি বলেন, এখন রাজনৈতিক দল তো বিভিন্ন উদ্দেশ্যে বিভিন্ন কথা বলে এবং ওইটা তো একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া। আপনারা তো এটা সব সময় দেখেছেন। বাংলাদেশে ট্রেডিশনালি এসব রাজনৈতিক কথাবার্তা হতো, এখনো ঠিক ওরকমভাবেই কথাবার্তা হচ্ছে। কথাবার্তায় খুব বেশি গুণগত পরিবর্তন হয়নি। ফলে নির্বাচনের সময় নিয়ে কে কী বলবেন এটা রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই দেখবেন।

    আইন উপদেষ্টা বলেন ‘সরকারের পক্ষ থেকে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ আছি। আমাদের স্যার (প্রধান উপদেষ্টা) সর্বজন স্বীকৃত একজন বিশ্বপর্যায়ে নন্দিত মানুষ। উনি নিজে ঘোষণা করেছেন, তার এ ঘোষণা থেকে আমাদের পিছিয়ে আসার বিন্দুমাত্র চিন্তা নেই।’

    ড. আসিফ নজরুল বলেন, জমি অধিগ্রহণ নিয়ে অনেক সময় বেশি মূল্য ধরা হয়, এরপরে পিডিবির বিষয় নিয়ে অনেক কথা হয়। আপনারা জানেন বালিশ কাণ্ডে কি হয়েছিল। আমরা আরো এরকম বালিশ কাণ্ড চাই না। এজন্য দুদক সংস্কার কমিশন যে প্রস্তাব দিয়েছে সেগুলো আমরা আইনের পরিবর্তনের চেষ্টা করছি। এ বিষয়ে একজন অভিজ্ঞ কনসালটেন্ট নিয়োগ করা হয়েছে। তিনি আজ থেকে কাজ শুরু করবেন।

    আইন উপদেষ্টা বলেন, প্রকল্প ব্যয় বাড়িয়ে দুর্নীতি করা হয় এগুলো আসলে আমাদের বিষয় না এটার জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় রয়েছে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের রয়েছে তারা এগুলো দেখবে।

    আমরা সর্বোচ্চ দুর্নীতির বিষয়গুলো দেখতে পারবো। এজন্যই দুর্নীতি দমন কমিশনকে আরো শক্তিশালী করা হচ্ছে।

    সূত্রঃ বাসস

  • সারাদেশের জলাশয় রক্ষায় কাজ করে যাব: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা

    সারাদেশের জলাশয় রক্ষায় কাজ করে যাব: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা

    মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, ‘সারা দেশে যে জলাশয়গুলো আছে, সেগুলো রক্ষা করার জন্য আমরা কাজ করে যাব এবং দেশের মানুষের জন্য যে আমিষের প্রয়োজন, তা মেটাতে অবদান রাখব।’

    আজ সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ, ২০২৫ উপলক্ষে আয়োজিত দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠান বর্ণাঢ্য র‌যালির উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।

    মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, এ বছর মাছের বৈচিত্র্য রক্ষার জন্য যে স্লোগান “অভয় আশ্রম গড়ে তুলি, দেশি মাছে দেশ ভরি”- তা বাস্তবায়নে দেশের মৎস্যজীবী ভাই-বোনেরা অগ্রণী ভূমিকা রাখছেন।

    মৎস্যজীবীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, দেশের মৎস্য সম্পদ রক্ষায় আপনারা কষ্ট করে মানুষের খাদ্য যোগান দিচ্ছেন। সরকার নীতিগত ও প্রশাসনিকভাবে আপনাদের পাশে থাকবে।

    র‌যালি শেষে উপদেষ্টা বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত মৎস্য মেলা উদ্বোধন ও পরিদর্শন করেন।

    এ সময় তিনি মুক্তা ও ঝিনুককে জাতীয় সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এই মেলায় মানুষ দেশের মৎস্য ও সামুদ্রিক সম্পদ সম্পর্কে জানতে পারবে।

    অনুষ্ঠানে মৎস্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগের পরিচালক আলফাজ উদ্দীন শেখের মৃত্যুতে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

    মৎস্য মেলা অনুষ্ঠানে এ খাতে ব্যবহৃত উপকরণ ও প্রযুক্তি প্রদর্শনের জন্য মৎস্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি) ও বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই)সহ ২২টি প্রতিষ্ঠান মোট ২৫টি স্টল নিয়ে অংশগ্রহণ করেছে।

    র‌যালি ও মেলা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. তোফাজ্জেল হোসেন, অতিরিক্ত সচিব মো. ইমাম উদ্দীন কবীর, অতিরিক্ত সচিব সৈয়দা নওয়ারা জাহান, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবদুর রউফ, মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও মৎস্যজীবীসহ সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

    সূত্রঃ বাসস

  • অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে খাদ্যশস্য মজুদ আছে ২১ লাখ মেট্রিক টন

    অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে খাদ্যশস্য মজুদ আছে ২১ লাখ মেট্রিক টন

    দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এক ধাপ এগিয়ে রয়েছে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার।

    সরকারের খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, বাংলাদেশে বর্তমানে চাল ও গম মিলে মোট ২১ লাখ ৩১ হাজার মেট্রিক টন খাদ্যশস্য মজুদ রয়েছে।

    অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছরপূর্তি উপলক্ষ্যে ৪ আগস্ট গণমাধ্যমকে দেওয়া এক তথ্য বিবরণীতে এ মজুদের কথা জানিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়।

    খাদ্য মন্ত্রণালয় জানায়, বর্তমানে সরকারিভাবে ১৯ লাখ ৫৪ হাজার মেট্রিক টন চাল এবং ১ লাখ ৭৭ হাজার মেট্রিক টন গম মজুদ রয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদে আরও ৫ লাখ মেট্রিক টন চাল এবং ৪ লাখ মেট্রিক টন গম আমদানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    সরকারিভাবে এ বছর ৫ লাখ ৩৫ হাজার মেট্রিক টন ধান ও ১৯ লাখ ৬৭ হাজার মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ করা হয়েছে। আগের বছরের তুলনায় ধান সংগ্রহ ২ লাখ ৬১ হাজার মেট্রিক টন এবং চাল সংগ্রহ প্রায় ২ লাখ ২ হাজার মেট্রিক টন বৃদ্ধি পেয়েছে।

    ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সর্বমোট ৩৩ লাখ ৫ হাজার মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বিতরণ করা হয়েছে, যা এ যাবৎ কালের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সরকারি খাতে প্রায় ৪৪ হাজার মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বিতরণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

    খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, সরকারি খাতে গম আমদানির উৎস বহুমুখীকরণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রসহ আর্জেন্টিনা, বুলগেরিয়া ও ইউক্রেন থেকে গম আমদানি করা হয়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ থেকে সরকারি খাতে গম আমদানির কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।

    দেশে খাদ্যশস্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিতকল্পে সরকারি ও বেসরকারি খাতে আমদানি বৃদ্ধি করা হয়েছে। চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত খাদ্যশস্য মজুদের লক্ষ্যমাত্রা ১৫ লাখ টনেরও বেশি নির্ধারণ করা হয়েছে।

    খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেন, এই মজুদকে সন্তোষজনক বলা যাবে না, আবার ঝুঁকিপূর্ণ বলাও ঠিক হবে না। মজুদ আরও বাড়ানো দরকার। এ ব্যাপারে আমাদের বেশ কিছু উদ্যোগ রয়েছে। এর মধ্যে দুই লাখ টন চাল ও গমা কেনার চুক্তি হয়েছে। স্থানীয়ভাবে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ টন চাল কেনার টার্গেট রয়েছে। এ টার্গেট পূরণ হবে বলে আশা করছি। পাশাপাশি আমদানি করা যেসব চাল ও গম পাইপলাইনে আছে, সেগুলো শিগগিরই আমরা পেয়ে যাব। এছাড়া সম্প্রতি বন্যায় ফসলের যে ধরনের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করা হয়েছিল, তা হয়তো হবে না। এ হিসেবে বলা যায়, এ বছর দেশের খাদ্যশস্য মজুদের পরিমাণ ভালো।

    গত ৯ অক্টোবর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড চিনি আমদানিতে শুল্ক ৩০ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করে। অপরিশোধিত চিনির আমদানি খরচ প্রতি কেজিতে ১১ টাকা ১৮ পয়সা এবং পরিশোধিত চিনির খরচ ১৪ টাকা ২৬ পয়সা কমানো হয়। সুত্রঃ বাসস

  • প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ডাচ দূতের বিদায়ী সাক্ষাৎ, জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে গান উপহার

    প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ডাচ দূতের বিদায়ী সাক্ষাৎ, জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে গান উপহার

    প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎকালে জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে নিজের লেখা গান উপহার দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের মিশনপ্রধান আন্দ্রে কার্সটেন্স।

    আজ বুধবার রাষ্ট্রীয় (৬ আগস্ট) অতিথি ভবন যমুনায় এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

    সাক্ষাৎকালে তিনি অধ্যাপক ইউনূসের গত এক বছরের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। আন্দ্রে কার্সটেন্স বলেন, পূর্ববর্তী সরকার অপসারিত হওয়ার পর বাংলাদেশ যে অন্তর্বর্তী সময় পার করছে, তা দক্ষতার সঙ্গে সামাল দিচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা।

    কার্সটেন্স গণতান্ত্রিক সংস্কার ও জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠায় অধ্যাপক ইউনূসের প্রচেষ্টার বিষয়টিও তুলে ধরেন।

    তিনি ড. ইউনূসকে বলেন, ‘মানুষ আপনাকে মনে রাখবে।’

    সম্প্রতি ঘোষিত ‘জুলাই ঘোষণা’ প্রসঙ্গে ডাচ রাষ্ট্রদূত বলেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। যা দেশের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে জুলাই গণজাগরণের আকাঙ্ক্ষার মধ্যে একটা সেতু হিসেবে কাজ করছে।

    নির্বাচন নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণাকে ‘উপযুক্ত সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন কার্সটেন্স। তার মতে, এর মাধ্যমে নির্বাচনের পথে দেশ আরও একধাপ এগিয়ে গেল।

    আলোচনায় চলমান রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টিও উঠে আসে। আগামী সেপ্টেম্বরে বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলনের যে পরিকল্পনা রয়েছে, সেটি নিয়েও আলোচনা করেন তারা। এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য হলো রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মানবিক ও রাজনৈতিক সমস্যাগুলো সমাধান করা।

    সাক্ষাৎকালে ব্যতিক্রমধর্মী এক উপহারও দেন বিদায়ী রাষ্ট্রদূত। তিনি প্রধান উপদেষ্টাকে নিজের লেখা ও গাওয়া একটি গান উপহার দেন। গানটি বাংলাদেশের ‘জেনারেশন জেড’-এর নেতৃত্বে ঘটে যাওয়া ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’-এর প্রশংসায় লেখা হয়েছে। এটির সুর নেওয়া হয়েছে জর্জ হ্যারিসনের বিখ্যাত ‘বাংলাদেশ’ গান থেকে। কার্সটেন্সের লেখা এই গান ভিডিওসহ রেকর্ড করে প্রধান উপদেষ্টাকে উপহার দেওয়া হয়।

    গানের কথাগুলো ছিল এ রকম—

    ‘বাংলাদেশ, বাংলাদেশ
    বন্ধুসুলভ মানুষদের দেশ,তারা ভালো করছে
    বিপ্লবের মাধ্যমে খুলেছে পথ
    তাদের অধিকারের কথা বলার জন্য
    এটা কেবল কল্পনা নয়, একটি পবিত্র গাঁথা
    বাংলাদেশের মানুষের জন্য চূড়ান্ত আকাঙ্ক্ষা।’

    ‘বাংলাদেশ, বাংলাদেশ
    বঙ্গোপসাগরের তীরে এক নব-জীবনের উত্থান
    বিপ্লবের মাধ্যমে খুলেছে পথ
    বহু বছর বিভ্রান্তির পর
    জেন-জি দেখিয়েছে পথ
    দুঃস্বপ্নকে দিনে পরিণত করেছে।’

    এ সময় প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন। সুত্রঃ বাসস

  • জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করলেন প্রধান উপদেষ্টা

    জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করলেন প্রধান উপদেষ্টা

    প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস আজ জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ‘৩৬ জুলাই উদ্‌যাপন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করেছেন।

    এ সময় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে মঞ্চে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    জুলাই ঘোষণাপত্র হলো ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একটি দলিল, যার মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে।

    জুলাই ঘোষণাপত্র নিচে হুবহু তুলে ধরা হলো-

    ১। যেহেতু উপনিবেশ বিরোধী লড়াইয়ের সুদীর্ঘকালের ধারাবাহিকতায় এই ভূখণ্ডের মানুষ দীর্ঘ ২৩ বছর পাকিস্তানের স্বৈরশাসকদের বঞ্চনা ও শোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল এবং নির্বিচার গণহত্যার বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণা করে জাতীয় মুক্তির লক্ষ্যে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিল;

    এবং

    ২। যেহেতু, বাংলাদেশের আপামর জনগণ দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এই ভূখণ্ডে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে বিবৃত সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের ভিত্তিতে উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়নের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছে;

    এবং

    ৩। যেহেতু স্বাধীন বাংলাদেশের ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণয়ন পদ্ধতি, এর কাঠামোগত দুর্বলতা ও অপপ্রয়োগের ফলে স্বাধীনতা-পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকার মুক্তিযুদ্ধের জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয়েছিল এবং গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা ক্ষুণ্ন করেছিল;

    এবং

    ৪। যেহেতু স্বাধীনতা-পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকার স্বাধীনতার মূলমন্ত্র গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার বিপরীতে বাকশালের নামে সাংবিধানিকভাবে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করে এবং মতপ্রকাশ ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা হরণ করে, যার প্রতিক্রিয়ায় ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর দেশে সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লব সংঘটিত হয় এবং পরবর্তী সময়ে একদলীয় বাকশাল পদ্ধতির পরিবর্তে বহুদলীয় গণতন্ত্র, মতপ্রকাশ ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা পুনঃপ্রবর্তনের পথ সুগম হয়,

    এবং

    ৫। যেহেতু আশির দশকে সামরিক স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ নয় বছর ছাত্র-জনতার অবিরাম সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয় এবং ১৯৯১ইং সনে পুনরায় সংসদীয় গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়।

    এবং

    ৬। যেহেতু দেশি-বিদেশি চক্রান্তে সরকার পরিবর্তনের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ায় ১/১১ -এর ষড়যন্ত্রমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশে শেখ হাসিনার একচ্ছত্র ক্ষমতা, আধিপত্য ও ফ্যাসিবাদের পথ সুগম করা হয়;

    এবং

    ৭। যেহেতু গত দীর্ঘ ষোল বছরের ফ্যাসিবাদী, অগণতান্ত্রিক এবং গণবিরোধী শাসনব্যবস্থা কায়েমের লক্ষ্যে এবং একদলীয় রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অতি উগ্র বাসনা চরিতার্থ করার অভিপ্রায়ে সংবিধানের অবৈধ ও অগণতান্ত্রিক পরিবর্তন করা হয় এবং যার ফলে একদলীয় একচ্ছত্র ক্ষমতা ও আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়;

    এবং

    ৮। যেহেতু শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারের দুঃশাসন, গুম-খুন, আইন-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ এবং একদলীয় স্বার্থে সংবিধান সংশোধন ও পরিবর্তন বাংলাদেশের সকল রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে ধ্বংস করে;

    এবং

    ৯। যেহেতু, হাসিনা সরকারের আমলে তারই নেতৃত্বে একটি চরম গণবিরোধী, একনায়কতান্ত্রিক, ও মানবাধিকার হরণকারী শক্তি বাংলাদেশকে একটি ফ্যাসিবাদী, মাফিয়া এবং ব্যর্থ রাষ্ট্রের রূপ দিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে;

    এবং

    ১০। যেহেতু, তথাকথিত উন্নয়নের নামে শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী নেতৃত্বে সীমাহীন দুর্নীতি, ব্যাংক লুট, অর্থ পাচার ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংসের মধ্য দিয়ে বিগত পতিত দুর্নীতিবাজ আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশ ও এর অমিত অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে বিপর্যস্ত করে তোলে এবং এর পরিবেশ, প্রাণবৈচিত্র্য ও জলবায়ুকে বিপন্ন করে;

    এবং

    ১১। যেহেতু শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দল, ছাত্র ও শ্রমিক সংগঠনসহ সমাজের সর্বস্তরের জনগণ গত প্রায় ষোল বছর যাবৎ নিরন্তর গণতান্ত্রিক সংগ্রাম করে জেল-জুলুম, হামলা-মামলা, গুম-খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়;

    এবং

    ১২। যেহেতু বাংলাদেশে বিদেশি রাষ্ট্রের অন্যায় প্রভুত্ব, শোষণ ও খবরদারিত্বের বিরুদ্ধে এদেশের মানুষের ন্যায়সংগত আন্দোলনকে বহিঃশক্তির তাঁবেদার আওয়ামী লীগ সরকার নিষ্ঠুর শক্তিপ্রয়োগের মাধ্যমে দমন করে;

    এবং

    ১৩। যেহেতু অবৈধভাবে ক্ষমতা অব্যাহত রাখতে আওয়ামী লীগ সরকার তিনটি প্রহসনের নির্বাচনে (২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ এর জাতীয় সংসদ নির্বাচন) এদেশের মানুষকে ভোটাধিকার ও প্রতিনিধিত্ব থেকে বঞ্চিত করে;

    এবং

    ১৪। যেহেতু, আওয়ামী লীগ আমলে ভিন্নমতের রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, শিক্ষার্থী ও তরুণদের নিষ্ঠুরভাবে নির্যাতন করা হয় এবং সরকারি চাকুরিতে একচেটিয়া দলীয় নিয়োগ ও কোটাভিত্তিক বৈষম্যের কারণে ছাত্র, চাকুরি প্রত্যাশী ও নাগরিকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের জন্ম হয়;

    এবং

    Md Rayhan Ali, [8/5/2025 7:14 PM]
    ১৫। যেহেতু বিরোধী রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের ওপর চরম নিপীড়নের ফলে দীর্ঘদিন ধরে জনরোষের সৃষ্টি হয় এবং জনগণ সকল বৈধ প্রক্রিয়া অবলম্বন করে ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াই চালিয়ে যায়;

    এবং

    ১৬। যেহেতু, সরকারি চাকরিতে বৈষম্যমূলক কোটাব্যবস্থার বিলোপ ও দুর্নীতি প্রতিরোধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক ব্যাপক দমন-পীড়ন, বর্বর অত্যাচার ও মানবতাবিরোধী হত্যাকাণ্ড চালানো হয়, যার ফলে সারা দেশে দল-মত নির্বিশেষে ছাত্র-জনতার উত্তাল গণবিক্ষোভ গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়;

    এবং

    ১৭। যেহেতু ফ্যাসিস্ট শক্তির বিরুদ্ধে অদম্য ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক দল, ধর্মীয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী, শ্রমিক সংগঠনসহ সমাজের সকল স্তরের মানুষ যোগদান করে এবং আওয়ামী ফ্যাসিবাদী বাহিনী রাজপথে নারী-শিশুসহ প্রায় এক হাজার মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করে, অগণিত মানুষ পঙ্গুত্ব ও অন্ধত্ব বরণ করে এবং আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে সামরিক বাহিনীর সদস্যগণ জনগণের গণতান্ত্রিক লড়াইকে সমর্থন প্রদান করে;

    এবং

    ১৮। যেহেতু, অবৈধ শেখ হাসিনা সরকারের পতন, ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের লক্ষ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে জনগণ অসহযোগ আন্দোলন শুরু করে, পরবর্তী সময়ে ৫ আগস্ট ঢাকা অভিমুখে লংমার্চ পরিচালনা করে এবং ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনরত সকল রাজনৈতিক দল, ছাত্র-জনতা তথা সর্বস্তরের সকল শ্রেণি, পেশার আপামর জনসাধারণের তীব্র আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে গণভবনমুখী জনতার উত্তাল যাত্রার মুখে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়;

    এবং

    ১৯। যেহেতু বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকট মোকাবেলায় গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ব্যক্ত জনগণের সার্বভৌমত্বের প্রত্যয় ও প্রয়োগ রাজনৈতিক ও আইনি উভয় দিক থেকে যুক্তিসংগত, বৈধ ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত;

    এবং

    ২০। যেহেতু জনগণের দাবি অনুযায়ী এরপর অবৈধ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়া হয় এবং সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে সুপ্রিম কোর্টের মতামতের আলোকে সাংবিধানিকভাবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে ৮ আগস্ট ২০২৪ তারিখে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয়;

    এবং

    ২১। যেহেতু, বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণের ফ্যাসিবাদবিরোধী তীব্র আকাঙ্ক্ষা এবং ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদ, বৈষম্য ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ ও রাষ্ট্র বিনির্মাণের অভিপ্রায় প্রকাশিত হয়;

    এবং

    ২২। সেহেতু, বাংলাদেশের জনগণ সুশাসন ও সুষ্ঠু নির্বাচন, ফ্যাসিবাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি রোধ, আইনের শাসন এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে বিদ্যমান সংবিধান ও সকল রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের গণতান্ত্রিক সংস্কার সাধনের অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে;

    এবং

    ২৩। সেহেতু, বাংলাদেশের জনগণ বিগত ষোল বছরের দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রাম কালে এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালীন সময়ে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক সংঘটিত গুম-খুন, হত্যা, গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও সকল ধরনের নির্যাতন, নিপীড়ন এবং রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি লুণ্ঠনের অপরাধসমূহের দ্রুত উপযুক্ত বিচারের দৃঢ় অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে;

    এবং

    ২৪। সেহেতু, বাংলাদেশের জনগণ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদদের জাতীয় বীর হিসেবে ঘোষণা করে শহীদদের পরিবার, আহত যোদ্ধা এবং আন্দোলনকারী ছাত্রজনতাকে প্রয়োজনীয় সকল আইনি সুরক্ষা দেওয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে।

    এবং

    ২৫। সেহেতু, বাংলাদেশের জনগণ যুক্তিসংগত সময়ে আয়োজিতব্য অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ একটি নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত জাতীয় সংসদে প্রতিশ্রুত প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংস্কারের মাধ্যমে দেশের মানুষের প্রত্যাশা, বিশেষত তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী আইনের শাসন ও মানবাধিকার, দুর্নীতি, শোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন ও মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে।

    এবং

    ২৬। সেহেতু বাংলাদেশের জনগণ এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করছে যে একটি পরিবেশ ও জলবায়ু সহিষ্ণু অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়ন কৌশলের মাধ্যমে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকার সংরক্ষিত হবে।

    এবং

    ২৭। বাংলাদেশের জনগণ এই অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে যে, ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এর উপযুক্ত রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান করা হবে এবং পরবর্তী নির্বাচনে নির্বাচিত সরকারের সংস্কারকৃত সংবিধানের তফসিলে এ ঘোষণাপত্র সন্নিবেশিত থাকবে।

    এবং

    ২৮। ৫ আগস্ট ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানে বিজয়ী বাংলাদেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে এই ঘোষণাপত্র প্রণয়ন করা হলো।

     

    সুত্রঃ বাসস

  • প্রিজাইডিং অফিসারদের ক্ষমতায়ন ও নিরাপত্তায় ইসির সাত দফা সুপারিশ

    প্রিজাইডিং অফিসারদের ক্ষমতায়ন ও নিরাপত্তায় ইসির সাত দফা সুপারিশ

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা বিধানে প্রিজাইডিং অফিসারদের ক্ষমতায়ন, কর্মপরিধি ও নিরাপত্তায় সাত দফা সুপারিশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একইসাথে প্রিজাইডিং অফিসারদের দায়িত্বপালনে সক্ষমতা বৃদ্ধি ও অ্যাপসের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে আরও কি কি পদক্ষেপ নেয়া যায় সে বিষয়ে মাঠ পর্যায়ের নির্বাচন কর্মকর্তাদের মতামত চেয়েছে ইসি।

    ইসি সচিবালয়ের নির্বাচন পরিচালনা শাখার উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোমে স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত চিঠি সিনিয়র জেলা বা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, উপজেলা বা থানা নির্বাচন কর্মকর্তা এবং আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

    চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর ৯(১খ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার প্রত্যেক ভোটকেন্দ্রের জন্য একজন প্রিজাইডিং অফিসার এবং প্রিজাইডিং অফিসারকে সহায়তা প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার নিয়োগ করে থাকেন। নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে ভোট কেন্দ্রের প্রধান হিসেবে প্রিজাইডিং অফিসারের ক্ষমতায়ন, কর্মপরিধি (দায়িত্ব ও কর্তব্য) ও নিরাপত্তা বিধান অত্যাবশ্যক। ভোটকেন্দ্রে মোতায়েনকৃত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক প্রিজাইডিং অফিসারের নিরাপত্তা ও ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা বিধানে প্রিজাইডিং অফিসারের নিয়ন্ত্রণ জোরালো করা প্রয়োজন মর্মে নির্বাচন কমিশন নিম্নরূপ সুপারিশ প্রদান করেছেন:

    প্রথম: প্রিজাইডিং অফিসার ও তার টিম মালামালসহ কেন্দ্রে পৌঁছানোর জন্য যথোপযুক্ত যানবাহনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

    দ্বিতীয়: মালামাল গ্রহণ থেকে শুরু করে প্রিজাইডিং অফিসার কর্তৃক ফলাফল নিয়ন্ত্রণ কক্ষে দাখিল করা অবধি একজন আনসার বা পুলিশ সদস্যকে দেহরক্ষী হিসেবে সুনির্দিষ্টভাবে নিয়োজিত করা।

    তৃতীয়: প্রিজাইডিং অফিসারকে সহযোগিতা করার জন্য একজন অফিস সহায়ক নিয়োগ দেয়া।

    চতুর্থ: যতদূর সম্ভব কেন্দ্রের সকল মালামাল ও জনবল একইসঙ্গে কেন্দ্রে যাওয়া এবং অবস্থান বাধ্যতামূলক করা।

    পঞ্চম: প্রিজাইডিং অফিসার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় যাতে তাদের কেন্দ্রের জনবলের আহারের ব্যবস্থা করেন তা নিশ্চিত করা।

    ষষ্ঠ: গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর ৮৯ক অনুচ্ছেদ অনুসরণে প্রিজাইডিং অফিসারদের ক্ষমতায়নের বিষয় বিবেচনা নেয়া।

    সপ্তম: মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে রিটার্নিং অফিসার, স্ট্রাইকিং ফোর্স সর্বোপরি নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণ কক্ষে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের ব্যবস্থা করা।

    এছাড়া নির্বাচন কমিশন উপরোল্লিখিত বিষয়াদির সাথে প্রিজাইডিং অফিসারদের দায়িত্বপালনে সক্ষমতা বৃদ্ধি ও অ্যাপস এর মাধ্যমে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে আরও কি কি পদক্ষেপ নেয়া যায় সে বিষয়ে মাঠ পর্যায়ের নির্বাচন কর্মকর্তাদের মতামত গ্রহণের সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন।

    নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের আলোকে জরুরি ভিত্তিতে প্রিজাইডিং অফিসারদের দায়িত্বপালনে সক্ষমতা বৃদ্ধি ও অ্যাপস এর মাধ্যমে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে আরো কি কি পদক্ষেপ নেয়া যায় এ বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মতামত প্রদানের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।’ সুত্রঃ বাসস

  • গোপালগঞ্জে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে ৭ শহীদের সমাধিতে শ্রদ্ধা

    গোপালগঞ্জে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে ৭ শহীদের সমাধিতে শ্রদ্ধা

    জেলায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে ৭জন শহীদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্যে দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে।

    আজ মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) সকালে সদর উপজেলার কেকানিয়া গ্রামে শহীদ মঈনুলের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান ও পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান। পরে শহিদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া মোনাজাত করা হয়।

    এ ছাড়াও সদর উপজেলার কাঠি ইউনিয়নের শহীদ জিল্লুর শেখ, কোটালীপাড়া উপজেলার শুয়াগ্রামের শহীদ রথিন বিশ্বাস, মুকসুদপুর উপজেলার গঙ্গারাপুর গ্রামের শহীদ বাবু মোল্লা, একই উপজেলার ছোটবনগ্রামের শহীদ আরাফাত মুন্সী, গোপ্তারগাতী গ্রামের শহীদ মুজাহিদ ও ডিগ্রিকান্দি গ্রামের শহীদ সাবিদ হোসেনের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া মোনাজাত করেন উপজেলা প্রশাসন।

    জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাদের নিয়ে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় তাদের মাঝে উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। সুত্রঃ বাসস

  • ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে জাতির পুনর্জন্মের দিন ৫ আগস্ট : প্রধান উপদেষ্টা

    ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে জাতির পুনর্জন্মের দিন ৫ আগস্ট : প্রধান উপদেষ্টা

    জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্দেশ্যে এক ভিডিও বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আজ আমরা পুরো জাতি একসঙ্গে স্মরণ করছি এমন একটি দিন, যা এদেশের ইতিহাসে গভীর ছাপ রেখে গেছে। ৫ আগস্ট শুধু একটি বিশেষ দিবস নয়, এটি একটি প্রতিজ্ঞা, গণজাগরণের উপাখ্যান এবং ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে জাতির পুনর্জন্মের দিন।

    তিনি বলেন, ‘মানুষের বুকে গুলি চালিয়ে শেষ পর্যন্ত ক্ষমতা আঁকড়ে রাখতে চেয়েছিল ফ্যাসিবাদি সরকার। তারা নির্বিচারে গুলি করেছে, গ্রেপ্তার করেছে, ইন্টারনেট বন্ধ করে হত্যাকাণ্ডের তথ্য লুকাতে চেয়েছে, রাতের অন্ধকারে এলাকায় এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছাত্রদের আটক করেছে।’

    তিনি দেশবাসীকে কোন ধরনের নিপীড়নের কাছে মাথা না নোয়াতে এবং গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও জনকল্যাণকর রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।

    জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার দেশজুড়ে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এক অনুষ্ঠানে ভিডিও বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জুলাই-আগস্টে গুলিবিদ্ধ আহতদের তারা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে দেয়নি। হাসপাতালগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যেন আহতদের ভর্তি না করা হয়। এ কারণে বহু মানুষ চিকিৎসা না পেয়ে চিরতরে দৃষ্টি হারিয়েছে, পঙ্গু হয়েছে।

    তিনি বলেন, ২০২৪ সালের উত্তাল জুলাই ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে এক সংকটময় অধ্যায়, ষোল বছরের পুঞ্জিভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।

    অধ্যাপক ইউনূস বলেন, দেশের বিপুল সংখ্যক তরুণ ১৬ বছর ধরে ক্রমাগত হতাশায় নিমজ্জিত হয়েছে। ভালো ফলাফল করেও চাকরির জন্য ক্ষমতাসীনদের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরেছে। চাকরিকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল দুর্নীতি-স্বজনপ্রীতি, তদবির বাণিজ্য। যে তরুণ ঘুষ দিতে পারেনি, এলাকার মাফিয়াদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলতে পারেনি তার চাকরি হয়নি। সরকারি চাকরিতে বৈষম্যমূলক কোটা পদ্ধতি, যেটা মূলত ছিল দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির আরেকটা হাতিয়ার, এর বিরুদ্ধে তরুণ সমাজ দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করলেও ফ্যাসিবাদী শাসকের টনক নড়েনি।

    তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ এই সময় প্রতিটি সেক্টরে মাফিয়াতন্ত্র কায়েম করে একটি সুবিধাভোগী শ্রেণি তৈরি করা হয়েছিল, যারা আর্থিক ও অন্যান্য সুবিধার বিনিময়ে স্বৈরাচারের পক্ষে কথা বলবে, কাজ করবে। স্বৈরাচারের পক্ষের সঙ্গী হলেই তার চাকরি হবে, কাজ মিলবে। সরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান এমনকি বিচার ব্যবস্থা, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক মণ্ডলেও এই ধরনের সুবিধাভোগী শ্রেণি তৈরি হয়েছিল। এদেশের গরীব-মেহনতি মানুষের পয়সা লুট করে পতিত ফ্যাসিবাদ ও তাদের সহযোগীরা একেকজন টাকার পাহাড় গড়ে তোলে। সীমাহীন দুর্নীতির কবলে পড়ে অর্থনীতি ভেঙে পড়ে।

    বিগত ১৬ বছরের নিপীড়নের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই দেড় যুগে প্রতিটি নায্য দাবি, প্রতিবাদ, বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের পাশাপাশি দলীয় সন্ত্রাসীরা অস্ত্র হাতে আন্দোলনকারীদের পিটিয়েছে। গত ১৬ বছরে যারাই সরকারের সমালোচনা করেছে, নাগরিকদের অধিকারের পক্ষে কথা বলেছে তাদেরকে গ্রেপ্তার অথবা গুম করা হয়েছে। লাখ লাখ বিরোধী দলীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের নির্বিচারে আটক-গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    তিনি বলেন, ভয়াবহ এই পরিস্থিতিতে চব্বিশের জুলাইয়ে দেশের ছাত্রসমাজ, তরুণ প্রজন্ম, সাধারণ মানুষ—সবাই একত্রিত হয়েছে এক নতুন দিনের প্রত্যাশায়। সমস্বরে তারা বলে ওঠে, এবার ফ্যাসিবাদকে যেতে হবে। তবু দেশের মানুষের বুকে গুলি চালিয়ে শেষ পর্যন্ত ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রাখতে চেয়েছিল ফ্যাসিবাদী সরকার।

    জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসে জাতির সূর্য সন্তান জুলাই শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, তাঁদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। জুলাইয়ে যারা আহত হয়েছেন, চিরতরে পঙ্গু হয়েছেন, দৃষ্টি হারিয়েছেন জাতির পক্ষ থেকে আমি তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। এ জাতি আপনাদের কাছে চিরকৃতজ্ঞ থাকবে।

    তিনি উল্লেখ করেন,গত বছর ডিসেম্বর মাসে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহতদের কল্যাণ এবং যাবতীয় বিষয়াদির প্রশাসনিক দায়িত্ব মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছিল। এখন পর্যন্ত ৮৩৬টি শহীদ পরিবারের মধ্যে ৭৭৫টি শহীদ পরিবারকে মোট ৯৮ কোটি ৪০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র ও মাসিক ভাতা বাবদ ব্যাংক চেক দেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট যাঁরা আছেন, তাঁদেরও কয়েকটি বিষয় নিষ্পত্তি সাপেক্ষে সঞ্চয়পত্র দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

    এর পাশাপাশি আহত ১৩ হাজার ৮০০ জন জুলাই যোদ্ধাকে তিনটি ক্যাটাগরিতে নগদ টাকা ও চেক বাবদ মোট ১৫৩ কোটি ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে।

    প্রধান উপদেষ্টা আরও জানান, এর মধ্যে ৭৮ জন অতি গুরুতর আহত জুলাইযোদ্ধাকে সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, তুরস্ক এবং রাশিয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে এবং চিকিৎসা ব্যয় বাবদ এ পর্যন্ত ৯৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে।

    জুলাইযোদ্ধাদের চিকিৎসার বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সকল সরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিক বা স্বাস্থ্য কেন্দ্র, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সরকার কর্তৃক নির্ধারিত বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোতে সকল শ্রেণির আহত জুলাই যোদ্ধাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    সরকারের পক্ষ থেকে জুলাই শহীদ ও আহতদের জন্য আরও নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে জুলাইয়ের মহানায়কদের আত্মত্যাগ তখনই সার্থক হবে যখন এই দেশকে আমরা একটি সত্যিকারের জনকল্যাণকর দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে পারব।

    তিনি বলেন, ‘আজ আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের, যাদের আত্মত্যাগে আমরা পেয়েছি স্বাধীন, সার্বভৌম বাংলাদেশ। ১৯৭১ সালে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এদেশের জনগণ সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল। লাখো প্রাণের বিনিময়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পরেও এদেশের মানুষ সুবিচার ও গণতন্ত্র থেকে বঞ্চিত রয়েছে।’

    বৈষম্যহীন ও জনকল্যাণকর রাষ্ট্র গঠনের আহ্বান জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘আজ আমরা কেবল অতীত স্মরণ করতে আসিনি—আমরা একটি শপথ গ্রহণ করতে এসেছি। শপথ এই যে আমরা কোনো ধরনের নিপীড়নের কাছে মাথা নোয়াব না, আমরা প্রতিষ্ঠা করব একটি জবাবদিহিমূলক, মানবিক, গণতান্ত্রিক এবং বৈষম্যহীন রাষ্ট্র। এমন রাষ্ট্র যা সবসময় জনকল্যাণে কাজ করবে।’

    তিনি আরো বলেন,‘জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ আমরা বৃথা যেতে দেব না। তাঁদের আত্মত্যাগই হবে আমাদের পথচলার প্রেরণা। তাঁদের স্বপ্নই হবে আমাদের আগামী বাংলাদেশের নির্মাণরেখা আজকের দিনে এটাই হোক আমাদের শপথ।’ সুত্রঃ বাসস

  • ইসির খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ ১০ আগস্ট, চূড়ান্ত তালিকা ৩১ আগস্ট

    ইসির খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ ১০ আগস্ট, চূড়ান্ত তালিকা ৩১ আগস্ট

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আগামী ১০ আগস্ট খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এছাড়া সংশোধনের পর আগামী ৩১ আগস্ট চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।

    আজ সোমবার (৪ আগস্ট) ইসি সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) মো. শরিফুল আলম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘৩০ জুন ২০২৫ তারিখ পর্যন্ত ভোটার ডাটাবেইজে অন্তর্ভুক্ত ১ জানুয়ারি ২০০৭ তারিখ বা তার পূর্বে যাদের জন্ম এমন নিবন্ধিত ভোটারের সম্পূরক ভোটার তালিকা এবং ভোটার কর্তনের জন্য মৃত ভোটারদের তালিকা প্রকাশ করা হবে আগামী ১০ আগস্ট।

    সম্পূরক ভোটার তালিকা প্রকাশের পর যোগ্য ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত করা, মৃত্যুজনিত বা অন্তর্ভুক্তি হওয়ার অযোগ্য ব্যক্তির নাম কর্তন, ভোটার স্থানান্তর এবং ইহাতে কোন অন্তর্ভুক্তি সংশোধন বা ত্রুটিবিচ্যুতি দূর করার জন্য দরখাস্ত দাখিলের শেষ তারিখ ২১ আগস্ট। সম্পূরক তালিকাসহ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে ৩১ আগস্ট।’

    সুত্রঃ বাসস

  • শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু

    শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু

    চব্বিশের জুলাই আগস্টে ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের পর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে।

    বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল- ১ এ আজ সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

    সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের পরপরই এই মামলায় প্রথম সাক্ষ্য দেয়া শুরু করেন খোকন চন্দ্র বর্মন। এই সাক্ষী গত বছরের ১৮ জুলাই নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় তার সামনে ঘটে যাওয়া হতাহতের সাক্ষ্য দেয়া শুরু করেন।

    সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের আগে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মো: আসাদুজ্জামান আজকের দিনটিকে ঐতিহাসিক উল্লেখ করে গত জুলাই আগস্টের গণহত্যার ন্যায়বিচার চেয়ে ট্রাইব্যুনালে বক্তব্য রাখেন।

    ট্রাইব্যুনালে অপর প্রসিকিউটররা উপস্থিত রয়েছেন। অন্যদিকে, শেখ হাসিনার পক্ষে আছেন রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন। আর এই মামলায় আসামী সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের পক্ষে আছেন আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ।

    এদিকে আজকের বিচারিক কার্যক্রমের সময় এই মামলার রাজসাক্ষী সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন কাঠগড়ায় হাজির রয়েছেন।

    এই মামলায় শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে গত ১০ জুলাই অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। এছাড়া এই মামলায় দোষ স্বীকার করে ঘটনার সত্যতা উদঘাটনে (অ্যাপ্রোভার) রাজসাক্ষী হতে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের আবেদন মঞ্জুর করেন ট্রাইব্যুনাল। সেই সাথে এই মামলায় সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আজ ৩ আগস্ট দিন ধার্য ছিল। সুত্রঃ বাসস

  • জিএম কাদেরের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনায় নিষেধাজ্ঞা

    জিএম কাদেরের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনায় নিষেধাজ্ঞা

    জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের (জি এম কাদের) এবং দলটির যুগ্ম দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আলমের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ দিয়েছে আদালত।

    বৃহস্পতিবার (৩১জুলাই) ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ আদালতের বিচারক মো. নুরুল ইসলাম এই আদেশ দেন।

    আদালতের বেঞ্চ সহকারী জনাব সাখাওয়াত হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    অভিযোগে বলা হয়, ২০১৯ সালের ১৮ জুলাই পার্টির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা গঠনতন্ত্রের পরিপন্থীভাবে জিএম কাদেরকে পার্টির চেয়ারম্যান ঘোষণা করেন। ওই বছরের ২৮ ডিসেম্বর জিএম কাদের পার্টির সম্মেলন ও কাউন্সিল করে অবৈধভাবে নতুন গঠনতন্ত্র অনুমোদন করেন। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ২৮ জুন প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পদ থেকে দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্যসহ সাতজনকে, পরে আরো তিনজনকে অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং জাতীয় পার্টির নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকেও তাদের নাম মুছে ফেলা হয়।

    এ ঘটনায় চলতি বছরের ১০ জুলাই ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। সুত্রঃ বাসস

  • নির্বাচন নির্ধারিত সময়েই হবে, একদিনও দেরি হবে না: প্রেস সচিব

    নির্বাচন নির্ধারিত সময়েই হবে, একদিনও দেরি হবে না: প্রেস সচিব

    প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, নির্বাচন নির্ধারিত সময়েই হবে, একদিনও দেরি হবে না। তবে আগামী পাঁচ-ছয়টা দিন খুবই ক্রুসিয়াল।

    প্রেস সচিব বলেন, আমরা সেই জায়গায় এখনো আছি। এক্ষেত্রে কোন বিলম্ব হবে না। আমরা আশা করি এই নির্বাচন খুবই উৎসবমুখর পরিবেশে ভালো নির্বাচন হবে।

    আজ বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) সচিবালয়ে গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) উদ্যোগে আয়োজিত বিএসআরএফ সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা মো. নিজামূল কবীর।

    বিএসআরএফ’র সভাপতি মাসউদুল হক এতে সভাপতিত্ব করেন। সংলাপটি সঞ্চলনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল।

    প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, আপনারা একটা বিষয়ে নিশ্চিত থাকেন নির্বাচন দেরি হবে না। নির্বাচন প্রধান উপদেষ্টা যে সময় বলেছেন, তার থেকে একটা দিনও দেরি হবে না।

    তিনি বলেন, তিনি (ড. ইউনূস) প্রথমে বলেছিলেন এপ্রিলের প্রথমে। তারপর আমরা লন্ডনে বলেছি যদি অনেকগুলো সংস্কার হয়, কাজগুলো এগিয়ে যায় সেক্ষেত্রে এটা ফেব্রুয়ারিতে হবে। আমরা সেই জায়গায় এখনো আছি। এটা একটা দিনও দেরি হবে না।

    তিনি আরও বলেন, আমরা আশা করি এই নির্বাচনটা খুবই উৎসবমুখর পরিবেশে ভালো নির্বাচন হবে। প্রতি নির্বাচনে কিছু না কিছু ভায়োলেন্স হয়, আমাদের একেবারে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা থাকবে ভায়োলেন্সকে একেবারে জিরোতে নামিয়ে আনা। সুত্রঃ বাসস

  • প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের ৩৬তম সভা অনুষ্ঠিত

    প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের ৩৬তম সভা অনুষ্ঠিত

    প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের ৩৬তম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    আজ বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

    প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয়, সভায় ‘স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

    এছাড়া, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং-সাপেক্ষে ‘স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন করা হয়েছে। সুত্রঃ বাসস

  • এলডিসি থেকে উত্তরণ বিষয়ক পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত

    এলডিসি থেকে উত্তরণ বিষয়ক পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত

    প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি বিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    আজ বুধবার(৩০ জুলাই) বেলা ১১টায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    সভায় ১৬টি সিদ্ধান্তের অগ্রগতি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চারটি, শিল্প মন্ত্রণালয় তিনটি, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ দুটি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তিনটি ও প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় চারটি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কাজ করছে।

    এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান খান জানান, এনবিআর ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো-এর পূর্ণ বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছে। ইতোমধ্যে ১৯টি সংস্থা যুক্ত হয়েছে। আরও সংস্থাকে যুক্ত করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি, ট্যারিফ পলিসি ২০২৩ এর বাস্তবায়ন কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন অগ্রগতি সম্পর্কে প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করেন তিনি।

    আজকের সভায় তৈরি পোশাক শিল্পের মতো অন্যান্য রপ্তানি খাতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও প্রণোদনা প্রদান এবং ম্যান মেইড ফাইবার সম্পর্কিত কাঁচামাল ও এ শিল্পের মেশিনারিজ আমদানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রদান বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

    সাভারে অবস্থিত ট্যানারি ভিলেজে স্থাপিত ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্লান্ট (ইটিপি) পূর্ণমাত্রায় চালু করা, মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় বাস্তবায়নাধীন এপিআই পার্ক পূর্ণমাত্রায় চালু করা ও ২০২২ সালে প্রণীত শিল্প নীতি হালনাগাদকরণে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এ বিষয়ে আজকের সভায় আলোচনা হয়েছে।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘দেশের চামড়া শিল্পের ব্যাপারে আমরা অপরাধ করেছি, এটার সঠিক মূল্যয়ন করিনি। এই শিল্প দিয়ে আমাদের অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু সেটা হয়নি।’

    এ সময় চামড়া শিল্পের সংকট সমাধানে করণীয় সম্পর্কিত একটি পৃথক বৈঠক আয়োজনের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।

    এর পাশাপাশি, আগামী দুই মাসের মধ্যে এলডিসি থেকে উত্তরণের জন্য করণীয় সম্পর্কে পরবর্তী বৈঠক আয়োজনের নির্দেশ দেন তিনি।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের নিজেদের স্বার্থে, নিজেদের অর্থনীতির স্বার্থে এই কাজগুলো করে যেতে হবে। যেসব নীতিমালা-আইন কোনো কাজে আসছে না সেগুলো পরিবর্তন করে সামনের দিকে অগ্রসর হওয়ার পথ বের করতে হবে। এগুলো মৌলিক বিষয়। নিজেদের উত্তরণের জন্যই এ কাজগুলো আমাদের করে যেতে হবে।’

    আজকের সভায় অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, নৌ-পরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম, মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশিদ, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া, এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান খান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবগণ উপস্থিত ছিলেন। সুত্রঃ বাসস

  • ১৫ বছরে আওয়ামী সন্ত্রাসে নিহতদের তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

    ১৫ বছরে আওয়ামী সন্ত্রাসে নিহতদের তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

    চব্বিশের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের আগের ১৫ বছরে ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগের অন্যান্য সংগঠনের সন্ত্রাসীদের হামলা ও তৎকালীন সরকারের নির্দেশে রাষ্ট্রীয় বাহিনী কর্তৃক নিহতদের তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

    বৃহস্পতিবার বিকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের হামলায় শহীদ বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের বাবা মোহাম্মদ বরকত উল্লাহ, ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ ও মামা মোহাম্মদ মোফাজ্জল হোসেন।

    প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতে চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আগে আওয়ামী লীগ ও এর সংগঠনের দলীয় সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহতের তালিকা করে প্রত্যেকটি ঘটনা তদন্তের অনুরোধ জানান শহিদ আবরার ফাহাদের পরিবার।

    এ সময় আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার বিচারকাজ ত্বরান্বিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নিতে প্রধান উপদেষ্টাকে অনুরোধ জানান মোহাম্মদ বরকত উল্লাহ।

    মোহাম্মদ বরকত উল্লাহ বলেন, ‘দেশের জন্য কথা বলার কারণে তাকে সন্ত্রাসীরা নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে। সে দেশের স্বার্থে কথা বলেছিল, অসম পানি বণ্টনের বিরুদ্ধে বলেছিল।’

    আবরার ফাহাদের বাবা আরও বলেন, ‘তার মা এখনো ছেলের জন্য আর্তনাদ করেন। আর কোনো মায়ের যেন সন্তান হারানোর কষ্ট পেতে না হয়, আর কোনো মায়ের বুক যেন খালি না হয়।’

    তিনি আরও জানান, কুষ্টিয়ায় গড়াই নদীর ওপরে একটি সেতু তৈরির জন্য এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছেন। সেতু না থাকায় প্রায় ৩০ হাজার মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছে উল্লেখ করে সেখানে একটি সেতু তৈরির জন্য উদ্যোগ নিতে প্রধান উপদেষ্টাকে অনুরোধ করেন মোহাম্মদ বরকত উল্লাহ।

    বুয়েটের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাইয়াজ বলেন, ‘আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এখনো শিক্ষার্থীবান্ধব নয়। পড়াশোনার জন্য প্রয়োজনীয় ল্যাব, সরঞ্জাম ও অন্যান্য ব্যবস্থার সংকট রয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা অনেক। আমরা চাই এ সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে শিক্ষার্থীবান্ধব করতে পদক্ষেপ নেবে।’ পাশাপাশি বুয়েটে র‌যাগিং বন্ধে সরকারকে কঠোর ব্যবস্থা নিতেও অনুরোধ জানান তিনি।

    আবরার ফাইয়াজ বলেন, ‘বুয়েটে নিপীড়নের ঘটনা এটাই প্রথম না। আগেও ঘটেছে। আগে যে ঘটনাগুলো ঘটেছে সেগুলোর তদন্ত ও বিচার করা প্রয়োজন।’

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আবরার ফাহাদকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে মারার ঘটনাটি পুরো জাতিকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার সম্পন্ন হবেই। চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আগে আওয়ামী লীগ ও এর সংগঠনের দলীয় সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহতের তালিকা করে প্রত্যেকটি ঘটনা তদন্ত করা হবে। এর পাশাপাশি তৎকালীন সরকারের নির্দেশে রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে যে হত্যাকাণ্ড হয়েছে সেগুলো নিয়েও তদন্ত কাজ চলছে। সরকার ইতোমধ্যেই ব্যবস্থা নিয়েছে।’

  • মাইলস্টোনের হতাহতদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে সরকার

    মাইলস্টোনের হতাহতদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে সরকার

    মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবার এবং আহতদের চিকিৎসাসেবায় প্রয়োজনীয় সকল সহায়তা প্রদান করবে সরকার।

    আজ বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

    এই বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

    প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

    উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবার এবং আহতদের সহায়তার লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় স্কুল কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে।

    বৈঠকের শুরুতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। তাঁদের আত্মার প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়।

    এছাড়া উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে স্কুলের নিহত দুজন শিক্ষককে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এই সম্মাননার বিস্তারিত অতিদ্রুত নির্ধারণ করা হবে।

    নিহতদের আত্মার মাগফিরাত ও আহতদের সুস্থতা কামনা করে আগামীকাল সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ প্রার্থনার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

  • মাইলস্টোন স্কুলে মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে গুজব অস্বীকার করেছে আইএসপিআর

    মাইলস্টোন স্কুলে মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে গুজব অস্বীকার করেছে আইএসপিআর

    মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে গুজব অস্বীকার করেছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।

    আইএসপিআর-এর পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সামি-উদ-দৌলা চৌধুরী বলেছেন, ‘সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক গুজব ছড়ানো হচ্ছে। অনেকেই না বুঝে এসব গুজব বিশ্বাস করছেন।’

    তিনি বলেন, ‘আমাদের সন্তানদের বিষয়ে কোনো তথ্য গোপন করার ইচ্ছে নেই। ঘটনার পরপরই কোনো পূর্ব নির্দেশনা ছাড়াই বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার মাধ্যমে দ্রুত সাড়া দিয়েছে। যেমনটি সব সময় করে থাকে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘আমি নিজে এবং আইএসপিআর টিম সরাসরি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম।’

    গতকাল বুধবার আইএসপিআর-এর পরিচালক গণমাধ্যমকে এ কথা জানান।

    তিনি বলেন, ‘আইএসপিআরের পরিচালক হিসেবে আমি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করছি- যে কোনো গণমাধ্যম চাইলেই এ বিষয়ে তদন্ত করতে পারে। সেনাবাহিনীসহ যে কাউকে বা সংশ্লিষ্ট যে কোনো স্থান পরিদর্শন করতে পারে। আমরা সর্বোচ্চ সহায়তা করতে প্রস্তুত আছি। পাশাপাশি আপনাদের যে কোনো প্রয়োজনে সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা করব।’ সুত্রঃ বাসস

  • শিক্ষার্থীর আইডি কার্ডে রক্তের গ্রুপ ও অভিভাবকের ফোন নাম্বার উল্লেখের নির্দেশ হাইকোর্টের

    শিক্ষার্থীর আইডি কার্ডে রক্তের গ্রুপ ও অভিভাবকের ফোন নাম্বার উল্লেখের নির্দেশ হাইকোর্টের

    শিক্ষার্থীদের আইডি কার্ডে অভিভাবকের ফোন নাম্বার ও শিক্ষার্থীর রক্তের গ্রুপ উল্লেখের ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

    মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্তের প্রেক্ষাপটে জনস্বার্থে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এ আর রায়হানের আনা এক রিটের শুনানি শেষে আজ বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি সৈয়দ জাহেদ মনসুরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ রুলসহ এই নির্দেশনা দেন বলে জানিয়েছেন রিটের পক্ষের আইনজীবীরা।

    আজ হাইকোর্ট তার আদেশে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিধ্বস্ত হয়ে ছাত্র-ছাত্রীসহ বহু হতাহতের ঘটনায় কারণ অনুসন্ধানে সাত দিনের মধ্যে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। সেই সাথে এই কমিটিকে আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

    অন্তর্বর্তীকালীন এসব আদেশের পাশাপাশি হাইকোর্ট ক্ষতিপূরণ বিষয়ে রুল জারি করেছেন।

    রুলে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্তে নিহতদের ৫ কোটি টাকা ও আহতদের ১ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেয়ার প্রশ্নে রুল জারি করেছেন এবং আহতদের দেশে কিংবা প্রয়োজনে বিদেশে পর্যাপ্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে বলেও জানান রিটের পক্ষের আইনজীবীরা।

    আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন- সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, এডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজল ও এডভোকেট ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া।

    রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন- ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শফিকুর রহমান, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তানিম খান, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইকরামুল কবির ও মো. ঈসা। সুত্রঃ বাসস