বেওয়ারিশ চিকিৎসা ও পূর্ণ বাসন কেন্দ্র অসহায় মানুষের আশ্রয় স্থল


মোঃ আতিক উল্লাহ চৌধুরী, চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ

চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ লিংক রোডে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা শামুছুননাহার নামে এক বৃদ্ধা মায়ের আশ্রয় স্থল হলো বেওয়ারিশ চিকিৎসা ও পূর্ণ বাসন কেন্দ্রে।

আজ ২৮শে আগষ্ট বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের সেচ্ছাসেবী সংগঠন স্মাইল বাংলাদেশ এর সহযোগিতায় তাকে বেওয়ারিশ চিকিৎসা ও পূর্ণ বাসন কেন্দ্রে আনা হয়। স্মাইল বাংলাদেশ এর

সভাপতি জানান, নজরুল ইসলাম জয় জানান, ছেলে ঘর থেকে বের করে দিয়েছে বাবা-মাকে,দুই বছর ধরে এক বৃদ্ধ দম্পতি মানবেতর জীবনযাপন করছেন রাস্তার পাশে একটি ঝুপড়িতে।বৃদ্ধা মা শামসুন্নাহার (বাড়ি বরিশাল) কয়েকদিন ধরে অসুস্থ হয়ে শারীরিক কষ্টে ভুগছেন।রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে তার অসুস্থতা আরও বাড়ছে প্রতিদিন।

সম্প্রতি এক ভাই ফেসবুকে পোস্ট করে প্রশ্ন তুলেছিলেন—কেউ কি এই বৃদ্ধ দম্পতিকে কোথাও আশ্রয় দিতে পারেন?সেই পোস্টে অনেকে Smile Bangladesh -এর কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন অনেকে।

বৃহস্পতিবার সকালে আমাদের টিম সরেজমিনে গিয়ে শামসুন্নাহারের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারে— একমাত্র ছেলে তাদের ঘর থেকে বের করে দিয়েছে। এরপর একজন দয়ালু মানুষ ভাড়া না নিয়েই নিজের বাসায় আশ্রয় দিয়েছিলেন। কিন্তু কিছুদিন আগে সেই ভদ্রলোক মারা গেলে তার পরিবার আর রাখতে পারেনি।তারপর থেকে এই বৃদ্ধ দম্পতি রাস্তায় আশ্রয়হীনভাবে দিন কাটাচ্ছেন।এখন এলাকাবাসীর একটাই দাবি—তাদের যেন একটি নিরাপদ আশ্রয়ে রাখা হয়, নাহলে এই অসুস্থ বৃদ্ধ মায়ের শারিরীক পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে।আমরা চাচ চাচি দুই জনকে বেওয়ারিশ চিকিৎসা ওপূর্ণবাসন বৃদ্ধাশ্রমে নিয়ে যাই, দুই জনকে ওখানে থাকার ব্যবস্তা করাহয় কিন্তু চাচা ওখানে থাকবেনা উনি বলেন আমি মুটামুটি সুস্থ আছি ভিক্ষা করে চলতেপারব,তোমার চাচি অসুস্থ ও এখানে থাকার সুযোগ পাইছে আমার মনটা শান্তি হইছে।আমি মাঝে মধ্যে আইসা দেইখা যামু এটা বলে চোখের জ্বল মুছতে মুছতে বেরিয়ে যায়।

সবাই দোয়া করবেন আল্লাহ যেন এই অসহায় মা-বাবাকে সুস্থ রাখেন। দেশে হাজারো প্রবীণ মানুষ আছেন, যারা জীবনের শেষ অধ্যায়ে এসে নিঃসঙ্গতা, অভাব ও অনাদরের শিকার হন। কেউ পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন, কেউবা সন্তানদের অবহেলার শিকার হয়ে রাস্তায় আশ্রয় নেন।

এই বৃদ্ধদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তুলতে বেওয়ারিশ চিকিৎসা ও পূর্ণ বাসন নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। এই চিকিৎসা কেন্দ্র শুধু মাথা গোঁজার ঠাঁই নয়, এখানে তাদের জন্য রয়েছে সুষ্ঠু যত্ন, স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টিকর খাবার, বিনোদন এবং মানসিক সান্ত্বনার ব্যবস্থা।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *