আবু তাহের, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাককানইবি) ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আবারও সরব হয়েছেন। তাদের দাবি, শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায় ও বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বচ্ছ-জবাবদিহিমূলক পরিবেশ গড়ে তুলতে ছাত্র সংসদ গঠন এখন সময়ের দাবি।
২০০৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ছাত্র সংসদ গঠনের প্রয়োজনীয়তা শিক্ষার্থীরা তুলে ধরলেও ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের পর বিষয়টি নতুনভাবে গুরুত্ব পায়। তখন থেকেই শিক্ষার্থীরা নির্বাচন আয়োজন, গঠনতন্ত্র প্রণয়ন ও রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু অভ্যুত্থানের এক বছরেরও বেশি সময় পার হলেও এ বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি প্রশাসন।
সম্প্রতি বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের প্রতি দ্রুততম সময়ের মধ্যে রোডম্যাপ ঘোষণা ও নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইমরান হোসেন প্রধান বলেন, “ছাত্র সংসদ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের প্রধান প্ল্যাটফর্ম। আমরা চাই দ্রুত একটি যুগোপযোগী গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করে নির্বাচন সম্পন্ন করা হোক।”
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাদ কবির বলেন, “জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমরা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অর্জন করেছি। কিন্তু ছাত্র সংসদ না থাকায় শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক চর্চা ও নেতৃত্ব বিকাশের সুযোগ সীমিত হয়ে আছে। তাই অবিলম্বে নির্বাচনের রোডম্যাপ প্রকাশ করতে হবে।”
প্রাক্তন শিক্ষার্থী জেনাস ভৌমিক বলেন, “ছাত্র সংসদ না থাকায় একদিকে প্রশাসনিক স্বৈরাচার জেঁকে বসেছে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীরা রাজনৈতিক সংগঠনের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ছে। সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে অবিলম্বে ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজন জরুরি।”
ফোকলোর বিভাগের শিক্ষার্থী ঐশ্বর্য সরকার বলেন, “জুলাই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল ছাত্র সংসদ। এটি শুধু একটি সংগঠন নয়; শিক্ষার্থীদের অধিকার, মর্যাদা ও স্বপ্নের প্রতীক। প্রশাসন দ্রুত রোডম্যাপ ঘোষণা না করলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান বলেন, “বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবিধানে ছাত্র সংসদ সংক্রান্ত কোনো স্পষ্ট উল্লেখ নেই। এ কারণে সিন্ডিকেট সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং রোডম্যাপ প্রণয়নের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সুপারিশ হাতে এলে নির্বাচনের কাঠামো ও সময়সীমা নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।”
শিক্ষার্থীরা আশা করছেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেবে এবং গণতান্ত্রিক চর্চার সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন বাস্তবায়িত হবে।