প্রতিবেদক: মো: জিসান রহমান
বর্তমান সময়ের অন্যতম আলোচিত প্রযুক্তি চ্যাটজিপিটি কেবলমাত্র একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট নয়, বরং এটি হয়ে উঠছে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত শিক্ষক। বিশেষ করে ইংরেজি ভাষা শেখার ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। অনেকেই এখন ঘরে বসে, বই ছাড়া কিংবা কোচিংয়ে না গিয়ে চ্যাটজিপিটির সাহায্যে ইংরেজি চর্চা করে নিজেদের দক্ষ করে তুলছেন।
বাংলাদেশের অনেক শিক্ষার্থী, যারা গ্রামাঞ্চলে বসবাস করে কিংবা ব্যয়বহুল কোচিং সেন্টারে যেতে পারে না, তারা এখন মোবাইল ফোনে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে শুদ্ধভাবে ইংরেজি পড়তে ও লিখতে শিখছে। কেউ কেউ প্রতিদিন নতুন শব্দ শিখছে, কেউ আবার নিজেই প্রশ্ন তৈরি করে উত্তর দিয়ে নিজের জ্ঞান যাচাই করছে। কেউ কেউ চ্যাটজিপিটিকে দিয়ে নিজের লেখা প্যারাগ্রাফ, ইমেইল কিংবা রচনার ভুল ধরিয়ে নিচ্ছে।
ইংরেজি গ্রামারের বিভিন্ন নিয়ম যেমন Tense, Voice, Narration ইত্যাদি চ্যাটজিপিটি খুব সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করে দেয়। আবার, ইংরেজি থেকে বাংলা বা বাংলা থেকে ইংরেজি অনুবাদ চর্চার জন্যও এটি অত্যন্ত কার্যকর। এমনকি আইইএলটিএস, বিসিএস কিংবা ব্যাংক পরীক্ষার জন্য ইংরেজি প্রস্তুতিতেও অনেকেই এখন এই টুলটি ব্যবহার করছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইংরেজি শেখার জন্য প্রতিদিন নিয়ম করে চ্যাটজিপিটির সাহায্যে অনুশীলন করলে ধীরে ধীরে গ্রামার, শব্দভাণ্ডার ও বাক্য গঠনের উপর এক ধরনের দখল তৈরি হয়। আর সবচেয়ে বড় কথা, এখানে ভুল করলে কেউ হাসে না কিংবা তিরস্কার করে না, বরং চ্যাটজিপিটি ধৈর্য ধরে বুঝিয়ে দেয়, ঠিক কোন জায়গায় ভুল হয়েছে এবং কীভাবে তা ঠিক করতে হবে।
চাটজিপিটির মাধ্যমে শেখার এই পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়াচ্ছে, ইংরেজির প্রতি ভয়ভীতিকে দূর করছে। একজন শিক্ষার্থী চাইলে এটিকে দিয়ে ইংরেজি ভাষায় গল্প লেখাও অনুশীলন করতে পারে, এমনকি চ্যাটজিপিটির সঙ্গে ইংরেজিতে কথোপকথনের মাধ্যমে নিজের স্পিকিং স্কিলও বাড়াতে পারে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, চ্যাটজিপিটি কেবল একটিমাত্র অ্যাপ নয়, এটি এক নতুন যুগের শিক্ষক, যা ভবিষ্যতের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও সহজ, সাশ্রয়ী ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক করে তুলছে। শুধু প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার জানলে আজকের যেকোনো শিক্ষার্থী নিজের ঘরেই ইংরেজি শেখার একটি পূর্ণাঙ্গ পরিবেশ গড়ে তুলতে পারে।