আবু বকর সুজন, চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি :
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে নিজ মালিকীয় ভূমিতে নির্মাণকাজ চলমান অবস্থায় অব: সেনাসদস্য জয়নাল আবেদীন ও তার প্রতিবন্ধী পুত্রের উপর একাধিকার হামলার অভিযোগ করেছেন। শুক্রবার (২৮শে মার্চ) দুপুরে উপজেলার মুন্সীরহাট ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামে ভূমিদস্যু মোশারফ ও তার ৫ ছেলের অব্যাহত হামলা ও হুমকি থেকে বাঁচতে প্রাণভয়ে তিনি এ সংবাদ সম্মেলন করেন বলে জানান।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, আমি অব:প্রাপ্ত সেনা সদস্য। মুন্সীরহাট ভূমি অফিসের আওতাধীন হাড়ীমুড়া মৌজার বিএস চুড়ান্ত ৩৮নং খতিয়ানের রেকর্ডীয় মালিক আবদুল হামিদ উক্ত খতিয়ানের ৪৫৫ দাগে ৩২শতক, ১৮৪ দাগে ৫৬শতকসহ মোট- ৮৮শতক ভূমিতে ৩পুত্র ওয়ারীশ রাখিয়া মারা যান। মৃত আব্দুল হামিদের ওয়ারীশপুত্র খোরশেদ আলম ওয়ারীশসূত্রে মালিক হয়ে ২০১৬ সালের ২৩শে মার্চ ৮১১নং হেবার ঘোষনাপত্র মুলে হাল ৪৫৫ দাগে ১৪.৫৫শতাংশ ভূমি তাহার পুত্র কামরুল ইসলামকে প্রদান করেন।
কামরুল ইসলাম উক্ত দলিলমূলে নামজারী ও জমাখারিজ মোকদ্দমা নং- ১০,১০৩/২০২১-২২মূলে সৃজিত ২৩৯নং খতিয়ানে ৪৫৫ দাগে ১০.৬৬শতাংশ ভূমি নিজ নামে খতিয়ান করেন। পরবর্র্তীতে কামরুল ২০২৩ সালের ১৯শে অক্টোবর ৯২০৮নং সাফকবলা দলিলমূলে বিএস চুড়ান্ত ৪৫৫ দাগে ১০.৬৬শতাংশ ভূমি আমার ২ ছেলে শাহাদাত ও আনোয়ারের নিকট বিক্রি করিয়া মালিকানা হস্তান্তর করেন ও দখল বুঝাইয়া দেন। আমার ছেলেরা উক্ত দাগের ১০.৬৬শতাংশ ভূমিতে মালিক হয়ে নামজারী ও জমাখারিজ মোকদ্দমা নং- ৬,০৮৭/২০২৩-২৪মূলে সৃজিত ২৯৩নং খতিয়ানে ৪৫৫ দাগে ১০.৬৬শতাংশ ভূমি নিজ নামে খতিয়ান করেন।
আব্দুল হামিদের অপর ওয়ারীশ মোশারফ হোসেনের স্ত্রী কহিনুর বেগম বিজ্ঞ আদালতে নামজারী আপীল মোকদ্দমা নং- ৪৮১/২০২২-২৩ দায়ের করিলে বিজ্ঞ আদালত ৪৫৫ দাগে প্রত্যেক ওয়ারীশ সমান হিস্যায় ১০.৬৬শতাংশ ভূমিতে মালিক মর্মে রায় প্রদান করেন। এছাড়াও সামাজিকভাবে তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বারসহ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে একাধিক বৈঠকেও আব্দুল হামিদের তিন ছেলে সমান হিস্যায় মালিক মর্মে রায় প্রদান করেন এবং জয়নাল আবেদীনের ছেলেদের মালিকানা বৈধ বলে ঘোষনা করা হয়। মোশারফ গং এতেও ক্ষান্ত না হয়ে আমার ছেলেদের দখল নেই মর্মে আদালতে ৩৫/২০২৪ নং দেওয়ানী মামলা দায়ের করেন। উক্ত দেওয়ানী মামলার প্রেক্ষিতে মুন্সীরহাট ইউনিয়ন ভূমি অফিস সরেজমিনে তদন্ত করে আমার ছেলেদের দখলে ৪৫৫ দাগে ১০.৬৬শতাংশ ভূমি রয়েছে মর্মে প্রতিবেদন দায়ের করেন।
মোশারফ ও তার ছেলেরা রাষ্ট্রিয় আইনে, সামাজিকভাবে ব্যর্থ হয়ে আমার মালিকানাধীন ভূমিতে নির্মাণ কাজ চলমান অবস্থায় গত ০৫ই মার্চ বিকেলে আরও অন্তত ৮-১০জন সন্ত্রাসীসহ আমার প্রতিবন্ধী ছেলে সোহরাব হোসেনকে তাদের বাড়িতে তুলে নিয়ে যায়।।
সংবাদ সম্মেলণে উপস্থিত থেকে জয়নাল আবেদীনের সকল দাবী সত্য মর্মে বক্তব্য রাখেন মোশারফের ভাই খোরশেদ আলম, ফজলুর রহমান, ইয়াকুব শরীফ, মাষ্টার আইয়ুব আহমেদ।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগের বিষয়ে
মোশারফ ও তার স্ত্রী কহিনুর দাবী করেন, মামলা চলমান অবস্থায় জয়নাল আবেদীন উক্ত বিবাধমান ভুমি ক্রয় করেন। বিবাধমান ভূমিতে দখলে যাওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের উপরও একাধিকবার হামলা হয়েছে বলেও দাবী করেন তারা।