
রাশিয়া ইউক্রেনের বাইরে সংঘাত ছড়িয়ে দিতে পারে—এমন আশঙ্কাকে সামনে রেখে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ সামরিক ও বেসামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে। নিরাপত্তা অবকাঠামো, সীমান্ত প্রতিরক্ষা এবং জরুরি সেবাকে প্রস্তুত রাখতে একের পর এক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুওয়ালকি করিডোরের কাছে রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র বেলারুশের সাম্প্রতিক বৃহৎ সামরিক মহড়া ন্যাটোর জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়ার মধ্যবর্তী এই করিডোর বাল্টিক দেশগুলোর সঙ্গে ন্যাটোর মূল ভূখণ্ডের একমাত্র স্থল সংযোগ হওয়ায় অঞ্চলটিকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়।
সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় যুক্তরাজ্য নাগরিকদের ক্যানজাত খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানীয় জল মজুত রাখার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির সেনাপ্রধান বর্তমান সময়কে গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জও হাসপাতালগুলোকে সম্ভাব্য জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ হাইব্রিড হামলা থেকে জাতীয় অবকাঠামো সুরক্ষায় নতুন উদ্যোগ নিয়েছেন। পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টুস্ক রুশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সম্ভাবনা নিয়ে সতর্ক করেছেন। দীর্ঘদিনের নিরপেক্ষ দেশ সুইজারল্যান্ডও সম্ভাব্য সশস্ত্র হামলা মোকাবিলায় নতুন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল অনুমোদন করেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ন্যাটোর প্রতিক্রিয়া যাচাই করতে রাশিয়া সাইবার হামলা, নাশকতা, অগ্নিসংযোগ ও ড্রোন অনুপ্রবেশের মতো তথাকথিত ‘গ্রে জোন’ কৌশল ব্যবহার করছে বলে পশ্চিমা দেশগুলোর আশঙ্কা। ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে সম্ভাব্য হামলার জবাবে কঠোর প্রতিক্রিয়ার কথা জানিয়েছেন। পাশাপাশি ইউক্রেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ইউরোপজুড়ে বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্যসেবা ও যোগাযোগ অবকাঠামোর নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হচ্ছে।
সূত্র: সিএনএন