
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (মমেক) আগুনের আতঙ্কে রোগী ও স্বজনদের ছোটাছুটির সময় পদদলিত হয়ে নিহত হন ফুলবাড়িয়ার বিদ্যানন্দ গ্রামের রমজান আলী (৩৮)। একমাত্র উপার্জনক্ষম স্বামীকে হারিয়ে তার দুই অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী এখন চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
নিহত রমজান আলীর প্রথম স্ত্রী খাদিজা আক্তার জানান, তাদের কোনো অর্থ-সম্পদ নেই। স্বামীই ছিলেন সংসারের একমাত্র ভরসা। সুস্থ করে বাড়ি ফিরিয়ে নেওয়ার আশায় স্বামীকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্বামীর মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফিরতে হয়েছে।
খাদিজা আক্তার বলেন, “আমি স্বামীর ক্ষতিপূরণ চাই। আমার কোনো অর্থ-সম্পদ নেই, চলার মতো কোনো পথও নেই। আমি স্বামীকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলাম সুস্থ করে বাড়ি নিয়ে আসব বলে। কিন্তু আমার স্বামী এখানেই মারা গেল। আমার চারটি সন্তান। আবার আমি গর্ভবতী। আমার স্বামী সিএনজি চালিয়ে সংসার চালাতেন। এখন আমি কী খাব, সন্তানদের কীভাবে বড় করব, কিছুই বুঝতে পারছি না।”
নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী খাতিজা আক্তারও অন্তঃসত্ত্বা। স্বামীর মৃত্যুর পর এক সন্তানকে নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন তিনি। তার নিজের কোনো ঘরবাড়ি নেই। স্বামী যে ছোট একটি ঘর নির্মাণ করছিলেন, সেটিও এখনো সম্পূর্ণ হয়নি।
খাতিজা আক্তার বলেন, “আমার স্বামী ফোন দিয়ে বলেছিল, আমি আসতেছি, সুস্থ হয়ে গেছি। কিন্তু সে আর বাড়িতে আসতে পারল না। আমার স্বামীকে চাই। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কারণে যদি এমন হয়ে থাকে, তাহলে আমি তাদের শাস্তি চাই।”
তিনি আরও বলেন, আগে গার্মেন্টসে চাকরি করে সংসার চালাতেন। বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় কাজ করতে পারছেন না। তিনি বলেন, “আমার এই মেয়েকে নিয়ে কোথায় যাব? কে আমাদের খাওয়াবে? আমার বাড়িঘর কিছুই নেই।”
খাতিজা জানান, সিএনজি চালিয়েই তাদের সংসার চলত। অনেক কষ্ট করে সিএনজিটি কিনেছিলেন তারা, যার ঋণ এখনো পরিশোধ হয়নি। স্বামী মারা যাওয়ার পর সেই ঋণ কীভাবে শোধ করবেন, তা নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আগুনের খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালের বিভিন্ন তলা থেকে রোগী ও স্বজনরা আতঙ্কিত হয়ে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতে থাকেন। এ সময় কয়েকজন আহত হন। জরুরি বিভাগের রেজিস্টারে চারজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনার তথ্য লিপিবদ্ধ করা হয়।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, “একজন নার্স তাৎক্ষণিকভাবে রেজিস্টারে তথ্য লিখেছিলেন। তবে ওই চারজন পদদলিত হয়ে মারা গেছেন, এমন কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই। তাদের শরীরেও পদদলিত হওয়ার কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি।”
তিনি আরও বলেন, লিফটে আগুন লাগার ঘটনায় কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্ত কমিটি খতিয়ে দেখবে। কারও গাফিলতি পাওয়া গেলে বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে।