
বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার সাবোখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় খোলা আকাশের নিচে বটতলায় ক্লাস নিতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। এতে পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়ে বর্তমানে ২২৪ জন শিক্ষার্থী নিয়মিত ক্লাস করছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় সংখ্যক শ্রেণিকক্ষ না থাকায় কয়েকটি শ্রেণির পাঠদান বিদ্যালয়ের বটতলায় পরিচালনা করতে হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিপদ ভঞ্জন মণ্ডল বলেন, ‘উপযুক্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় কয়েকটি ক্লাস বটতলায় বসে করাতে হচ্ছে। বিষয়টি আমাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক। বিদ্যালয়ে একটি নতুন চারতলা ভবন নির্মাণ করা জরুরি।’
তিনি জানান, নতুন ভবন নির্মাণের জন্য ইউএনওর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা নিশ্চিত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
শিক্ষার্থীরা জানায়, বিদ্যালয়ের ভবনের বিভিন্ন স্থানে পলেস্তারা খসে পড়ছে। ফ্লোর ও দেয়ালে ফাটল রয়েছে। বর্ষাকালে টিনের চাল দিয়ে পানি পড়ে। এছাড়া হোয়াইট বোর্ড নষ্ট হয়ে গেছে এবং ডিজিটাল ক্লাসের কোনো ব্যবস্থা নেই। শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে অনেক সময় বটতলায় ক্লাস করতে হয়।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. আব্দুস শাকুর বলেন, ‘শ্রেণিকক্ষের অভাবে অনেক ক্লাস খোলা আকাশের নিচে বটতলায় করাতে হচ্ছে। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অনেক কষ্ট হয়। কিন্তু বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় কিছু করার নেই। বিদ্যালয়ের জন্য একটি নতুন ভবন খুবই প্রয়োজন।’
বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির (এসএমসি) সভাপতি লিমন বিশ্বাস ইউনুস বলেন, ‘১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়ে প্রায় আড়াইশ শিক্ষার্থী রয়েছে। কিন্তু তাদের পাঠদানের পর্যাপ্ত জায়গা নেই। তাই অবিলম্বে একটি নতুন চারতলা ভবন নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, কিছু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম থাকা সত্ত্বেও চারতলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। অথচ এই বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় শ্রেণিকক্ষের সংকট রয়েছে।
এ বিষয়ে চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তার জানান, তিনি ইতোমধ্যে বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেছেন। বিদ্যালয়ের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।