সাকিব হাসান নাইম, ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
১২৫ একর জমি, অথচ সেচের ভরসা মাত্র একটি গভীর নলকূপ। চাহিদার তুলনায় পানি সরবরাহ কম হওয়ায় সময়মতো সেচ দিতে পারছেন না কৃষকরা। এতে পানির অভাবে ফেটে যাচ্ছে জমি, আর আমন ধানের ফলন নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা।
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নূরজাহানপুর গ্রামের কৃষকদের এমন দুর্ভোগের চিত্র উঠে এসেছে। দ্রুত আরেকটি গভীর নলকূপ স্থাপনের দাবিতে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টায় ঘোড়াঘাট উপজেলা পরিষদ চত্বরে মানববন্ধন করেন ২৫ থেকে ৩০ জন কৃষক।
মানববন্ধনে কৃষকরা জানান, একটি গভীর নলকূপের ওপর নির্ভর করে প্রায় ১২৫ একর জমিতে সেচ দিতে হচ্ছে। কিন্তু জমির পরিমাণ বেশি হওয়ায় পর্যায়ক্রমে পানি দিতে গিয়ে অনেক কৃষকের জমিতে সময়মতো সেচ পৌঁছাচ্ছে না।
তাদের অভিযোগ, প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ দিন আগে আমন ধানের চারা রোপণ করা হলেও পর্যাপ্ত পানি না পাওয়ায় অনেক জমি শুকিয়ে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও মাটিতে ফাটল ধরেছে। এ অবস্থায় সময়মতো সেচ দিতে না পারলে ধানের ফলন মারাত্মকভাবে কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
কৃষকদের ভাষ্য, চলতি মৌসুমে প্রতি বিঘা জমিতে বীজ, সার ও কীটনাশক বাবদ ইতোমধ্যে প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এখন সেচের অভাবে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেই বিনিয়োগও অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।
কৃষক সুরুজ মিয়া বলেন, “এই জমির ফসল দিয়েই আমাদের সারা বছরের সংসার চলে। সময়মতো পানি না পেলে ধানের ফলন কমে যাবে। দ্রুত আরেকটি গভীর নলকূপ স্থাপন করা না হলে আমরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ব।”
কৃষক সামছুল ইসলাম বলেন, “একটি নলকূপ দিয়ে এত জমিতে সময়মতো পানি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। অনেক জমি শুকিয়ে গেছে, মাটিতে ফাটল ধরেছে। আরেকটি গভীর নলকূপ এখন আমাদের জন্য খুবই জরুরি।”
এ বিষয়ে বিএডিসির উপসহকারী প্রকৌশলী ও উপজেলা সেচ কমিটির সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান সুজন বলেন, “আমরা বিষয়টি সম্পর্কে জানি এবং অবগত আছি। আবার বিষয়টি সুবিবেচনাপূর্বক পুনরায় তদন্ত করে একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হবো।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা সেচ কমিটির সভাপতি রুবানা তানজিন বলেন, “সেচের একটি নীতিমালা রয়েছে। নীতিমালার বাইরে কিছু করা সম্ভব নয়। নীতিমালার মধ্যে থাকলে কেউ আবেদন করলে অবশ্যই লাইসেন্স পেয়ে যাবে।”
কৃষকদের দাবি, আমন মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই তাদের জমিতে পর্যাপ্ত সেচ নিশ্চিত করতে দ্রুত নতুন একটি গভীর নলকূপ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হোক। তা না হলে পানির অভাবে চলতি মৌসুমের আমন আবাদে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।