
দেশে সারের সরবরাহ নিয়ে কৃষকদের অভিযোগের মধ্যেই চট্টগ্রাম উপকূল দিয়ে মিয়ানমারে পাচারের চেষ্টাকালে মাত্র দুই দিনে ৩১ দশমিক ৫ টন সার জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড। এর আগে জুলাইয়ের শেষদিকে আরও ২২ দশমিক ৫ টন ডিএপি সার জব্দ করা হয়েছিল। তিন দফা অভিযানে মোট প্রায় ৫৪ টন সার উদ্ধার হয়েছে।
সর্বশেষ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪টার দিকে চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর থানার দারবিরখাল এলাকায় কোস্ট গার্ড বেইস চট্টগ্রাম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায়। এ সময় একটি ট্রাক থেকে মাছ ধরার নৌযানে সার স্থানান্তরের সময় ২২০ বস্তায় থাকা ১১ হাজার কেজি (১১ টন) রাসায়নিক সার জব্দ করা হয়। জব্দ করা সারের আনুমানিক মূল্য ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক এবং সার পরিবহনে ব্যবহৃত ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, জব্দ করা সার, ট্রাক ও আটক ব্যক্তিদের আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য হালিশহর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এর আগের দিন, ১ সেপ্টেম্বর সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪১০ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করে কোস্ট গার্ড। ৫০ কেজি ওজনের এসব বস্তায় মোট ২০ হাজার ৫০০ কেজি বা ২০ দশমিক ৫ টন সার ছিল, যার আনুমানিক মূল্য ১৪ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। কোস্ট গার্ড জানায়, সারগুলো মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছিল। এ সময় একটি নৌযানও জব্দ করা হয়। এর আগে ৩০ জুলাই পতেঙ্গার বহির্নোঙর ও ১৫ নম্বর জেটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪৫০ বস্তা ডিএপি সার, একটি কার্গো বোট এবং ২৩ জনকে আটক করা হয়েছিল।
এদিকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় কৃষকদের অভিযোগ, নির্ধারিত দামে প্রয়োজনীয় সার পাওয়া যাচ্ছে না, অনেক স্থানে ডিলারদের কাছে সরবরাহ কম এবং খোলা বাজারে বেশি দামে সার বিক্রি হচ্ছে। যদিও সরকারের দাবি, দেশে সারের কোনো সংকট নেই; পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, তবে কিছু এলাকায় সরবরাহ ও বিতরণে সমস্যা দেখা দিয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আমদানি কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। ২ সেপ্টেম্বর সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে মরক্কো থেকে ৪০ হাজার টন ডিএপি ও ৩০ হাজার টন টিএসপি আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর আগে আগস্ট মাসেও সৌদি আরব, রাশিয়া, মরক্কো, কানাডা ও কেএএফকো থেকে কয়েক লাখ টন সার আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সরকার যখন কৃষকের চাহিদা পূরণে সারের আমদানি বাড়াচ্ছে, তখন দেশের ভেতর থেকে মিয়ানমারে পাচারের চেষ্টা ধরা পড়ায় সরবরাহ ব্যবস্থার নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম উপকূলে অল্প সময়ের ব্যবধানে একাধিক চালান জব্দ হওয়ার ঘটনায় এসব সারের উৎস ও পাচারচক্র শনাক্তের দাবি জোরালো হয়েছে। কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, চোরাচালানবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।