
কারাগারে থাকা পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক ক্রিকেট অধিনায়ক ইমরান খানের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পাকিস্তান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্বের ২১ জন সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অধিনায়ক। এ দাবিতে রোববার তারা দেশটির সরকারের কাছে একটি যৌথ চিঠি পাঠিয়েছেন।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, চিঠিতে ভারতের সাবেক অধিনায়ক সুনীল গাভাস্কার ও কপিল দেবসহ বিভিন্ন দেশের সাবেক ক্রিকেট অধিনায়করা স্বাক্ষর করেছেন। ইমরান খান ২০২৩ সাল থেকে কারাগারে রয়েছেন। গত বছরের শেষ দিকে দুর্নীতির এক মামলায় তাকে ও তার স্ত্রীকে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে তারা এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
৭৩ বছর বয়সী ইমরান খানকে শুক্রবার আদালতের নির্দেশে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হলেও কয়েক ঘণ্টা পর আবার কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। এর আগে চলতি সপ্তাহে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট তাকে চিকিৎসার জন্য ইসলামাবাদের বেসরকারি শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ দেন। তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আইনজীবীরা আবেদন করলে আদালত এ নির্দেশ দেন।
চিঠিতে সাবেক অধিনায়কেরা তিনটি দাবি তুলে ধরেছেন। তারা বলেছেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত মেডিকেল বোর্ডকে ইমরান খানের পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার সুযোগ দিতে হবে। বিশেষ করে তার ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পরীক্ষা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাপ্তাহিক সাক্ষাৎ নিয়মিত চালু রাখা এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর চিকিৎসকদের পরামর্শ দ্রুত বাস্তবায়নেরও দাবি জানানো হয়েছে।
চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে আরও রয়েছেন ভারতের দিলীপ ভেংসরকার; ইংল্যান্ডের মাইকেল আথারটন, মাইকেল ব্রিয়ারলি, নাসের হুসেইন, অ্যান্ড্রু স্ট্রস ও ডেভিড গাওয়ার; অস্ট্রেলিয়ার অ্যালান বোর্ডার, ইয়ান চ্যাপেল, বেলিন্ডা ক্লার্ক, অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, স্টিভ ওয়াহ ও কিম হিউজ; ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্লাইভ লয়েড এবং নিউজিল্যান্ডের জন রাইট।
ইমরান খান ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। ইমরান খান ও তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দাবি করে আসছে, এসব মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ২০২৩ সালের মে মাসে তার গ্রেপ্তারের পর পাকিস্তানজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে, যার একাংশ সহিংসতায় রূপ নেয় এবং শত শত মানুষ গ্রেপ্তার হন।