
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ব্যক্তি থেকে রাষ্ট্র—সব পর্যায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করতে হবে। ইনসাফের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস না করারও আহ্বান জানান তিনি।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেলে রাজশাহী জেলা পরিষদ মিলনায়তনে রাজশাহী জেলা জামায়াতে ইসলামীর ষান্মাসিক রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান। রাজশাহী জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আব্দুল খালেকের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মো. গোলাম মুর্তজার সঞ্চালনায় আয়োজিত সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, রাজশাহী অঞ্চলের সহকারী পরিচালক অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম এবং রাজশাহী মহানগর আমির ড. মাওলানা কেরামত আলী এমপি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দায়িত্বশীলদের আচরণ ও কর্মকাণ্ডে ন্যায়, সততা এবং জবাবদিহিতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে। তাঁর ভাষায়, একটি সংগঠনের প্রকৃত শক্তি শুধু সাংগঠনিক কাঠামোয় নয়, বরং দায়িত্বশীলদের চরিত্র, আমানতদারি, সততা ও মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধের মধ্যেই নিহিত। তাই ব্যক্তিগত জীবন ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সর্বোচ্চ নৈতিক মান বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, সংকটময় সময়ে দায়িত্বশীলরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ভবিষ্যতেও যেকোনো সংকট ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ধৈর্য, বিচক্ষণতা এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলার পরিচয় দিতে হবে। একই সঙ্গে জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য মানুষের পাশে থাকা, তাদের কথা শোনা এবং সমস্যা ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দেওয়ার ওপরও জোর দেন তিনি।
জামায়াতের আমির বলেন, সব দল ও মতের মানুষের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে এবং কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রতি অন্যায় আচরণ করা যাবে না। পাশাপাশি সংগঠনের ভেতরে পারস্পরিক সহযোগিতা, ঐক্য ও শৃঙ্খলা আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের কল্যাণে কার্যকর ভূমিকা রাখার মাধ্যমেই সংগঠনের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথিদের বক্তব্যেও দায়িত্বশীলদের সততা, নিষ্ঠা, আমানতদারি ও আল্লাহভীতির সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। তারা বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আরও বেশি জনসম্পৃক্ত হতে হবে এবং দল-মত নির্বিশেষে মানুষের অধিকার ও কল্যাণে কাজ করতে হবে। সম্মেলনে রাজশাহী জেলা জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল ও রুকনরা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে সংগঠনের কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, দায়িত্বশীলদের নৈতিক মান উন্নয়ন, পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং জনগণের কল্যাণে কার্যকর ভূমিকা রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।