ঢাকা জেলার অন্যতম বড় উপজেলা ধামরাইয়ের পাঁচ লাখের বেশি মানুষের চিকিৎসাসেবার প্রধান সরকারি প্রতিষ্ঠান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। তবে চিকিৎসক ও জনবল সংকটে ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা, বাড়ছে রোগীদের দুর্ভোগ।
মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, বহির্বিভাগে চিকিৎসার টিকিট নিতে রোগীদের দীর্ঘ সারি। তীব্র গরমের মধ্যেও লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে তাদের। হাসপাতাল সূত্র জানায়, প্রতিদিন বহির্বিভাগে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। চিকিৎসা নিতে আসা অনিক মিয়া বলেন, চিকিৎসকের পরামর্শ পেলেও সব সময় বিনামূল্যের ওষুধ পাওয়া যায় না। প্রেসক্রিপশনে সাতটি ওষুধ লেখা থাকলেও তিনি পেয়েছেন মাত্র দুটি।
৫০ শয্যার এই হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যাও ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি। শয্যা সংকটের কারণে অনেক রোগীকে মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। গত আগস্টে হাসপাতালে ৭৪ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। ভর্তি রোগীদের অভিযোগ, চিকিৎসকের দেখা একবার মিললেও প্রয়োজনের সময় তাদের পাওয়া যায় না। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই নার্সদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, এখানে চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ ১৪টি হলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন ১২ জন। এর মধ্যে ৯ জন চিকিৎসক সংযুক্তিতে ঢাকায় কর্মরত রয়েছেন। এছাড়া নার্স, টেকনোলজিস্ট, ফিল্ড স্টাফ ও অন্যান্য মিলিয়ে ১৩৫টি পদের মধ্যে প্রায় ৩০টি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। জনবল সংকটের কারণে অনেক রোগী চিকিৎসা না নিয়েই ফিরে যাচ্ছেন। আবার প্যাথলজি বিভাগে প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বাইরের ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আহমেদুল হক তিতাস বলেন, বেশ কয়েকজন চিকিৎসক সংযুক্তিতে ঢাকায় থাকায় জনবল সংকট তৈরি হয়েছে। তিনি জানান, চিকিৎসাসেবার মান উন্নত হওয়ায় রোগীর সংখ্যাও বেড়েছে। ৫০ শয্যার হাসপাতালে প্রতিদিন প্রায় দেড় হাজার রোগীকে সেবা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকসহ প্রয়োজনীয় জনবল সংকট দূর করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।