
‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ মুসলমানদের প্রতিটি কল্যাণকর কাজের সূচনায় পাঠ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। ইসলামী শরিয়তে এটি আল্লাহর প্রতি নির্ভরতা, আনুগত্য ও বরকত লাভের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত।
ইসলামী শিক্ষায় প্রতিটি ভালো ও বৈধ কাজ আল্লাহর নাম নিয়ে শুরু করতে উৎসাহিত করা হয়েছে। ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ শুধু একটি বাক্য নয়; বরং এটি একজন মুমিনের ঈমান, বিনয় ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থার প্রকাশ। ইসলামী শরিয়তে এর বহু ফজিলত ও উপকারিতার কথা উল্লেখ রয়েছে।
১. কোরআনের অনুসরণের শিক্ষা: পবিত্র কোরআনের ১১৪টি সুরার মধ্যে সুরা তাওবা ছাড়া বাকি ১১৩টি সুরা ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ দিয়ে শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে আল্লাহর নাম নিয়ে প্রতিটি কল্যাণকর কাজ শুরু করার গুরুত্ব স্পষ্ট হয়।
২. বরকত লাভের মাধ্যম: হাদিসে এসেছে, আল্লাহর নাম ছাড়া শুরু করা গুরুত্বপূর্ণ কাজ বরকত থেকে বঞ্চিত হয়। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ যদি আল্লাহর নাম নিয়ে শুরু না করা হয়, তবে তা বরকতশূন্য হয়ে যায়।” (আল-জামিউস সাগির : ৬২৬৬)
৩. আল্লাহর প্রতি নির্ভরতা বৃদ্ধি: বিসমিল্লাহ পাঠের মাধ্যমে একজন বান্দা স্বীকার করেন যে, সব শক্তি, সফলতা ও কল্যাণের মালিক একমাত্র আল্লাহ। এটি মানুষের অন্তরে তাওয়াক্কুল, বিনয় ও আত্মসমর্পণের চেতনা জাগ্রত করে।
৪. নবীদের সুন্নতের অনুসরণ: গুরুত্বপূর্ণ কাজে আল্লাহর নাম স্মরণ করা পূর্ববর্তী নবীদেরও সুন্নত। হজরত নূহ (আ.) নৌকায় আরোহণের সময় বলেছিলেন, “আল্লাহর নামেই এর চলা ও থামা।” (সুরা হুদ : ৪১)। আবার হজরত সুলায়মান (আ.)-এর রানী বিলকিসের কাছে পাঠানো চিঠিও “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম” দিয়ে শুরু হয়েছিল। (সুরা আন-নামল : ২৯-৩০)
৫. আল্লাহর রহমত লাভ: ‘রাহমান’ ও ‘রাহিম’ আল্লাহর দুটি মহান গুণবাচক নাম। তাই তাঁর নাম নিয়ে কাজ শুরু করলে আল্লাহর রহমত, দয়া ও অনুগ্রহ লাভের আশা করা যায়।
৬. কৃতজ্ঞতার প্রকাশ: ওজু, নামাজ, খাবার গ্রহণসহ প্রতিটি বৈধ কাজের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ। আল্লাহ তাআলা বলেন, “তোমরা কৃতজ্ঞ হলে আমি অবশ্যই তোমাদের আরও বৃদ্ধি করে দেব।” (সুরা ইবরাহিম : ৭)
৭. নিরাপত্তা ও হেফাজতের মাধ্যম: আনাস ইবনু মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি ঘর থেকে বের হওয়ার সময় “বিসমিল্লাহি, তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহ, ওয়া লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ” পাঠ করবে, তাকে বলা হবে, “তুমি হিদায়াতপ্রাপ্ত হয়েছ, নিরাপত্তা পেয়েছ এবং আল্লাহর হেফাজতে রয়েছ।” তখন শয়তান তার কাছ থেকে দূরে সরে যায়। (সুনানে আবু দাউদ : ৫০৯৫)
মোটকথা, ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ শুধু একটি উচ্চারণ নয়; এটি মুমিনের জীবনে বরকত, রহমত, নিরাপত্তা এবং আল্লাহর প্রতি নির্ভরতার প্রতীক। তাই প্রতিটি ভালো ও বৈধ কাজের শুরুতে আন্তরিকতার সঙ্গে এই বাক্য পাঠ করা একজন মুসলমানের উত্তম অভ্যাস।