কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় চুরি হওয়া একটি গ্যাস সিলিন্ডার ফেরত দিয়ে অনুতাপ প্রকাশ করেছেন অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি। চিরকুটে তিনি নিজের ভুল স্বীকার করে ভবিষ্যতে এমন কাজ আর করবেন না বলে অঙ্গীকার করেছেন।
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার চরফরাদী এলাকায় এ ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ১৭ আগস্ট রাতে চরফরাদী মাদ্রাসায় একটি গ্যাস সিলিন্ডারের সঙ্গে একটি চিরকুট পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে খবর পেয়ে দোকানদার কামাল মিয়া সেখানে গিয়ে নিশ্চিত হন, সেটিই তাঁর দোকান থেকে চুরি হওয়া সিলিন্ডার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৫ আগস্ট চরফরাদী মাদ্রাসা মোড়ে কামাল মিয়ার চায়ের দোকান থেকে একটি বড় গ্যাস সিলিন্ডারসহ কয়েকটি জিনিস চুরি যায়। ঘটনার পর তিনি স্থানীয় একটি স্বেচ্ছাসেবী যুব সংগঠনের কাছে বিচার চান। দুই দিন পর মাদ্রাসার এক শিক্ষক সিলিন্ডার ও চিরকুট দেখতে পেয়ে বিষয়টি তাঁকে জানান।
চিরকুটে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি লিখেছেন, তিনি পেশাদার চোর নন, ভুল করে চুরি করেছেন এবং এ ঘটনার জন্য অনুতপ্ত। ভবিষ্যতে এমন কাজ আর করবেন না বলেও অঙ্গীকার করেন। একই সঙ্গে চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় যাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, সে জন্য গ্যাস সিলিন্ডারটি প্রকৃত মালিকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ জানান। চিরকুটে আরও উল্লেখ করা হয়, সিলিন্ডারটি ‘ঠাকুরবাড়ির চা দোকানদার কামালের’ এবং কাগজটি পাওয়ার পর ছিঁড়ে ফেলার অনুরোধও করা হয়।
এ ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের একজন মনিরুল ইসলাম বলেন, চুরি করা জিনিস ফেরত দিয়ে এভাবে অনুশোচনা প্রকাশ ও ক্ষমা চাওয়ার ঘটনা এলাকায় এই প্রথম। তাঁর মতে, মানুষের মধ্যে এমন অনুশোচনাবোধ থাকলে চুরি-ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ অনেকটাই কমে আসতে পারে।
দোকানদার কামাল মিয়া বলেন, চুরির পর হারানো মালামাল ফিরে পাবেন কি না, তা নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় ছিলেন। পরে মাদ্রাসায় গ্যাস সিলিন্ডার ও চিরকুট পাওয়ার খবর পেয়ে গিয়ে নিজের সিলিন্ডারটি শনাক্ত করেন। অনুশোচনা প্রকাশ করায় তিনি ওই ব্যক্তিকে ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং চুরি যাওয়া জিনিস ফেরত দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন।