টেক্সাসের আর্লিংটনের এটিএন্ডটি স্টেডিয়ামে ছাড়িয়ে এখন পুরো ফুটবল বিশ্বের চোখ আটলান্টার মার্সিডিজ বেঞ্জ স্টেডিয়ামের দিকে। এই মাঠেই বুধবার বিশ্বকাপের বহুল প্রতীক্ষিত সেমিফাইনালে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড।
বিশ্ব ফুটবলের দুই পরাশক্তির এই লড়াই এমনিতেই দারুণ আকর্ষণীয়। তার ওপর দুই দেশের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক উত্তেজনা ম্যাচটিকে আরও বেশি আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
লিওনেল স্কালোনির আর্জেন্টিনা টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামছে। ১৯৬২ সালে ব্রাজিলের পর আর কোনো দল টানা দুই বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। যদি আর্জেন্টিনা তা করতে পারে, তবে সেটি হবে কিংবদন্তি মেসির জন্য এক অবিস্মরণীয় বিদায়।
৩৯ বছর বযয়সী মেসি এবারের আসরে ৮ গোল করে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছেন। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে তাঁর অনুপ্রেরণায় আর্জেন্টিনা শিরোপা জিতেছিল। তখন অনেকেই ভেবেছিলেন, সেটিই হবে ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে তাঁর শেষ উপস্থিতি।
কিন্তু মেসি আবারও ফিরেছেন এবং সেমিফাইনালে দলকে তুলতে গুররুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। কেপ ভার্দে ও মিসরের বিপক্ষে কঠিন ৩-২ ব্যবধানে জয়ের দুই ম্যাচেই তিনি গোল করেছেন।
তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবারের আসওে এখন পর্যন্ত যেসব প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হয়েছে, তাদের তুলনায় অনেক শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সেমিফাইনালে খেলতে যাচ্ছে। যদিও ইংল্যান্ড পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে ধারাবাহিকভাবে সেরা ফুটবল খেলতে পারেনি।
থমাস টাচেলের দলের ভরসা ছিলেন মূলত অধিনায়ক হ্যারি কেন ও জুড বেলিংহাম। ইংল্যান্ডের ১৩ গোলের মধ্যে ১২টিই এসেছে এই দুই তারকার কাছ থেকে।
২০০২ সালের বিশ্বকাপের পর এবারই প্রথম কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। ইংল্যান্ডকে ১৯৬৬ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনালে তোলার লক্ষ্য নিয়ে নামলেও ম্যাচটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব টাচেলকে বাড়তি চাপ দিচ্ছে।
তিনি বলেন, "আমি কোনো বোঝা অনুভব করছি না। চাপ অবশ্যই থাকবে এবং আমরা কিছুটা নার্ভাস থাকব, তবে এটা স্বাভাবিক।"
তিনি আরও বলেন, "যে বিষয়টি আমার ভালো লাগে, তা হলো আমি অনুভব করছি খেলোয়াড়রা সত্যিই প্রতিদ্বন্দ্বীতাপূর্ণ মানসিকতায় আছে, তারা ক্ষুধার্ত এবং এই ম্যাচটি খেলতে মুখিয়ে রয়েছে।"
জার্মান এই কোচ আরও জানান, অসুস্থতার কারণে ভুগতে থাকা মিডফিল্ডার ডিক্লান রাইস শুরুর একাদশে খেলতে প্রস্তুত।
আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড দ্বৈরথের ইতিহাস নাটকীয় ঘটনায় ভরপুর। বিশ্বকাপে তাদের সবচেয়ে স্মরণীয় লড়াইটি হয়েছিল ১৯৮৬ সালে মেক্সিকো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে। ম্যাচটিতে আর্জেন্টিনা ২-১ গোলে জিতেছিল। ম্যাচে দিয়েগো ম্যারাডোনা দুটি গোল করেছিলেন। এর মধ্যে একটি ছিল "হ্যান্ড অব গড" গোল, আর অন্যটি ছিল একক নৈপুণ্যে করা ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোল।
এর ১২ বছর পর, ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপে ডেভিড বেকহ্যাম লাল কার্ড দেখেন এবং শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে জয় পায় আর্জেন্টিনা।
তবে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এই ম্যাচকে রাজনৈতিক রঙ না দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
তিনি বলেন, "বাস্তবতা হলো এটি একটি ফুটবল ম্যাচ। অনেক বছর আগে ঘটে যাওয়া বিষয়গুলোর সঙ্গে আমি এটিকে মেলাতে চাই না।"
তিনি আরও বলেন, "ওটা আমাদের ইতিহাসের একটি অত্যন্ত দুঃখজনক সময় ছিল এবং এখন আমরা সে সম্পর্কে খুব বেশি কিছু করতে পারি না। এটি শুধুই একটি ফুটবল ম্যাচ, এর বেশি কিছু নয়।"