
চট্টগ্রাম, টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও উজানের পানিতে সৃষ্ট বন্যায় চট্টগ্রাম বিভাগে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৫০ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে বন্যায় প্রায় ৮০ হাজার বসতঘর, ৩৪৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ৩ হাজার ৮৪০ কিলোমিটার সড়ক এবং ৩৩৯টি সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখনও বিভাগের বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে ৩৪ হাজারের বেশি মানুষ অবস্থান করছেন।
আজ রোববার চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সর্বশেষ তথ্য থেকে এসব জানা গেছে।
তথ্য অনুযায়ী, বিভাগের ১১ জেলার মোট ৪০৮টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৭৬টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রাম জেলায়। এছাড়া কক্সবাজারের ৭৪টি, রাঙামাটির ৪২টি, খাগড়াছড়ির ৪১টি এবং বান্দরবানের ৩৬টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা বন্যার কবলে পড়েছে।
বন্যায় সবচেয়ে বেশি ২৮ জনের প্রাণহানি হয়েছে কক্সবাজারে। চট্টগ্রামে প্রাণ হারিয়েছেন ১৩ জন, বান্দরবানে ৬ জন এবং রাঙামাটিতে ৩ জন। এছাড়া রাঙামাটি ও কক্সবাজারে একজন করে মোট দুইজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত মানুষের সংখ্যাও সবচেয়ে বেশি চট্টগ্রাম জেলায়। জেলার ৬৭০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২২ হাজার ৬০০ জন আশ্রয় নিয়েছেন। কক্সবাজারের ৬১৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছেন ১ হাজার ৫৮০ জন, বান্দরবানের ২০০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৬ হাজার ২৫০ জন, রাঙামাটির ৫৩টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩ হাজার ৯০৩ জন এবং খাগড়াছড়ির ১৫০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৫৮১ জন অবস্থান করছেন।
বন্যায় সবচেয়ে বেশি ৪৮ হাজার ৬৩টি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কক্সবাজার জেলায়। এছাড়া বান্দরবানে ১৫ হাজার ৩৩০টি, চট্টগ্রামে ১৪ হাজার ২৮১টি, রাঙামাটিতে ৪৭৩টি এবং খাগড়াছড়িতে ১ হাজার ৪০টি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ত্রাণ সহায়তার অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলায় এ পর্যন্ত ৯২৩ মেট্রিক টন চাল, ৭ হাজার ২৮১ প্যাকেট শুকনা খাবার এবং ১ কোটি ২৭ লাখ টাকা নগদ সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে।