আজ সকালে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ফুটবল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। এ ম্যাচে গোল না পেলেও, রেকর্ড গড়া অব্যাহত রেখেছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি।
এছাড়া ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনার হয়ে দ্বিতীয় গোল করে কিংবদন্তি দিয়াগো ম্যারাডোনার পাশে নাম লিখিয়েছেন জুলিয়ান আলভারেজ।
সর্বশেষ চার বিশ্বকাপে তিনবার (২০১৪, ২০২২, ২০২৬) সেমিফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। ১৯৯৪ বিশ্বকাপ থেকে ২০১০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত সেমিফাইনালে উঠতে পারেনি তারা।
চলতি বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির ২০টি পাস থেকে গোল করার মতো শট নেওয়া সম্ভব হয়েছে। ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের তিনটি ভিন্ন আসরে ২০ বা তার বেশি গোল করার মতো শট নেওয়া যায় এমন পাস দিয়েছেন মেসি। ২০২২ সালে ২১টি এবং ২০১৪ সালে ২৪টি পাস দেন তিনি।
এবারের বিশ্বকাপে টানা চারটি ম্যাচে ৩ বা তার বেশি গোল করেছে আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপের ইতিহাসে টানা চার ম্যাচে ৩ বা তার বেশি গোল করার রেকর্ড এটি।
এই বিশ্বকাপে কর্নার থেকে তিনটি গোল করে ইংল্যান্ড ও বসনিয়া- হার্জেগোভিনার রেকর্ড স্পর্শ করেছে আর্জেন্টিনা। যা তিন দলেরই যৌথভাবে সর্বোচ্চ।
মজার বিষয় হলো, গড় উচ্চতার দিক থেকে এই টুর্নামেন্টের তৃতীয় স্থানে আছে আর্জেন্টিনা। তারপরও অন্য ৪৪টি দেশের চেয়ে হেডে সর্বোচ্চ ৩টি গোল করেছে তারা।
এছাড়া সেট-পিস (কর্নার বা ফ্রি-কিক) থেকে গোল করার ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্রের (৫টি) সাথে যৌথভাবে শীর্ষে আছে আর্জেন্টিনা।
বিশ্বের চতুর্থ খেলোয়াড় হিসেবে চারটি বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ শুরু করে রেকর্ড বইয়ে জায়গা করে নিয়েছেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি। এর আগে এই তালিকায় নাম তুলেন জার্মানির লোথার ম্যাথাউস, মিরোস্লাভ ক্লোসা এবং উভে সিলা।
ফিফা বিশ্বকাপে পাঁচটি গোলের মধ্যে চারটিই নকআউট পর্বে করেছেন আর্জেন্টিনার জুলিয়ান আলভারেজ। তাতেই কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার রেকর্ড স্পর্শ করেছেন তিনি। যা আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ৭টি গোল নিয়ে শীর্ষে আছেন মেসি।
সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে মেসির অ্যাসিস্ট থেকে হেডে গোল করে আর্জেন্টিনাকে প্রথম এগিয়ে দেন অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। বিশ্বকাপে মেসির অ্যাসিস্ট সংখ্যা এখন ১০টি। ১৯৬৬ সালের পর থেকে যা সর্বোচ্চ অ্যাসিস্ট। ৮টি অ্যাসিস্ট নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে আছে ম্যারাডোনা। মেসির এই ১০টি অ্যাসিস্ট থেকে ১০ জন ভিন্ন ভিন্ন খেলোয়াড় গোল করেছেন।
এছাড়া সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের ১০ মিনিটে (৯:৩৪ মিনিটে) দেওয়া এই অ্যাসিস্ট বিশ্বকাপের ইতিহাসে মেসির দ্রুততম অ্যাসিস্ট। বিশ্বকাপে কর্নার থেকে দেওয়া এটি মেসির প্রথম অ্যাসিস্ট।
ফিফা বিশ্বকাপের একাধিক আসরে ১০ বা তার বেশি গোলে অবদান (গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে) রেখে কিলিয়ান এমবাপ্পের পাশে বসলেন মেসি। ২০২২ সালে ১০টি ও ২০২৬ সালে ১১টিতে অবদান ছিল এমবাপ্পের। অন্যদিকে মেসি ২০২২ ও ২০২৬ সালে ১০টিতে অবদান রাখেন। গত ৬০ বছরের মধ্যে মাত্র এই দুজন খেলোয়াড়ই এমন নজির গড়েছেন।
ফিফা বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে খেলা আর্জেন্টিনার শেষ ৮ ম্যাচে মেসি সরাসরি ১৩টি গোলে অবদান রেখেছেন (৭টি গোল ও ৬টি অ্যাসিস্ট)।
বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ১৩টি ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়িয়েছে। যা বিশ্ব রেকর্ড। এতে জার্মানির ১২টি ম্যাচের রেকর্ড ভাঙে আর্জেন্টিনা। টাইব্রেকারের জয়সহ হিসাব করলে ১১টিতে জিতেছে তারা।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে মেসির গোল-অবদানের সংখ্যা এখন ১৫। গত ৬০ বছরের মধ্যে কোনো খেলোয়াড়ের এটিই সর্বোচ্চ। এতে কিলিয়ান এমবাপ্পের ১৪টির রেকর্ড ভেঙেছেন মেসি।
সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা দলের শুরুর একাদশে গড় বয়স ছিল ৩০ বছর ১৭৭ দিন। যা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলা দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বয়সী গড়। ১৯৬২ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিলের খেলা একাদশের গড় বয়স ছিল ৩০ বছর ২০৯ দিন। ১৯৬২ সালের পর আবারও এমন ঘটনা দেখা গেল।
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ থেকে বিদায় নেন সুইজারল্যান্ডের ব্রিল এমবোলো। গত ৬০ বছরের মধ্যে বিশ্বকাপে ইচ্ছাকৃতভাবে ফাউলের ভান করার দায়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড পাওয়া চতুর্থ খেলোয়াড় এমবোলো। এই তালিকায় আগে নাম লিখিয়েছেন মেক্সিকোর লুইস পেরেজ (২০০৬ সাল, পর্তুগালের বিপক্ষে), ঘানার আসামোয়া জিয়ান (২০০৬ সাল, ব্রাজিলের বিপক্ষে) এবং ইতালির ফ্রান্সেস্কো টট্টি (২০০২ সাল, দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে)।
আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ডের মধ্যকার কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়। এবারের বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো এটি অষ্টম ম্যাচ। এর ফলে ২০১৪ ও ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপের রেকর্ড স্পর্শ করল এবারের আসর। ঐ দুই আসরে সর্বোচ্চ ৮টি করে নক আউট পর্বের ম্যাচ অতিরিক্ত সময় গড়িয়েছিল। অবশ্য ২০১৪ ও ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে নকআউট পর্বের ম্যাচ ছিল মাত্র ১৫টি করে। সেখানে ২০২৬ বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে ইতোমধ্যে ২৮ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে।