ময়মনসিংহ জেলার ধোবাউড়া উপজেলায় শিশু নিছামনিকে (৫) সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও নদীতে ফেলে হত্যা মামলায় ৩ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা করে জরিমানা প্রদান করা হয়েছে।
অপরদিকে অন্য এক আসামি অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় ১০ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারক মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সুদীপ্তা সরকার এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- আরিফ মিয়া (১৯), হাসান রাকিব (২০) এবং আবু সাইম (১৮)। অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামি মারুফ (১৬)।
পৃথক দুটি আদালতে আসামিদের উপস্থিতিতে এ চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) বজলুল করিম চৌধুরী।
মামলায় আসামি পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন, এ্যাড. খন্দকার বদরুল আলম এবং আসামি পক্ষের নিযুক্ত আইনজীবী ছিলেন এ্যাড. মকবুল হোসেন। এছাড়াও মামলায় অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর হিসাবে উপস্থিত ছিলেন এ্যাড. মজিবুর রহমান।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৬ সালের ১৪ জুন বিকেলে ধোবাউড়ায় শিশু নিছামনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর নদীতে ফেলে হত্যা করা হয়। পরদিন ১৫ জুন নিছামনির পিতা বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের আসামি করে ধোবাউড়া থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর পুলিশের অভিযানে ৪ আসামি গ্রেফতার হলে তারা ঘটনায় সম্পৃক্ততার সত্যতা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেয়।
এরই মধ্যে মামলার মাত্র ৯ দিনের মাথায় গত ২৩ জুন ৪ আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে পুলিশ। এরপর টানা কয়েক দিন ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে শুনানীতে উভয় পক্ষের অংশগ্রহণে ঘটনার ২৫ দিনের মাথায় এই রায় ঘোষণা করা হয়েছে।