ভয়াবহ ঝড়ে ১৭ জনের প্রাণহানির পর উদ্ধারকর্মীরা বন্যাকবলিত এলাকায় নিখোঁজদের খোঁজে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে।
ঝড়ে বেশ কয়েকটি নদীর পানি বিপদসীমা ছাড়িয়েছে ও একটি জলাধারের বাঁধ ভেঙে গেছে। কর্মকর্তারা জানান, বুধবারও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে।
আঞ্চলিক কর্মকর্তারা জানান, টাইফুন মেইসাকের প্রভাবে প্রবল বর্ষণ ও ভয়াবহ বন্যায় দক্ষিণাঞ্চলের গুয়াংসি অঞ্চলে ছয়জন মারা গেছে এবং অন্তত ১ লাখ ৩০ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বুধবারও গুয়াংসি এবং প্রতিবেশী গুয়াংডং প্রদেশে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
বেইজিং থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, গুয়াংসিতে দ্রুতগতির কাদামিশ্রিত পানির স্রোতে ৪০টি নদী ও জলপথের তীর উপচে পড়েছে। এতে প্রায় ১৩ হাজার একর কৃষিজমির ক্ষতি হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভিতে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, গুয়াংসিতে একটি জলাধারের বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর ভাঙা কংক্রিটের দেয়াল ঘেঁষে তীব্র স্রোতে পানি বয়ে যাচ্ছে। এ সময় লাইফ জ্যাকেট পরা উদ্ধারকর্মীরা নৌকায় করে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া বুধবার জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় খাদ্য, রেইনকোট, রাবারের নৌকাসহ অতিরিক্ত ত্রাণসামগ্রী পাঠাচ্ছে চীনা কর্তৃপক্ষ।
'কঠিন পরীক্ষার মুখে'-
চীনের রাষ্ট্রীয় বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও খরা ত্রাণ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গুয়াংসিতে বন্যা মোকাবিলায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মাত্রার জরুরি সতর্কতা বহাল রাখা হয়েছে।
চীনের পানি সম্পদমন্ত্রী লি গোইয়িং বলেন, গুয়াংসির উঝৌ জলপরিমাপ কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার ভোরে পানির উচ্চতা সতর্কসীমার চেয়ে ছয় মিটারেরও বেশি ওপরে উঠতে পারে।
তিনি বলেন, ‘টানা ভারী বৃষ্টি এবং দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চমাত্রার বন্যার পানি প্রবাহিত হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার জলাধার ও বাঁধগুলোর নিরাপত্তা কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েছে।’
এদিকে মধ্যাঞ্চলের হুবেই প্রদেশে বজ্রঝড় ও ঘণ্টায় প্রবল বেগের বাতাসে আরও ১১ মারা যান এবং ৩৩১ জন আহত হয়েছেন। সিনহুয়া জানায়, সোমবার গভীর রাতে দেশের অন্য কয়েকটি এলাকায় টর্নেডোরও খবর পাওয়া গেছে বলে।
হুবেইয়ে একজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। সেখানে চার হাজার ৮০০টি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আরও ২২টি বাড়ি পুরোপুরি ধসে পড়েছে।
চীনে প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রায়ই ঘটে। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে দেশের একাংশে প্রবল বর্ষণ হলেও অন্য অংশে তীব্র তাপপ্রবাহ দেখা দেয়।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভি জানায়, মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং উদ্ধারকর্মীদের জরুরি ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনায় 'সর্বোচ্চ চেষ্টা' করার নির্দেশ দিয়েছেন।
ভূমিধসে নিহত বেড়ে ২১-
এদিকে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় গানসু প্রদেশে ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২১ জনে পৌঁছেছে। বুধবার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে। আগের দিন এ ভূমিধসে ৩৩ জন মাটিচাপা পড়েছিলেন।
সিনহুয়া জানায়, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ৫৬ মিনিটে দাংচাং কাউন্টির রেনচাং গ্রামে ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। এরপরই উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে বুধবার সিনহুয়া জানায়, ‘দাংচাং কাউন্টির ভূমিধসস্থলে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শেষ হয়েছে। এ ঘটনায় ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে।’
স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, ভূমিধসের কারণ এখনও তদন্তাধীন।
ভূমিধস-পরবর্তী পুনর্গঠন কার্যক্রমের জন্য ৩ কোটি ইউয়ান বরাদ্দ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।