গতরাতে যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে অনুষ্ঠিত শেষ ষোলোর ম্যাচে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে ফুটবল বিশ্বকাপের ২৩তম আসর থেকে বিদায় নিল পর্তুগাল। ইনজুরি সময়ের প্রথম মিনিটে স্পেনের হয়ে জয়সূচক গোলটি করেন মিকেল মেরিনো।
দীর্ঘ দুই দশকের বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে নিজের শেষ বিশ্বকাপে এসে বেশ কিছু লজ্জার রেকর্ডের সঙ্গী হয়েছেন পর্তুগালের সেরা তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ১০ ম্যাচে ৭৪১ মিনিট খেলে মাত্র ১টি গোল করেছেন রোনালদো। একমাত্র গোলটি চলতি বিশ্বকাপের নক আউটে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে করেছিলেন তিনি। এমনকি কোনো অ্যাসিস্টও করতে পারেনি এই পর্তুগিজ তারকা।
আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসির পর বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৭টি ম্যাচ খেলেছেন রোনালদো। বিশ্বকাপে ২০০৬ সালের সেমিফাইনালে খেলা তার সেরা সাফল্য।
স্পেনের বিপক্ষে ১৯ বার বল স্পর্শ করেন রোনালদো। শুরুর একাদশে খেলা কোনো ফিফা বিশ্বকাপ ম্যাচে এটি রোনালদোর দ্বিতীয় সর্বনিম্ন।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের কোনো ম্যাচে কখনওই গোলপোস্ট লক্ষ্য করে দু’টির বেশি শট নিতে পারেননি রোনালদো। এর আগে তার সেরা পরিসংখ্যান ছিল ২০১০ সালের শেষ ষোলোয় স্পেনের বিপক্ষে দু’টি এবং ২০০৬ সালের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দু’টি শট।
এই বিশ্বকাপে ১৭টি শট নিয়েছেন রোনালদো। কিন্তু সতীর্থদের জন্য গোলের কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেননি তিনি। গত ৬০ বছরের মধ্যে কোনো সুযোগ তৈরি না করে সবচেয়ে বেশি শট নেওয়ার রেকর্ড এটি।
রেকর্ড অনুযায়ী (১৯৬৬ সাল থেকে) সুযোগ তৈরি না করে সর্বোচ্চ শট নেওয়ার রেকর্ডটি মেক্সিকোর আলবার্তো গার্সিয়া আসপে ১৯৯৮ সালে ১৫টি শটে ১টি গোল করেছিলেন কিন্তু কোনো সুযোগ তৈরি করেননি।
রোনালদো নিজের শেষ ৯টি ম্যাচে কোনো ড্রিবল করার চেষ্টাই করেননি। এমনকি শেষ ১৫টি ম্যাচে একটিও সফল ড্রিবলিং করতে পারেননি।
ছয় বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে মোট ১১টি গোল করে ক্যারিয়ার শেষ করলেন রোনালদো। যা পর্তুগালের হয়ে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড। এই গোলগুলোর মধ্যে ১০টিই গ্রুপ পর্ব থেকে এসেছে।
বড় কোনো টুর্নামেন্টে স্পেনের বিপক্ষে খেলা তিনটি নকআউট ম্যাচের সবগুলোতে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে পর্তুগাল। এর মধ্যে ২০১০ বিশ্বকাপের শেষ ষোলো এবং ২০১২ ইউরোর সেমিফাইনাল আছে।