স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেছেন, ছানি অপারেশনের অভাবে দৃষ্টিশক্তি হারানো বা হারানোর ঝুঁকিতে থাকা প্রায় ১০ লাখ মানুষের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী একটি বিশেষ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে সরকার। এ কর্মসূচির আওতায় প্রয়োজন অনুযায়ী বিনামূল্যে এবং সুলভ মূল্যে ছানি অপারেশনের সুযোগ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে আগামী নভেম্বরে অ্যান্টিগায় অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বের প্রথম ‘গ্লোবাল সামিট অন আই হেলথ’-এ বাংলাদেশ আয়োজক দেশ অ্যান্টিগার সঙ্গে যৌথভাবে কো-হোস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।
সোমবার (৬ জুলাই) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ দপ্তরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অন্ধত্ব প্রতিরোধবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা আইএপিবি (IAPB)-এর প্রধান নির্বাহী পিটার হল্যান্ডের সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী।
ড. মুহিত জানান, বর্তমানে দেশে বিপুলসংখ্যক মানুষ কেবল ছানি অপারেশনের সুযোগ না পাওয়ায় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতা বা অন্ধত্বের শিকার হচ্ছেন। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যাতে দেশের সব অঞ্চলের মানুষ সহজে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পেতে পারেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা ও আগ্রহের ভিত্তিতেই এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চলতি অর্থবছরের বাজেটে ছানি অপারেশনের সময় ব্যবহৃত লেন্সের ওপর কর কমানো হয়েছে। এতে অপারেশনের ব্যয় কমবে এবং স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য চিকিৎসাসেবা আরও সহজলভ্য হবে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আগামী নভেম্বরের বৈশ্বিক চক্ষু স্বাস্থ্য সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান, স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য খাতের নীতিনির্ধারকেরা অংশ নেবেন। প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই সম্মেলনে বাংলাদেশ কো-হোস্টের দায়িত্ব পালন করবে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করবে।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী সম্মেলনে যোগ দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক রয়েছেন। তবে একই সময়ে কমনওয়েলথ রাষ্ট্রপ্রধানদের বৈঠক থাকায় সময়সূচির কারণে তিনি উপস্থিত হতে না পারলে সরকারের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের পক্ষে দায়িত্ব পালন করবে।
শিশুদের চোখের স্বাস্থ্য সুরক্ষায়ও নতুন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে ড. এম এ মুহিত বলেন, গ্রামীণ এলাকার বহু শিক্ষার্থী নিয়মিত চোখ পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চশমার অভাবে লেখাপড়ায় পিছিয়ে পড়ছে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী আইএপিবির সহযোগিতায় স্কুলশিক্ষার্থীদের চোখ পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চশমা বিতরণের উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। সংস্থাটি এ বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, লেন্সের মূল্য হ্রাস, বৃহৎ পরিসরে ছানি অপারেশন কর্মসূচি এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতা দেশের চক্ষু স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আইএপিবির প্রধান নির্বাহী পিটার হল্যান্ড বলেন, আগামী ২ নভেম্বর অ্যান্টিগায় অনুষ্ঠেয় গ্লোবাল সামিট বিশ্বনেতাদের জন্য চক্ষু স্বাস্থ্যকে জাতীয় স্বাস্থ্যনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে এগিয়ে নেওয়ার একটি অনন্য সুযোগ সৃষ্টি করবে। বিভিন্ন দেশের প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীরা সেখানে নিজ নিজ দেশের পরিকল্পনা ও অঙ্গীকার তুলে ধরবেন।
তিনি বলেন, দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। জাতিসংঘে দৃষ্টিশক্তি বিষয়ক প্রথম ঐতিহাসিক প্রস্তাব উত্থাপনে বাংলাদেশের অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। এই ধারাবাহিকতাকে সামনে রেখে নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে চক্ষু স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পিটার হল্যান্ডের মতে, গ্লোবাল সামিটে বাংলাদেশের সহ-আয়োজক হিসেবে অংশগ্রহণ শুধু চক্ষু স্বাস্থ্য খাতেই নয়, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তিকেও আরও শক্তিশালী করবে।