প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৩০, ২০২৬, ৮:২৫ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ৩০, ২০২৬, ৪:৪৮ এ.এম
মেসির বিশ্বজয়ের মুহূর্ত ফুটে উঠল নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়ালে

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিঃ
ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা, আর এর সবচেয়ে বড় আসর ফিফা বিশ্বকাপ। প্রতি চার বছর পর আয়োজিত এই টুর্নামেন্ট ঘিরে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। প্রিয় দলের প্রতি সমর্থন জানাতে ফুটবলপ্রেমীরা নানা আয়োজন করে থাকেন।
বাংলাদেশেও বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে দেখা যায় বিশেষ উন্মাদনা। জার্সি পরিধান, পতাকা টানানো, মিছিল-শোডাউন কিংবা গ্রাফিতি অঙ্কনের মাধ্যমে সমর্থকেরা নিজেদের ভালোবাসা প্রকাশ করেন।
সম্প্রতি শুরু হয়েছে ফুটবল বিশ্বকাপের ২৩তম আসর। এরই মধ্যে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বকাপের আমেজ। আর্জেন্টিনা সমর্থকেরা ইতোমধ্যে ক্যাম্পাসে ২০০ ফুট পতাকা নিয়ে শোডাউন করেছেন। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে পতাকা টানিয়েছেন আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের সমর্থকেরা।
তবে সেই উন্মাদনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ভবনের দেয়ালে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের আঁকা আর্জেন্টাইন ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির একটি গ্রাফিতি। গ্রাফিতিতে ফুটে উঠেছে মেসির প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের মুহূর্ত।
গ্রাফিতিটির ডিজাইনার বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. মশিউর রহমান।
গ্রাফিতি অঙ্কন নিয়ে আর্জেন্টিনা সমর্থক সাকিবুল হাসান সজীব বলেন, "এই গ্রাফিতিটি আঁকার উদ্দেশ্য ছিল লিওনেল মেসির প্রতি আমাদের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করা এবং আর্জেন্টিনা সমর্থকদের জন্য একটি স্মরণীয় জায়গা তৈরি করা।
মেসিকে ভালো লাগে তাঁর অসাধারণ ফুটবল, বিনয়, কঠোর পরিশ্রম এবং কখনো হাল না ছাড়ার মানসিকতার জন্য। তিনি আমাদের কাছে একজন অনুপ্রেরণা। বিশ্বকাপ নিয়ে আমাদের প্রত্যাশা, আর্জেন্টিনা নিজেদের সেরাটা খেলবে, ভালো ফুটবল উপহার দেবে এবং আবারও শিরোপার জন্য লড়াই করবে। আমরা সবসময় দলের পাশে আছি।"
আরেক আর্জেন্টিনা সমর্থক ফারহানা আমবেরীন লিওনা জানান, "আঁকার উদ্দেশ্য অনুপ্রেরণার জায়গা থেকে। এই গ্রাফিতির দিকে যতোবার তাকাই ততোবারই বিগত ৩৬ বছরের অপেক্ষা এবং পরিশ্রমকে স্মরণ করিয়ে দেয়। যা আবেগকে উসকে দেয় বলে আমি মনে করি। গ্রাফিতিটা আসলে আবেগ হিসেবে ভক্তদের কাছে এবং অনুপ্রেরণা হিসেবে সবার ভেতরে কাজ করবে। কারণ আমি মনে করি, গ্রাফিতির দিকে যখনই কেউ তাকাবে, তখনই অদম্য এক শক্তির সঞ্চার হবে। প্রতিভার সাথে সাথে কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং আত্মবিশ্বাস থাকলে অসম্ভবকে সম্ভব করে তোলা যায়।
মেসিকে চিনি ২০০৬ বিশ্বকাপ থেকে। বুঝতে শেখার পরে আমার প্রথম বিশ্বকাপ। মুখে মুখে শুনতাম, ম্যারাডোনার শূন্যস্থান হয়তো কিছুটা হলেও মেসি পূরণ করবে। তারপর যতোটুকু খেলা বুঝি, তাতে মেসি অসম্ভব ভালো খেলোয়াড়—নিঃসন্দেহে যে কেউ স্বীকার করবে। আর সবথেকে বড় বিষয়, মেসি প্লেয়ার হিসেবে কেমন, সেটা সারাবিশ্ববাসী এখন জানে।
আমার ভালো লাগার দুটো বিশেষ দিক হলো—মেসি সম্পর্কে যতোটুকু জেনেছি, সে মাঠে যেমন পরিশ্রম করেন, মাঠের বাইরে ঠিক ততোটাই নম্র এবং বিনয়ী। আমি মেসির ওয়াইফ রোকুজ্জোকে ফলো করি। সেখানে মেসিকে দেখে আমি আপ্লুত হই। সে পার্টনার হিসেবে একজন সচেতন এবং দায়িত্বশীল বলে মনে হয়েছে। লাস্টলি, আমি লিওনা আর যাকে নিয়ে কথা বলছি সে লিওনেল মেসি। সুতরাং নামের একটা মিল থাকায় ভালো লাগাটা বেড়ে গেছে।
আর্জেন্টিনা এখন ভালো খেলছে, এই ধারা অব্যাহত রাখুক। সর্বোচ্চ আশাটাই থাকবে আর্জেন্টিনার কাছে। তবে খেলা তো! জয়-পরাজয় থাকবেই।"
উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় গেইটে ব্রাজিল সমর্থকরাও নেইমারের গ্রাফিতি অংকন করেছেন।
সম্পাদকঃ এম এ জাফর লিটন, প্রকাশকঃ ইয়াসমিন খাতুন, বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ জেলা সুপার মার্কেটের পূর্ব পাশে, মোনালিসা প্লাজার দ্বিতীয় তলা, মনিরামপুর বাজার, শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ।