হরমুজ প্রণালী দিয়ে অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ চলাচল করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বৃহস্পতিবার সতর্ক করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ চলাকালে ইরান যে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি বন্ধ করে দিয়েছিল, তার ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা এখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের চলমান আলোচনার অন্যতম প্রধান বিতর্কিত বিষয় হয়ে উঠেছে।
ইরান জানিয়েছে, প্রণালী ব্যবহারকারী জাহাজের কাছ থেকে তারা ‘সামুদ্রিক সেবা ফি’ আদায় করতে চায়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হরমুজ একটি আন্তর্জাতিক জলপথ; ফলে সেখানে কোনো ধরনের টোল বা ফি আরোপ করা উচিত নয়।
তেহরান থেকে এএফপি জানায়, আইআরজিসি এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের জন্য একমাত্র অনুমোদিত পথ হলো ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান ঘোষিত রুট।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অনুমতি ছাড়া কোনো ধরনের নৌযাত্রা ‘গ্রহণযোগ্য নয় এবং অত্যন্ত বিপজ্জনক’। এমন জাহাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
এ ছাড়া ‘কিছু কর্তৃপক্ষ’ কর্তৃক ঘোষিত একটি নতুন নৌপথেরও সমালোচনা করেছে আইআরজিসি, যদিও তারা এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মাঝখানে অবস্থিত হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ সাধারণত এ পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। সবচেয়ে সরু অংশে প্রণালীটির প্রস্থ মাত্র ৩০ কিলোমিটার।
বর্তমানে ইরানের অনুমোদিত একমাত্র নৌপথটি দেশটির উপকূলঘেঁষা একটি করিডোর অনুসরণ করে।
গত সপ্তাহে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে বলা হয়েছে, আগামী ৬০ দিন বাণিজ্যিক জাহাজগুলো কোনো ধরনের ফি ছাড়াই হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে পারবে।
তবে এই সময়সীমা শেষ হওয়ার পর কী ধরনের ব্যবস্থা কার্যকর হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
প্রণালীটির তীরবর্তী রাষ্ট্র ইরান ও ওমান মঙ্গলবার জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর প্রশাসনিক ও সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কী পরিমাণ ‘খরচ’ আদায় করা হবে, তা তারা যৌথভাবে পর্যালোচনা করবে।
অন্যদিকে, চলতি সপ্তাহে উপসাগরীয় দেশগুলো সফররত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্পষ্টভাবে বলেছেন, হরমুজ প্রণালী কোনো ধরনের টোল বা ফি আরোপ যুক্তরাষ্ট্র মেনে নেবে না।
সূত্রঃ বাসস