কূটনীতিতে নারী নেতৃত্ব এগিয়ে নেওয়া এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের সব পর্যায়ে তাদের পূর্ণ ও অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ।
আন্তর্জাতিক নারী কূটনীতি দিবস উপলক্ষ্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গঠনে ‘বাধা ভেঙে, সেতুবন্ধন তৈরি করে এবং নেতৃত্ব দিয়ে চলা’ নারী কূটনীতিকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
গতকাল সন্ধ্যায় দিবসটি উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, কূটনীতিতে নারী নেতৃত্ব বিকাশ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রতিটি স্তরে তাদের পূর্ণ ও অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ অঙ্গীকারবদ্ধ।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের নারী কূটনীতিকরা তাদের অনুকরণীয় সেবা, পেশাদারিত্ব ও বৈশ্বিক অঙ্গনে অর্জনের মাধ্যমে দেশকে গর্বিত করে চলেছেন।’
তিনি বলেন, কূটনীতিতে নারীদের কণ্ঠস্বর, মেধা ও নেতৃত্বের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন, যাতে আরো ন্যায়ভিত্তিক, সমতাপূর্ণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গড়ে তোলা সম্ভব হয়।
এদিকে, জেনেভায় বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন দেশে ও বিদেশে কর্মরত নারী কূটনীতিকদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে তাদেরকে শান্তিপূর্ণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমৃদ্ধশালী বিশ্ব বিনির্মাণের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেছে।
মিশনের পৃথক এক বার্তায় বলা হয়, ধারাবাহিক অগ্রগতি সত্ত্বেও কূটনৈতিক সেবায় নারীদের প্রতিনিধিত্ব এখনো পুরুষদের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে, বিশেষ করে রাষ্ট্রদূত এবং অন্যান্য জ্যেষ্ঠ নেতৃত্বের পদে।
এতে আরও বলা হয়, বিভাজন দূর করা, ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমাধান এগিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে নারীরা কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আসেন। একই সঙ্গে সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের অর্থবহ অংশগ্রহণ প্রতিষ্ঠানকে আরো শক্তিশালী করে এবং কার্যকর ও প্রতিনিধিত্বশীল কূটনীতি বিকাশে সহায়তা করে।
মিশনটি লৈঙ্গিক সমতা অগ্রসর করা, বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সব স্তরে নেতৃত্ব ও অবদান রাখার ক্ষেত্রে নারীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করে।
বার্তায় বলা হয়, ‘কূটনীতিতে নারীর ক্ষমতায়ন শুধু সমতার বিষয় নয়; সবার জন্য আরো শক্তিশালী ও সহনশীল ভবিষ্যৎ নির্মাণের জন্যও এটি অত্যাবশ্যক।’
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে একটি প্রস্তাব গ্রহণের মাধ্যমে ২৪ জুনকে ‘আন্তর্জাতিক নারী কূটনীতি দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক গঠন এবং শান্তি ও টেকসই উন্নয়ন এগিয়ে নিতে নারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার স্বীকৃতি দিতেই এ দিবস পালিত হচ্ছে।