জয়নাল আবেদীন জহিরুল, মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার সাত গ্রামের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের শিক্ষাগত দুর্ভোগ দূর করতে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি ক্রমেই জোরালো হয়ে উঠছে। কামাউড়া, করুয়াজান, ইনতনগর, কলমা, মাছুয়াকান্দা, শাহাপুর ও বনগাঁও গ্রামের হাজারো শিক্ষার্থী বর্তমানে মাধ্যমিক শিক্ষা গ্রহণের জন্য প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে মধ্যনগর সদরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করছে। এতে সময়, অর্থ ও শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায়ও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসী জানান, বর্ষা মৌসুমে হাওরবেষ্টিত এই অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে বিদ্যালয়ে যেতে হয়। অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমে মোটরসাইকেল কিংবা পায়ে হেঁটে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে হয়। প্রতিকূল যোগাযোগ ব্যবস্থা ও যাতায়াতের ঝুঁকির কারণে অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকতে পারে না। বিশেষ করে ছাত্রীদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও প্রকট। ফলে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার আশঙ্কা দিন দিন বাড়ছে।
উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মোসাহিদ তালুকদার বলেন, সাত গ্রামের শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ লাঘব এবং শিক্ষার প্রসারে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় অত্যন্ত জরুরি। বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে শিক্ষার্থীদের কষ্ট কমবে এবং ঝরে পড়ার হারও হ্রাস পাবে।
মধ্যনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল বাশার তালুকদার বলেন, আমাদের অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিদিন নৌকা ও দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করা বড় চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘদিনের এই সমস্যা সমাধানে দ্রুত একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা প্রয়োজন।
তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে এলাকাবাসী স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। প্রয়োজনীয় শিক্ষার্থী সংখ্যা ও অন্যান্য শর্ত পূরণ সাপেক্ষে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাসও পাওয়া গেছে।
মধ্যনগর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সঞ্জিব তালুকদার টিটু বলেন, সাত গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি এটি। শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের দুর্ভোগ আমি নিজেও দেখেছি। একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হলে এলাকার শিক্ষার মান উন্নত হবে এবং অভিভাবকদের কষ্টও কমবে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্জয় ঘোষ বলেন, এলাকাবাসীর দাবি যৌক্তিক। শিক্ষা বিস্তারে সরকার সবসময় আন্তরিক। স্থানীয়ভাবে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে বিধি অনুযায়ী বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হবে।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, “শিক্ষার উন্নয়ন বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। সাত গ্রামের মানুষের দাবির বিষয়টি আমি অবগত আছি। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে এ এলাকায় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে শুধু সাত গ্রামের শিক্ষার্থীরাই নয়, পুরো এলাকার শিক্ষা ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উন্মোচিত হবে নতুন সম্ভাবনার দ্বার।