পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে পটুয়াখালীর বিভিন্ন উপজেলায় জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। জেলার গ্রামগঞ্জ থেকে শুরু করে শহরের গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলোতে এখন ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড় চোখে পড়ার মতো। গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া নিয়ে হাটে আসছেন খামারি ও ব্যবসায়ীরা। আর পছন্দের পশু কিনতে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত হাটে ভিড় করছেন সাধারণ ক্রেতারা।
মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, জেলার বাউফল, দুমকি, গলাচিপা, কলাপাড়া, মির্জাগঞ্জ, দশমিনা ও সদর উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির পশুর হাটে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। বিশেষ করে বড় আকৃতির গরুগুলোকে ঘিরে ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি। হাটে দেশীয় জাতের পাশাপাশি উন্নত জাতের গরুও আনা হয়েছে।
খামারিরা জানান, সারা বছর লালন-পালন করে প্রস্তুত করা পশু নিয়ে তারা এবার বেশ আশাবাদী। গত বছরের তুলনায় এবার পশুর সরবরাহ বেশি হলেও চাহিদাও ভালো রয়েছে। তবে পশু খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচও বেড়েছে বলে দাবি তাদের।
বাউফলের খামারি আব্দুল করিম (৪৫) বাসস’কে জানান, প্রায় এক বছর ধরে তিনি তিনটি গরু লালন-পালন করেছেন। খাবার ও পরিচর্যায় অনেক ব্যয় হয়েছে। এখন ভালো দাম পেলে কিছুটা লাভ হবে বলে আশা করছেন।
অন্যদিকে ক্রেতাদের কেউ পরিবার নিয়ে আবার কেউ বন্ধুদের সঙ্গে হাটে এসে পশু দেখছেন। অনেকেই দাম যাচাই-বাছাই করে কয়েকটি হাট ঘুরে পরে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। ক্রেতাদের মতে, এবার হাটে পশুর সংখ্যা বেশি হওয়ায় দাম কিছুটা সহনীয় রয়েছে।
পটুয়াখালী সদর উপজেলার ক্রেতা কেরামত আলী (৫৫) বাসস’কে বলেন, ‘আগের তুলনায় এবার হাটে গরু বেশি এসেছে। তাই দরদাম করে মোটামুটি সাধ্যের মধ্যেই ভালো গরু পাওয়া যাচ্ছে।’
হাটগুলোতে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখতে এবং পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ। বিভিন্ন হাটে মেডিকেল টিম রাখা হয়েছে। অসুস্থ পশু শনাক্ত ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন ভেটেরিনারি চিকিৎসকরা।
জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলায় কোরবানির চাহিদা মেটাতে পর্যাপ্ত সংখ্যক পশু প্রস্তুত রয়েছে। স্থানীয় খামারিরা এবার ব্যাপকভাবে গরু ও ছাগল পালন করেছেন। ফলে জেলার চাহিদা পূরণ করে বাইরের জেলাতেও পশু সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে।
পটুয়াখালী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান বাসস’কে বলেন, ‘জেলায় ৭০টি স্থায়ী পশুর হাট বসেছে। এছাড়া অস্থায়ী হাট রয়েছে ৭৬টি। প্রতিটি হাটে প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে। পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে মেডিকেল টিম কাজ করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে প্রতিটি হাটে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা কমিটির কারণে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটবে না বলে আশা করছি।’
এদিকে হাটকে কেন্দ্র করে বেড়েছে অস্থায়ী দোকানপাট ও বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। পশুর খাবার, দড়ি, ছুরি, বাঁশ ও পরিবহনসহ নানা ধরনের ব্যবসায় ব্যস্ত সময় পার করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে কোরবানির পশুর হাট ঘিরে পুরো জেলায় তৈরি হয়েছে এক প্রাণবন্ত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড।
সব মিলিয়ে ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই জমে উঠছে পটুয়াখালীর কোরবানির পশুর হাট। ক্রেতা-বিক্রেতাদের সরব উপস্থিতিতে এখন প্রতিটি হাট যেন গ্রামীণ অর্থনীতি ও উৎসবের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।