মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের তার জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলসংক্রান্ত নির্বাহী আদেশের প্রতি ‘অনুগত’ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি শুল্কনীতি নিয়ে আদালতের সাম্প্রতিক রায়েরও সমালোচনা করেন।
ওয়াশিংটন থেকে এএফপি জানায়, ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে প্রথমে তার প্রথম মেয়াদে নিয়োগ দেওয়া সুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারপতি নিল গোরসাচ ও অ্যামি কোনি ব্যারেটের সমালোচনা করেন। তিনি তাদের বিরুদ্ধে তার শুল্কনীতির বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে ‘ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপ’ নেওয়ার অভিযোগ তোলেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে তারা তার প্রতি ‘অনুগত’ থাকলে তা গ্রহণযোগ্য বলেও মন্তব্য করেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘তাদের সঠিক কাজটিই করতে হবে, তবে যারা তাদের নিয়োগ দিয়েছেন, তার প্রতি অনুগত থাকাও পুরোপুরি গ্রহণযোগ্য।’
যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট দেশটির সরকারব্যবস্থার একটি স্বাধীন ও সমমর্যাদাসম্পন্ন শাখা। মার্কিন গণতন্ত্রে নির্বাহী বিভাগ ও কংগ্রেসের ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষার দায়িত্ব এই আদালতের ওপর ন্যস্ত।
হোয়াইট হাউস থেকে নয় সদস্যের এই আদালতের ওপর প্রকাশ্যে চাপ প্রয়োগের ঘটনা অত্যন্ত বিরল। বিচারপতিরা প্রেসিডেন্ট কর্তৃক আজীবনের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত হন এবং কংগ্রেস তাদের অনুমোদন দেয়।
দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দিনেই ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে ঘোষণা দেন, অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকারী বা অস্থায়ী ভিসাধারী বাবা-মায়ের সন্তানরা জন্মসূত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিক হবে না।
নিম্ন আদালতগুলো সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর নাগরিকত্ব ধারার কথা উল্লেখ করে ওই আদেশ স্থগিত করে দেয়।
গত মাসে ট্রাম্প সুপ্রিম কোর্টে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে শুনানিতে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হয়ে ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ নেন। সেখানে আদালতের তিন উদারপন্থী বিচারপতি ও কয়েকজন রক্ষণশীল বিচারপতিও প্রশাসনের যুক্তি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন।
রোববার ট্রাম্প অভিযোগ করেন, আদালত ‘জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের প্রশ্নে আমাদের বিপক্ষে রায় দিতে যাচ্ছে, ফলে আমরা পৃথিবীর একমাত্র দেশ হয়ে থাকব যারা এই অস্থিতিশীল, অনিরাপদ ও অত্যন্ত ব্যয়বহুল দুর্যোগকে চালু রেখেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি অনুগততা চাই না, কিন্তু দেশের স্বার্থে তা প্রত্যাশা করি।’
আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (এসিএলইউ), যারা ট্রাম্পের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নীতির বিরুদ্ধে মামলা করেছিল, বলেছে, ‘ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ সংবিধানের নির্দেশনা, সুপ্রিম কোর্টের দীর্ঘদিনের নজির, কংগ্রেসে পাস হওয়া আইন এবং আমেরিকার মৌলিক মূল্যবোধের পরিপন্থি।’
তারা আশা করছে, ‘জুনের শেষ অথবা জুলাইয়ের শুরুতে’ সুপ্রিম কোর্ট এ বিষয়ে রায় দেবে।
বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে ৬-৩ রক্ষণশীল সংখ্যাগরিষ্ঠতার মধ্যে ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে বিচারপতি গোরসাচ, ব্যারেট ও ব্রেট কাভানাহ-কে নিয়োগ দিয়েছিলেন।
রোববারের পোস্টে ট্রাম্প ফেব্রুয়ারিতে দেওয়া সুপ্রিম কোর্টের শুল্কসংক্রান্ত রায়েরও তীব্র সমালোচনা করেন। ওই রায়ে আদালত বলেছিল, অন্যান্য দেশের পণ্যের ওপর ব্যাপক শুল্ক আরোপে প্রেসিডেন্ট তার ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন। ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক নীতির বিরুদ্ধে এই রায় ফেরত অর্থ দাবি করার পথও খুলে দেয়।
৭৯ বছর বয়সী রিপাবলিকান নেতা বলেন, ‘তাদের আমি নিয়োগ দিয়েছিলাম, অথচ তারা আমাদের দেশের এত বড় ক্ষতি করেছে!’
তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি না তারা ইচ্ছাকৃতভাবে এটি করেছে, কিন্তু শুল্কসংক্রান্ত তাদের সিদ্ধান্তের কারণে যুক্তরাষ্ট্রকে ১৫৯ বিলিয়ন ডলার ফেরত দিতে হচ্ছে, যা এতদিন ধরে আমাদের ঠকিয়ে আসা শত্রু, ব্যক্তি, কোম্পানি ও দেশগুলোর কাছে যাবে।’
গত মাসে ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক থেকে আদায়কৃত ১৬৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ ফেরতের জন্য মার্কিন সরকার একটি প্রক্রিয়া চালু করে। এর আওতায় ৩ লাখ ৩০ হাজারের বেশি আমদানিকারক ৫ কোটি ৩০ লাখেরও বেশি চালানের ওপর পরিশোধ করা শুল্ক বা আমানতের অর্থ ফেরত পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন।
সূত্রঃ বাসস