মাইক্রোসফটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সত্য নাদেলা সোমবার আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার কথা রয়েছে। ইলন মাস্ক দায়ের করা মামলায় তিনি তার কোম্পানি ওপেনএআইকে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান থেকে মুনাফাভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা জায়ান্টে পরিণত হওয়ার পথে কীভাবে অর্থায়ন করেছিল তা ব্যাখ্যা করবেন।
নাদেলার সাক্ষ্যের পর ওপেনএআই প্রধান স্যাম অল্টম্যানেরর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে। মঙ্গলবার বা বুধবার তার জিজ্ঞাসাবাদ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডে ফেডারেল জুরির সামনে চলমান বহুল আলোচিত এই বিচার শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
এই বিচারপ্রক্রিয়ায় ২০২২ সালে বহুল-প্রচারিত চ্যাটজিপিটি চ্যাটবট উন্মোচনের আগের বছরগুলোতে সিলিকন ভ্যালির শীর্ষ প্রকৌশলী, বিনিয়োগকারী ও নির্বাহীদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে।
ওকল্যান্ড থেকে এএফপি জানায়, মাস্ক তার মামলায় অভিযোগ করেছেন, ওপেনএআই তাদের মূল অলাভজনক লক্ষ্য থেকে সরে এসেছে এবং তার দেওয়া ৩ কোটি ৮০ লাখ ডলারের প্রতিষ্ঠাকালীন অনুদান অপব্যবহার করে ৮৫০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যমানের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে।
টেসলা ও স্পেসএক্স-এর প্রতিষ্ঠাতা মাস্ক আদালতের কাছে ওপেনএআইকে আবারও অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের দাবি জানিয়েছেন। এমন সিদ্ধান্ত হলে বৈশ্বিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রতিযোগিতায় অ্যানথ্রপিক, গুগল ও চীনের ডিপসিক-এর বিরুদ্ধে ওপেনএআইয়ের অবস্থানে বড় প্রভাব পড়তে পারে।
অন্যদিকে ওপেনএআই বলছে, সংখ্যাগরিষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ নিতে ব্যর্থ হওয়ার পর মাস্ক স্বেচ্ছায় প্রতিষ্ঠানটি ছেড়ে যান এবং পরে নিজের এআই উদ্যোগ এক্সএআই-এর মাধ্যমে ওপেনএআইয়ের সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠেন।
মামলায় কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, সে বিষয়ে উপদেষ্টা জুরি ১৮ মে সপ্তাহের মধ্যে মতামত দিতে পারে।
এরপর বিচারক ইভন গনজালেজ রজার্স জুরির মতামত শুনে দায় ও প্রতিকার বিষয়ে চূড়ান্ত রায় দেবেন। তিনি ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, জুরির পরামর্শ অনুসরণ করার সম্ভাবনাই বেশি।
যদি শেষ পর্যন্ত বিচারক মাস্কের পক্ষে রায় দেন, তাহলে ওপেনএআইয়ের সম্ভাব্য শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
মাস্কের আইনজীবীরা সোমবার জুরিকে বোঝানোর চেষ্টা করবেন যে, ২০১৯ সালে ওপেনএআইয়ে বিনিয়োগের মাধ্যমে মাইক্রোসফট জানত যে তারা একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানকে তার মূল উদ্দেশ্য থেকে সরিয়ে নিতে সহায়তা করছে।
তারা ২০১৮ সালের জানুয়ারির কিছু প্রকাশিত মাইক্রোসফট ই-মেইল উপস্থাপন করবেন। সেসব ই-মেইলে দেখা যায়, মুনাফার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ার পরই প্রযুক্তি জায়ান্টটি ওপেনএআইয়ে অর্থায়নে আগ্রহী হয়।
ই-মেইলে নাদেলা তার নির্বাহীদের সঙ্গে ওপেনএআইকে আজুয়ার ব্যবহারে দেওয়া ছাড় নিয়ে আলোচনা করেছিলেন।
তিনি লিখেছিলেন, ‘তারা কী ধরনের গবেষণা করছে এবং সেটি আমাদের সঙ্গে ভাগাভাগি করলে আমরা কীভাবে এগিয়ে যেতে পারব, তা আমি পুরোপুরি বুঝতে পারছি না। তবে ইলন সবাইকে বলছে... ওপেনএআই হয়তো কৃত্রিম সাধারণ বুদ্ধিমত্তায় (এজিআই) বড় ধরনের অগ্রগতির দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।’
সে সময় মাইক্রোসফটের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা কেভিন স্কট আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে, ওপেনএআই হয়তো ‘রাগ করে অ্যামাজনের দিকে চলে যেতে পারে’।
পরবর্তী সময়ে অর্থসংকটে থাকা ওপেনএআই অনুদানের ওপর নির্ভর না করে বিনিয়োগ আকর্ষণে একটি মুনাফাভিত্তিক সহযোগী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে।
২০১৯ সালে, অর্থাৎ স্টার্টআপটি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার প্রায় দেড় বছর পর, মাইক্রোসফট ওপেনএআইয়ে প্রথম ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে। পরে মোট বিনিয়োগ দাঁড়ায় ১৩ বিলিয়ন ডলারে। বর্তমানে সেই অংশীদারির মূল্য ২২৮ বিলিয়ন ডলার, যা প্রাথমিক বিনিয়োগের ১৭ গুণ।
মামলার শুনানিতে ইতোমধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য উঠে এসেছে।
গত সপ্তাহে ওপেনএআইয়ের সহ-প্রতিষ্ঠাতা গ্রেগ ব্রকম্যানকে ২০১৭ সালের তার ব্যক্তিগত ডায়েরির কিছু অংশ নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সেখানে একটি নোটে তিনি লিখেছিলেন, ‘আমাদের জন্য অর্থ উপার্জন’ করতে আগ্রহী ছিলেন।
মাস্কের আইনজীবীরা এই নোট ব্যবহার করে ব্রকম্যানকে হিসাবি সুযোগসন্ধানী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেন।
ব্রকম্যান আরও জানান, ২০১৭ সালে ওপেনএআইয়ের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ না পাওয়ার পর মাস্ক তাকে শারীরিকভাবে হুমকি দিয়েছিলেন।
এদিকে মাস্ক বুধবার ঘোষণা দেন যে, ওপেনএআইয়ের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যানথ্রপিককে স্পেসএক্সের বৃহত্তম ডেটা সেন্টারের কম্পিউটিং সক্ষমতা ব্যবহারের সুযোগ দিতে বড় ধরনের অংশীদার করা হয়েছে।
সূত্রঃ বাসস