হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচল সুরক্ষায় সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক মিশনের আগে মধ্যপ্রাচ্যে একটি ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে যুক্তরাজ্য। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় শনিবার এ তথ্য জানিয়েছে।
লন্ডন থেকে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্রের বরাতে এএফপি জানানায়, তিনি বলেন, ‘এইচএমএস ড্রাগনকে আগাম মোতায়েন করা সতর্কতামূলক পরিকল্পনার অংশ। এর মাধ্যমে পরিস্থিতি অনুকূলে এলে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের যৌথ নেতৃত্বাধীন বহুজাতিক জোটের অংশ হিসেবে প্রণালীটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্য প্রস্তুত থাকবে।’
গত মাসে ব্রিটেন ও ফ্রান্স জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালী সুরক্ষায় সামরিক পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে বাণিজ্য প্রবাহ পুনরুদ্ধারে তা সফল হবে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, এইচএমএস ড্রাগন মোতায়েন বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে আস্থা বাড়াবে এবং সংঘাত শেষ হলে মাইন অপসারণ কার্যক্রমে সহায়তা করবে।
গত এপ্রিলে লন্ডনে দুই দিনব্যাপী এক বৈঠকে ৪৪টির বেশি দেশের সামরিক পরিকল্পনাবিদরা অংশ নেন। সেখানে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের নেতৃত্বাধীন বহুজাতিক মিশনের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার বাস্তব দিকগুলো নিয়ে আলোচনা হয়।
ধারণা করা হচ্ছে, হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচল স্বাভাবিক করতে প্রস্তাবিত এ মিশনে প্রায় ৪০টি দেশ অংশগ্রহণে সম্মত হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের ইরানবিরোধী যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হতো।
কিন্তু গত কয়েক মাসে সেই প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ইরান কার্যত প্রণালীটি বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয় এবং তেলের দাম বেড়ে যায়। পরে এর প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নিজস্ব অবরোধ আরোপ করে।
শনিবার ইরান যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় মার্কিন কূটনৈতিক তৎপরতার আন্তরিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে। উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন নৌ সংঘর্ষের পর তারা এ মন্তব্য করে।
শুক্রবারের এক ঘটনায় মার্কিন যুদ্ধবিমান ইরানের পতাকাবাহী দুটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়ে সেগুলো অচল করে দেয়। ওয়াশিংটনের দাবি, জাহাজ দুটি ইরানি বন্দর অবরোধে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছিল। এর জবাবে ইরান পাল্টা হামলা চালায়।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত হরমুজ প্রণালীতে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়। সেখানে ইরান বিদেশি জাহাজ থেকে টোল আদায়ের চেষ্টা করছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে প্রণালীটিকে ব্যবহার করছে।
সূত্রঃ বাসস